Search This Blog

Thursday, 21 December 2017

প্যারাডক্স
১৪
সমরেশের ঘর

                                                      সকাল সাতটার সময় সমরেশের দরজায় ঘা পড়লো  ,
"এখন আবার কোন শ্লা......"
বিড় বিড়  করে গালি  দিতে দিতে, সমরেশ উঠে গিয়ে দরজাটা খুললো।  খুলেই দেখে বাইরে ঝোড়ো কাকের মতো নবেন্দু দাঁড়িয়ে আছে , সমরেশ তাড়াতাড়ি দরজা থেকে সরে দাঁড়ালো
" নব ভেতরে আয় , কি হয়েছে এই চেহারা কেন ?"
নবেন্দু কোনো কথা না বলে ধপ করে চেয়ারে বসলো , বসে পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা বিড়ি বার করে ধরালো , সমরেশ লক্ষ্য করলো ওর হাতটা কাঁপছে। সমরেশ আবার জিজ্ঞাসা করলো
"ভাই, সব ঠিক আছে তো ?"
" বিশ্বর সাথে তোর আজকে সকালে দেখা হয়েছে ?"
"নাতো , তোরা তো কালকে দুজনে বেরিয়েছিলিস মুরগি খেতে , তারপর ফিরিসনি !!!!!!!!!"
"নাঃ আমরা ভাং খেয়ে খুব তাল হয়ে গেছিলাম , দশাশ্বমেধঘাটে শুয়েছিলাম , হাঁসাহাঁসি করছিলাম , এমন সময় কয়েকজন সাধু টাইপের গেরুয়া পরা লোকজন এসে আমাদের মুখে টর্চ মেরে জিগ্জাসা করে কে আমরা কি করছি এখানে , আমরা কিছুতেই হাসি থামাতে পারছিলাম না , এমন সময় ওদের একজন এসে বিশ্বায়নের হাত ধরে টানাটানি শুরু করে , সেখান থেকে হাতাহাতি শুরু হয় তারপর হটাৎ ওরা কয়েকজন বিশ্বকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়,
আমি সালা এতো অবাক    হয়ে গেছিলাম যে কিছু করতে পারেনি কয়েক সেকেন্ড পরে হুঁশ এলে তাড়া করি কিন্তু একটু যেতেই আমাকে পুলিশ মাতাল বলে ধরে ফেলে, আমার কোনো কথাই শোনেনি সোজা লঙ্কা থানায় এনে জমা করে দেয়
রাত দুটোর সময় , থানায় তখন কোনো অফিসার ছিল না , ভোরবেলা একজন আসার পর আমার পরিচয় দিতে ,
সে আমার গাইডকে ফোন করে অনেক চব্য করে শেষ মেষ ছাড়া পাই. থানা থেকে বেরিয়ে সোজা এখানে আসছি
আসার সময় দেখলাম
বিশ্বর রুমে তালা মারা "
গোটাটা  শুনতে শুনতেই  সমরেশের মুখ শুকিয়ে আসছিলো , এবার ও নিজেও ধপ করে বিছনায় বসে পড়লো
নবেন্দু হতাশ ভাবে বললো
"কি করি বলতো , আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না, পুলিশের কাছে যাবো নাকি ওর বাড়িতে জানাবো ,নাকি খোঁজাখুঁজি করবো , কি যে করি কিচ্ছু মাথায় আসছে না। "
সমরেশ মুখ নামিয়ে কি যেন একটা ভাবছিলো , এবার মুখ তুলে বললো
"আচ্ছা ও মাল ওর ওষুধগুলো ঠিকঠাক খাচ্ছে কিনা তুই জানিস ??"
নবেন্দু সোজা হয়ে বসলো
"না তাতো জানি না, আমি তো কালকে গোটা দিন ওর সাথে ছিলাম , ওষুধ খেতে তো দেখলাম না "
সমরেশ তড়াক করে উঠে দাঁড়িয়ে , টেবিলের ড্রয়ার খুলে কিছু একটা খুঁজতে লাগলো ,
"কি খুজছিস ভাই "
"আমার কাছে ওর রুমের একটা এক্সট্রা চাবি আছে , ওর রুমটা খুলে একবার দেখা দরকার , আমার কেন জানি সন্দেহ হচ্ছে ও বেশ  কয়েকদিন ধরেই  ওষুধ খায়নি। "
নবেন্দু কোনো জবাব দিলো না।
চাবিটা খুঁজে পেয়ে বিশ্বায়নের রুমের তালা খুলতে খুলতে সমরেশ একবার জিজ্ঞাসা করলো
"তুই জানিস ওর ওষুধগুলো কোথায় থাকে ?"
নবেন্দু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো।
দরজা খুলেই বোঝা গেল এই ঘরে রাতে কেউ আসেনি , বিছানার চাদর টানটান হয়ে আছে , বিশ্বায়ন এমনিতে গোছানো ছেলে সেটা ওর ঘর দেখেই বোঝা যায় , বেশিক্ষন খুঁজতে হলো না , ডানদিকের দেয়াল আলমারিটা খুলতেই দেখা গেল , কমলা রঙের শিশিটা , সীল এখনো কাটা হয়নি , এক মাসের জন্য একটা শিশি ,সমরেশ শিশিটা তুলে দেখল এমাসেরই  বরাদ্দ ওষুধ , শিশিতে মাসের নামটা লেখা আছে,..
সমরেশ মনে মনে একবার হিসাব করে দেখলো আজকে দশ তারিখ , ও কম করে দশ  দিন ওষুধ খায়নি, ওর যা অবস্থা তাতে দুদিন বন্ধ করলেই গোলমাল দেখা দেয়ার কথা সেখানে দশ দিন !!!!!!! সমরেশের এবার ভয় করতে লাগলো
ছেলেটা আবার কোন বিপদে ডেকে আনলো  কে জানে।পিছন ঘুরে নবেন্দুকে ডাকতে গিয়ে দেখে নবেন্দু দেয়ালের ঝোলানো বড়ো ওয়াল হ্যাঙ্গিংটার দিকে তাকিয়ে আছে ,বিশ্বর কলেজ জীবনের ছবি , বন্ধুদের ছবি , ওর সিনেমার ছবি
 এসব দিয়ে একটা বিরাট কোলাজ , বিশ্বর নিজের হাতেই বানানো। একটা ছবি আছে বিশ্বর কলেজের একটা গ্রুপ ছবি     নবেন্দু সেটার দিকেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল
সমরেশ , নবেন্দুর পিছনে এসে দাঁড়িয়ে ছবিটা দেখতে দেখতে বললো
"এই ছবিটার মধ্যেই কি সেই ???"
"হ্যাঁ এই যে এই মেয়েটাই হলো তিয়াশা। " নবেন্দু আঙ্গুল দিয়ে দেখালো
সমরেশ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো
"বেচারার কপালটাই খারাপ , যাক যে এই দেখ " বলে হাতে ধরা ওষুদের শিশিটা নবেন্দুর দিকে বাড়িয়ে দিলো ,
"কয় দিন "
"এ মাসের দশ , ও মাসেরটা জানিনা "
"হুমম "
নবেন্দু কোনো কথা না বলে , কাঁপা কাঁপা হাতেই আবার একটা বিড়ি ধারালো , সমরেশ জিজ্ঞাসা করলো
"তোর কি মনে হয় আবার আগের বারের মতো ???"
"আমিও সেই ভয়টাই পাচ্ছি রে শ্লা"
"আমার মনে হয় আমাদের এখনই একবার পুলিশের কাছে যাওয়া উচিত , হয়তো দেরি হয়নি কি বলিস ?"
নবেন্দু কোনো জবাব দিলো না , চুপচাপ ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে লাগলো

(চলবে )

বি দ্র - গতকাল কিছু যান্ত্রিক ও শারীরিক  কারণের জন্য দিতে পারিনি তাই আজকে চেষ্টা করবো দুটোই দিয়ে দিতে।
          এ গরিবের একান্ত অনুরোধ , একটু শেয়ার।  
   

Wednesday, 20 December 2017

প্যারাডক্স
১৩
সরস্বতী বয়েস হোস্টেল
২০১৩
                                 বাবাকালীকে ভাগিয়ে দিয়ে, আমি  ধপ করে  বিছানায় বসে পড়লাম , বাড়ি ফেরার আনন্দ একেবারেই চটকে গেল। বার বার, শালা বার একই চব্য।  বাঁশ কেন বনে ,এসো আমার পিছনে। এই হতভাগার পূর্বাশাকে , সে হোক , হতেই পারে , কিন্তু তা বলে আমাকে বলা কেন বাপু ,!!!!!! এতোক্ষনে বোধহয় শিলাজিৎদার রুমে তাসের সান্ধ্য আড্ডা শুরু হয়ে গেছে কিন্তু আমার আর কিছু ভালো লাগছিলো না। ব্যাগ থেকে মাল বার করে জয়েন্ট বানাতে বসে গেলাম।  বানিয়ে ,  স্পিকারে একটা গান লাগিয়ে , ছোট আলোটা জ্বেলে দিয়ে আমি মুখে আগুন দিলাম। মনের ক্ষার মিটিয়ে জয়েন্টে একটা মোক্ষম টান  দিয়ে, দেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইলাম , আমার কলকাতার জীবন , বন্ধুরা , অরুন -পিয়া , শুটিংয়ের ছবি আর তিয়াশার ছবিগুলো দিয়ে আমি নিজের হাতে একটা ওয়াল হ্যাঙ্গিং  বানিয়েছিলাম , আলো আঁধারি মাখা ঘরে ধোঁয়া গুলো পাক খাচ্ছিলো , আর তার মধ্যে দিয়ে আমি ওই ফোটোকোলাজের দিকে তাকিয়ে রইলাম। এই শীতকালটা এলেই আমার রক্তে যেন টান  ধরে, অনেকদিনের পুরানো স্মৃতিগুলো পাক খেয়ে গলার কাছটায় জমে উঠলো , ইসসস যদি একবার টাইম ট্রাভেল করে ফিরে  যেতে পারতাম সেই সব দিনে ,!!! আহঃ !!! চোখটা হাল্কা জ্বালা করে উঠলো   
                                    স্পিকারে গান সোনু নিগম বলছিলো
                           "আভি মুঝমে কাহি বাকি
                            থোড়ি সি 
হায় জিন্দেগী"

#2011
#St paul's cathedral mission college
#Kolkata


“
এই  গরু  এইদিকে  আয়”
আমি কিন্তু এগোলাম না, যে ভাবে মুখ নিচু করে দাঁড়িয়েছিলাম ঠিক সেই ভাবেই রইলাম,
 তিয়াশা আবার বললো
"কিরে আয়"
 আমি এবারও কোনো কথা না বলে শুধু  মাথা নেড়ে না 
বললাম, তিয়াশা এবার আমার দিকে এগিয়ে এলো, কাছে এসে হটাৎ করে মিষ্টি নরম গলায় জিজ্ঞাসা  করলো
“কি হয়েছে??”
আমি এবার কোনো জবাব না দিয়ে ওর চোখের দিকে সোজাসুজি তাকালাম, কলেজের এই হলে আর বাকি যারা কাপল ডান্স এর রিহার্সাল 
দিচ্ছিলো তারা যে যার নিজেদেরকে  নিয়ে ব্যাস্ত থাকলেও এই ঘটনাটা যে ওদের চোখ এড়াচ্ছিলো না সে বিষয়ে আমি ভালোই বুঝতে পারছিলাম।  তিয়াশা ঠিক আমার মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো ওর মায়াবী গরম নিঃস্বাস গুলো যেন ঠিক সোজা আমার বুকে  এসে আছড়ে পড়ছিলো আর কেন জানিনা সেই জন্যই হয়তো খুব আস্তে-আস্তে অদ্ভুত একটা জ্বালা আমাকে আঁকড়ে  ধরছিলো
তিয়াশা হটাৎ আমার হাত দুটো ধরে খুব আলতো করে বললো"ওই গরু কি হলো? নাচবি না আমার সাথে? হুঁ”
আমি কোনো কথা না বলে এক হ্যাঁচকা টানে ওকে আমার আরো কাছে টেনে আনলাম,ও এবার  খিলখিল করে হেসে উঠে বলল “আচ্ছা বুঝেছি বুঝেছি, আমি গরু বললাম বলে বাবুর রাগ হয়েছে বুঝি। ....... উমমম 
টুক করে আমার ডান গালে একটা চুমু খেয়ে বললো
“solly,পাগলাটা  আমার” বলে আমার গালে  আর  একটা চুমু খেলো
 
“রাগ মিটলো? এবার চলো সোনা রিহার্সাল দিতে হবে তো উমম”
বলে আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই আমার হাত ধরে হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে গেল হলের অন্য কোনায় যেদিকে  অরুন আর পিয়া টিফিন খাচ্ছিলো 
, এতক্ষন আমাদের  রিহার্সাল ব্রেক চলছিল,
আর বাকি ছয় জোড়া ছেলে মেয়ে যে যার নিজের মতো করে গল্প করছিলো, পিয়াকে রোজকার মতো অরুন খাইয়ে  দিচ্ছিলো।
আমার  সত্যি বলতে  কি একটু লজ্জাই  লাগছিলো, যদিও এই ঘরের সবাই প্রায় কাপল 
আর সবাই আমার এক রকম বন্ধুই , তাও লাগছিলো আর আজব ব্যাপারটা হলো  এই হটাৎ করে উড়ে আসা লজ্জাটা আমার বেশ ভালো  লাগছিলো। আমাদের আসতে দেখে
 অরুন শুধু একবার আমার দিকে তাকিয়ে একবার মুচকি হাসলো তারপর কানে কানে পিয়াকে কিছু একটা বললো, তারপর দুজনেই আমাদের দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে ফেললো, আমিও হাসলাম। অরুন এবার উঠে দাঁড়িয়ে অন্যদের বললো
“ওকে  এভরিওয়ান , ব্রেক খতম, চলো সবাই যে যার পজিশন নাও আমাদের হাতে কিন্তু 
আর সময় বেশি নেই ,অনেকেরই স্টেপ ভুল হচ্ছে , আজকে আরো দুবার রিহার্সাল দিতে হবে গেট রেডিকুইক কুইক ”
আমি  তিয়াশার  হাত ধরে রিহার্সালের জন্য  রেডি হলাম, সত্যিই সময় আর বেশি নেই পরশুই শো আর যেহেতু এটা আমাদের ফাইনাল ইয়ার তাই এটাই  আমাদের কলেজ জীবনের শেষ শো, আমি চোখ বুঝে একটা জোরে শ্বাস  নিয়ে তিয়াশার  কানে কানে বললাম
“
আমাকে কোনোদিনও ছেড়ে চলে যাবিনা তো?
এবার তিয়াশা কোনো কথা না বলে আমার হাতটা আরো শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো, আর ঠিক 
তখনি মিউসিক  সিস্টেমে  জোরে জোরে  বেজে উঠলো “আভি মুঝমে কাহি বাকি থোড়ি সি 
হায় জিন্দেগী”
আট জোড়া ছেলে মেয়ে একসাথে নাচ শুরু করলো।আমি তিয়াশাকে শক্ত করে ধরলাম , এবারের স্টেপ গুলো নিখুঁত ভাবে করছে হবে। তিয়াশা আমার কানে কানে বললো 
"আই লাভ ইউ".


(চলবে )

বি দ্র - এই অভাগার চাওয়ার কিছুই নেই , একটু শেয়ার হলে আর কিছুই নয় লেখার আত্মবিশ্বাসটা             খানিকটা বাড়ে, তাই আজকেও  সেই রেকর্ড বাজাচ্ছি ভালো লাগলো দোয়া করিয়া শেয়ার               করিবেন।

Thursday, 14 December 2017

প্যারাডক্স
১২
বিশ্বনাথ মন্দিরের অজানা গলি
২০১৫


                                                                      আমি একেবারে হুব্বা বনে গেলাম , কাকা বলে কি !!!! বেকার বোঝা বইছি , মেয়েটা আমার ভাগ্যে নেই !!!হ্যাঁ কথা গুলো  মোটেই  মিথ্যা নয় কিন্তু সেটা তো অন্য কারুর টের পাবার কথা নয়। আমার ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া মুখটা দেখেই বোধহয় ভদ্রলোক মুচকি হেঁসে আমার পাশটায় এসে বসলেন
"বাঙালী ???"
হিন্দির শুদ্ধ বাংলায় প্রশ্ন  শুনে ,আমি আর নতুন করে অবাক হতে পারলাম না ,
"হ্যাঁ ,"
"তোমাকে দেখে খুব একটা সুস্থ বলে মনে হচ্ছে না "
"হ্যাঁ , শরীরটা আচমকাই  খারাপ লাগতে শুরু করলো, মাথাটা কেমন যেন ঘুরে গেল তাই বসে পড়লাম ,একটু জল...... ...... "
আমার জীব শুকিয়ে গিয়েছিল , জড়িয়ে জড়িয়ে কোনোমতে  কথাগুলো বললাম, ভদ্রলোক যেন ব্যাস্ত হয়ে উঠলেন ,
"হ্যাঁ হ্যাঁ তাই তো , দাঁড়াও বাবা আমি দেখছি "
বলে উনি ব্যাস্তভাবেই বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেলেন।
আমি দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বুঝলাম , কি আশ্চর্য ,আমি জানি আমি বেকার বেকার পূর্বাশার পিছনে পড়ে আছি
এই ইনভেসমেন্টের কোনো রিটার্ন হবার আশা নেই , তাও জিনিসটা দিন কে দিন কেমন যেন একটা অভ্যেসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে , লোকজন খিল্লি করছে ,খোরাক করছে , কখনও সামনে করছে আর পিছনে তো সবসময় করছে। কিন্তু তাও ছাড়তে পারছি কই, ক্রমেই যেন আরো গভীরে তলিয়ে যাচ্ছি। এখন কথাটা হচ্ছে এই ভদ্রলোক আমার মনের কথাটা টের পেলেন কি করে , থট রিডিং ? এঁনাকে দেখে তো সন্ন্যাসী বলেতো মনে হলো না , এই মহল্লার সঙ্গে মানানসই পোশাক-আশাক পরেছিলেন।তাহলে কি ইনি যোগী সাধক ? হতে পারে , আমি আমার ছোট্ট জীবনের অভিজ্ঞতায় একটা জিনিস দেখেছি , যাঁদের সত্যি সত্যি অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা  আছে তাঁরা সবাই সাধক মানুষ , হয় তান্রিক নয় যোগী ,
হতেই পারে ইনি যোগী পুরুষ তাই আমার মনের কথা বুঝে গেলেন , কিন্তু সেটাই যদি হয় তাহলে তো মহা বিপদ , ইনি যদি প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে আমার মনের ভিতরে উঁকি মারতে শুরু করেন তখন তো কেলো হয়ে যাবে। পালিয়ে যাবো ? না সম্ভব নয় মাথাটা এখনো সত্যি সত্যি একটু ঘুরছে , আর আমি গলিটা কোথায় গিয়ে উঠছে সেটাও জানি না
উফফফ কি জ্বালা !!!!!কি যে করি এখন , ধুর ভাল্লাগে না
"এই নাও ", কথাটা শুনে চোখ মেলে চাইলাম ,দেখি আমার এই বসে বসে আলবাল ভাবনাচিন্তার সময়ই উনি কখন যেন এক লোটা জল আর একটা রেকাবিতে দুটো প্যাঁড়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। লোটা আর রেকাবিটা নামিয়ে দিয়ে বললেন
"এই নাও,এতো তেষ্টায় শুধু জল খেওনা  "
আমি কথা না বাড়িয়ে লোটা তুলে চুমুক দিলাম , জলের স্বাদটা যেন একটু অন্যরকম লাগলো হালকা কর্পূরের গন্ধ পেলাম ,এক নিঃশ্বাসে হাফ  লোটা জল শেষ করে থামলাম , আহঃ সত্যিই  জল মানেই জীবন, জি -বাংলা  নয়, প্যাঁড়া দুটো একসাথে  মুখে পুরে দিলাম , আহা খাঁটি ক্ষীরের জিনিস মুখে দিতেই যেন গলে গেল, লোটার বাকি জলটা গলায় ঢেলে দিয়ে একটু খানি জল হাতে নিয়ে চোখে মুখে দিলাম ,আহঃ শান্তি।এতক্ষন  ভদ্রলোক আমার কার্যকলাপ হাঁসি মুখে  দেখছিলেন ,এবার বললেন
"আরেকটু জল খাবে ?"
আমি বললাম
"নাহ , ঠিক আছে , আপনাকে যে কি বলে ধন্য-............."
"কিছু বলারই দরকার নেই , তা তোমার শরীরটা ঠিক লাগছে এখন ?"
"হ্যাঁ এখন একটু ঠিক লাগছে "
"আচ্ছা এই জায়গাটা ঠিক কোথায় বলুন তো , আসলে আমি অন্নপূর্ণার প্রসাদ খেয়ে বেরিয়ে গলিটা গুলিয়ে ফেলেছি তারপর উল্টোপাল্টা ভাবে হাঁটতে হাঁটতে এখানে হাজির হয়েছি,এবার এই জায়গাটা আমার একদমই অচেনা তাই বুঝতে পারছিলাম না ফিরবো কি করে ,এমন সময় মাথাটা একটু ঘুরে গেল তাই এখানে বসে পড়লাম । " একটু মিথ্যাই বললাম , বেশি ভাং খেয়ে নেশা করেছি বলতে কেমন যেন একটা লাগছিলো ,ইনি যদি সত্যি সত্যি থট রিডার হন তাহলে এতো ক্ষনে নিশ্চই সব বুঝে গেছেন।
"তা বেশ করেছ , আর তুমি খুব বেশি দূরেও আসোনি , এই যে গলিটা দিয়ে তুমি এলে সেটায় আবার  ফিরে  গেলে দেখবে ডান দিকে একটা সবুজ বাড়ি আছে তার পাশেই একটা ছোট্ট সরু কানা গলি আছে , ওটায় ঢুকে সোজা হাঁটতে হাঁটতে গলিটা একজায়গায় প্রায় বুজে  এসেছে একটা বাড়ির পাঁচিল অর্ধেকটা রাস্তা ঢাকা দিয়ে দিয়েছে ,একটু কষ্ট করে
ওই পাঁচিলের ফাঁক দিয়ে এগিয়ে গেলেই দেখতে পাবে একদম বিশ্বনাথ মন্দিরের কাছেই এসে পড়েছো , বুঝেছো "
আমি সুবোধ বালকের মতো মাথা নাড়লাম , দিব্যি জলের মতো সোজা রাস্তা , আমি রোয়াক ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে যেতেই  বিপত্তিটা ঘটলো , মাথাটা একটু ঘুরে গেল যেন ,কোনোমতে দেওয়াল ধরে নিজেকে সামলালাম।
"তুমি এক কাজ করো বাবা , তুমি  আমার সাথে ভিতরে এসো, একটু বিশ্রাম করো তারপর নাহয় যেয়ো "
"নানা আপানার আবার কোন
"আমি একাই থাকি , কাজেই কারোর কোনো সমস্যা হবেনা , তুমি এসো "
আমি আর কথা বাড়ালাম না , উনি দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে গেলেন , আমি চুপচাপ ওনাকে ফলো করলাম।  বেশ পুরানো বাড়ি , একদম চৌকো ছাঁদের ঠিক কত তলা সেটা বুঝতে পারলাম না  , মাঝখানে একফালি উঠোন সেখানে একটুখানি রোদ  এসে পড়েছে , বেশির ভাগ ঘরই তালাবন্ধ , বারন্দায় ধুলো ময়লা , পুরানো জিনিস পত্র ডাঁই হয়ে পড়ে আছে , উঠোনে একটা খাটিয়া পাতা
"বসো  ওখানে , আমি আসছি " বলে উনি লোটা আর রকাবিটা নিয়ে একটা ঘরে ঢুকে গেলেন , আমি খাটিয়ায় আধশোয়া হয়ে বাড়িটা দেখতে লাগলাম , কম করে চারতলা হবে , পুরানো জাফরী কাটা বারান্দা , ছাদটা জাল দিয়ে ঘেরা না হলে বান্দরের উপদ্রবে টেঁকা সম্ভব নয় , এই বাড়িটা দেখে দিব্বি বোঝা যাচ্ছে এখানে কেউ থাকেনা ,এতো বড় বাড়ি একেবারে খাঁ খাঁ করছে ,উনি থাকেন কি করে !!!! আমার হটাৎ খেয়াল হলো আরে  ভদ্রলোকের নামটাই তো জানা হলো এহে এটা ঠিক হয়নি , ভদ্রলোকের নামটাও অব্দি জানিনা আর সোজা যার খাটিয়ায় এসে গড়াগড়ি দিচ্ছি
এটা মোটেই ভদ্রোচিত ব্যবহার নয় , ভাঙের নেশাটা আজকে বড্ডো অবাধ্যতা করছে। নিজেকে শাস্তি  দিলাম নাহ দিন কতক আর মোটেই  ভাং খাবো না  সে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন।
খটাস খটাস শব্দ শুনে পিছনে ফিরে দেখি উনি আসছেন , আর এই নিস্তব্দ বাড়িতে ওনার পায়ের খড়ম থেকে খটাস খটাস আওয়াজটা আসছে, উনি এসে আমার সামনে বসলেন।
আমি এবার জিজ্ঞাসা করলাম
"আজ্ঞে আপনার নাম টা .........
"আমার নাম সানন্দগতি , আমি অবশ্য এখানে থাকিনা , মাঝে মাঝে মন কেমন করে তখন চলে আসি, এই বাড়িটাও ঠিক আমার নয় , আমার এক পুরানো বন্ধুর পৈত্রিক বাড়ি , সে অসুস্থ আর এখানে আসতে পারে না  তাই আমাকে বাড়ির ভারটা দিয়েছে , আমি মাঝে মাঝে এলে থাকি     "
"ওহ , আচ্ছা আচ্ছা , বুঝলাম   আমার নাম......" আমার  কথা শেষ হবার আগেই জবাব উড়ে এলো
"আমি জানি ", সানন্দর  ঠোঁটের কোনে আবার মুচকি হাঁসি , আমি   আর কৌতুহল সহ্য করতে পারলাম না
"আপনি কি মানুষের মনের কথা পড়তে পারেন "
"না , কয়েকজনের অনুভূতিগুলো বুঝতে পারি , এই যেমন তোমার মনে এখন কি চলছে সেটা দিব্যি বুঝতে পারছি ,
চিন্তা মিথ্যা হতেই  পারে , অনুভূতিরা  মিথ্যা হয়না, তাই মানুষের অনুভূতিগুলোকে বুঝে বুঝে মানুষটাকেই বুঝতে পারি , খুব একটা শক্ত জিনিস নয় চেষ্টা করলে তুমিও পারবে  "
আমি কেমন যেন মোহগ্রস্থের মতন সানন্দর কথাগুলো শুনছিলাম , মনে পড়লো কোনো এক আজগুবি কল্পবিজ্ঞান সিনেমায় যেন এমন একটা কিছু দেখেছিলাম , Telipath নয় Impath . কিন্তু সেতো নেহাতই  সিনেমা ছিলো , কে জানে বাপু হতেও পারে , ইনি আমার নাড়িনক্ষত্র দিব্যি টের পাচ্ছেন বিষয়টা নিঃসন্দেহে বিপদজনক , এই অবস্থায় ভয় পাওয়াটাই  স্বাভাবিক  কিন্তু মানুষটা এতো সহজ সরল যে ওনাকে দেখে ভয় পাওয়াটাই অস্বাভাবিক। 
"আচ্ছা আপনি থাকেন কোথায় "
"অনেক দূরে গো , আয়ামদ্বীপে মা কুয়াটার মন্দির আছে আমি সেখানের পুরোহিত "
" আয়াম দ্বীপ আবার কোথায় , গঙ্গাসাগরের আসে পাশে নাকি ?"
"হ্যাঁ বাবা ঠিক ধরেছো ,     গঙ্গাসাগরের ঠিক পাশে নয় তবে ওইদিকেই।
"বাপরে সেতো অনেক দূর , আপনি ওতো দূর থেকে এখানে এসেছেন!!!!! "
"হ্যাঁ বাবা , বললাম  না মন কেমন করলে মাঝে মাঝে আসি আর তা ছাড়া এখানে আমাদের একটা ..........."
উনি কথা শেষ না করেই আচমকা উঠে দাঁড়ালেন ,যেন হটাৎ করে কিছু মনে পদে গেছে
"বাবা আমাকে একটু বেরোতে হবে, একটা কাজ ছিল একদমই ভুলে গেছিলাম , ওকি তোমাকে উঠতে হবে না তুমি বিশ্রাম করো আমি এখুনি আসছি ,"
বলে আমাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই উনি উঠে বেরিয়ে গেলেন , দরজাটাও বন্ধ করলেন না , আমার অনেকক্ষন ধরেই চোখ জুড়ে আসছিলো , এবার আমি একটু গা এলিয়ে দিলাম , সানন্দগতি, নামটা বেশ অদ্ভুত , আচ্ছা আমি ঠিক শুনলাম তো ,ওনার নাম আনন্দগতি নয় তো !!!!


শুয়ে শুয়ে যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নিজেও বুঝতে পারিনি , মোবাইলের রিঙে  ঘুমটা ভাঙলো , চোখ খুলে প্রথমে বুঝতে পারলাম না কোথায় আছি , তারপরই সব মনে পড়ে গেল , নম্বরটা জয়িতার ,আমি ফোনটা তুললাম
"হ্যালো "
"কিরে কোথায় আছিস ?"
"এই একটু ঘুমাচ্ছিলাম রে (হাই )"
"আচ্ছা শোন আজকে ননীর ট্রিট মনে আছে তো ?"
"হ্যাঁ রে মনে আছে , আমি বেরোবো এবার "
"ঠিক আছে চলে আয় , দেরি করিসনা কেমন "
"হুমম , যাচ্ছি (হাই )"
ফোনটা রেখে উঠে বসলাম , কতক্ষন ঘুমালাম কে জানে , উঠোন থেকে রোদ সরে গেছে , বাড়িটা আবঝা অন্ধকার , আমি সানন্দকে খুঁজতে গিয়ে দেখি দরজা তখন হাট করে খোলা , আশ্চর্য উনি কি এখনো ফেরেননি নাকি ?
বাড়িটার ভেতর থেকে একটা তক্ষক যেন ডেকে উঠলো , আমি খাটিয়া ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম , নেশা কেটে গেছে ,
আর এই পড়ন্ত বিকালে এই পুরানো বাড়িটায় আমি একদম একলা এইটা মনে পড়তেই কেমন যেন একটা অস্বস্তি হতে লাগলো , এই বাড়িটা  এই গলিটা যেন বাইরের পৃথিবীর থেকে একদমই আলাদা যেন বাইরের কোনো শব্দ গন্ধ কিছুই এখানে টের পাওয়া যাচ্ছেনা  , আমার আর ভালো লাগলো না     আমি খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সানন্দর ডাইরেকশন মনে ছিল , সেই মতো কানা গলিতে ঢুকে কোনোমতে পাঁচিলের ফাক দিয়ে গলে বিশ্বনাথ মন্দিরের গলিতে উঠলাম , লোকজন ,হৈচৈ, চিৎকারে  মনে হলো যেন চেনা দেশে ফিরে এলাম , গোধুলিয়া মোড়ের দিকে হাঁটা শুরু করলাম , দেরি হয়ে গেছে আজকে যে ননীর ট্রিট দেবার কথা  সেটা একেবারেই ভুলেই গেছিলাম , হুঁ হুঁ  জাতা ট্রিট নয় একেবারে খোদ বিয়ের থুড়ি  নতুন সংসারের ট্রিট  একি ছাড়া যায়, ননী আমাদের মধ্যে প্রথম যে পালিয়ে বিয়ে করে বৌকে নিয়ে সোজা এখানে হাজির হয়েছে , সে এক অন্য গল্প , রীতিমতো যাকে বলে থ্রিলার।
(চলবে )

বি দ্র - ভালো লাগলে ,Please share

আগের পর্বের লিঙ্ক -

Tuesday, 12 December 2017

প্যারাডক্স
১১
বেনারস,২০১৫

গরীবের নিকোলাস স্পার্কস চেতন ভগতের লেখার আমি খুব একটা ভক্ত নই , কিন্তু ভদ্রলোকের  প্রায় সব কটা উপন্যাসই একবার করে পড়েছি , "রেভলুশান ২০-২০" টা তারওপর আবার বেনারসে বসেই পড়া কাজেই একটা বেশ অন্যরকম ফিল অনুভব করেছিলাম , হ্যাঁ তবে এতটা বাড়াবাড়ি রকমের অতি নাটকীয়তা কারুর জীবনে হওয়া সম্ভব নয় সেটা বেশ বুঝেছিলাম, তাই উপন্যাসের হেরো -হিরোর জায়গায় নিজেকে বসানোর কোনো রকম চেষ্টাও  করিনি।
কিন্তু আজকে রিকশাটা যখন রবিদাস পার্কে এসে থামলো এক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো , জীবনটা উপন্যাসের মতো হলে বোধহয় মন্দ হতো না। রিকশা থেকে পূর্বাশাকে কাঁচের বাসনের মতো সাবধানে  নামালাম।রিকশাকাকা বললো
বিল হয়েছে পঁচাশি টাকা , আমি একটা একশোর নোট বাড়িয়ে দিলাম , কাকা মাথা নেড়ে বললো  খুচরো নেই ,আমিও কাঁধ নাচিয়ে বললাম আমার কাছেও নেই , কাকা এবার একগাল হেসে বললো ,আরে তোমরা তো পার্কে যাবে টিকিট কাটার সময়  খুচরো তো  ওখানেই করে দেবে। আমি জগৎ  সংসারের ওপর থেকে হাল ছেড়ে দিলাম, হায় রে  শেষ পর্যন্ত রিকশাকাকা অব্দিও  আমার অদেখলাপনা নিয়ে খিল্লি করে দিলো, আমি আর কি বলবো !!!! আমাকে অবশ্য মুখ খুলতে হলো না
পূর্বাশাই  গম্ভীর ভাবে জানালো , আমরা পার্কে যাবো না আমাদের বাড়িটাই এখানে। রিকশাকাকা পূর্বাশার উৎকট  গম্ভীর মুখটা দেখে আর বিশেষ কথা বাড়ালো না ,শুধু  আমার কাছ থেকে টাকাটা  নিয়ে সামনের দেশিয়ালি ভাইয়ের কাছে কুল্লার (খুচরো ) করাতে চলে গেল.,  পূর্বাশা চুপ করে রইলো , টাকা ফেরত নিয়ে , আমরা হাঁটা শুরু করলাম।
শহরের সমস্ত নোংরা জল একটা খাল দিয়ে বয়ে এসে গঙ্গায়  পড়েছে, পূর্বাশার আস্তানা সেই খালের ধারের একটা সাততলা বাড়িতে , পার্কের সামনের রাস্তাটা  থেকে একটু এগিয়ে একটা সাঁকো পেরিয়ে নিচে নেমে গেছে সেই উৎরাই আর খালপাড় ধরে হাঁটলে মিনিট পাঁচেক। আমরা চুপচাপ সেই উৎরাই দিয়ে নেমে মেসের সামনের গলির মুখটা অব্দি এসেছিলাম এখন সময় পূর্বাশা হটাৎ করে আমার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললো
"তোকে আর আসতে হবে না , তুই অনেক করেছিস আমার জন্য, আর  অনেক বেলা হয়ে গেছে তোর স্নান খাওয়া হয়নি ,তুই রুমে ফিরে যা , শর্মিলা ফিরে অনেক কিছু বানিয়ে বলবে হয়তো বলেও দিয়েছে এতক্ষনে বাকিরা হয়তো ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েও আছে তোকে আমার সাথে  দেখবে বলে , তুই বুঝবি না আমাকে কত কিছু সহ্য করে চলতে হয়  .................  "
আমি আর অবাক হলাম না , কথাও বাড়ালাম না , কারণ ওর এই  কথাগুলোর  জবাব দেওয়া আর অরবিন্দ কেজরীবালের মোদির বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ানো দুটোই সমান অর্থহীন, তাই আমি আর কথা না বাড়িয়ে জ্যাকেটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা চকোলেট বার করে পূর্বাশার হাতে ধরিয়ে দিলাম , পূর্বাশা এবার একটু ভ্যাবাচ্যাকা  খেয়ে গেল ,ও বুঝেই উঠতে পারলো না চকোলেটটা আমি কখন কিনলাম, আমতা আমতা করে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো
আমি শুনলাম না , মাল চালান দিয়ে সোজা এবাউট টার্ন নিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম , পিছন থেকে যেন আবঝা শুনতে পেলাম "ওই শোন্ "আমি ইচ্ছা করেই  শুনলাম না , জোরে জোরে পা চালালাম।রাস্তায় উঠে এসে খেয়াল হলো জব্বর খিদে পেয়েছে সকালে সেই হাতি দেখাবার সময় কফি আর দুপিস পাউরুটি খেয়েছি সেসব কখন পাকস্থলী থেকে লোপাট হয়ে গেছে। কিছু ভালো লাগছিলো না মেজাজ একেবারে বেগুনপোড়া হয়ে গিয়েছিলো , রুমে ফিরতে আর ইচ্ছা হলো না আমি রাস্তার উল্টোদিকে হাঁটা লাগলাম। বড়রাস্তায় গিয়ে অটো ধরে সোজা গোধুলিয়া মোড়ে চলে গেলাম , চেনা সরবতের দোকানে গিয়ে সরবতের অর্ডার দিয়ে ভিতরে গিয়ে বসলাম , দোকানি আমাকে ইশারায় জিজ্ঞাসা করলো কয় চামচ ভাং দেবে
আমিও দুটো আঙ্গুল দেখিয়ে দিলাম। 
 এক চুমুকে সরবতের গ্লাসটা খালি করে মনটা একটু ঠান্ডা হলো ,এই দোকান টা আমার বড়ো প্রিয় , লোকে মন খারাপ হলে বা উইকেন্ডে বারে বা পাবে যায় আর আমি আসি এখানে। টাকা মিটিয়ে বাইরে এসে দাঁড়ালাম , ভাঙের অ্যাকশন শুরু হতে এখনও কিছুক্ষন বাকি আছে। আমি গোধুলিয়া মোড় থেকে বিশ্বনাথ মন্দিরের দিকে হাঁটা লাগলাম।
অনেককাল ছোটবেলায় একবার বাবা মার সাথে বৃন্দাবন গিয়েছিলাম ,টানা আট -দশ দিন ছিলাম সেখানে , কিন্তু তিন চার দিনের মাথায় বিরক্তি ধরে গিয়েছিলো , সরু সরু রাস্তা ,রাস্তার ওপরে ল্যাম্পপোস্টে  ছিনতাইবাজ বাঁদর ,খোলা নর্দমা তাতে ঘোৎঘোৎ করছে শুয়োর , কাদা ,নোংরা ভিড়  দেখে দেখে একেবারে  ঝাঁট জ্বলে গিয়েছিলো ,তা একদিন বাবার সাথে বেরিয়ে পড়ে আর ধৈর্য রাখতে পারলাম না , জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম
"আচ্ছা বাবা , এই জায়গাটা যদি কৃষ্ণের লীলাভূমিই হয় তাহলে জায়গাটা এত্তো নোংরা কেন ?"
বাবা হো হো করে হেসে ফেলেছিলো , তারপর বলেছিলো
"তুই এই জায়গাটাকে নোংরা বলছিস , বেনারস গেলে দেখবি সেই জায়গাটা আরো বেশি নোংরা " স্কুলে পড়তাম , তাই তখন আমার কাছে বৃন্দাবন আর বেনারসে  দুটোতে খুব বেশি তফাৎ ছিল না। পরে এই ধেড়ে বয়সে কাশীবাসী হয়ে বুঝেছি বাবার কথাটা একই সাথে সত্যি এবং একই সাথে মিথ্যে , A compelte paradox, কারণ সব ময়লা তো আর রাস্তায় গোবরের মতো পড়ে থাকেনা কিছু ময়লা মানুষের ভেতরেও থাকে। প্রথমবার গোধুলিয়া মোড় দেখিয়ে বাবা বলেছিলো "এই জায়গাটা এতো বিখ্যাত কেন জানিস "
"নাহঃ , কোনো আইডিয়া নেই "
"বেনারসের যত বিখ্যাত বাঈজী সব এখানে থাকতো ", বাবার কথা শুনে আমি হাঁ হয়ে গেছিলাম
"আচ্ছা বাবা এখন আর থাকে না ?" বাবা আমার কথার জবাবে শুধু বলেছিলো
"সামনে এগো , রাস্তায় কাদা আছে দেখে হাঁট "
কথাটা মনে পড়তেই হাসি  পেয়ে গেল  , যতবারই  গোধুলিয়া মোড়ে  এসেছি এই স্মৃতিটা ঠিক মাথাচাড়া দিয়েছে। আমি বিশ্বনাথ মন্দিরের গলিতে  ঢুকে পড়লাম , ক্ষিদেটা আস্তে আস্তে বেড়েই চলেছিল , আমি ভারতবর্ষের নানাজাতের লোকজন, ষাঁড় ইত্যাদি কাটিয়ে গলির তস্য গলিতে  ঢুকে গেলাম, আমার মতলব সোজা ছিল অন্নপূর্ণার প্রসাদ খাবো
কেননা Its open to all .
প্রচন্ড টক দক্ষিণ ভারতীয় কায়দায় রান্না করা ভোগ খেয়ে যখন বাইরের গলিতে এলাম ততখনে আমার নেশা বেশ চড়ে গেছে , সাধারণত জানতাম ভাং খেয়ে মিষ্টি খেলে চড়ে যায় কিন্তু টক  খেলে যে দ্বিগুন চড়ে সেটা যা ছিল না।
বিশ্বনাথ মন্দিরের গলির মধ্যে একটা বৈশিষ্ট আছে , গলির মুখ থেকে শুরু করে শেষ অব্দি প্রচুর দোকান আর সব কটাই প্রায় এক রকম দেখতে , হাত চারেক চওড়া গলি তাতে সব সময় জাতের মানুষ, ষাঁড়  যাতায়াত করছে, আর এই শহরটা যে তাদের বাপের সম্পত্তি তা তাদের আচার আচরণেই দিব্বি বোঝা যায়। এবার এই মেইন গলির সাথে আরো অসংখ্য সাব গলি মিনি গলি যোগ হয়েছে আর সব মাইল মিশে একটা জালের মতো বিছিয়ে আছে , দোকানগুলো  থেকে দোকানদাররা  ডাকাডাকি করছে , সূর্যের আলো বেশিরভাগ জায়গায় ঢোকেনা  বললেই  চলে , চিৎকার আলো  আঁধারি ,পরিবেশ একই রকম দেখতে মোড় এই সব মিলিয়ে এই  জায়গা এক  জটিল গোলকধাঁধা।
এই প্রথম টের পেলাম আমি হাঁটতে পারছিনা চোখ জ্বালা জ্বালা করছে , কায়দা করে মেইন গলি থেকে শর্টকাট করে
একটা দুহাত চওড়া মিনি গলিতে ঢুকেছিলাম , নেশার ঘোরে রাস্তাটি কখন  গুলিয়ে ফেলেছি নিজেও বুঝতে পারিনি
ফলে ১০ মিনিট হেঁটেও যখন মেইন গলিতে ফিরতে পারলাম না তখন আর রিস্ক নিলাম না , কোন চুলোয় এসেছি জানিনা কিন্তু নেশাটা একটু কাটিয়ে নিজেকেই পথ খুঁজে নিয়ে বেরোতে হবে ,কিন্তু মাথা টলছিলো , ধপ করে একটা বাড়ির রোযাকে বসে পড়লাম আর পারছিনা , দুহাত চওড়া গলি উঁচু বাড়ি গুলোর ছাত একটার সাথে অন্যটা প্রায় জুড়ে আছে কাজেই গলিতে সূর্যের আলো বিশেষ আসছে না বললেই চলে , আচ্ছা এরকম কোনো বাড়িতেই কি মোগনলাল মেঘরাজ থাকতো ???আলো  আঁধারি মাখা একটা মিষ্টি গোলকধাঁধায় যে আমি ফেঁসে গেছি সেটা বেশ বুঝতে পারলাম । খুব জল তেষ্টা পাচ্ছিলো , জীব শুকিয়ে যাচ্ছিলো , ভাবছিলাম কোনো বাড়ির দরজায় ঠকঠক করবো কিনা  এমন সময় আমার পাশের দরজাটি খুলে , একজন ভদ্রলোক বাইরে এলেন , ধুতি পরা গায়ে চাদর , পায়ে খড়ম
বোধহয় পন্ডিত বা পুরোহিত জাতীয় কিছু একটা হবেন।  ভদ্রলোক বেরিয়ে এসে আমাকে একবার দেখলেন তারপর সামনে আমাকে এবার  ভালো করে দেখে নিয়ে বললেন
"বহুত ফালতু বোঝ বহেরাহে হো বেটা , উসে উতার দো  ওহ লাড়কী তুমহারি কিসমত মে নাহী হায় "
আমি  একেবারে বুরবক  বনে গেলাম , আজ এসব হচ্ছেটা কি !!!!!!!
(চলবে )

বি দ্র - please share ,

আগের পর্বের লিংক -     

Wednesday, 6 December 2017

প্যারাডক্স
১০
ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস
২০১৫

আমাদের উনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের মধ্যে একটা ব্যাপার ছিলো , যেটা এখানের কাউকে  বলে বোঝানো সম্ভব নয়। প্রথমত  IIT খড়্গপুর ছাড়া এ রাজ্যে আর কোথাও ওতো  বড়ো ক্যাম্পাস (মায় একটি কচি এয়ারপোর্ট সমেত )আছে বলে আমি অন্তত জানি না ,দ্বিতীয়ত    গঠনগত দিক দিয়ে বিশ্বভারতী খানিকটা একরকম হলেও সাইজে একটু ছোটোই আর তৃতীয়ত  আমি কালিদাস তো দূর হরিদাসও নই ,নেহাৎ এক তুচ্ছ ব্লগার  তাই  খুব দরকার না পড়লে অনৰ্থন ক্যাম্পাসের বিশদ বর্ণনা দিয়ে লোকজনকে বোর করবো না। তা  বলতে নেই , ইউনিভার্সিটি আমাদের কিছু মোক্ষম সুযোগ সুবিধা দিয়েছিলো  বটে , যার মধ্যে একটা ছিল হেলথ কার্ড। ভর্তি হবার সময় আই  কার্ড, লাইব্রেরি কার্ড ,পাস-বুক ইত্যাদির সাথে হেলথ কার্ডও করতে হয়েছিল কিন্তু এর মহিমা টের পেয়েছিলাম  পরে, এই হেলথ কার্ড থাকলে দু লক্ষ টাকা পর্যন্ত যেকোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা একদম ফ্রী ছিল , ডাক্তার ,হাসপাতাল ওষুধ কোন কিছুর জন্যই টাকা লাগতো না, আর আমাদের মধ্যে অনেকেই বাড়ি থেকে প্রথমবারের জন্য বাইরে বেরিয়েছিল কাজেই তারা অনেকেই অনেকবার অসুস্থ হয়েছে , বড়ো ব্যারামের  জন্য  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  আর ছোট অসুখের জন্য হেলথ সেন্টার দুটোই আমার বিলক্ষণ চেনা।
তাই পূর্বাশার ফোনটা কেটে লঙ্কামোড়ে দৌড়ে আসতে আসতে হিসাব করছিলাম হেলথে আছে মানে নিশ্চয় খুব বড়সড়  কিছু হয়নি। লঙ্কামোড়ে পৌঁছে মানিব্যাগটা খুলে একটা জ্যান্ত সমস্যার মুখোমুখি হতে হলো , আগের রাতেই টাকা তুলেছিলাম আর সবই পাঁচশো টাকার নোট(বর্তমানে যেটা  প্রাক্তন), আর তার বাইরে নোট
বলতে একটা ফাটা এন্টিক দশ টাকা।  আজকে আন্তর্জাতিক প্রেম দিবস আর এই লঙ্কায় প্রচুর গেস্ট হাউস , হোটেল আছে যারা ঘন্টা হিসাবে ঘর ভাড়া দেয় , তাই মোড়ের মাথায় সব কটা ওষুধ দোকানেই তুমুল ভিড় আর এ মুলুকে ওষুদের দোকান ছাড়া কেউ চট করে ফোকটে খুচরো দিতে চায় না. যাই হোক একটা মুদির দোকানে ঢুকে একটা জালি দেহাতি গপ্পো ফেঁদে কোনোরকমে খুচরো যোগাড় করে একটা রিকশা ভাড়া করে সোজা হেলথ সেন্টার রওনা দিলাম।
হেলথ সেন্টারটা ছিল IIT এর খানিকটা আগে আমাদের হোস্টেলের বন্ধুরা মাঝে মাঝেই রুমে বসে বোর হলে বা
সরবতের জন্য চিনি কম পড়লে বা কাফ সিরাপ দিয়ে নেশা করার ইচ্ছা হলে ওখানে হানা দিতো , কাফ সিরাপটা একেবারে অখাদ্য ছিল ওতে কিছুই হতো না এমনকি কাশিও  সারতো না কিন্তু পেট খারাপের নামে ors এনে শরবত করে আমরা অনেকবার খেয়েছি।   
হেলথ সেন্টারে পৌঁছে  রিকসা কাকাকে ভোজপুরীতে বললাম " রুগী ভেতরে আছে , তুমি দাড়াও আমি এখনই নিয়ে আসছি তোমার গাড়িতেই ফিরব "
ভিতরে ঢুকে দেখি , পূর্বাশার মেস মেট  শর্মিলা আর তার পার্টটাইম বেনারসী বয়ফেরেন্ড লাট্টুরাম(আসল নাম নয় তবে শর্মিলার পিছনে টানা দু বছর লাট্টুর মতো ঘুরেছিল তাই এ ইনাম)  দাঁড়িয়ে আছে ,
আমাকে দেখে শর্মিলা একটা বাঁকা হাঁসি হেসে বললো
"এই তো ঠিক হাজির হয়ে গেছে "
 আমার চোয়ালটা শক্ত হয়ে গেল ,
"কোথায় আছে "
"ওই যে ওই ঘরে "
শর্মিলা আঙ্গুল তুলে ডিসপেনসারি দেখিয়ে দিলো , আমি জিজ্ঞাসা করলাম
"ঠিক হয়েছেটা কি বলতো "
লাট্টুরাম মুচকি হেঁসে বললো "কাট দিয়া" আমি চমকে গেলাম
"মানে !!!!! কে কার কি কেটে ফেললো আবার " 
"তুই যা নিজে গিয়ে দেখ " বলে শর্মিলা খ্যাক খ্যাক করে খ্যাঁকশেয়ালের মতো হাসতে লাগলো , সঙ্গে লাট্টুরামও খি খি করতে লাগলো।  আমি বিরক্ত হয়ে ডিস্পেন্সারির রুমে ঢুকে গেলাম , ঢুকে  দেখি পূর্বাশা কোনের দিকে একটা বেঁচে মুখ নিচু করে বসে আছে আর একজন বয়স্কা নার্স কিছু একটা বলছে , আমি ওই দিকে এগিয়ে গেলাম।
ওই বেঞ্চটা হলো  ইনজেকশন নেবার ওয়েটিং প্লাটফর্ম , পূর্বাশার আগে আরো দুজন আছে ,একটা ছেলে যে হাপুস নয়নে ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করছে আর তার প্রেমিকা পাশে বসে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনা দেবার চেষ্টা করছে। আমি পূর্বাশার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম , একটু আগেও যে কেঁদে ফাটিয়ে দিয়েছে সেটা চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে , আমি ঝুকে পড়ে আলতো করে জিজ্ঞাসা করলাম ,
"কি হয়েছে"
কোনো উত্তর নেই
"ওই কি হয়েছে ?"
"তুই এলি কেন !!!! কে আসতে বলেছিলো তোকে !!! এমনিতেই বাইরে শর্মিলা আছে আবার তোকে নিয়ে যাতা কথা রটাতে শুরু করবে , এমনিতেই আমার খারাপ সময় যাচ্ছে ..........
কথা গুলো কানে গেল না , যাঃ শালা  একী নাটক , যার  জন্য চুরি করি সেই বলে গরুচোর!!!!!!!! আপদমস্তক   জ্বলে গেল
"ঠিক আছে, আমি চলে যাচ্ছি "
বলে পিছন ফিরে চলে আসতে যাবো এমন সময় জ্যাকেটের হাতায় টান পড়লো ,ঘুরে দেখি আবার চোখের লক গেট
ভাঙবে ভাঙবে করছে ,
"তুই আমাকে ,মেরে ফেল "
আমার পেট থেকে রবীন্দ্রনাথের গল্পের বঞ্চিত হেরোর মতন একটা দীর্ঘশ্বাস উঠে আসছিলো , কপ করে গিলে ফেললাম,এই মেয়েটা আমাকে শান্তি দেবেনা।
"তোর ঠিক কি হয়েছে ?"
"কুকুরে কামড়েছে "
"কুকুর কথা থেকে এলো !!!! কি কুকুর? কতটা কামড়েছে ? ডাক্তার দেখেছে !!!??"
"মেহুলীদের মেসের কুকুর , দাঁত বসিয়ে দিয়েছে "
আমি থ হয়ে গেলাম, আমরা হাতে গোনা কয়েকজন শহরের মধ্যে নদীর দিকটায় থাকতাম , মেহুলীরাও আমার পরের পাড়ায় থাকে , ওদের মেসের মালিকের কুকুরটাকে আমি দেখেছি খুদে একটা স্প্রিৎজ , দেড় খানা মুরগির মতো চেহারা হবে খুবজোর, আমি কুকুর অত্যন্ত পছন্দ করি কাজেই কোনো সুস্থ কুকুর কোনো মানুষকে কামড়াবে এটা হজম করতে আমার একটু কষ্টই হয় তারপর ওই পুঁচকে মাল !!!
আমি অতিকষ্টে হাসি চেপে জিজ্ঞাসা করতে যাবো
তুই এমন কি করছিলিস যার জন্য কুকুরটা তোকে কামড়ালো , এমন সময় পাশে একটা
"আলো বাপ্পলো " চিৎকার শুনে নড়ে উঠলাম।  দেখলাম সেই ছোকরাকে ডাক্তার ইনজেকশন দিচ্ছে এটা তার চিৎকার
সেই বয়স্ক নার্স এসে এবার পূর্বাশাকে  দেখে
"অভি তুমহারি বারী আয়েগী "
তারপর আমাকে দেখে ফিক করে হেঁসে গড়গড় করে যেটা বললেন সেটার সারমর্ম হলো
যে কুত্তায় কামড়েছে সেটা কতটা সুস্থ সেটা জানা নেই কাজেই ৬টা সুঁই (ইঞ্জেকশান), লাগাতে হবে দুটো আজকেই আর বাকি গুলো ডেট দিয়ে দেয়া হবে , আমি যেন ঠিক মতো এসে সেগুলো দিইয়ে নিয়ে যাই , এমনি ছোট বেশি না ডাক্তারবাবু বলেছেন ভয়ের কিছু নেই , ওষুধ লাগিয়ে দিয়েছেন , এই বাঙ্গালী লড়কি শুধু শুধু রোনাধোনা করছে আমি যেন একে  একটু বুঝিয়ে বলি, এই যে ছেলেটা চিৎকার করছিলো ও পার্কে প্রেম করছিলো আর সেই সময় বাঁদরে কামড়ে দিয়েছে , আমি যেন সেরকম কিছু না করি ,বাঁদরে কামড়ালেও একই ইনজেকশন নিতে হবে।  আমি সুবোধ বালকের মতন ঘাড় নাড়লাম।
আর উল্লেখযোগ্য কিছু হলো না শুধু ইনজেকশন দেবার সময় পূর্বাশা আমার হাতটা আঁকড়ে খামচে ধরেছিলো।
কাউন্টার থেকে সব ওষুধ নিয়ে ,পরের ইনকেকশনের জন্য ছাপ্পা লাগিয়ে পূর্বাশাকে ধরে ধরে  বাইরে এনে দেখি
শর্মিলা আর লাট্টুরাম ভেগে গেছে , আমি বললাম
" আমি রিকশা পার্ক করিয়ে রেখেছি , চল তোকে রুমে পৌঁছে দিই "
রিকশা কাকা আমাকে কিছু একটা বলতে গিয়ে এহেন রুগী দেখে চুপ করে গেল , রিকশায় ওঠার পর  শুধু আমাকে জিজ্ঞাসা করলো
এবার  কোথায় নিয়ে যেতে হবে।
আমি বললাম রবিদাস পার্ক  চলো , রিক্সাকাকা আবার আমাকে একটা নোংরা হাসি দিলো , রিক্সা চলতে শুরু করলো
পূর্বাশা আমার কাঁধে মাথা রেখে চোখবুঝে পড়ে আছে ,ওকে দেখে কেমন জানি মায়া হলো  আহা রে বেচারি
হটাৎ মনে পড়ে গেল চেতন ভগতের রেভোলুশন  ২০-২০ উপন্যাসের এর নায়ক-নায়িকা ওই রবিদাস পার্কেই প্রেম করতে আসতো , আমিও সেই চুলোতেই যাচ্ছি কিন্তু প্রেমটা আমার বোধহয় আর এই জন্মে করা হয়ে উঠবে বলে মনে হচ্ছে না.........
(চলবে )

বি দ্র - ভালো লাগলে  share please

Tuesday, 5 December 2017

প্যারাডক্স
৯
সরস্বতী বয়েস হস্টেল
২০১৩

কচি ছাগলছানার মতো লাফাতে লাফাতে হোস্টেলের সিঁড়ি দিয়ে উঠছিলাম। আমাদের হোস্টেলটা ছিলো পাঁচতলা আর আমরা বাঙালিরা ঠেক জমিয়েছিলুম তিনতলায় , সিঁড়ি দিয়ে উঠে প্রথম ঘরটাই ছিলো বিল্টুদার রোজকার অভ্যাস মতো সেখানেই লাথি মারতে গিয়ে আটকে গেলাম , দরজায় তালা ঝুলছে , দূর শালা মালটা আবার কোথায় ভেগে !!!
আমার এক্সসাইটমেন্টটা একটু চুপসে  গেল , তাও আমি ব্যালকনি বরাবর সোজা এগিয়ে গেলাম , ভার্জিনবাবু , বোকচোদের নাতি ,বিড়লার ব্যাটা ,বড়দা , তরকারীদা , শিলাজিৎদা সবার ঘরেই তালা ঝুলছে কেউই এখনো রুমে ফেরেনি, আমার ভিতরে এবারের মতো  মিডসেমেস্টার   চুকে যাওয়া  আর আগামীকাল বাড়ী ফেরার টিকিটটা তৎকালে  কনফার্ম হওয়া মিলে এই দুটো মিলে যে বেলুনটা তৈরী হয়েছিল সেটা এবার একেবারে চুপসে গেল। একেবারে বিরক্ত হয়ে ব্যালকনির রেলিঙে হাত রাখতে গিয়ে চডাঙ করে শক খেয়ে লাফিয়ে উঠলাম , এক্কেবারে খাঁটি ইলেট্রিকের  শক যাকে বলে ।
"ভোসডিকে "
বেজার মুখে হাতটা ঝাড়তে লাগলাম , উফ চীন চীন করছে , ধুর কোনো মানে হয় !!!!!
আসলে , আমাদের এই হোস্টেলের বিল্ডিংটা প্রায় দেড়শো  বছরের পুরানো একটা বাড়ি এবার কোন দোপেয়ে গাধার মাথায়  এই বাড়ির ইলেট্রিক কানেকশনটা কনসিল ওয়ারিং করানোর মহান আইডিয়া এসেছিলো কে জানে। আইডিয়াটা নিঃসন্দেহে উন্নয়ন মূলক হলেও গোটা বিষয়টার মধ্যেই গোড়াতেই খানিকটা গলদ ছিলো ফলে গোটা ব্যাপারটা বামফ্রন্টের সিঙ্গুর কারখানার মতো ব্যুমেরাং হয়ে যায়। পুরোনো বাড়ি কাজেই বৃষ্টি পড়লে ডাম্প হতো , কনসিল ওয়ারিং এর কল্যানে এর ফলে বেশ কিছু জায়গা হাল্কা করে ইলেক্ট্রিফায়েড হয়ে যেত , যেমন বাথরুমের
লোহার জলের কল, বেসিনের কল , তরকারীদার ঘরের দরজার ছিটকিনি আর শিলাজিৎদার ঘরের সামনের ব্যালকনির রেলিং , মারাত্মক কিছু নয় কিন্তু ছুঁলেই  চট্যং করে হাল্কা শক  লাগতো। আমার এহেন আজীব জিনিসের সাথেও দিব্যি অভস্ত হয়ে গিয়েছিলুম , হেগে জলের জন্য কল খুলতে গিয়ে শক খাইনি এরকম কেউ আমাদের মধ্যে ছিলো না। যাক সে কথা
আমি নিজের রুমের দিকে রওনা দিলাম , তিনতলাটা   ছিল U এর মতো যার একমাথায় ছিল শিলাজিৎদার রুম আর
অন্য মাথায় ছিল আমার ডেরা। রুমে ঢুকে খাটের তোলা থেকে ব্যাগপত্র বার করতে শুরু করলাম , আপাতত বাড়ি ফেরার আনন্দটা ব্যাগ গুছিয়েই সারবো এমনটা ঠিক করে , স্পিকারে জোরে  জোরে "জিন্দেগী না মিলেগি দোবারা " সিনেমাটার " দিল ধাড়াকনে দো " গানটা একটা লুপে চালিয়ে গোছগাছ শুরু করলাম , সবে গানটা একবার শেষ হয়ে আবার শুরু হয়েছে এমন সময় দরজার ঠক ঠক হলো। আবার কে এলো !!!!!!
গান আর গোছানো দুটো আপাতত স্থগিত রেখে দরজাটা খুললাম।  খুলে দেখি বাবা কালী (অবশ্যই এটা ভদ্রলোকের আসল নাম নয় কিন্তু এ নামকরণের  পিছনের কেচ্ছাটা পরে একদিন বলবো). বাবা কালী ছিল আমার ডিপার্মেন্টের সিনিয়র , আসলে ওই আমাকে প্রথম এই হোস্টেলে নিয়ে আসে একদম নিজের পাশের রুমে , এমনকি বিল্টুদার সাথে আলাপটাও এই করিয়ে দিয়েছিলো , কিন্তু তারপর আমি বিল্টুদা , শিলাজিৎদা , তরকারীদা এদের সাথে এমন ভাবে ভিড়ে  গেলাম যে আর বলার মতো নয় ফলে এমনও হয়েছে যে পাশাপাশি ঘরে থাকা সত্ত্বেও আমার সাথে বাবা কালীর  টানা সাত আট দিন দেখা হয়নি এমন দিনও গেছে , কাজেই আমি অবাক হলাম।
"কি করছিস "
"কিছুনা এই ব্যাগ গোছাচ্ছিলাম , সামনের কয়েকদিন তো ছুটি তাই কালকে বাড়ি যাচ্ছি "
"বাহ্ বাহ্  খুব ভালো , তা বলছিলাম কি সিগারেট খাবি "
আমি আর না বলি কি করে বললাম
হ্যাঁ
বাবা কালী আমার ঘরে ঢুকে চৌকিতে গ্যাঁট হয়ে বসে একসাথে দুটো সিগারেট ধরালো, তারপর আমাকে একটা দিয়ে বলল
"শোন্ না , আমার একটা হেল্প করবি "
তাই বলি শালা নির্ঘাৎ কিছু একটা ধান্দা আছে না হলে আমায় যেচে বিড়ি খাওয়ানো কেন , মুখে বললাম
"কি হেল্প বোলো "
বাবা কালী নিজের মোবাইলটা খুলে একটা কিছু খুঁজতে খুঁজতে বললো
"আমার না তোদের ইয়ারের এক জনকে বড়ো ভালো লেগে গেছে "
 আমি অবাক হয়ে বললুম
"কে?????"
"এই যে এই মেয়েটা " বলে আমার দিকে মোবাইলটা এগিয়ে দিলো , আমার ভুরুটা কুঁচকে গেল , ছবির মেয়েটা পূর্বাশা
"তোকে তো দেখি এই সাথে কথা টথা বলতে সেদিনতো তোকে জড়িয়েও ধরলো   একটু দেখনা ভাই যদি কিছু করতে পারিস , আমার না সোনিয়ার সাথে কালকে ব্রেকাপ হয়ে গেছে...... "
বাকিকথা গুলো মার্ কানে ঢুকছিল না। সোনিয়াদিও  আমাদের ডিপার্মেন্টের সিনিয়র।   ব্রেকাপ শুনেও  আমি অবাক হলাম না এদের সপ্তাহে এমন গোটা তিনেক হয়ে থাকে , কিন্তু তা বলে পূর্বাশাকে লাইন মারবে তাও সেটার জন্য আবার আমাকে বলছে  , আমার ঝাঁট জ্বলে একেবারে বেগুনপোড়া হয়ে গেল, আমি বললাম
" হুমম চিনি অল্পসল্প , কিন্তু ....... আচ্ছা আমি ফিরে আসি সামনের সপ্তাহে তারপর দেখছি বুঝলে "
বাবা কালী একেবারে গদগদ হয়ে বললো ,
"ভাই সেট করে দে আমি তোকে ভালো মদ খাওয়াবো , বিপি "
"আচ্ছা সে দেখা যাবেক্ষণ, আমি এবার একটু গুছিয়ে নি কেমন "
"হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চই নিশ্চই , আমি হেল্প করবো "
"না না কোন দরকার নেই" 
"আহঃ করি না "
"নাগো লাগবে না "
বাবা কালী গ্যাট হয়ে আমার চৌকিতে বসেই রইলো , আমি চৌকির তলা থেকে ট্রলিটা বার করে ধুলো ঝাড়তে শুরু করলাম , পূর্বাশার ওপরেই আমার রাগটা জমতে লাগলো কি দরকার ছিল ওইদিন অতো বাড়াবাড়ি করার
নাও এবার ম্যাও সামলাও , সব বাঁশগুলো  কি করে ঠিক আমার পিছনটাই খুঁজে পায় সেটা নিয়ে একটা গবেষণা করা দরকার।
(চলবে )

বি দ্র - বোকচোদ কোনো খিস্তি নয় , বেহার মুলুকে বাচাল লোকজনদের ওটা বলা হয়ে থাকে , বাঙালি খিস্তি          "বোকাচোদা " এর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
       ভালো লাগলে Please share.
   

Monday, 4 December 2017

প্যারাডক্স
৮
Valar dohaeris
সেই রাত
               
                                         
আমার ঝাপসা চোখ দুটো আস্তে আস্তে  বুজে আসছিলো ,তাও দেখতে পেলাম আমাকে যে হতভাগা মারতে আসছিলো , সে ঠিক আমার পাশে পড়ে আছে , বোধহয় মরে গেছে কারণ ডান চোখের ঠিক ভিতর দিয়ে একটা তীর  ঢুকে  খুলিটাকে  ভেদ করে অৰ্ধেকটা বেরিয়ে গেছে। আচমকা কে যেন আমার পশে লাফিয়ে এসে আমার হাতের বাঁধা দড়িটা টেনে এক হ্যাঁচকায় দাঁড় করিয়ে দিলো। আমার শরীর কেমন যেন টলছিলো , আমি ভালো করে কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না সব কিছু  চোখে কেমন একটা ঝাপসা ঝাপসা ঠেকছিলো। হটাৎ করে দুটো বেশ শক্তশালী হাত আমার কাঁধটা শক্ত করে ধরেঅজানা ভাষায় কিছু একটা বলতে বলতে জোরে একটা ঝাঁকুনি দিলো , আর তাতেই বোধহয় ঝট করে আমার ঘোরটা কেটে গেল।  পরিষ্কার চোখে এবার দেখতে পেলাম একটা সাদাচুলো  বুড়ো লোক !!! নাঃ বুড়ো  বলাটা বোধহয় ঠিক হবে না কারণ এর চেহারা প্রায় আমার দ্বিগুন হলেও ভালো করে দেখে বুঝতে পারলাম এর চুল আর দাড়ি যতই একেবারে ধপধপে সাদা হোক গলার আওয়াজে মনে হচ্ছে বয়সটা আমারই মতন ।  কিন্তু হাতে একটা অদ্ভুত ধরণের ধনুক , পিঠের থলে থেকে একগোছা তীর উঁকি মারছে , গায়ে একটা সাদা জাপানি কিমোনোর  মতো কিছু একটা পরা আশ্চর্য এর কি সবই সাদা নাকি , আরে একি !!!!!!! ....... এবার দেখলাম পিছনে বরফের মতো সাদা একটা ঘোড়া মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে, এটারই কি পায়ের আওয়াজ এতক্ষন শুনছিলাম ?পরপর  এতো সব কিছু দেখে না, আমার চোখে কেমন যেন একটা ধাঁধা লেগে গেল.
 এবার  সমস্যাটা হলো  আমার এসবকিছুই কেমন চেনা চেনা লাগছিলো কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পাচ্ছিলাম না।
লোকটা (নাকি ছেলেটা বলবো ?) এবার আমার কাঁধটা ছেড়ে দিয়ে বাঁ হাতে একটা  লম্বা ছোরা দিয়ে অনায়াসে
আমার হাতের দড়িটা কুচ করে কেটে ফেললো, আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অত্যন্ত অমায়িক ভাবে  পিঠের থলিতে হাত বাড়িয়ে একটা তীর বার করে ডান হাতের ধনুকে লাগিয়ে ,  আমার দিক থেকে চোখ না সরিয়ে ডান দিকে ছুঁড়ে দিলো,একটা আর্তনাদ উড়ে এলো  শুধু । আমি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি একটা  প্রহরী সে এইদিয়েই তেড়ে আসছিলো , ধপ করে বালিতে পড়ে গেল , তীরটা তার  গলা এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছে , আর গোটা বিষয়টাই এতো  তাড়াতাড়ি চোখের পলকের মধ্যে ঘটে গেল আমি একেবারে স্ট্যাচু হয়ে গেলাম। এই তীরন্দাজ বাবাজিটি কে? সত্যি বলতে কি এইরকম জিনিস আমি আগেও দেখেছি কিন্তু সেটা টিভিতে Green Aroow কে করতে দেখেছি কিন্তু এই ভাবে চোখের সামনে জলজ্যান্ত  !!!!  ছেলেটা আবার আমাকে অজানা ভাষায় কিছু একটা বলে মাথা নাড়লো। তারপর নিজের জামার মধ্যে থেকে হার জাতীয় কিছু একটা বার করে আমার গলায় ঝুলিয়ে দিলো। আমি কিছু বলার আগেই টের পেলাম হারটা আমার গলার চামড়া ছোঁয়ামাত্রই নিঃস্বাস বন্ধ হয়ে গেল আর  গোটা গায়ে প্রচন্ড তাপের একটা ঝটকা লাগলো , মনে হলে সারা গাটা যেন পুড়ে যাচ্ছে ,মাথার ভেতর যেন একটা খুব জোরে একটাতারাবাজী   ফেটে গেল ,চোখ নাক কান দিয়ে যেন আগুনের হলকা বেরোতে লাগলো ,কিন্তু সবই ওই কযেক  সেকেন্ডের জন্য , তারপর আবার সব ঠিক হয়ে গেল , আমি খাবি খাবার মতো হ্যা হ্যা করে হাঁপাচ্ছিলাম, কিন্তু বেশ টের পাচ্ছিলাম কিরকম যেন একটা হাল্কা হাল্কা লাগছে , কি যেন একটা আলাদা মনে হচ্ছে
"All men must die"
"All men must serve " এটা আমার মুখ দিয়ে আপনাআপনি বেরিয়ে যেবার পরই আমার খেয়াল হলো , এটা কি হলো !!!!!!!! এতক্ষন আমি তো এর একটা কথাও বুঝতে পারছিলাম না আর এখন একেবারে সোজা ইংরেজি !!!
আর আমার গলায় এটা !!!!!! হাত দিয়ে দেখলাম একটা ক্রিস্টালের মালা মাঝে একটা ছোট্ট গোল নক্সা করা লকেট ঝুলছে যার মাঝখান থেকে একটা ছোট্ট সবুজ পাথর জ্বলজ্বল করছে , এটা আবার  কি রে বাবা !!! সাদাচুলো   তীরন্দাজ ছোকরা এবার বললো " যাক তাও ভালো , আচ্ছা বলতো আমি কে?"
আমি আবার তাকালাম ,  সাদা ঘোড়া ,সাদা  তীর , সাদা বর্ম , একদম বরফের মতো ...... আরে !!!!! আমার মাথায় ঢং করে একটা ঘন্টা নড়ে উঠলো যেন , আমার মুখ দিয়ে আপনাআপনি বেরিয়ে গেল
"তুমি তুষার-রাজ ব্যারন এর পুত্র , যুবরাজ হিমোবোন , দক্ষিণ তুষারের সেরা তীরন্দাজ,সাদা নেকড়ে  "
বলে আমি নিজেই অবাক হয়ে গেলাম , এসব কি বকছি আমি !!! আর সত্যি বলতে কি আমি নিজে ঠিক কথা গুলো বলছিনা আমার ভেতর থেকেই কেউ কথা গুলো যেন বলে দিচ্ছে , আমার জবাব শুনে এবার রাজপুত্র হিমোর মুখের ভেতরের  অভিজাত সাদা মুলোর মতো দাঁতগুলো ঝকঝক করে উঠলো
" হুম ,তাও  ভালো  আচ্ছা এবার বলতো তুমি কে ?"
আমি মাথাটা আবার টনটন করে উঠলো , মনে পড়ছে কিন্তু পড়ছে না  স্মৃতিগুলো কোথাও যেন একটা গিট্ পাকিয়ে গেছে, মনে করতে না পারার অসহ্য যন্ত্রনায়  আমার  মুখটা কুঁচকে গেল।

"তোমাকে এখনো এই পৃথিবীর মায়া জড়িয়ে রেখেছে বন্ধু  , দেখতো  এটা দেখে যদি কিছু মনে পড়ে , আমি ততক্ষন ওদের একটু দেখে আসছি " এই  বলে যুবরাজ হিমো আমার হাতে কিছু একটা গুঁজে দিয়ে জাহাজের দিকে এগিয়ে গেল , সেইদিকে তাকিয়ে আমি বুঝতে পারলাম ওরা টা  কারা। জাহাজ থেকে এতক্ষনে সাত আট জন নেমে এসেছে আরোও কয়েকজন  একটার পর একটা লাফ দিয়ে  নামছে, হিমো ওদেরকে একটার পর একটা তীর মেরে ঘায়েল করতে করতে   এগিয়ে গেল। আমি হাতের জিনিসটা ভালো করে দেখলাম গোল করে গোটানো একটা বিশাল চাবুক , সরু লিকলিকে
মাথাটায় একটা বর্শার  মতো ছোট ধারালো হুকজাতীয় একটা ফলা  লাগানো , চাবুকটার রং সোনালী , আর যে হাতলটা আমি ধরে আছি তাতে একটা অদ্ভুত জীব খোদাই করা যার  গোটা গাটা মাছের মতো,ল্যাজটা বিদ্যুতের মতো আঁকাবাঁকা কিন্তু  মুখটা সিংহের আর সেই সিংহের চোখে দুটো ছোট্ট ছোট্ট লাল পাথর জ্বলজ্বল করছে।  . কিন্তু আজব ব্যাপারটা হচ্ছে  ,এই  চাবুকটা হাতে নেবার পর থেকেই আমার কেমন যেন নিশ্চিত লাগছে।  অনেকদিন বাড়ির বাইরে থাকার পর   বাড়ি ফিরে নিজের চেনা বালিশে মাথা দিলে যেমন শান্তি লাগে অনেকটা সেরকম , জিনিসটা আশ্চর্যরকমের  হালকা, আমি এটাকেও খুব ভালো করে চিনি কিন্তু কিছুতেই  মনে করতে পারছিনা।
"দ্রুমম -দ্রুমম-দ্রুমম  " ,  আচমকা আওয়াজে আমি কেঁপে গেলাম ,  শব্দের উৎসটা  সামনের দিকে তাকাতেই টের পাওয়া গেল, জাহাজ থেকে পরপর কয়েকটা আতসবাজির মতো গোলা এসে হিমোর সামনে আছড়ে পড়েছে। হিমোর তীর ধনুক দুটোই  ছিটকে পড়েছে , সভয়ে লক্ষ্য করলাম এই সুযোগে কম করে সাত আট জন ওকে ঘিরে ফেললো ,
আর দুজন আমার দিকে তেড়ে এলো।
আমার মেরুদন্ডটা বরাবর একটা শিরশিরে স্রোত বয়ে গেল কিন্তু এবার সেটা ভয়ে নয় , উত্তেজনায়  , চাবুকটা আমার হাতের মধ্যে  যেন একবার নড়ে উঠলো।  কি কান্ড এটাও জ্যান্ত  নাকি !!!! একজন আমার খুব কাছে চলে এসেছে সেই বিশাল চেহারা ,গায়ে বর্ম ,হাতে অমানুষিক একটা তরোয়াল আর মাথায় মোষের সিঙের মতো শিরোনাস্ত্র , আমি চাবুকের হাতলটা শক্ত করে ধরলাম , তারপর যে কি হলো নিজেও ভালো করে বুঝতে পারলাম না , আমি নিজে চাবুকটা ওর দিকে চালালাম নাকি চাবুকটা  নিজেই নিজেকে চালনা করলো সেটা বুঝতে পারলাম না , শুধু দেখলাম চাবুকটা গায়ে লাগতেই মালটা একটা আর্তনাদ করে ছিটকে পড়ে গেল,আমি  অবাক হয়ে গেলাম ! আমার গায়ে যে খুব জোর আছে এমনটা  মোটেই নয় বরং উল্টোটাই বলা চলে , কিন্তু এ ছিটকে পড়ে গেল কি করে !!!!! আমি চাবুকটার দিকে তাকিয়ে
আরো অবাক হয়ে গেলাম , সোনালী রংটা উবে গেছে , গোটা  চাবুকটা এখন ফসফরাসের মতো জ্বলজ্বল করছে। আরেকটা প্রহরী বোধহয় আমার চেয়েও  বেশি  অবাক হয়ে গিয়েছিলো , এবার সে আমার দিকে
"হেরে পিকারা...  " বলে একটা চিৎকার  করে ঝাঁপ দিলো , আমি চোখ বন্ধ করে প্রানপনে চাবুকটা চালালাম ,
"ফ্ল্যাতত " করে একটা শব্দ হলো আর আমার চোখে মুখে পাঁক-কাদাজলের মতো দুর্গন্ধময় আর সাথে একটা কিছু এসে
ছিটকে পড়লো ,আর একটা প্রচন্ড আর্ত চিৎকার। আমি চোখ খুলে দেখলাম দ্বিতীয়জনের শরীরের ওপরের বর্মটা ছিঁড়ে গেছে , চাবুকটা তার বুক ফালাফালা  করে দিয়েছে ,এ আর সেখান থেকেই এই কাদাজলের মতো জিনিসটা ছিটকে এসে আমার চোখে মুখে লেগেছে , রক্তর মতো থকথকে জিনিসটা আমার গায়ে লাগতেই আমার সব স্মৃতির সব জট একঝটকায় খুলে গেল। আমি চিনি এদের , এরা দাগোনোস, মানুষের মতোই দেখতে হিংস্র জলদস্যু জীব , এদের শিরায়
রক্তের জায়গায় অন্ধকার আর পাপ বয়ে বেড়ায় , ধ্বংস আর মৃত্যুর জন্যই এদের জন্ম, এদের কোনো হৃদয় নেই ,
এরা ডালকুত্তার মতো গোটা বিশ্বে একজনেরই  পোষ  মানে  , পঞ্চসাগেরের আতঙ্ক , জলদস্যু রাজ  পিকারাস এদের প্রভু  , এই পিকারাসই একযুগ আগে আমাদের আযম দ্বীপ তছনছ করে দিয়েছিলো , রাজাকে চিরতুষারের নিদ্রায় শুইয়ে দিয়ে ,আমাদের দ্বীপের সবুজের রাণী মা সোনেতা কে তুলে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলো , আমার দ্বীপ সেই থেকে চির  বরফের রাজ্য।আমার এক এক করে সব মনে পড়তে শুরু করলো আর তার জন্যই বোধহয় আমার শরীরের সমস্ত রক্ত দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগলো, গলা দিয়ে জানোয়ারের মতো গরগর শব্দ হতে লাগলো ,
চোখে মুখে লেগে তাহাকে চ্যাটচ্যাটে কালো ঠান্ডা রক্তটা হাত দিয়ে  মুছতে মুছতে দেখলাম যুবরাজ হিমো দুহাতে দুটো তরোয়াল নিয়ে অমানুষিক ভাবে লড়ে যাচ্ছে সাতটা দাগোনোসের সাথে , হিমোর অসম্ভব গতি ওকে বাঁচিয়ে রাখলেও
এভাবে ও বেশিক্ষন টিকতে পারবে না। আমি মুখ হা করে নিঃস্বাস নিলাম , আকাশে কখন মেঘ করে এসেছে টের পাইনি , এবার যেন   মেঘের গর্জন শুনতে পেলাম। সদ্য রক্তের স্বাদ পাওয়া নেকড়ের মতো হিংস্র একটা প্রতিশোধের নেশা আমাকে পেয়ে বসলো , "হ্যাআহহ হ " করে দাঁতের ফাক দিয়ে শিসের মতন একটা শব্দ করে আমি হিমোর দিকে দৌড়ে গেলাম।  সাতজন ওকে চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলছিলো ,আমি  দৌড়োতে দৌড়োতে চাবুকটা চালালাম , চাবুকের মাথার হুকটা একজন পিঠের ভিতরে মেরুদণ্ডে  গেঁথে গেল ,আরেকটা হ্যাঁচকা টানে  সেটা বার করে নিতেই মেরুদন্ড দুটুকরো হয়ে  সে নেতিয়ে পড়লো , চাবুকটা ঘুরিয়ে আবার মারলাম , এবার পাশের জনের ডান  হাতটা ,গরম ছুরি যে ভাবে  মাখন কাটে সেইভাবে  মতো কেটে নিলো , এবার বাকিরা অন্যমনস্ক হতেই হিমো কচকচ দুজনকে কচুকাটা করে ফেললো। এবার বাকি তিনজনের মধ্যে একজনের গলা লক্ষ্য করে চাবুক চালালাম , চাবুকটাও আমার পোষা কুকুরের মতো ওই দাগোনোসের গলাটাকে পেঁচিয়ে ধরলো ,এক টানে ব্যাটাকে মাটিতে আছড়ে ফেলে ওর গলার ওপর হাঁটু চেপে চাবুকের  ধারালো হাতলটা সজোরে গালে ঢুকিয়ে দিলাম
"হেরে পিকারু " বলে চিৎকার করে উঠলো , চিৎকারের সাথে সাথে আমি হাতলটা আরো গভীরে ঢোকাতে ঢোকাতে        নেশাগ্রস্থের মতো বলতে লাগলাম
"কোথায় তোদের রাজা পিকারাস ,বল হারামজাদা ,শিগরির বল, নাহলে তোকে আমি মরতেও দেবোনা , বল  জলদি ........"
হিমো বাকি দুটোকে শুইয়ে রেখে আমার দিকে আসছিলো , এমন সময় আকাশ ফাটিয়ে একটা বাজ পড়লো আমাদের সামনে , আমি হিমো দুজনেই ছিটকে  পড়লাম , বালির চরে সঙ্গে সঙ্গে  যেন একটা ঘূর্ণি ঝড় উঠলো , কাদা জল বালি হওয়ার তোড়ে উড়ে আসতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরে সব শান্ত হতে দেখলাম , দাগনাসদের জাহাজটা এর মধ্যেই  অনেকটা দূরে সরে গেছে এবং আরো দ্রুত সরে যাচ্ছে , সব থেকে বাজে ব্যাপার জাহাজটা জলে ভেসে যাচ্ছে না জল থেকে কয়েকফুট ওপর দিয়ে
ভেসে চলে  যাচ্ছে, আমি উঠে বসলাম , চাবুকটা আমার হাতে তখনো  ধরা।
হিমো আমার কাছে এসে বললো
" দুঃখিত বন্ধু , তুমি এখনো তৈরী হওনি , এই পৃথিবীর মায়া ,এই মাত্রার মায়া তোমাকে আবার  দুর্বল করে দিয়েছে "
বলেই একটানে আমার গলা থেকে  হার থেকে লকেট টা ছিঁড়ে নিলো , আবার আমার পা থেকে মাথা অব্দি একটা আগুনের গোলা লাফিয়ে উঠলো , এবারে আর সহ্য করতে পারলাম না , একেবারে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলাম।


(চলবে )

বি দ্র - আবার আসিয়াছি ফিরে , লেখাটা ভালো লাগলে please
share

Friday, 1 December 2017

ইদানীং কিছু দিনধরে আমাকে বড্ডো লেখা-লেখায় পেয়েছে , থেকে-থেকে লেখার বেগ চেপে-চেপে আসছে, আর সে বেগের সাথে একমাত্র আমাসার বেগই তুলনীয় যখন চেপে বসে তখন জগৎ অন্ধকার না নামিয়ে উপায় থাকেনা ,আর নামিয়ে  ফেলার পর আহা সে এক তুরীয় ব্যাপার। এখন ব্যাপার হচ্ছে সুকুমার রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে অনেকেই দেখছি হেব্বি হেব্বি পোস্ট দিচ্ছে , তা  একদা এই ভদ্রলোককে নিয়ে আমাকে একটি বাধ্যতামূলক  সেমিনার দিতে হয়েছিল আমার বেনারসী সহপাঠী /পাঠিনীগণের আমি আজও ওই অতি দীর্ঘ পনেরো মিনিটের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।  তা যাই হোক ফেবুতে এত্ত কিচু  দেখে আমারও লোভ লাগলো আর আজকাল তো ,লোভে পাপ  পাপে ফেসবুক। তা যাক সে কথা আমি বরং আবোলতাবোল থেকে কোটেশন না কপচে একটু অন্য কথা বলি।

ভদ্রলোক যখন  নিতান্তই বালক ছিলেন(ভদ্র ছিলেন কিনা সন্দেহ আছে ) তখন পড়তেন সিটি কলেজ স্কুলে , যেখানের এক সহপাঠী ছিলো পাগলা দাশু (মানে ইনস্পিরেশন আর কি ),তারপর যান প্রেসিডেন্সিতে এবং  সেখানে ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রি  দুটিতেই অনার্স সমেত গ্রাজুয়েশন  বাগিয়ে পাড়ি দেন ইংল্যান্ডের  School of Photo-Engraving and Lithography, London এ   ফোটগ্রাফি আর প্রিন্টিং টেকনোলজি শিখতে ,এবং রবি গুরুর নোবেল হাঁকানোর সময় তাঁর গান নিয়ে বিলেতে বেশ কয়েকটি লেকচারও দিয়ে ছিলেন , প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রবীন্দ্রনাথ ,জগদীশ্চন্দ্র এবং প্রফুল্লচন্দ্র তিন জনেই ওনার পারিবারিক বন্ধু ছিলেন (এঁনাদের  কাছ থেকে খানিকটা ট্যালেন্ট বোধহয় বিজয়ার প্রণামের সময় আবদার করে ঝেড়ে দিয়েছিলেন) . বিলেতে থাকার সময়ই  halftone blockmaking  ওপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ বিলিতি জার্নালে প্রকাশিত হয় , 1912সালে  তিনি  Royal Photographic Society র সদস্যপদ পান ,1922 সালে তিনি ওই সোসাইটির  ফেলোশিপ ও লাভ করেন যা তাঁর মৃত্যু অব্দি বহাল ছিলো। ভারতে ফোটোগ্রাফি এবং লিথোগ্রাফি এই দুটি বিষয়ে তিনিই প্রধান পথিকৃৎ ছিলেন ,(এরপর মানিকবাবু যে কচিবেলায় ঝুমঝুমির বদলে ক্যামেরা হাঁকড়াবেন তাতে আর আশ্চর্য কি !) মজার ব্যাপার হলো সেই সময়ে  রীতিমতো একযুগ খোদ লন্ডনে কাটিয়ে
এবার একটু লাইনের কথায় আসছি ,বিশ্ব সাহিত্য লিটারারি ননসেন্স বা  nonsense literature নামক একখান ধারা আছে  Edward Lear কে এইধারার জনক বলা যেতে পারে পরে  Lewis Carroll পরে একে আরো সমৃদ্ধ করেন , তা
এই ধারায় বিশ্বব্যাপী লেখক কাজ করেছেন এবং এই পোড়া দেশ থেকে এক মাত্র সুকুমার রায় সেই লিস্টিতে আছেন
(সন্দেহ থাকলে উইকিপিডিয়া চেক করে দেখতে পারেন মিছে কতা কইচি না ), 1923 সালে আবোলতাবোল বেরোনোর পর  পাক্কা 94 বছর কেটে গেছে এখনো কোনো আঁতেল বঙ্গবীরের হিম্মৎ হয়নি এই ধারায়  সাহিত্য  পয়দা করার হায়রে বাঙালী !!! জনৈক রায় -বাবুর আর কি দোষ !!!
হাঁসজারু , গিরগিটিয়া , বকচ্ছপ , চিল্লানোসোরাস এদের সৃষ্টির পিছনের গভীর বৈজ্ঞানিক -দার্শনিক এবং সামাজিক গভীরতার কথা বা  Alice's Adventures in Wonderland এর প্রায়  সমমানের রচনা "হ জ ব র ল " এর গভীর দার্শনিক sarcasm বা লক্ষণের শক্তিশেল  এর অসাধারণ উজ্জ্বল ডার্ক হিউমারের  কথা না হয় নাই বা বললাম।ছোটদের জন্য সরল করে লেখা দেশ বিদেশের বিজ্ঞান ,পুরান ,বিখ্যাত ঘটনা , মনীষীর জীবনী এগুলোতো লোকে সুকুমার  সমগ্র(অখণ্ড ) বানিয়ে স্রেফ ভুলে মেরে দিয়েছে , আগে তাও মালটা আলমারি অব্দি যেত এখন তো তাও যায়না। খারাপটা  লাগে তখনই যখন কিছু বিচিত্র  বাঙালি (বিশেষ করে  মাধবপুরের জনগণ ) সুকুমার রায় বলতে ওই ছেলে ভোলানোছড়ার  বাইরে কিছুই বোঝেনা , খুব জোর ডিপি কভারে খুচরো কোটেশন ব্যাস , নিদেনপক্ষে একটা  মেট্রো-স্টেশান  অব্দিও ওনার কপালে জুটলোনা (ধরণী তুমি বরং ওনার ছেলের কাছেই যাও )ভদ্রলোক না থাকলে যে আজকালকার দিনে D S L R বাগিয়ে মামনিবাজি করা বেরিয়ে যেত সেটা বোঝার মতো হতভাগাদের সংখ্যা ফ্যাতাড়ুদের মতোই নগন্য , আর যাদের আছে তারাও
ফ্যাৎ-ফ্যাৎ  সাঁই-সাঁই  করতে ব্যাস্ত। অগত্যা .......
অবশ্য এতে সুকুমার রায়ের কিছুই ছেঁড়া যায় না , উনি দিব্বি ওপরে উঠে রোদে বাদাম ভাজা গিলতে গিলতে একটার পর একটা মাস্টারপিস নামাচ্ছেন আর নিচে তাকিয়ে ফিক ফিক করে হাসছেন , জিনিয়াসরা এরকমই হন , তাঁদের দেখা যায় ধরা যায়না।
বড্ডো বেশী বকে ফেললুম ,কেউ যদি এতদূর ধৈর্য্য ধরে পড়ে থাকেন নিজগুনে ক্ষমা করে দেবেন।
 "ঘনিয়ে এলো ক্ষিদের  ঘোর
        বকার পালা সাঙ্গ মোর "
                                                             

বি দ্র - এতো দূর যদি পড়েই থাকেন কষ্ট করে , তাহলে এট্টু শেয়ার করে দেবেন নাহয় , সুকুমার রায় বা জনৈক 
রায়-বাবু  আশীর্বাদ না করলেও এই অধম অবশ্যই করবে।
                                                            ধন্যবাদ

Thursday, 30 November 2017

                                                            তাও .........নাহ 

কি বলি ? বলার মতো এক গামলা কথা ক্রমশ জমে যায়,
কিন্তু  বলার  একটুকুও  যো   নাই ,
অলঙ্ঘনীয় যৌন আবেদনে মস্তিস্ক স্থির রাখা দায়,
কিন্তু সামাজিক বিধি নিষেধ বড়ো বালাই।
কাজেই পোড়া মনের স্বান্তনা ,
প্রতি ভোররাতের শুকনো কান্না
প্রতি সকালে মেকি হাসির মুখোস বলে আর না আর না।
তাও পারি না ,
সঙ্গম ভুলে সংযমের প্রাণান্তকর অভ্যাসে
 নিউরোনের  স্মৃতি জালিকাগুলো মুচকি  হাঁসে 
তাও পারি না,
ব্ল্যাকে বেআইনি ঘুম কিনে স্বপ্নে জেগে উঠে দেখি
সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে ......একি!!!!
শত শত ছাইয়ের প্রতিমা ,  ভঙ্গুর হাত বাড়িয়ে দেয় হানা
সামান্য ঘুম ,তাও পাইনা
তাই বলছি "মিতা "
আমাকে একটু আদর করে  ঘুম পাড়িয়ে দেবে
আমি একটু ঘুমাতে চাই  তোমার কোলে মাথা রেখে




প্যারাডক্স
         
                                                                           
৭
Valar Morghulis

ব্যাসকাশী , রাত-দুপুর


              পাশ ফিরে শুতে গিয়ে নাকে-মুখে একগাদা বালি ঢুকে গেল ,খক-খক করে কাশতে কাশতে উঠে বসতে গিয়ে গন্ডগোলটা টের পেলাম। আমার হাতদুটো  আষ্টে-পিষ্টে বাঁধা !!ঘুম একেবারে ছুটে গেল।ভালো করে চোখ খুলে দেখলাম আমি একটা বালিয়াড়িতে পড়ে আছি , রাত এখন কত আমি জানি না, হাতদুটো একধরণের অদ্ভুত দড়ি দিয়ে বাঁধা আছে , এরকম উদ্ভট  দড়ি আমি বাপের জন্মেও  দেখিনি, দেখেই বুঝতে পেরেছি এ দড়ি ছেঁড়া আমার কম্মো নয়। আস্তে আস্তে একটু কষ্ট করেই উঠে বসলাম। অন্ধকারে যতদূর দেখা ধু ধু করছে বালিয়াড়ি আর আমার একটু সামনেই  ছলাৎ ছলাৎ করে   এসে আছাড় নদীর জল আর নদীর ওপারে জীবন্ত ইতিহাসের মতো দাঁড়িয়ে আছে বারাণসী। ........
বুকটা কেঁপে উঠলো , এই জায়গাটিকে আমি বিলক্ষণ চিনি , এটা বেনারসের গঙ্গার উল্টোদিকের বালির  চড়া  যেটাকে বলা হয় ব্যাসকাশী !!!! আমি এই জনমানবহীন হতচ্ছাড়া জায়গাটায় এলাম কি করে !!!! মাথাটা আবার গুলিয়ে গেল।
  হাতদুটো পিছমোড়া করা বাঁধা ছিলোনা তাই হাত দিয়ে আগে নাকে মুখে লেগে থাকা বালি সরালাম। মাথা কাজ করছে না , যতদূর মনে পড়ছে আমি আর নবেন্দু ভাং , কাবাব পরোটা ইত্যাদি গান্ডেপিন্ডে গিলে  ধুম নেশায়  ঘাটের চাতালে শুয়ে পড়ে ছিলাম তারপর কেউ বা কারা মুখের আলো ফেলে কিছু একটা জিজ্ঞাসা করছিলো , আমরা শুধুই হাসছিলাম ব্যাস....... .তারপরে যে কি হলো আর কিছুই মনে নেই একদম ব্ল্যাক আউট।আমি দুহাত দিয়ে মাথার চুল খামচে ধরলাম , তারপর কি হলো !!!!!!!
আমি নদীর এপারের এলামটাই বা কি করে ? আমার হাত কে বাঁধলো ? নবেন্দুটাই বা  কোথায় গেল!!!!!!
ধপাস করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লাম , নেশাটা কেটে গেলেও এখনো একটা ঘুমঘুম  ভাব আছে। আকাশে  আজকে অস্বাভাবিক ভাবে অনেক তারা জ্বলজ্বল করছে , হাল্কা চাঁদের আলোও এসে পড়ছে মাঝে মাঝে। চিৎ হয়ে শুয়ে শুয়ে মনে মনে হিসাব করার চেষ্টা করছিলাম
কাশীর ঠিক উল্টো পিঠটা  হচ্ছে ব্যাসকাশী , পুরানে যেমন বলে কাশীতে মরলে স্বর্গের ফ্রি গ্যারেন্টিড  , তেমনি ব্যাসকাশীতে মরলে লোকে গাধা হয়ে জন্মায়। বিশাল চওড়া বালিয়াড়ি তার পিছনে জঙ্গল ,লোকালয়  অনেক দূরে
হাজার হাজার বছর ধরে এই জায়গাটা পরিত্যক্ত, অভিশপ্ত, দিনের বেলা অনেকে ঘুরতে এলেও   রাতে এখানে  কেউ থাকে না.. অবশ্য একদম কেউ থাকেনা বলাটা ভুল ,লোকে বলে এই বিশাল বালিয়াড়িতে নাকি রাত্রিবেলা অঘোরী সাধুরা এসে সাধনায় বসে , তারা বড়ই ভয়ানক , আধপোড়া মৃত শবের মাংস তাঁদের প্রিয় খাদ্য সেটা আমি নিজের চোখে দেখেছি , রাতেরবেলা এই জায়গায় তারা বীভৎস সব তান্ত্রিক আচার করে থাকে, সাধারণ মানুষ কেউ তখন তাদের সামনে পড়লে আর রক্ষা নেই। তাই কাশীর মানুষ সূর্য ডোবার পর  ভুলেও এই তল্লাটে থাকেনা  না,  সন্ধ্যার পরেই  খেয়া পারাপার বন্ধ হয়ে যায়।
ধড়মড় করে উঠে বসলাম , তাইতো খেয়া তো সন্ধ্যের পরেই বন্ধ হয়ে যায় তারমানে যে আমাকে এখানে এনেছে
তার নিজের নৌকা আছে ,আশেপাশে তাকালাম হাল্কা চাঁদের আলোয় নদীর জল ছাড়া আর কিছুই  তেমন চোখে পড়লো না। অতি কষ্টে নিজের পায়ে  উঠে দাঁড়ালাম ,কি ভ্যাগ্গিস পাটা বা মুখটা বাঁধেনি , বোধহয় জেনে বুঝেই বাঁধেনি , এই তল্লাট থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই ,চিৎকার করেও কোনো লাভ নেই, এখান থেকে সব থেকে কাছের জনবসতি নদীর ওইপাড়ে আর হাত বাঁধা অবস্থায় কোনোভাবেই সাঁতরে গঙ্গা পেরুনো সম্ভব নয় , আমার এবার ভয় করতে লাগলো  আমাকে এখানে যেই বেঁধে নিয়ে আসুক না কেন  সে যে নিছক প্রেমালাপ করার জন্য নিয়ে আসেনি  সে ভালো মতোই বুঝতে পারছি ,কাজেই  যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই জায়গাটা থেকে কেটে পড়া  দরকার । আমি বালির ওপর দিয়ে যতটা জোরে সম্ভব হাঁটা  শুরু করলাম।
হাঁটতে হাঁটতে পকেট হাতড়ে দেখছিলাম কিছু আছে কিনা , যথারীতি মোবাইল ,মানিব্যাগ ,রুমাল কিছুই নেই পকেট একদম ফাঁকা ,এটাই অবশ্য স্বাভাবিক। আমি মনে মনে চিন্তা করছিলাম , আচ্ছা নবেন্দুরও কি আমার মতো একই হাল ? সেও কি এই  চড়ায়  বেহুঁশ হয়ে কোথাও পড়ে আছে?  আমরা তো  ছিলাম দশাশ্বমেধ আর হরিশচন্দ্র ঘাটের
মাঝা-মাঝি একটা জায়গায় কিন্তু এখন ঠিক কোন জায়গাটায় আছি সেটা বোঝার জন্য ঘাটগুলোর দিকে তাকাতেই
বুকটা ছ্যাৎ করে উঠলো , নিজের এই অবস্থার জন্য এতক্ষন খেয়াল করিনি এইবার চোখে পড়লো  সব কটা ঘাট অন্ধকারে ক্ষুদিত পাষানের মতো পর পর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে , এটা কি করে সম্ভব হয়  !!!!!!! দশাশ্বমেধ থেকে একদম সেই রবিদাস সব কটা ঘাটেই পেল্লায় পেল্লায়  নিয়ন আলোর ব্যাবস্থা  আছে , হ্যাঁ এই মুলুকে লোডশেডিংটা একটু বাড়াবাড়ি রকমের  বেশি হয় কিন্তু বলতে নেই  মোদীজি এখানকার বিধায়ক হবার পর সে অত্যাচার তো  অনেকটাই কমে গেছে , আর আমরা  একাধিকবার রাতে ঘাটে -ঘাটে  চরে বেড়িয়েছি কিন্তু এমন থকথকে অন্ধকার তো কোনোদিনও দেখিনি।দূরের  দু একটা ঘাটে অবশ্য আগুন জ্বলছে , ওগুলো বোধহয়  মণিকর্ণিকা আর হরিশচন্দ্র , তাই যদি  হয় তাহলে আমি এখন কেদার ঘাটের কাছাকছি ঠিক উল্টোদিকের  কোনো একটা   জায়গায় আছি। আচমকা পিছনে থেকে যেন একটা  ঘোড়ার ক্ষুরের  কপাকপ কপাকপ শব্দ ভেসে আসতে লাগলো  ,সঙ্গে সঙ্গে   ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম কোথাও কিচ্ছু নেই  বালিয়াড়ি খাঁ খাঁ করছে   , দিনেরবেলা এখানে লোকজনের ভালই আনাগোনা থাকে কয়েকজন ঘোড়া নিয়ে
চড়ানোর জন্য ঝোলাঝুলিও করে কিন্তু এতো রাতে !!!!!!আমার ভয়টা এবার আস্তে আস্তে অন্যদিকে মোড় নিচ্ছিলো , ভালো করে চারপাশে তাকাতে তাকাতে হটাৎ চোখে পড়লো বেশ অনেকটা  দূরে একটা আগুন জ্বলছে , কি আশ্চর্য এতক্ষন  এটা চোখে পড়েনি কেন !!!!! বালির ওপর দিয়ে আগুনের দিকে এগিয়ে গেলাম। আগুনটা বেশ ভালোই দূরে আছে সে থাকুক গে , তবে দুম করে হাজির হবার আগে দেখতে হবে ওখানে কে আছে , আঘোরী সাধুরা ছাড়াও অনেক পুণ্যাত্মা সাধুও এখানে রাতে এসে ধ্যান করেন বলে শুনেছিলাম। আমার ডিপার্মেন্টের প্রাক্তন হেড আমাকে বড়ই স্নেহ করতেন , তাঁর কাছেই শুনেছিলাম তাঁর পরিচিত বেলুড় মঠের একজন সন্ন্যাসী প্রতিরাতে নিজে নৌকা বয়ে এখানে এসে ধ্যান করতেন , শুনে আমার বড়ো  লোভ হয়েছিল একদিন তাঁর সাথে এসে গোটা ব্যাপারটার ওপর একটা ডকুমেন্টরি বানাবো কিন্ত .............যাক সে কথা।
আগুনটার দিকে একটু একটু করে এগোতে এগোতে দেখতে পেলাম একটা প্রকান্ড কাঠের টুকরোর ওপর আগুনটা জ্বলছে কিন্তু আসে পশে আর কেউ নেই , একটু নিশ্চিত হয়ে এগোতে লাগলাম । কিন্তু আগুনটার কাছে আসার পর সেটা সেই নিশ্চিন্ত ভাবটা উড়ে গেল , আগুনটা ওই প্রকান্ড কাঠের টুকরোটার থেকে দু-তিন ইঞ্চি ওপরে জ্বলছে যেন কাঠের ওপর একটা অদৃশ্য সুতো আছে আর আগুনটা মোমবাতির শিখার মতো সেটাকে আঁকড়ে জ্বলছে।মাথা অনেকক্ষন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিলো এবার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাবার  জোগাড় হলো। দুহাত দিয়ে চোখ কচলে আরেকবার ভালো করে দেখলাম হ্যাঁ কোনো ভুল নেই , আগুনটা শূন্যেই জ্বলছে, সেইদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে  ভ্যাবা গঙ্গারামের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। কিন্তু অবাক হবার তখনো বাকি ছিল , বোধহয় আমার সাথে ঠাট্টা করার জন্যই আগুনটা আস্তে আস্তে এক ইঞ্চি দু ইঞ্চি করে ওপরে উঠতে লাগলো , প্রায় ফুট খানেক উঠে দুপ করে নিভে গেল আবার সেই অন্ধকার।
বেশ কিছুক্ষন লাগলো সেই অন্ধকারে চোখ সইয়ে নিতে, তারপরে আসে পাশে দেখতে গিয়ে একটা জিনিস চোখে পড়লো ডানদিকে বেশ খানিকটা দূরে নদীর পাড়ের দিকে  প্রকান্ড লম্বা ঢিবির মতো কিছু একটা পড়ে আছে , এতক্ষন শুধু  আগুনের দিকে তাকিয়ে মোহগ্রস্থের মতন হেঁটে আসছিলাম বলে এটা এতক্ষন চোখে পড়েনি। এই দেশে আমার বাস নেহাত কমদিন নয় , গঙ্গার এপারে স্রেফ বালি আর তরমুজখেত ছাড়া আর কিছুই নেই সেটা সেই ২০১৩ থেকে দেখে আসছি অবশ্য আজকে যা হচ্ছে আমার সাথে তার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা করতে যাওয়া বেকার। ওই ঢিবিটার
আনাচে কানাচে দু এক জায়গায়  অল্প অল্প আলো দেখতে পাচ্ছি , আর ঠিক সামনের দিকে চড়ায়  দুটো আলো জ্বলছে   একটা স্থির আর অন্যটা বার বার যাচ্ছে -আসছে আলেয়া নাকি !!!!!  ঐদিকেই তাকিয়ে ভাবছিলাম এবার কি করবো একটু আগে যেটা দেখলাম সেটার কোনো ব্যাখ্যা হয় কিনা সেটা আমার অন্তত জানা নেই , আলেয়া হতে পারতো কিন্তু সেতো পচা জলা-জমিতে হয় , বালিয়াড়িতে আলেয়া কি করে সম্ভব।  আবার পিছনে যেন সেই   ঘোড়ার ক্ষুরের  কপাকপ কপাকপ শব্দ   শুনতে পেলাম , এবার আর পিছন ফিরে দেখার সাহস হলোনা। আমি যা থাকে কপালে এই ভেবে ওই ঢিবিটার দিকে এগোতে শুরু করলাম।  যত কাছে যেতে লাগলাম ঢিবিটার আকৃতি ততই স্পষ্ট হতে লাগলো , প্রায় পঞ্চাশ গজ দূরে দাঁড়িয়ে
বুঝতে পারলাম , জিনিসটা একটা বাজরা। নাহঃ বাজরা বললে  ভুল হবে  এটা আকৃতিতে বেশ অনেকটাই  বড়ো
প্রায় একটা ছোট খাটো জাহাজ বলা চলে কিন্তু এখানে তো হাঁটু জল বললেই চলে এই জিনিস এখানে এলো কি করে। রাতের অন্ধকারেই যেটুকু দেখতে পাচ্ছি  তাতেই বেশ বুঝতে পারলাম  জাহাজটাকে বেশ অদ্ভুত দেখতে একদমই অচেনা গড়ন  সামনের দিকে কিছুর একটা বিশাল মূর্তি খোদাই করা আছে। আরেকটু এগোতেই এবার আলোর ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম জাহাজের জায়গায় জায়গায় মশাল জ্বলছে আর সামনে চড়ায় একটা মশাল জ্বলছে আর একটা একজন নিয়ে  মশাল নিয়ে এপাশ ওপাশ করছে , বিষয়টা নিঃসন্দেহে খুবই অদ্ভুত কিন্তু তাও এতক্ষন পরে দুটো মানুষ দেখে আমার  মাথাটা একটু  ঠান্ডা হলো , এরা কি আমাকে কোনরকম  সাহায্য করতে পারবে  ?? ভোর চারটার সময় করে খেয়া পারাপার শুরু হয় ততক্ষন অব্দিও যদি এদের কাছে একটু বসে থাকি তাহলেও আমার অনেক  সাহায্য  হবে। আমি আবার এগোতে শুরু করলাম দশ কি পনেরো গজ সবে এগিয়েছি এমন সময় একজন টহলদারের বোধহয় আমার ওপর কৃপাদৃষ্টি পড়লো , সঙ্গে সঙ্গে  দুর্বোধ্য ভাষায় একটা চিৎকার করে আমার দিকে দৌড়ে আসতে  লাগলো ,আর তার সঙ্গীটি  কোমর থেকে কিছু একটা বার করে ফুঁ দিতে লাগলো। আমি পুরো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম লক্ষণ তো মোটেই সুবিধার ঠেকছে না এ মহারাজ যে আমাকে চুমু খেতে আসছে না তা বলাই বাহুল্য , কিন্তু আমি আরো ঘাবড়ে গেলাম ব্যাটার সাজপোশাক দেখে বিশাল চেহারায় একটা বিটকেল বর্ম আঁটা , আর মাথায় হেলমেটের মতো কিছু একটা পরা যার দুপাশ থেকে মোষের মতন শিঙ বেরিয়ে আছে , আশ্চর্য এ জিনিসটা  যেন আমি আগে কোথাও দেখেছি। গতিক মোটেই সুবিধার নয় দেখে আমি লাফিয়ে উঠে পিছন ফিরে পালতে গেলাম কিন্তু আমার কপাল !!!!  বালিতে দুপা দৌড়েই সপাটে আছাড় খেয়ে পড়ে গেলাম , আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আমার কানের পশে সাঁৎ করে একটা একটা শব্দ করে বালিতে কিছু একটা গেঁথে গেলো , আতঙ্কের সাথে দেখলাম সেটা ফুট কতক লম্বা একটা তীর , অর্ধেকটা  বালিতে গিঁথে গেছে  বাকি অংশটার মাথায় লাগানো পালকটা তখনো আমার মতোই কাঁপছে। সে জগদ্দল খুনেটা বিজাতীয় ভাষায় চিৎকার করতে করতে আমার কাছে এসে আমার বুকের ওপর নিজের প্রকান্ড তরোয়ালটা ঠেকালো। আমার হৃৎপিন্ডটা ততক্ষনে গলার কাছে এসে দ্বিগুন বেগে লাফাচ্ছে। নিজের ক্ষুদে ক্ষুদে চোখ দিয়ে আমাকে দেখতে দেখতে সে হতভাগা তরোয়ালটা আস্তে আস্তে আমার গালের কাছে ঠেকালো , টের পেলাম তরোয়ালের ইস্পাতটা আমার গালের থেকেও ঠান্ডা আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার জোগাড় হলো বেশ বুঝলাম আমার লীলাখেলা এবার সাঙ্গ হলো বলে , ভয়ের চোটে চোখদুটো আপনাআপানি প্রায়  ঝাপসা  হয়ে গেল , হটাৎ কানে এলো একটা ঘোড়ার চিঁ  হিঁ হিঁ আওয়াজ আর   একই সঙ্গে ঝনাৎ করে একটা আওয়াজ করে ঠিক আমার পশে ধপ করে কি যেন একটা পড়ে গেল, আমি আর নিতে পারলাম না , আমার চেতনা  যেন খোলা জলে গোলা তুলির মতো আস্তে আস্তে  লোপ পেতে লাগলো , পুরোপুরি জ্ঞান হারানোর আগে আমার মাথায় একটা কথাই এলো আবার   আমি কোন  এ কোন যুগে এসে পড়লাম !!!!    
                             
                                                (অতঃপর ,চলিবে  )

বি দ্র - শারীরিক এবং শিক্ষাগত কারণে আগামী তিনদিন আপডেট দিতে এ অধম অক্ষম , রবিবার রাত ১০টায় একটি            হৃষ্টপুষ্ট কিস্তিতে সব শোধবোধ ঘোড়ার পোঁ#  করে দেব কথা রইল। আর বড়ো কষ্ট করে এইটা লিখছি
         একটু শেয়ার পেলে বুকে কিঞ্চিৎ উৎসাহ পাই। ধন্যবাদ।  

Tuesday, 28 November 2017

প্যারাডক্স
                                                                              ৬

বৈকুন্ঠ আপার্টমেন্ট
নাগুয়া,  ২০১৫

                                                                            নাকেমুখে কনকনে ঠান্ডা হওয়াটা লাগতেই মেজাজটা চটকে গেল, উফঃ আজকে আবার!!!!পাশ ফিরে চোখ খুলে দেখলাম দরজাটা হাট করে খোলা , আর সেইখান দিয়েই হু হু করে  ঠান্ডা গাঙ্গেয় হাওয়া ঢুকছে।পাশের বিছানাটার দিকে তাকালাম , হ্যাঁ যা ভেবেছিলাম তাই। বিছানাটা  ফাঁকা।
"ভোসডিকে" ,
 আমার মহান ফ্ল্যাটমেট আয়ান-কুমার যথারীতি 8:45এ  ঘুম থেকে উঠেই  9:00  ক্লাস এটেন্ড করতে দৌড় লাগিয়েছে। দরজাবন্ধ করা বা দাঁত মাজার মতো তুচ্ছ জাগতিক বিষয়ে আর  মাথা ঘামায়নি।
অগত্যা কম্বলের মায়া ত্যাগ করে বেরোতেই  হলো, সময়টা ফেব্রুয়ারির মাঝবরাবর হলে কি হবে এখনো এ তল্লাটে শীতকাল বেশ ভালোমতোই আছে ,আর থাকবেও সেই মার্চ অব্দি।ঘড়িতে দেখলাম 9:20 বাজে, বাইরে এখনো সেভাবে রোদ ওঠেনি , আমি দরজাটা আর বন্ধ করলাম না।ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দাঁতে ঘষতে ঘষতে কম্বলটা গায়ে জড়িয়ে বাইরেই ব্যালকনিতে এলাম। 
এই জায়গাটার নাম নগুয়া , লঙ্কামোড় থেকে একটু দূরেই শহরের একটু ভিতরের দিকে , এখান থেকে নদী হাঁটা পথে মিনিট সাতেক, ছাদে উঠলে দিব্যি দেখা যায়। আমি দাঁত মাজতে মাজতে চারিদিকে নজর বোলাচ্ছিলাম , আমারদের    এই ফ্ল্যাটটা চারতলার ওপরে আর এই  বিল্ডিংটা   একটা গলির তেমাথা -মোড়ের  ঠিক  মাঝখানে, কাজেই এই ব্যালকনিতে আসলেই  বেশ খানিকটা করে জনজীবন দেখা হয়ে  যায়।  আমি দেখছিলাম, সামনের তিনতলা বাড়ির বিশাল ছাদে গোটা কতক ছাগল চরছে , তার পাশেই একজন  উনুনে করে রান্না করছে  করছে একটু দূরে একজন খাটিয়াতে বসে চা খাচ্ছে, সামনের মাঠে বিশাল বিশাল মোষ চরছে , আর গলির মাথায় ছোট্ট একটা বাজার বসে ফলে  গোটা গলিটাই  জ্যামে  জমে আছে আর  সবাই সবাইকে চিৎকার করে কিছু বলে চলেছে  ,  একদম নিত্য নৈমিত্তিক ছকে বাঁধা ছবি।আমার নজরদারী দাঁত-মাজা প্রায় শেষ হয়ে এসেছিলো এমন সময় নিচের গলিতে একটা হইচই কানে এলো , ব্যাপারটা  কি!! সবাই একটু উত্তেজিত হয়ে কিছু একটা বলেছে , ঘন্টার একটা হাল্কা  টুং টুং শব্দ কানে এলো, তারপর দেখলাম রাস্তার সবাই সরে গিয়ে  পাশ কাটিয়ে রাস্তা ফাঁকা করে দিতে লাগলো  ,আমি মুখ ধোয়ার কথা ভুলে গিয়ে মুখে ব্রাশ গুঁজে নিচের দিকে  তাকিয়ে রইলাম এ  ব্যাপারখানা তো দেখতে হচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড পরেই সব রহস্য পরিষ্কার হয়ে গেল একটা হাতি মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছে।  একটা আস্ত  কুচকুচে কালো হাতি , খুব সম্ভবতঘাটের  দিকের কোনো মঠের পোষা , কানে শুঁড়ে রীতিমতো তিলক কাটা বাবাজীই বটে।  ওপরে অবশ্য  মাহুত  বসে আছে আর হাতিবাবাজীর গলায় একটা পেল্লায় ঘন্টা বাঁধা আছে টুংটাং শব্দটা ওখান  থেকেই আসছে, আসে পাশের ছাদ ব্যালকনি থেকে সবাই ঝুঁকে পড়লো হাতি দেখতে। হাতিবাবাজীর অবশ্য কোন হেলদোল নেই সে দিব্বি নিজের মতো করে আসছে আর  যারাই ভালোবেসে কপি , কুমড়ো , শাক ইত্যাদি দিচ্ছে শুঁড় দিয়ে নিয়ে সোজা মুখে পুড়ে দিচ্ছে , আর বাচ্চা-কাচ্চা আর ফরেনাররা হাতি দেখে লাফাচ্ছে। আমি হেঁসে ফেললাম , ১৪ই ফেব্রুয়ারী দিনটা  একটা হাতি দেখে শুরু করলাম
     ভাবা যায় !!!! যাকগে কিছু তো নতুন হলো।


                                                                  ঘরে ফিরে ফ্রেশ হয়ে দেখি, কফি খাবার রাস্তা বন্ধ  দুধ-পাউরুটি কোনোটাই নেই ,
শালা অকালকুস্মান্ড, মনে মনে আয়ামকে গাল  দিতে দিতে , দরজা লাগিয়ে আপদমস্তক কম্বল মুড়ি দিয়েই নিচে নামলাম। নিচে গেটের সামনেই পারোস ভাইয়ার দুকান আছে ওখানেই দুধ পাউরুটি দুটোই পেয়ে  যাবো।পারোস ভাইয়ার দুকানে গিয়ে দেখি দুটি সুন্দরী বিদেশিনী দাঁড়িয়ে আছে একজনের হাতি দেখার হ্যাংওভার মনে হয় তখনও কাটেনি , অন্যজন পারোস ভাইয়াকে পান পাতা দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করে যাচ্ছে
" Qu'est ce que c'est "
আমি একটু চমকালাম আরে এতো ফরাসিতে জিজ্ঞাসা করছে " এটা কি", বেচারা পারোস ভাইয়া মাথা নেড়ে বলে যাচ্ছে
"ই পানুয়া হ্যাল বা" 
আমি সোজা পারোস ভাইয়ার সামনে গিয়ে কম্বলের একটা হাত বাড়িয়ে  টাকা এগিয়ে দিতে দিতে হাল্কা ভাবেই  বললাম
 "Bonjour ,Ceci est une feuille d'arbre ," (সুপ্রভাত এটি একটি গাছের পাতা ) পারোস ভাইয়া আমাকে চেনে তাই নিঃশব্দে টাকাটি নিয়ে হাত দুধ আর পাউরুটি ধরিয়ে দিলো , আমি সেগুলো কম্বলের তলায় ঢুকিয়ে নিতে নিতে বললাম "Tu peux manger" (আপনি খেতে পারেন) প্রথমত আমার এই ভাল্লুকের মতো কম্বল মুড়ি দিয়ে হাজির হওয়া তারপর যদি সেই ভালুকের মুখ দিয়ে নিজের মাতৃভাষা( পিতৃও হতে পারে কে জানে!) শুনে মনে হয় মহিলা প্রথমে একটু বোমকে গেছিলেন , এবার ওনার মুখ থেকে কথা বেরোলো "Tu connais le français?" (আপনি ফরাসি জানেন ?) আমি পেছনে ফিরে মুচকি হেঁসে বললাম "un peu" (সামান্য ) তারপর সোজা নিজের ফ্ল্যাটের দিকে হাঁটা লাগলাম , পিছনে যে দুজোড়া ফরাসি চোখ আমাকে দেখছে তা দিব্বি টের পাচ্ছিলাম , আসলে এই শীতকালে বেনারসে পরিযায়ী পাখিদের মতো পিল পিল করে ফরেনাররা আসে ,প্রথমের দিকে অবাক হতাম এখন দেখে দেখে চোখ পচে গেছে। আজকে দিনের শুরুটা বেশ অন্য ভাবেই রকম হলো।আমার আজকে বেলা একটার সময় ক্লাস হাতে অফুরন্ত সময় আছে ল্যাদ খাওয়াই যায়, ঘরে ফিরে কফি বানিয়ে পাউরুটি নিয়ে আয়াম এর বিছানায় বসলাম।কফিতে চুমুক দিয়ে আধশোয়া হয়ে সিগ্রেটটা ধরাতে গিয়েই মনে পড়লো আজকে ১৪ই ফেব্রুয়ারী , কয়েক বছর আগেও আজকের দিনটা নিয়ে কি ভয়ানক উন্মাদনা থাকতো , গিফ্ট কেনা , বড়ো করে একটা চিঠি লেখা , দাম কম হবে বলে আগেরদিনই গোলাপ জোগাড় করে রাখা উফঃ!!!! বাপরে বাপ!!!!! কি সব দিনকাল ছিল.......... আমি সিগারেটে টান দিয়ে চোখ বুঝলাম ; কলকাতা ,সাধুপালের আখড়া ,অরুন ,পিয়া , রিহার্সাল , কলেজ-ফেস্ট,মারামারি ,পাগলামী ,প্রেম ,অবৈধ নেশা,লাইট -ক্যামেরা -একশন আর তিয়াশা , উফঃ মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই যে মানুষের জীবন যে এইভাবে একশো আশি ডিগ্রি পাল্টে যেতে পারে সেটা নিজের সাথে না হলে বোধহয় কোনদিনই বুঝে উঠতে পারতাম না। আমি সিগারেটটা ফেলে দিয়ে উঠে বসলাম , ধুর ভালো লাগছেনা , পুরানো জীবন মনে পড়লেই কেমন যেন একটা ভালোলাগামাখা কষ্ট হয়। সবে 10 টা বাজে , এককাজ করি স্নান করে এখনই বেরিয়ে পড়ি দুপুরের খাওয়াটা হোস্টেলের কারুর ঘাড় ভেঙে খাওয়া যাবে। স্নানের জন্য জলটা করতে ইমারসন রড প্লাগে গুঁজতে যাবো এমন সময় আমার ফোনটা ডেকে উঠলো বিরক্তিতে আমার ভুরুটা কুঁচকে গেল , এখন আবার কে ফোন মারাচ্ছে !!! ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি স্ক্রিনের নম্বরটা পূর্বাশার , "হালো " কোনো কথা নেই , কেমন যেন একটা সোঁ সোঁ করে শব্দ হচ্ছে , আর একটা আবঝা শব্দও কানে এলো আমি আবার বললাম "হালো ," কোনো সাড়া নেই এবার একটা ফোঁসফোঁস শব্দ হতে লাগলো , এবার আমার ভয় করতে লাগলো আমি একটু কড়া গলায় বললাম "কি হয়েছে তোর " এবার স্পষ্ট ফোঁপানির শব্দ পেলাম , খুব জড়ানো গলায় উত্তর এলো "আমার এক্সিডেন্ট হয়েছে .........." আমি শুদু কোনো রকমে জিজ্ঞাসা করলাম "কোথায় আছিস এখন " "হেলথ সেন্টার .........." আমি বাকি কথা না শুনেই ফোনটা কেটে দিলাম , জ্যাকেটটা গায়ে চড়িয়ে দরজাটায় তালা মারতে মারতে আমার একটা কথাই মাথায় ঘুরছিলো , একসিডেন্টটা কতটা গুরুতর !!!!!! আজকে আর কি কি ঘটবে কে জানে। .........জয় বাবা বিশ্বনাথ (চলবে ) বি দ্র - ভালো লাগিলে ,Please,Please,Please share

থরবাবাজীর একচোখামো ,  হাল্ক গোঁসাইয়ের লীলা আর সঙ্গে অনেক অনেক ফাউ -II


Thor-Ragnorak  নিয়ে  আগের বকবকানির সময়ই জিজ্ঞাসা করেছিলুম জনগণ আবার অত্যাচারিত হতে রাজি কিনা , তা বেশ  কয়জন মুষ্টিমেয় সহৃদয় ব্যক্তি তাতে সম্মতি দিয়েছেন তাই..........
এবারে নো কচকচানি ওনলি মন কি বাত। ..
এই সিনেমাটি  হরির লুটের বাতাসার মতো ইস্টার এগে ভর্তি আর এর সঙ্গে ফাউ হিসাবে আছে কিছু পয়সা উসুল করা মুহূর্ত ,আর কিছু  মন ভরিয়ে ভরিয়ে দেয়া মুহূর্ত (নিজস্ব ) এই গুলো নিয়েই কিছু সামান্য বক্তব্য

 এই সিনেমাতে বেনেডিক্ট আছেন মিনিট পাঁচেকের জন্য , তাঁর বাড়ির ঠিকানা 177 A Blaker street. বাড়ির দরজা ,নেম প্লেট, সবটাই শার্লক একেবারে  থেকে কেটে বসানো  সেখান থেকে  লোকী থর দুই ভাই বাপের সাথে দেখা করতে  যাচ্ছে কোথায় না নরওয়ে ,সেখানের এক ন্যাড়া পাহাড়ের মাথায় বসে  বুড়ো ওডিন  দাড়ি  নেড়ে বলছেন "this could have been our home", সিনেমার একদম গোড়ায় থর বাবাজীর ঝুলন্ত সিন টায় 180 rule ,  3rd line rule এর শ্রাদ্ধ হয়ে গেছে কিন্তু তাতে খুব একটা ক্ষতি হয়নি , এবার বিষয় তা হচ্ছে থর বাবাজী সিনেমা জুড়েই বারবার বঞ্চিত বানচো#  হয়েছেন , প্রথমে বাপকে বাপকে হারালেন , তারপর নিজের অন্ডকোষের মতো অবিচ্ছেদ্য হাতুড়িটি খোয়ালেন ,তারপর একটা  জানা গেল প্রেমিকাটিও খুইয়েছেন ,হায়রে নরওয়ের কার্তিক থুড়ি অমর এইট প্যাকওয়ালা  দেব  রাজপুত্র তারও কিনা ব্রেক উপ হয় , (মাইরি বলছি  সিনটা দেখে এই গরিবের বুকে যেন চ্যাঁক করে বোরোলিন পড়লো ) তারপর একে একে নিজের বাড়ি , সিংহাসন এমনকি শেষমেষ নিজের একটা ইয়েও  খোয়ালেন কল্যানে কাত্তিক কি আর এমনি এমনি বলে লোকে !!! সে যতই হাল্ক গোঁসাইকে এক থাবড়ায় বৃন্দাবন দেখান না কেন এ বদনাম যাবার নয়। শেষের দিকে একটা দৃশ্যে যখন হেলা আধমরা থরের গলা টিপে নিজের মনোলোগ দিচ্ছেন তখন দেখা যায় যে হাফ মরা থরের আত্মা আবার  সেই ন্যাড়া পাহাড়ের মাথায় ওডিনের কাছে গিয়ে কচি খোকার মতো বলছে "বাবা  বাবা  আমাল হাতুলী বেঙে গেতে" আর ওডিন বলছেন  " হারামজাদা তুই কি হাতুড়ির দেবতা ? বাল !!"  ( এইখানেই আমার  দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলো শালা এ  হচ্ছেটা কি ? হ্যারি পটার না মেঘনাদ-বধ  ?) কিন্ত তার তিরিশ সেকেন্ড পরেই যখন থরবাবাজী ব্যাটারি ফুল চার্জ করে বাইফ্রস্টের সাঁকোর ওপর একটা বিদ্যুতের গোলার মতো (আক্ষরিক অৰ্থে )আছড়ে পড়ে যখন বেধড়ক ক্যালানি শুরু করলেন !! আহা আহা কোথায় লাগে তামিল তেলেগু 
   অনিচ্ছাকৃত পাদের মতন মুখ দিয়ে আপনাপানি সিটি বেরিয়ে গেল , কিছুতেই আটকানো গেল না। 
লোকী বাবাজী চিরকাল যা ধ্যাষ্টামো  করেন এবারও তাই করেছেন , ট্রাজেডি অফ লোকীর অভিনয় হোক বা হাল্ককে দেখে নিজের ইয়ে শুকিয়ে ফেলা হোক বা avengar এ ঠিক নিজের মতোই একই কায়দায়  হাল্কের  হাতে থরের ভর্তা হবার  পৈশাচিক রিঅ্যাকশন  সবেতেই বেশ লেগেছে কিন্ত শেষের দিকে অভেনের এর নিক ফেউরির কায়দায় স্পেসশিপ চড়ে ধোঁয়া উড়িয়ে কোট উড়িয়ে হিরোর ভাইয়ের মতো  এন্ট্রি নেওয়াটা মাইরি বলছি নিতে পারলাম না , শেষের দিকে যখন ওডিনের চেম্বারে রাখা Tesseract এর দিকে যখন লোকী একটা বিষাক্ত দৃষ্টি দিলো উফফ হাফ ছেড়ে বাঁচলাম , সবাই ভালো হয়ে গেলে খুব বিপদ।  আর বিপদের কতাই  যখন এলো  তখন হাল্ক গোঁসাই দূরে থাকেন ক্যামনে , বলে রাখা ভালো হাল্ক মহারাজ সেই যে  এর সময় হাল্ক হয়েছিলেন তারপর থেকে আর পাল্টাননি , তাই এই সিনেমায়  এর কিছু প্রসঙ্গ আছে যেমন ব্ল্যাক-উইডোর হাল্কেরটা নামানোর সিডিউসিং হাতের কাজ সমেত সেই " hey big guy Sun is going down" যেটা থর করতে গিয়ে চরম ফ্লপ খেয়েছে ,.কিন্ত এবার প্ৰশ্ন উঠতেই পারে হাল্ক কেন গোঁসাই? তা উনি  এই সিনেমায় রোমান্স করেছেন , রণবীর কাপুরের মতো তোয়ালে খোলা-পরা  করেছেন এমন কি সব থেকে ভয়ানক কথা দু একবার শান্ত হয়ে কথা শুনছেন এবং সাধ্যমতো উত্তরও দিয়েছেন  ভাবা যায়!!!!

সিনেমায় ওডিনের চেম্বারে 
infinity gauntle দেখা গাছে যদিও সেটা নাকি জালি মাল, ডক্টর স্ট্রেঞ্জ এর গলায় আবার Eye of Agamotto  দেখা গেছে , শেষ দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে থর লোকী পৃথিবীর দিকে আসছে আর তাদের স্পেসশিপের থেকে অন্তত পনেরো গুন বড় একটা স্পেসশিপ তাদের ঢেকে  দিচ্ছে , কে আছে তাতে ??? লোকজনরা  বলতে গেলে একরকমের intergalactical মুরগিচোর মাত্র এতো বড়ো স্পেসশিপ হাঁকানো তাদের কম্মো নয় তাহলে কি শেষ মেষ  MCU এর "শয়তান কিলবিষ "  Thanos এর আগমন ঘটলো ? ছাড়া এই উত্তর মেলা সম্ভব নয়  অতঃপর .......       



বি দ্র- উপরোক্ত সব বক্তব্যই একান্তই নিজস্ব , শেয়ার-কারীদের জন্য এবং যারা এবারে সদিচ্ছায়  অত্যাচারিত হতে চেয়েছেন তাদের জন্য ধন্যবাদ।