Search This Blog

Sunday, 30 July 2017

paradox

                                                                           1

“তোর  হাতের  মাঝে পড়লে আমার হাতগুলো  এতো ছোট ছোট  লাগে  কোনো বল তো ?”  পূর্বাশার  কথাটার কোনো জবাব  আমি খুঁজে পেলাম না  ,অবশ্য এটা নতুন কিছুই না  জবাব আমি কবেই বা খুঁজে পেয়েছি।  সেই প্রথম দিন  ওকে দেখে   যেমন গরুর  মতো  তাকিয়েছিলাম   সেই  ভাবে আজও  তাকিয়ে রইলাম , ওর  হাত দুটো  আমার হাতের মধ্যে  নিয়ে। 
“ওই গরুটা  এবার ট্রেন ছেড়ে দেবে রে , নামবি  না?”
“হমম
আমি জানি। ........... তোকে যেতেই হবে রে ??”
আমার গলাটা সামান্য  কেঁপে গিয়েছিলো কি? পূর্বাশা  কিছু না বলে  ওর মাথাটা  নামিয়ে নিলো , আমি আস্তে আস্তে  উঠে দাঁড়ালাম ,সময় হয়ে এসেছে ট্রেনটা সত্যি  ছেড়ে দেবে  এবার। 
“সাড়ে নটা  দশটা  করে  ট্রেন মুঘলসরাই  ঢুকবে  তখন  মনে করে  খেয়ে নিস্ কেমন ”
পূর্বাশা  মুখ  তুলে তাকালো , চোখের কোন দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে ,আলতো  করে ভেজা গলায় বললো
"সরি  রে ....
আমি  আর ওর  দিকে না  তাকিয়ে বাকি কথা গুলো না  শোনার  ভান  করে  দরজার দিকে এগিয়ে  গেলাম। বস্তাপচা  কথা শুনে কোনো লাভ নেই। 
Dun express টা  চলতে শুরু করার  পরেই  আমার বেনারস  স্টেশনটাকে   অসহ্য  লাগতে শুরু করলো ,
“লাভ নেই , শালা  কোনো লাভ নেই ”
মনে মনে  এই কথাটা  বলতে বলতে আমি হাটতে শুরু করলাম।  একটা  সিগারেট  দরকার। কানের  ভেতর  হেডফোনে  রূপঙ্কর
ক্রমাগত  বলছেন " যদি এক মুহূর্তের জন্য আমায়  চাও  সেটাই সত্যি। ........'
                                                                                                                                                                                                                                        2              


                                                                                       “শালার ন্যাকামোটা দেখ একবার , যেন  ও ছাড়া জগতে  আর কেউ কোনোদিন  প্রেম ও করেনি  আর  ছ্যাঁকাও  খায়নি ,  ঢ্যামনা সালা ”,
 নভেন্দুর  কথা টা  আমি  গায়ে মাখার  চেষ্টাও  করলাম  না।  ও  এই রকম ই 
“এই নে ধরা ”  সিগারেটের নতুন  প্যাকেটটা দেখে অবাকই হলাম 

“নতুন  flake  আবার  কবে  বেরোলো ???”
“ হ্যাঁ রে  শালা  তুমি তো এখানে  ঘরেই  লটকে আছো  জানবে কি করে  চাঁদ ,  এই রুমের  বাইরে কত বেরোসনি  বে ??”
আমি প্যাকেট  ছিড়ে  একটা সিগারেট  ধরিয়ে  প্যাকেটটা  ওর দিকে  এগিয়ে দিলাম , মাথা নেড়ে না বললো 
“ সালা  মেয়েটার  সাথে কি  নিজের মেমোরিটাকেও  ভোগে  পাঠিয়ে  দিয়েছিস ? আমাকে কোনোদিনও  দেখেছিস  সিগারেট  ফুঁকতে ??     আমার রসদ  সব সময় মজুদ  থাকে এই নে "
কথা  বলতে বলতে  পাঞ্জাবির  পকেট থেকে  বিড়ি  বার  করে  দেশলাই  দিয়ে সেটা  ধরিয়ে  আগুনটা আমার দিকে এগিয়ে দিলো  
আমি সিগারেটটা  ধরিয়ে  নভেন্দুর  দিকে তাকালাম ,ছেলেটা  সেই একই রকমই  আছে একটু ও পাল্টায়নি , ও  সিগারেট  খায়  না  বিড়ি  খায়  চিরকাল রোগ , লোকপকে  অতি  সাধারণ  এই  ছেলেটাকে  দেখে বিশ্বাস  করা শক্ত  যে  এ  এখন  সিনিয়র  resrech ফেলো  ,স্যাটিস্টিক্স  নিয়ে  পোস্ট  ডক্টরেট  করছে। 
“আর কয়দিন এই  ফ্ল্যাটের  রুমে  নিজেকে  বন্দি করে রাখবি ?  জানিস  G.B স্যার  কাল ও  তোকে খুঁজছিলো  তোকে কিসব  পেপার   রেডি  করতে বলেছিলো  তুই  নাকি   নাকি ২ মাস হয়ে গেল  এখনো  দিসনি , খুব বিরক্ত  হয়েছেন  দেখ  ভাই  অনেকদিন তো  হলো  এবার একটু  কাজে  লাগ্  দেখ  ইউনিভার্সিটি  তো আর তোকে  ছিড়তে মাসে  ১২ হাজার   দিচ্ছেনা  তাই না "?আমি ] কোনো  জবাব দিলাম না , নবেন্দু  চেয়ার  থেকে  উঠে  এসে  আমার  বেডে   বসলো , আস্তে  করে  নরম গলায়  বললো
"ছাড়  না ভাই  যা হবার    হয়ে  গ্যাছে, চল তো  আজ ক আমার সাথে ডিপার্মেন্টে  চল  দেখবি  ভালো লাগছে ,
আমি কোনো  জবাব না দিয়ে  চুপচাপ বসে রইলাম , সিগারেটটা  হাতেই  পুড়তে  থাকলো , নবেন্দু  ভুল কিছু বলেনি
কিন্তু  জীবনে কি  সব সময় সব কিছু  হিসাব মতো  চলে  নাকি  আজ অব্দি চলেছে  কোনদিনও ??



                                                                           3

                                                                                       “এই  গরু  এইদিকে  আয় ”
আমি এগোলাম না , যে ভাবে  মুখ নিচু  করে  দাঁড়িয়েছিলাম  সেই ভাবেই রইলাম , তিয়াশা  আবার  বললো
"কিরে আয় "
আমি  কোনো কথা না বলে  শুধু  মাথা নেড়ে  না বললাম , তিয়াশা  এবার আমার  দিকে  এগিয়ে  এলো, কাছে  এসে  হটাৎ করে  নরম গলায়  জিজ্ঞাসা  করলো
"কি হয়েছে ??"
আমি এবারও  কোনো না দিয়ে  ওর চোখের  দিকে সোজাসুজি  তাকালাম , কলেজের  এই  হলে  আর  বাকি যারা  কাপল ডান্স  এর  রিহার্সাল  দিচ্ছিলো  তারা নিজেদের  নিয়ে ব্যাস্ত থাকলেও  এই ঘটনাটা  যে  ওদের  চোখ  এড়াচ্ছিলো না  সে  বিষয়ে আমি sure তিয়াশা  ঠিক  আমার  মুখোমুখি  এসে  দাঁড়ালো  ওর  গরম নিঃস্বাস গুলো  যেন  ঠিক আমার  বুকে  এসে আছড়ে  পড়ছিলো  কেনো জানিনা  খুব  আস্তে  আস্তে অদ্ভুত  একটা  জ্বালা  ধরছিলো।  তিয়াশা  আমার  হাত দুটো ধরে  খুব  আলতো  করে  বললো
"ওই গরু  কি হলো? নাচবি না আমার সাথে? হ"
আমি কোনো  কথা বলে  এক হ্যাঁচকা  টানে  ওকে  আমার আরো  কাছে টেনে  আনলাম ,ও  খিল খিল  করে হেসে  উঠে  বলল
"আচ্ছা  বুঝেছি বুঝেছি , আমি গরু বললাম বলে  রাগ হয়েছে  বুঝি। ....... উমমম "
টুক করে  আমার ডান  গালে  একটা চুমু খেয়ে  বললো
"solly ,পাগলাটা  আমার " বলে  আমার গালে  আর  একটা চুমু খেলো
"রাগ মিটলো ?এবার  চলো  সোনা  রিহার্সাল  দিতে হবে তো  উমম "
বলে আমার  উত্তরের অপেক্ষা না  করেই  আমার হাত ধরে  হির হির করে  টেনে নিয়ে গেল অরুন আর  পিয়ার দিকে , এতক্ষন  রিহার্সাল ব্রেক   চলছিল,
বাকি  ছয়  জোড়া  ছেলে মেয়ে  যে যার নিজের মতো  করে  গল্প  করছিলো ,পিয়াকে অরুন  খাইয়ে  দিছিলো
আমার  সত্যি বলতে  কি একটু লজ্জাই  লাগছিলো , যদিও ঘরের সবাই  কাপল  আর  সবাই  আমার বন্ধু  তাও  লাগছিলো
আর  আজব ব্যাপার  এই হটাৎ করে  উড়ে  আসা  লজ্জাটা  আমার  বেশ  ভালো  লাগছিলো।  আমাদের আসতে  দেখে অরুন  শুধু  একবার  আমার  দিকে তাকিয়ে  মুচকি  হাসলো তারপর  কানে কানে পিয়াকে কিছু একটা বললো , তারপর দুজনেই হেসে ফেললো , আমিও হাসলাম। অরুন  উঠে  দাঁড়িয়ে  অন্যদের বললো
 "ওকে  everyone ব্রেক খতম , সবাই  যে যার পজিশন  নাও  আমাদের  হাতে কিন্তু আর সময়  বেশি  নেই  গেট  রেডি "
আমি  তিয়াশার  হাত ধরে   রেডি  হলাম , সত্যিই  সময় আর  বেশি নেই পরশুই   শো  আর যেহেতু এটা  আমাদের  ফাইনাল  ইয়ার  তাই  এটা  আমাদের  শেষ শো , আমি চোখ  বুঝে একটা  স্বাস  নিয়ে  ওর  কানে কানে  বললাম
"আমাকে  কোনোদিনও ছেড়ে  চলে যাবিনা তো ?
তিয়াশা  কোনো কথা না বলে আমার হাতটা  শক্ত করে  আঁকড়ে  ধরলো ,আর  ঠিক তখনি  music সিস্টেমে  জোরে  বেজে উঠলো
" আভি  মুঝমে  কাহি  বাকি থোড়ি  সি  হায়  জিন্দেগী "
আট  জোড়া  ছেলে মেয়ে  একসাথে  নাচ শুরু  করলো।
   


                                                                    4

                                                                                                      আচমকা  একটা  গোলমালের  শব্দে  ঘোরটা  কাটলো , এখন এইসব পুরানো কথা পূর্বজন্মের  স্মৃতির  মতো  মনে হয় ,যেন  অন্য কারুর  জীবনে ঘটে গ্যাছে , আমার জীবনটা  যে  এককালে  এইরকম ছিল  নিজেই  ভুলে  গেছি , মাঝে মাঝে  কিছু  স্মৃতি  ভোরবেলার  স্বপ্নের  মতো  ঘুরে ফিরে  আসে। কিন্তু  সে যাই  হোক আমার ঘুম টা  ভাঙলো  কিসে !!!!
উপরের  বাংক  থেকে  নিচে নেমে  বাথরুমের দিকে যেতে যেতেই  বুঝতে  পারলাম  ব্যাপারটা  সিরিয়াস , বেশ সিরিয়াস ,ট্রেনটা  অলরেডী  ছয়  ঘন্টা লেট , এখনো দাঁড়িয়ে  আছে  বিহারের  কোনো  একটা  অজানা  গ্রামের ধরে  ,এখনো  সিগন্যাল  পায়নি। কাল রাতে  ট্রেনে  ওঠার পর থেকে  এখনো অব্দি  কোনো  রকম  নেশা করিনি ,ঘুম থেকে  উঠে মাথা তা ঝিম ঝিম করছে , ট্রেন থেকে  নেমে পড়লাম  ঘড়ি  বলছে সময় এখন  সকাল সাড়ে ছটা  কিন্তু  বাইরের  ঘন কুয়াসার দেয়াল দেখে  মনে হয়না  সূর্য র কনোদিন ও উঠবে বলে ,এখানের  তাপমাত্রা যে  কত  হয়ে আছে  সেটা আমার ধারণার  বাইরে ,সারা  শরীর  যেন  জমে যাচ্ছে , কয়েকজন  রেল ট্রাকের  ওপর  দিয়ে  হাঁটাচলা  করছিলো , একটু দূরে  দুটো বাচ্চা  ছেলে  বোতলে  করে তাড়ি  বিক্রি করছিলো , তাদের দিকে এগিয়ে  গেলাম।  পকেট থেকে মোবাইল টা  বার করে একবার দেখলাম , লো ব্যাটরি। একটা বোতল  ২০ টাকা , দু বোতল  কিনে  একটায়  চুমুক দিয়ে দিয়ে আমি আবার  ফোনটা  দেখলাম , ঠিক শুনেছি তো ? তিয়াশা  সত্যি সত্যি  হাসপাতালে  ভর্তি !!! তিনদিন আগেই তো দেখা হলো  কি এমন হয়ে গেল এই ৭২ ঘন্টায় ? বোতলটা ঢকঢক করে শেষ না করেই করে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম
নাহ  আর  নয়  আর নয়
জীবনে  একবার আমি  পূর্বাশাকে  হারিয়েছি  আর আমি কেউকে  হারাতে  দিতে রাজি নই , লাফিয়ে ট্রেনে  উঠে  নিজের  সিটে  গিয়ে  ব্যাগটা  টেনে বার করলাম , জীবনে সব হিসাব আপনা  আপনি  মেলেনা  মাঝে মাঝে  কয়েকটা হিসাব জোর করেই মেলাতে হয়
আগেরবার  পূর্বাশা  যাবার সময় আমাকে বলে গিয়েছিলো  সরি
কিন্তু আমি রিপ্লাই  দেবার  সুযোগটাই  পাইনি  কোনোদিন  কারণ  পূর্বাশার  ট্রেনটা কোনোদিন  মোগলসরাই  স্টেশনে  পৌঁছতেই  পারেনি।
 
na                                                                      5                                                             
                                                               রাত  এগারোটায়  হোস্টেলে সমরেশের  দরজায়  ঘা  পড়লো। সমরেশ  দরজা খুলে  দেখলো  বাইরে  নবেন্দু  দাঁড়িয়ে  আছে
 "কিরে  নব  এতরাতে  কি ব্যাপার ?? কি হয়েছে?"
"অভিমন্যুর  সাথে কোনো কথা  হয়েছে  তোর ??"
"নাহ  ওর  তো  কালকে  বাড়ি থেকে  ফেরার  কথা না ???
"না  ওর  আজকে  সকালে  ওর ফেরার  কথা ছিল এখনো  কোনো খবর  নেই "
"ওহ  তা দেখ  ট্রেন হয়তো  কুয়াশার  জন্য  লেট  করেছে , দাঁড়া  আমি  নেটে  চেক করছি " 
"আমি দেখেছি  ওর ট্রেন  নয়  ঘন্টা  লেট  ছিল ,"
"ওহঃ তাহলে  অত  চাপ নিচ্ছিস কেন  ফোন কোরনা ওকে "
"কি মনে হয় সালা  আমি কি এতক্ষন ছিঁড়ছিলাম !!!
আমি  ফোন  করেছিলাম  কিন্তু  সুইচ অফ  ৯টার  সময়  আমি নিজে  গিয়েছিলাম  স্টেশনে  ওকে আনতে , কিন্তু গিয়ে  দেখি ও আসেনি ,কালকে ওর বাড়ীর  লোক  ওকে ট্রেন এ তুলে দিয়ে গেছে  আমার নিজের কথা হয়েছে  তাদের সাথে। 
সমরেশের  মুখ  ফ্যাকাশে  হয়ে গেল
"সব্বোনাশ  , তাহলে  কি  ও  আবার  সেই  আগের  বারের  মতো। ...............
নবেন্দু  শুকনো  গলায়  বললো
"আমি ঠিক সেই  ভয়টাই  হচ্ছে   জানিনা এবার কি করে বসে আছে "
সমরেশ  চেয়ার  থেকে নিজের জ্যাকেটটা  তুলে   নিয়ে  পরতে  পরতে  বললো
"আমার মনে  হয়  পুলিশে  জানানোটাই  বেটার  হবে  ,চল  হয়তো  খুব বেশি দেরি  এখনো  হয়নি  কি বলিস " 
নবেন্দু  চুপ  করে  দাঁড়িয়ে  রইলো  কোনো  জবাব দিলোনা। 


                                                                    6


                                                                                  ট্রেনটা  চলে  গেল  আমি গেলাম  না। বাচ্চাটাকে  বললাম
"আরো  একটা  বোতল  থাকলে  নিয়ে  আয় তো "
সে  হাত নেড়ে  জানালো  সব  শেষ  হয়ে  গ্যাছে ,ফোনটা  ব্যাটারির  অভাবে  ডেড  হয়ে গ্যাছে  , যাকগে  গ্যাছে গ্যাছে  ভালোই  হয়েছে। অনেকক্ষন  থেকেই  মাথাটা  যেন ছিঁড়ে  আসতে  চাইছে  যন্ত্রনায়
 তবু  এখানে  বসে থাকলে  চলবেনা  আমাকে  পথ  খুঁজে  বার করতে হবে, তিয়াশার  কাছে ফেরার  পথ 
আমার  চিকিৎসক  Dr মুখার্জির  কথায় ,আমার বাড়ির  লোকের কথায় ,বন্ধুদের  কোথায়  আর  ভুললে  চলবে না। উফফ Dr  মুখার্জি  ,,,,, না  এমনি  লোক মন্দ  নন  কিন্তু বড়  ভুল ভাল বোঝাতে  চান , কি করে  বোঝাবো এদের  তিয়াশা  না থাকলে  আমি  আজকে  আমার  বেঁচে  থাকাটাই যে  হতো  না , সেবার যখন  স্লিপিং পিলগুলো  আমি সব কটা  একসাথে  খেতে যাচ্ছিলাম  তখন  ও যদি  ছুটে  এসে  আমার ঠোঁট  দুটো নিজের ঠোঁট দিয়ে বন্ধ না করে  দিতো  আজকে  আমি কোথায় থাকতাম , ও আমার সাথে  যে কতটা জড়িয়ে  আছে সেটা এরা  কি করে বুঝবে  এঁদের  তো খালি  প্রমান চাই  আমিতো  তিয়াশাকে  নিয়ে  যেতে চেয়েছিলাম 
 বাড়িতে মা  বাবার  সাথে আলাপও  করাতে  চেয়েছিলাম  কিন্তু। .............সেটার  সুযোগ কেউ দিলে তো , এখন  তিয়াশা  যে  আমাকে দেখতে চাইছে  সেটা  তো  এরা  কেউ মানতেই চাইবে  না
আমি কি করে  এই আহাম্মকের  দলকে  বোঝাই ]
যে তিয়াশাকে  এখনো  একমাত্র  আমিই  যে দেখতে  পাই  আর  কেউ যে পায়না। .
পৌঁছতেই হবে আমাকে ওর  কাছে , আমি  টলোমলো  পায়ে  আমি রেল লাইনের  দিকে হাঁটা  লাগলাম ,দূরে একটা ট্রেন আসছে না?

আচ্ছা ঐটা  ধরলে আমি কার কাছে  পৌঁছবো  পূর্বাশা  না তিয়াশা ????নাহঃ  ট্রেনটার  সামনে কি  লেখা আছে  দেখা দরকার
আমি টলতে টলতে  ট্রেনের  আলোর  দিকে  এগিয়ে গেলাম