ইদানীং কিছু দিনধরে আমাকে বড্ডো লেখা-লেখায় পেয়েছে , থেকে-থেকে লেখার বেগ চেপে-চেপে আসছে, আর সে বেগের সাথে একমাত্র আমাসার বেগই তুলনীয় যখন চেপে বসে তখন জগৎ অন্ধকার না নামিয়ে উপায় থাকেনা ,আর নামিয়ে ফেলার পর আহা সে এক তুরীয় ব্যাপার। এখন ব্যাপার হচ্ছে সুকুমার রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে অনেকেই দেখছি হেব্বি হেব্বি পোস্ট দিচ্ছে , তা একদা এই ভদ্রলোককে নিয়ে আমাকে একটি বাধ্যতামূলক সেমিনার দিতে হয়েছিল আমার বেনারসী সহপাঠী /পাঠিনীগণের আমি আজও ওই অতি দীর্ঘ পনেরো মিনিটের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। তা যাই হোক ফেবুতে এত্ত কিচু দেখে আমারও লোভ লাগলো আর আজকাল তো ,লোভে পাপ পাপে ফেসবুক। তা যাক সে কথা আমি বরং আবোলতাবোল থেকে কোটেশন না কপচে একটু অন্য কথা বলি।
ভদ্রলোক যখন নিতান্তই বালক ছিলেন(ভদ্র ছিলেন কিনা সন্দেহ আছে ) তখন পড়তেন সিটি কলেজ স্কুলে , যেখানের এক সহপাঠী ছিলো পাগলা দাশু (মানে ইনস্পিরেশন আর কি ),তারপর যান প্রেসিডেন্সিতে এবং সেখানে ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রি দুটিতেই অনার্স সমেত গ্রাজুয়েশন বাগিয়ে পাড়ি দেন ইংল্যান্ডের School of Photo-Engraving and Lithography, London এ ফোটগ্রাফি আর প্রিন্টিং টেকনোলজি শিখতে ,এবং রবি গুরুর নোবেল হাঁকানোর সময় তাঁর গান নিয়ে বিলেতে বেশ কয়েকটি লেকচারও দিয়ে ছিলেন , প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রবীন্দ্রনাথ ,জগদীশ্চন্দ্র এবং প্রফুল্লচন্দ্র তিন জনেই ওনার পারিবারিক বন্ধু ছিলেন (এঁনাদের কাছ থেকে খানিকটা ট্যালেন্ট বোধহয় বিজয়ার প্রণামের সময় আবদার করে ঝেড়ে দিয়েছিলেন) . বিলেতে থাকার সময়ই halftone blockmaking ওপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ বিলিতি জার্নালে প্রকাশিত হয় , 1912সালে তিনি Royal Photographic Society র সদস্যপদ পান ,1922 সালে তিনি ওই সোসাইটির ফেলোশিপ ও লাভ করেন যা তাঁর মৃত্যু অব্দি বহাল ছিলো। ভারতে ফোটোগ্রাফি এবং লিথোগ্রাফি এই দুটি বিষয়ে তিনিই প্রধান পথিকৃৎ ছিলেন ,(এরপর মানিকবাবু যে কচিবেলায় ঝুমঝুমির বদলে ক্যামেরা হাঁকড়াবেন তাতে আর আশ্চর্য কি !) মজার ব্যাপার হলো সেই সময়ে রীতিমতো একযুগ খোদ লন্ডনে কাটিয়ে
এবার একটু লাইনের কথায় আসছি ,বিশ্ব সাহিত্য লিটারারি ননসেন্স বা nonsense literature নামক একখান ধারা আছে Edward Lear কে এইধারার জনক বলা যেতে পারে পরে Lewis Carroll পরে একে আরো সমৃদ্ধ করেন , তা
এই ধারায় বিশ্বব্যাপী লেখক কাজ করেছেন এবং এই পোড়া দেশ থেকে এক মাত্র সুকুমার রায় সেই লিস্টিতে আছেন
(সন্দেহ থাকলে উইকিপিডিয়া চেক করে দেখতে পারেন মিছে কতা কইচি না ), 1923 সালে আবোলতাবোল বেরোনোর পর পাক্কা 94 বছর কেটে গেছে এখনো কোনো আঁতেল বঙ্গবীরের হিম্মৎ হয়নি এই ধারায় সাহিত্য পয়দা করার হায়রে বাঙালী !!! জনৈক রায় -বাবুর আর কি দোষ !!!
হাঁসজারু , গিরগিটিয়া , বকচ্ছপ , চিল্লানোসোরাস এদের সৃষ্টির পিছনের গভীর বৈজ্ঞানিক -দার্শনিক এবং সামাজিক গভীরতার কথা বা Alice's Adventures in Wonderland এর প্রায় সমমানের রচনা "হ জ ব র ল " এর গভীর দার্শনিক sarcasm বা লক্ষণের শক্তিশেল এর অসাধারণ উজ্জ্বল ডার্ক হিউমারের কথা না হয় নাই বা বললাম।ছোটদের জন্য সরল করে লেখা দেশ বিদেশের বিজ্ঞান ,পুরান ,বিখ্যাত ঘটনা , মনীষীর জীবনী এগুলোতো লোকে সুকুমার সমগ্র(অখণ্ড ) বানিয়ে স্রেফ ভুলে মেরে দিয়েছে , আগে তাও মালটা আলমারি অব্দি যেত এখন তো তাও যায়না। খারাপটা লাগে তখনই যখন কিছু বিচিত্র বাঙালি (বিশেষ করে মাধবপুরের জনগণ ) সুকুমার রায় বলতে ওই ছেলে ভোলানোছড়ার বাইরে কিছুই বোঝেনা , খুব জোর ডিপি কভারে খুচরো কোটেশন ব্যাস , নিদেনপক্ষে একটা মেট্রো-স্টেশান অব্দিও ওনার কপালে জুটলোনা (ধরণী তুমি বরং ওনার ছেলের কাছেই যাও )ভদ্রলোক না থাকলে যে আজকালকার দিনে D S L R বাগিয়ে মামনিবাজি করা বেরিয়ে যেত সেটা বোঝার মতো হতভাগাদের সংখ্যা ফ্যাতাড়ুদের মতোই নগন্য , আর যাদের আছে তারাও
ভদ্রলোক যখন নিতান্তই বালক ছিলেন(ভদ্র ছিলেন কিনা সন্দেহ আছে ) তখন পড়তেন সিটি কলেজ স্কুলে , যেখানের এক সহপাঠী ছিলো পাগলা দাশু (মানে ইনস্পিরেশন আর কি ),তারপর যান প্রেসিডেন্সিতে এবং সেখানে ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রি দুটিতেই অনার্স সমেত গ্রাজুয়েশন বাগিয়ে পাড়ি দেন ইংল্যান্ডের School of Photo-Engraving and Lithography, London এ ফোটগ্রাফি আর প্রিন্টিং টেকনোলজি শিখতে ,এবং রবি গুরুর নোবেল হাঁকানোর সময় তাঁর গান নিয়ে বিলেতে বেশ কয়েকটি লেকচারও দিয়ে ছিলেন , প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রবীন্দ্রনাথ ,জগদীশ্চন্দ্র এবং প্রফুল্লচন্দ্র তিন জনেই ওনার পারিবারিক বন্ধু ছিলেন (এঁনাদের কাছ থেকে খানিকটা ট্যালেন্ট বোধহয় বিজয়ার প্রণামের সময় আবদার করে ঝেড়ে দিয়েছিলেন) . বিলেতে থাকার সময়ই halftone blockmaking ওপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ বিলিতি জার্নালে প্রকাশিত হয় , 1912সালে তিনি Royal Photographic Society র সদস্যপদ পান ,1922 সালে তিনি ওই সোসাইটির ফেলোশিপ ও লাভ করেন যা তাঁর মৃত্যু অব্দি বহাল ছিলো। ভারতে ফোটোগ্রাফি এবং লিথোগ্রাফি এই দুটি বিষয়ে তিনিই প্রধান পথিকৃৎ ছিলেন ,(এরপর মানিকবাবু যে কচিবেলায় ঝুমঝুমির বদলে ক্যামেরা হাঁকড়াবেন তাতে আর আশ্চর্য কি !) মজার ব্যাপার হলো সেই সময়ে রীতিমতো একযুগ খোদ লন্ডনে কাটিয়ে
এবার একটু লাইনের কথায় আসছি ,বিশ্ব সাহিত্য লিটারারি ননসেন্স বা nonsense literature নামক একখান ধারা আছে Edward Lear কে এইধারার জনক বলা যেতে পারে পরে Lewis Carroll পরে একে আরো সমৃদ্ধ করেন , তা
এই ধারায় বিশ্বব্যাপী লেখক কাজ করেছেন এবং এই পোড়া দেশ থেকে এক মাত্র সুকুমার রায় সেই লিস্টিতে আছেন
(সন্দেহ থাকলে উইকিপিডিয়া চেক করে দেখতে পারেন মিছে কতা কইচি না ), 1923 সালে আবোলতাবোল বেরোনোর পর পাক্কা 94 বছর কেটে গেছে এখনো কোনো আঁতেল বঙ্গবীরের হিম্মৎ হয়নি এই ধারায় সাহিত্য পয়দা করার হায়রে বাঙালী !!! জনৈক রায় -বাবুর আর কি দোষ !!!
হাঁসজারু , গিরগিটিয়া , বকচ্ছপ , চিল্লানোসোরাস এদের সৃষ্টির পিছনের গভীর বৈজ্ঞানিক -দার্শনিক এবং সামাজিক গভীরতার কথা বা Alice's Adventures in Wonderland এর প্রায় সমমানের রচনা "হ জ ব র ল " এর গভীর দার্শনিক sarcasm বা লক্ষণের শক্তিশেল এর অসাধারণ উজ্জ্বল ডার্ক হিউমারের কথা না হয় নাই বা বললাম।ছোটদের জন্য সরল করে লেখা দেশ বিদেশের বিজ্ঞান ,পুরান ,বিখ্যাত ঘটনা , মনীষীর জীবনী এগুলোতো লোকে সুকুমার সমগ্র(অখণ্ড ) বানিয়ে স্রেফ ভুলে মেরে দিয়েছে , আগে তাও মালটা আলমারি অব্দি যেত এখন তো তাও যায়না। খারাপটা লাগে তখনই যখন কিছু বিচিত্র বাঙালি (বিশেষ করে মাধবপুরের জনগণ ) সুকুমার রায় বলতে ওই ছেলে ভোলানোছড়ার বাইরে কিছুই বোঝেনা , খুব জোর ডিপি কভারে খুচরো কোটেশন ব্যাস , নিদেনপক্ষে একটা মেট্রো-স্টেশান অব্দিও ওনার কপালে জুটলোনা (ধরণী তুমি বরং ওনার ছেলের কাছেই যাও )ভদ্রলোক না থাকলে যে আজকালকার দিনে D S L R বাগিয়ে মামনিবাজি করা বেরিয়ে যেত সেটা বোঝার মতো হতভাগাদের সংখ্যা ফ্যাতাড়ুদের মতোই নগন্য , আর যাদের আছে তারাও
ফ্যাৎ-ফ্যাৎ সাঁই-সাঁই করতে ব্যাস্ত। অগত্যা .......
অবশ্য এতে সুকুমার রায়ের কিছুই ছেঁড়া যায় না , উনি দিব্বি ওপরে উঠে রোদে বাদাম ভাজা গিলতে গিলতে একটার পর একটা মাস্টারপিস নামাচ্ছেন আর নিচে তাকিয়ে ফিক ফিক করে হাসছেন , জিনিয়াসরা এরকমই হন , তাঁদের দেখা যায় ধরা যায়না।
বড্ডো বেশী বকে ফেললুম ,কেউ যদি এতদূর ধৈর্য্য ধরে পড়ে থাকেন নিজগুনে ক্ষমা করে দেবেন।
"ঘনিয়ে এলো ক্ষিদের ঘোর
বকার পালা সাঙ্গ মোর "
বি দ্র - এতো দূর যদি পড়েই থাকেন কষ্ট করে , তাহলে এট্টু শেয়ার করে দেবেন নাহয় , সুকুমার রায় বা জনৈক
অবশ্য এতে সুকুমার রায়ের কিছুই ছেঁড়া যায় না , উনি দিব্বি ওপরে উঠে রোদে বাদাম ভাজা গিলতে গিলতে একটার পর একটা মাস্টারপিস নামাচ্ছেন আর নিচে তাকিয়ে ফিক ফিক করে হাসছেন , জিনিয়াসরা এরকমই হন , তাঁদের দেখা যায় ধরা যায়না।
বড্ডো বেশী বকে ফেললুম ,কেউ যদি এতদূর ধৈর্য্য ধরে পড়ে থাকেন নিজগুনে ক্ষমা করে দেবেন।
"ঘনিয়ে এলো ক্ষিদের ঘোর
বকার পালা সাঙ্গ মোর "
বি দ্র - এতো দূর যদি পড়েই থাকেন কষ্ট করে , তাহলে এট্টু শেয়ার করে দেবেন নাহয় , সুকুমার রায় বা জনৈক
রায়-বাবু আশীর্বাদ না করলেও এই অধম অবশ্যই করবে।
ধন্যবাদ
ধন্যবাদ
No comments:
Post a Comment