Reincarnated গোরুচোর
"Universal joy, universal sorrow, universal life. The memories of all loves merging with this one love of ours - And the songs of every poet past and forever.” ― Rabindranath Tagore
Search This Blog
Wednesday, 3 January 2018
Thursday, 21 December 2017
প্যারাডক্স
১৪
সমরেশের ঘর
সকাল সাতটার সময় সমরেশের দরজায় ঘা পড়লো ,
"এখন আবার কোন শ্লা......"
বিড় বিড় করে গালি দিতে দিতে, সমরেশ উঠে গিয়ে দরজাটা খুললো। খুলেই দেখে বাইরে ঝোড়ো কাকের মতো নবেন্দু দাঁড়িয়ে আছে , সমরেশ তাড়াতাড়ি দরজা থেকে সরে দাঁড়ালো
" নব ভেতরে আয় , কি হয়েছে এই চেহারা কেন ?"
নবেন্দু কোনো কথা না বলে ধপ করে চেয়ারে বসলো , বসে পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা বিড়ি বার করে ধরালো , সমরেশ লক্ষ্য করলো ওর হাতটা কাঁপছে। সমরেশ আবার জিজ্ঞাসা করলো
"ভাই, সব ঠিক আছে তো ?"
" বিশ্বর সাথে তোর আজকে সকালে দেখা হয়েছে ?"
"নাতো , তোরা তো কালকে দুজনে বেরিয়েছিলিস মুরগি খেতে , তারপর ফিরিসনি !!!!!!!!!"
"নাঃ আমরা ভাং খেয়ে খুব তাল হয়ে গেছিলাম , দশাশ্বমেধঘাটে শুয়েছিলাম , হাঁসাহাঁসি করছিলাম , এমন সময় কয়েকজন সাধু টাইপের গেরুয়া পরা লোকজন এসে আমাদের মুখে টর্চ মেরে জিগ্জাসা করে কে আমরা কি করছি এখানে , আমরা কিছুতেই হাসি থামাতে পারছিলাম না , এমন সময় ওদের একজন এসে বিশ্বায়নের হাত ধরে টানাটানি শুরু করে , সেখান থেকে হাতাহাতি শুরু হয় তারপর হটাৎ ওরা কয়েকজন বিশ্বকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়,
আমি সালা এতো অবাক হয়ে গেছিলাম যে কিছু করতে পারেনি কয়েক সেকেন্ড পরে হুঁশ এলে তাড়া করি কিন্তু একটু যেতেই আমাকে পুলিশ মাতাল বলে ধরে ফেলে, আমার কোনো কথাই শোনেনি সোজা লঙ্কা থানায় এনে জমা করে দেয়
রাত দুটোর সময় , থানায় তখন কোনো অফিসার ছিল না , ভোরবেলা একজন আসার পর আমার পরিচয় দিতে ,
সে আমার গাইডকে ফোন করে অনেক চব্য করে শেষ মেষ ছাড়া পাই. থানা থেকে বেরিয়ে সোজা এখানে আসছি
আসার সময় দেখলাম
১৪
সমরেশের ঘর
সকাল সাতটার সময় সমরেশের দরজায় ঘা পড়লো ,
"এখন আবার কোন শ্লা......"
বিড় বিড় করে গালি দিতে দিতে, সমরেশ উঠে গিয়ে দরজাটা খুললো। খুলেই দেখে বাইরে ঝোড়ো কাকের মতো নবেন্দু দাঁড়িয়ে আছে , সমরেশ তাড়াতাড়ি দরজা থেকে সরে দাঁড়ালো
" নব ভেতরে আয় , কি হয়েছে এই চেহারা কেন ?"
নবেন্দু কোনো কথা না বলে ধপ করে চেয়ারে বসলো , বসে পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা বিড়ি বার করে ধরালো , সমরেশ লক্ষ্য করলো ওর হাতটা কাঁপছে। সমরেশ আবার জিজ্ঞাসা করলো
"ভাই, সব ঠিক আছে তো ?"
" বিশ্বর সাথে তোর আজকে সকালে দেখা হয়েছে ?"
"নাতো , তোরা তো কালকে দুজনে বেরিয়েছিলিস মুরগি খেতে , তারপর ফিরিসনি !!!!!!!!!"
"নাঃ আমরা ভাং খেয়ে খুব তাল হয়ে গেছিলাম , দশাশ্বমেধঘাটে শুয়েছিলাম , হাঁসাহাঁসি করছিলাম , এমন সময় কয়েকজন সাধু টাইপের গেরুয়া পরা লোকজন এসে আমাদের মুখে টর্চ মেরে জিগ্জাসা করে কে আমরা কি করছি এখানে , আমরা কিছুতেই হাসি থামাতে পারছিলাম না , এমন সময় ওদের একজন এসে বিশ্বায়নের হাত ধরে টানাটানি শুরু করে , সেখান থেকে হাতাহাতি শুরু হয় তারপর হটাৎ ওরা কয়েকজন বিশ্বকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়,
আমি সালা এতো অবাক হয়ে গেছিলাম যে কিছু করতে পারেনি কয়েক সেকেন্ড পরে হুঁশ এলে তাড়া করি কিন্তু একটু যেতেই আমাকে পুলিশ মাতাল বলে ধরে ফেলে, আমার কোনো কথাই শোনেনি সোজা লঙ্কা থানায় এনে জমা করে দেয়
রাত দুটোর সময় , থানায় তখন কোনো অফিসার ছিল না , ভোরবেলা একজন আসার পর আমার পরিচয় দিতে ,
সে আমার গাইডকে ফোন করে অনেক চব্য করে শেষ মেষ ছাড়া পাই. থানা থেকে বেরিয়ে সোজা এখানে আসছি
আসার সময় দেখলাম
বিশ্বর রুমে তালা মারা "
গোটাটা শুনতে শুনতেই সমরেশের মুখ শুকিয়ে আসছিলো , এবার ও নিজেও ধপ করে বিছনায় বসে পড়লো
নবেন্দু হতাশ ভাবে বললো
"কি করি বলতো , আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না, পুলিশের কাছে যাবো নাকি ওর বাড়িতে জানাবো ,নাকি খোঁজাখুঁজি করবো , কি যে করি কিচ্ছু মাথায় আসছে না। "
সমরেশ মুখ নামিয়ে কি যেন একটা ভাবছিলো , এবার মুখ তুলে বললো
"আচ্ছা ও মাল ওর ওষুধগুলো ঠিকঠাক খাচ্ছে কিনা তুই জানিস ??"
নবেন্দু সোজা হয়ে বসলো
"না তাতো জানি না, আমি তো কালকে গোটা দিন ওর সাথে ছিলাম , ওষুধ খেতে তো দেখলাম না "
সমরেশ তড়াক করে উঠে দাঁড়িয়ে , টেবিলের ড্রয়ার খুলে কিছু একটা খুঁজতে লাগলো ,
"কি খুজছিস ভাই "
"আমার কাছে ওর রুমের একটা এক্সট্রা চাবি আছে , ওর রুমটা খুলে একবার দেখা দরকার , আমার কেন জানি সন্দেহ হচ্ছে ও বেশ কয়েকদিন ধরেই ওষুধ খায়নি। "
নবেন্দু কোনো জবাব দিলো না।
চাবিটা খুঁজে পেয়ে বিশ্বায়নের রুমের তালা খুলতে খুলতে সমরেশ একবার জিজ্ঞাসা করলো
"তুই জানিস ওর ওষুধগুলো কোথায় থাকে ?"
নবেন্দু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো।
দরজা খুলেই বোঝা গেল এই ঘরে রাতে কেউ আসেনি , বিছানার চাদর টানটান হয়ে আছে , বিশ্বায়ন এমনিতে গোছানো ছেলে সেটা ওর ঘর দেখেই বোঝা যায় , বেশিক্ষন খুঁজতে হলো না , ডানদিকের দেয়াল আলমারিটা খুলতেই দেখা গেল , কমলা রঙের শিশিটা , সীল এখনো কাটা হয়নি , এক মাসের জন্য একটা শিশি ,সমরেশ শিশিটা তুলে দেখল এমাসেরই বরাদ্দ ওষুধ , শিশিতে মাসের নামটা লেখা আছে,..
সমরেশ মনে মনে একবার হিসাব করে দেখলো আজকে দশ তারিখ , ও কম করে দশ দিন ওষুধ খায়নি, ওর যা অবস্থা তাতে দুদিন বন্ধ করলেই গোলমাল দেখা দেয়ার কথা সেখানে দশ দিন !!!!!!! সমরেশের এবার ভয় করতে লাগলো
ছেলেটা আবার কোন বিপদে ডেকে আনলো কে জানে।পিছন ঘুরে নবেন্দুকে ডাকতে গিয়ে দেখে নবেন্দু দেয়ালের ঝোলানো বড়ো ওয়াল হ্যাঙ্গিংটার দিকে তাকিয়ে আছে ,বিশ্বর কলেজ জীবনের ছবি , বন্ধুদের ছবি , ওর সিনেমার ছবি
এসব দিয়ে একটা বিরাট কোলাজ , বিশ্বর নিজের হাতেই বানানো। একটা ছবি আছে বিশ্বর কলেজের একটা গ্রুপ ছবি নবেন্দু সেটার দিকেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল
সমরেশ , নবেন্দুর পিছনে এসে দাঁড়িয়ে ছবিটা দেখতে দেখতে বললো
"এই ছবিটার মধ্যেই কি সেই ???"
"হ্যাঁ এই যে এই মেয়েটাই হলো তিয়াশা। " নবেন্দু আঙ্গুল দিয়ে দেখালো
সমরেশ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো
"বেচারার কপালটাই খারাপ , যাক যে এই দেখ " বলে হাতে ধরা ওষুদের শিশিটা নবেন্দুর দিকে বাড়িয়ে দিলো ,
"কয় দিন "
"এ মাসের দশ , ও মাসেরটা জানিনা "
"হুমম "
নবেন্দু কোনো কথা না বলে , কাঁপা কাঁপা হাতেই আবার একটা বিড়ি ধারালো , সমরেশ জিজ্ঞাসা করলো
"তোর কি মনে হয় আবার আগের বারের মতো ???"
"আমিও সেই ভয়টাই পাচ্ছি রে শ্লা"
"আমার মনে হয় আমাদের এখনই একবার পুলিশের কাছে যাওয়া উচিত , হয়তো দেরি হয়নি কি বলিস ?"
নবেন্দু কোনো জবাব দিলো না , চুপচাপ ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে লাগলো
(চলবে )
বি দ্র - গতকাল কিছু যান্ত্রিক ও শারীরিক কারণের জন্য দিতে পারিনি তাই আজকে চেষ্টা করবো দুটোই দিয়ে দিতে।
এ গরিবের একান্ত অনুরোধ , একটু শেয়ার।
গোটাটা শুনতে শুনতেই সমরেশের মুখ শুকিয়ে আসছিলো , এবার ও নিজেও ধপ করে বিছনায় বসে পড়লো
নবেন্দু হতাশ ভাবে বললো
"কি করি বলতো , আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না, পুলিশের কাছে যাবো নাকি ওর বাড়িতে জানাবো ,নাকি খোঁজাখুঁজি করবো , কি যে করি কিচ্ছু মাথায় আসছে না। "
সমরেশ মুখ নামিয়ে কি যেন একটা ভাবছিলো , এবার মুখ তুলে বললো
"আচ্ছা ও মাল ওর ওষুধগুলো ঠিকঠাক খাচ্ছে কিনা তুই জানিস ??"
নবেন্দু সোজা হয়ে বসলো
"না তাতো জানি না, আমি তো কালকে গোটা দিন ওর সাথে ছিলাম , ওষুধ খেতে তো দেখলাম না "
সমরেশ তড়াক করে উঠে দাঁড়িয়ে , টেবিলের ড্রয়ার খুলে কিছু একটা খুঁজতে লাগলো ,
"কি খুজছিস ভাই "
"আমার কাছে ওর রুমের একটা এক্সট্রা চাবি আছে , ওর রুমটা খুলে একবার দেখা দরকার , আমার কেন জানি সন্দেহ হচ্ছে ও বেশ কয়েকদিন ধরেই ওষুধ খায়নি। "
নবেন্দু কোনো জবাব দিলো না।
চাবিটা খুঁজে পেয়ে বিশ্বায়নের রুমের তালা খুলতে খুলতে সমরেশ একবার জিজ্ঞাসা করলো
"তুই জানিস ওর ওষুধগুলো কোথায় থাকে ?"
নবেন্দু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো।
দরজা খুলেই বোঝা গেল এই ঘরে রাতে কেউ আসেনি , বিছানার চাদর টানটান হয়ে আছে , বিশ্বায়ন এমনিতে গোছানো ছেলে সেটা ওর ঘর দেখেই বোঝা যায় , বেশিক্ষন খুঁজতে হলো না , ডানদিকের দেয়াল আলমারিটা খুলতেই দেখা গেল , কমলা রঙের শিশিটা , সীল এখনো কাটা হয়নি , এক মাসের জন্য একটা শিশি ,সমরেশ শিশিটা তুলে দেখল এমাসেরই বরাদ্দ ওষুধ , শিশিতে মাসের নামটা লেখা আছে,..
সমরেশ মনে মনে একবার হিসাব করে দেখলো আজকে দশ তারিখ , ও কম করে দশ দিন ওষুধ খায়নি, ওর যা অবস্থা তাতে দুদিন বন্ধ করলেই গোলমাল দেখা দেয়ার কথা সেখানে দশ দিন !!!!!!! সমরেশের এবার ভয় করতে লাগলো
ছেলেটা আবার কোন বিপদে ডেকে আনলো কে জানে।পিছন ঘুরে নবেন্দুকে ডাকতে গিয়ে দেখে নবেন্দু দেয়ালের ঝোলানো বড়ো ওয়াল হ্যাঙ্গিংটার দিকে তাকিয়ে আছে ,বিশ্বর কলেজ জীবনের ছবি , বন্ধুদের ছবি , ওর সিনেমার ছবি
এসব দিয়ে একটা বিরাট কোলাজ , বিশ্বর নিজের হাতেই বানানো। একটা ছবি আছে বিশ্বর কলেজের একটা গ্রুপ ছবি নবেন্দু সেটার দিকেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল
সমরেশ , নবেন্দুর পিছনে এসে দাঁড়িয়ে ছবিটা দেখতে দেখতে বললো
"এই ছবিটার মধ্যেই কি সেই ???"
"হ্যাঁ এই যে এই মেয়েটাই হলো তিয়াশা। " নবেন্দু আঙ্গুল দিয়ে দেখালো
সমরেশ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো
"বেচারার কপালটাই খারাপ , যাক যে এই দেখ " বলে হাতে ধরা ওষুদের শিশিটা নবেন্দুর দিকে বাড়িয়ে দিলো ,
"কয় দিন "
"এ মাসের দশ , ও মাসেরটা জানিনা "
"হুমম "
নবেন্দু কোনো কথা না বলে , কাঁপা কাঁপা হাতেই আবার একটা বিড়ি ধারালো , সমরেশ জিজ্ঞাসা করলো
"তোর কি মনে হয় আবার আগের বারের মতো ???"
"আমিও সেই ভয়টাই পাচ্ছি রে শ্লা"
"আমার মনে হয় আমাদের এখনই একবার পুলিশের কাছে যাওয়া উচিত , হয়তো দেরি হয়নি কি বলিস ?"
নবেন্দু কোনো জবাব দিলো না , চুপচাপ ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে লাগলো
(চলবে )
বি দ্র - গতকাল কিছু যান্ত্রিক ও শারীরিক কারণের জন্য দিতে পারিনি তাই আজকে চেষ্টা করবো দুটোই দিয়ে দিতে।
এ গরিবের একান্ত অনুরোধ , একটু শেয়ার।
Wednesday, 20 December 2017
প্যারাডক্স
১৩
সরস্বতী বয়েস হোস্টেল
২০১৩
বাবাকালীকে ভাগিয়ে দিয়ে, আমি ধপ করে বিছানায় বসে পড়লাম , বাড়ি ফেরার আনন্দ একেবারেই চটকে গেল। বার বার, শালা বার একই চব্য। বাঁশ কেন বনে ,এসো আমার পিছনে। এই হতভাগার পূর্বাশাকে , সে হোক , হতেই পারে , কিন্তু তা বলে আমাকে বলা কেন বাপু ,!!!!!! এতোক্ষনে বোধহয় শিলাজিৎদার রুমে তাসের সান্ধ্য আড্ডা শুরু হয়ে গেছে কিন্তু আমার আর কিছু ভালো লাগছিলো না। ব্যাগ থেকে মাল বার করে জয়েন্ট বানাতে বসে গেলাম। বানিয়ে , স্পিকারে একটা গান লাগিয়ে , ছোট আলোটা জ্বেলে দিয়ে আমি মুখে আগুন দিলাম। মনের ক্ষার মিটিয়ে জয়েন্টে একটা মোক্ষম টান দিয়ে, দেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইলাম , আমার কলকাতার জীবন , বন্ধুরা , অরুন -পিয়া , শুটিংয়ের ছবি আর তিয়াশার ছবিগুলো দিয়ে আমি নিজের হাতে একটা ওয়াল হ্যাঙ্গিং বানিয়েছিলাম , আলো আঁধারি মাখা ঘরে ধোঁয়া গুলো পাক খাচ্ছিলো , আর তার মধ্যে দিয়ে আমি ওই ফোটোকোলাজের দিকে তাকিয়ে রইলাম। এই শীতকালটা এলেই আমার রক্তে যেন টান ধরে, অনেকদিনের পুরানো স্মৃতিগুলো পাক খেয়ে গলার কাছটায় জমে উঠলো , ইসসস যদি একবার টাইম ট্রাভেল করে ফিরে যেতে পারতাম সেই সব দিনে ,!!! আহঃ !!! চোখটা হাল্কা জ্বালা করে উঠলো
স্পিকারে গান সোনু নিগম বলছিলো
#2011
#St paul's cathedral mission college
#Kolkata
“এই গরু এইদিকে আয়”
আট জোড়া ছেলে মেয়ে একসাথে নাচ শুরু করলো।আমি তিয়াশাকে শক্ত করে ধরলাম , এবারের স্টেপ গুলো নিখুঁত ভাবে করছে হবে। তিয়াশা আমার কানে কানে বললো "আই লাভ ইউ".
(চলবে )
বি দ্র - এই অভাগার চাওয়ার কিছুই নেই , একটু শেয়ার হলে আর কিছুই নয় লেখার আত্মবিশ্বাসটা খানিকটা বাড়ে, তাই আজকেও সেই রেকর্ড বাজাচ্ছি ভালো লাগলো দোয়া করিয়া শেয়ার করিবেন।
১৩
সরস্বতী বয়েস হোস্টেল
২০১৩
বাবাকালীকে ভাগিয়ে দিয়ে, আমি ধপ করে বিছানায় বসে পড়লাম , বাড়ি ফেরার আনন্দ একেবারেই চটকে গেল। বার বার, শালা বার একই চব্য। বাঁশ কেন বনে ,এসো আমার পিছনে। এই হতভাগার পূর্বাশাকে , সে হোক , হতেই পারে , কিন্তু তা বলে আমাকে বলা কেন বাপু ,!!!!!! এতোক্ষনে বোধহয় শিলাজিৎদার রুমে তাসের সান্ধ্য আড্ডা শুরু হয়ে গেছে কিন্তু আমার আর কিছু ভালো লাগছিলো না। ব্যাগ থেকে মাল বার করে জয়েন্ট বানাতে বসে গেলাম। বানিয়ে , স্পিকারে একটা গান লাগিয়ে , ছোট আলোটা জ্বেলে দিয়ে আমি মুখে আগুন দিলাম। মনের ক্ষার মিটিয়ে জয়েন্টে একটা মোক্ষম টান দিয়ে, দেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইলাম , আমার কলকাতার জীবন , বন্ধুরা , অরুন -পিয়া , শুটিংয়ের ছবি আর তিয়াশার ছবিগুলো দিয়ে আমি নিজের হাতে একটা ওয়াল হ্যাঙ্গিং বানিয়েছিলাম , আলো আঁধারি মাখা ঘরে ধোঁয়া গুলো পাক খাচ্ছিলো , আর তার মধ্যে দিয়ে আমি ওই ফোটোকোলাজের দিকে তাকিয়ে রইলাম। এই শীতকালটা এলেই আমার রক্তে যেন টান ধরে, অনেকদিনের পুরানো স্মৃতিগুলো পাক খেয়ে গলার কাছটায় জমে উঠলো , ইসসস যদি একবার টাইম ট্রাভেল করে ফিরে যেতে পারতাম সেই সব দিনে ,!!! আহঃ !!! চোখটা হাল্কা জ্বালা করে উঠলো
স্পিকারে গান সোনু নিগম বলছিলো
"আভি মুঝমে কাহি বাকি
থোড়ি সি হায় জিন্দেগী"
থোড়ি সি হায় জিন্দেগী"
#2011
#St paul's cathedral mission college
#Kolkata
“এই গরু এইদিকে আয়”
আমি কিন্তু এগোলাম না, যে ভাবে মুখ নিচু করে দাঁড়িয়েছিলাম ঠিক সেই ভাবেই রইলাম,
তিয়াশা আবার বললো
"কিরে আয়" আমি এবারও কোনো কথা না বলে শুধু মাথা নেড়ে না
"কিরে আয়" আমি এবারও কোনো কথা না বলে শুধু মাথা নেড়ে না
বললাম, তিয়াশা এবার আমার দিকে এগিয়ে এলো, কাছে এসে হটাৎ করে মিষ্টি নরম গলায় জিজ্ঞাসা করলো
“কি হয়েছে??”
“কি হয়েছে??”
আমি এবার কোনো জবাব না দিয়ে ওর চোখের দিকে সোজাসুজি তাকালাম, কলেজের এই হলে আর বাকি যারা কাপল ডান্স এর রিহার্সাল
দিচ্ছিলো তারা যে যার নিজেদেরকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকলেও এই ঘটনাটা যে ওদের চোখ এড়াচ্ছিলো না সে বিষয়ে আমি ভালোই বুঝতে পারছিলাম। তিয়াশা ঠিক আমার মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো ওর মায়াবী গরম নিঃস্বাস গুলো যেন ঠিক সোজা আমার বুকে এসে আছড়ে পড়ছিলো আর কেন জানিনা সেই জন্যই হয়তো খুব আস্তে-আস্তে অদ্ভুত একটা জ্বালা আমাকে আঁকড়ে ধরছিলো
দিচ্ছিলো তারা যে যার নিজেদেরকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকলেও এই ঘটনাটা যে ওদের চোখ এড়াচ্ছিলো না সে বিষয়ে আমি ভালোই বুঝতে পারছিলাম। তিয়াশা ঠিক আমার মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো ওর মায়াবী গরম নিঃস্বাস গুলো যেন ঠিক সোজা আমার বুকে এসে আছড়ে পড়ছিলো আর কেন জানিনা সেই জন্যই হয়তো খুব আস্তে-আস্তে অদ্ভুত একটা জ্বালা আমাকে আঁকড়ে ধরছিলো
তিয়াশা হটাৎ আমার হাত দুটো ধরে খুব আলতো করে বললো"ওই গরু কি হলো? নাচবি না আমার সাথে? হুঁ”
আমি কোনো কথা না বলে এক হ্যাঁচকা টানে ওকে আমার আরো কাছে টেনে আনলাম,ও এবার খিলখিল করে হেসে উঠে বলল “আচ্ছা বুঝেছি বুঝেছি, আমি গরু বললাম বলে বাবুর রাগ হয়েছে বুঝি। ....... উমমম
আমি কোনো কথা না বলে এক হ্যাঁচকা টানে ওকে আমার আরো কাছে টেনে আনলাম,ও এবার খিলখিল করে হেসে উঠে বলল “আচ্ছা বুঝেছি বুঝেছি, আমি গরু বললাম বলে বাবুর রাগ হয়েছে বুঝি। ....... উমমম
টুক করে আমার ডান গালে একটা চুমু খেয়ে বললো
“solly,পাগলাটা আমার” বলে আমার গালে আর একটা চুমু খেলো
“রাগ মিটলো? এবার চলো সোনা রিহার্সাল দিতে হবে তো উমম”
বলে আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই আমার হাত ধরে হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে গেল হলের অন্য কোনায় যেদিকে অরুন আর পিয়া টিফিন খাচ্ছিলো , এতক্ষন আমাদের রিহার্সাল ব্রেক চলছিল,
আর বাকি ছয় জোড়া ছেলে মেয়ে যে যার নিজের মতো করে গল্প করছিলো, পিয়াকে রোজকার মতো অরুন খাইয়ে দিচ্ছিলো।
আমার সত্যি বলতে কি একটু লজ্জাই লাগছিলো, যদিও এই ঘরের সবাই প্রায় কাপল
“solly,পাগলাটা আমার” বলে আমার গালে আর একটা চুমু খেলো
“রাগ মিটলো? এবার চলো সোনা রিহার্সাল দিতে হবে তো উমম”
বলে আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই আমার হাত ধরে হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে গেল হলের অন্য কোনায় যেদিকে অরুন আর পিয়া টিফিন খাচ্ছিলো , এতক্ষন আমাদের রিহার্সাল ব্রেক চলছিল,
আর বাকি ছয় জোড়া ছেলে মেয়ে যে যার নিজের মতো করে গল্প করছিলো, পিয়াকে রোজকার মতো অরুন খাইয়ে দিচ্ছিলো।
আমার সত্যি বলতে কি একটু লজ্জাই লাগছিলো, যদিও এই ঘরের সবাই প্রায় কাপল
আর সবাই আমার এক রকম বন্ধুই , তাও লাগছিলো
আর আজব ব্যাপারটা হলো এই হটাৎ
করে উড়ে আসা লজ্জাটা আমার বেশ ভালো লাগছিলো। আমাদের আসতে দেখে
অরুন শুধু একবার আমার দিকে তাকিয়ে একবার মুচকি হাসলো তারপর কানে কানে পিয়াকে কিছু একটা বললো, তারপর দুজনেই আমাদের দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে ফেললো, আমিও হাসলাম। অরুন এবার উঠে দাঁড়িয়ে অন্যদের বললো
“ওকে এভরিওয়ান , ব্রেক খতম, চলো সবাই যে যার পজিশন নাও আমাদের হাতে কিন্তু
আর সময় বেশি নেই ,অনেকেরই স্টেপ ভুল হচ্ছে , আজকে আরো দুবার রিহার্সাল দিতে হবে গেট রেডিকুইক কুইক ”
আমি তিয়াশার হাত ধরে রিহার্সালের জন্য রেডি হলাম, সত্যিই সময় আর বেশি নেই পরশুই শো আর যেহেতু এটা আমাদের ফাইনাল ইয়ার তাই এটাই আমাদের কলেজ জীবনের শেষ শো, আমি চোখ বুঝে একটা জোরে শ্বাস নিয়ে তিয়াশার কানে কানে বললাম
“আমাকে কোনোদিনও ছেড়ে চলে যাবিনা তো?
এবার তিয়াশা কোনো কথা না বলে আমার হাতটা আরো শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো, আর ঠিক
আমি তিয়াশার হাত ধরে রিহার্সালের জন্য রেডি হলাম, সত্যিই সময় আর বেশি নেই পরশুই শো আর যেহেতু এটা আমাদের ফাইনাল ইয়ার তাই এটাই আমাদের কলেজ জীবনের শেষ শো, আমি চোখ বুঝে একটা জোরে শ্বাস নিয়ে তিয়াশার কানে কানে বললাম
“আমাকে কোনোদিনও ছেড়ে চলে যাবিনা তো?
এবার তিয়াশা কোনো কথা না বলে আমার হাতটা আরো শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো, আর ঠিক
তখনি মিউসিক সিস্টেমে জোরে জোরে বেজে উঠলো “আভি মুঝমে কাহি বাকি থোড়ি সি
হায় জিন্দেগী”আট জোড়া ছেলে মেয়ে একসাথে নাচ শুরু করলো।আমি তিয়াশাকে শক্ত করে ধরলাম , এবারের স্টেপ গুলো নিখুঁত ভাবে করছে হবে। তিয়াশা আমার কানে কানে বললো "আই লাভ ইউ".
(চলবে )
বি দ্র - এই অভাগার চাওয়ার কিছুই নেই , একটু শেয়ার হলে আর কিছুই নয় লেখার আত্মবিশ্বাসটা খানিকটা বাড়ে, তাই আজকেও সেই রেকর্ড বাজাচ্ছি ভালো লাগলো দোয়া করিয়া শেয়ার করিবেন।
Thursday, 14 December 2017
প্যারাডক্স
১২
বিশ্বনাথ মন্দিরের অজানা গলি
২০১৫
আমি একেবারে হুব্বা বনে গেলাম , কাকা বলে কি !!!! বেকার বোঝা বইছি , মেয়েটা আমার ভাগ্যে নেই !!!হ্যাঁ কথা গুলো মোটেই মিথ্যা নয় কিন্তু সেটা তো অন্য কারুর টের পাবার কথা নয়। আমার ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া মুখটা দেখেই বোধহয় ভদ্রলোক মুচকি হেঁসে আমার পাশটায় এসে বসলেন
"বাঙালী ???"
হিন্দির শুদ্ধ বাংলায় প্রশ্ন শুনে ,আমি আর নতুন করে অবাক হতে পারলাম না ,
"হ্যাঁ ,"
"তোমাকে দেখে খুব একটা সুস্থ বলে মনে হচ্ছে না "
"হ্যাঁ , শরীরটা আচমকাই খারাপ লাগতে শুরু করলো, মাথাটা কেমন যেন ঘুরে গেল তাই বসে পড়লাম ,একটু জল...... ...... "
আমার জীব শুকিয়ে গিয়েছিল , জড়িয়ে জড়িয়ে কোনোমতে কথাগুলো বললাম, ভদ্রলোক যেন ব্যাস্ত হয়ে উঠলেন ,
"হ্যাঁ হ্যাঁ তাই তো , দাঁড়াও বাবা আমি দেখছি "
বলে উনি ব্যাস্তভাবেই বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেলেন।
আমি দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বুঝলাম , কি আশ্চর্য ,আমি জানি আমি বেকার বেকার পূর্বাশার পিছনে পড়ে আছি
এই ইনভেসমেন্টের কোনো রিটার্ন হবার আশা নেই , তাও জিনিসটা দিন কে দিন কেমন যেন একটা অভ্যেসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে , লোকজন খিল্লি করছে ,খোরাক করছে , কখনও সামনে করছে আর পিছনে তো সবসময় করছে। কিন্তু তাও ছাড়তে পারছি কই, ক্রমেই যেন আরো গভীরে তলিয়ে যাচ্ছি। এখন কথাটা হচ্ছে এই ভদ্রলোক আমার মনের কথাটা টের পেলেন কি করে , থট রিডিং ? এঁনাকে দেখে তো সন্ন্যাসী বলেতো মনে হলো না , এই মহল্লার সঙ্গে মানানসই পোশাক-আশাক পরেছিলেন।তাহলে কি ইনি যোগী সাধক ? হতে পারে , আমি আমার ছোট্ট জীবনের অভিজ্ঞতায় একটা জিনিস দেখেছি , যাঁদের সত্যি সত্যি অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা আছে তাঁরা সবাই সাধক মানুষ , হয় তান্রিক নয় যোগী ,
হতেই পারে ইনি যোগী পুরুষ তাই আমার মনের কথা বুঝে গেলেন , কিন্তু সেটাই যদি হয় তাহলে তো মহা বিপদ , ইনি যদি প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে আমার মনের ভিতরে উঁকি মারতে শুরু করেন তখন তো কেলো হয়ে যাবে। পালিয়ে যাবো ? না সম্ভব নয় মাথাটা এখনো সত্যি সত্যি একটু ঘুরছে , আর আমি গলিটা কোথায় গিয়ে উঠছে সেটাও জানি না
উফফফ কি জ্বালা !!!!!কি যে করি এখন , ধুর ভাল্লাগে না
"এই নাও ", কথাটা শুনে চোখ মেলে চাইলাম ,দেখি আমার এই বসে বসে আলবাল ভাবনাচিন্তার সময়ই উনি কখন যেন এক লোটা জল আর একটা রেকাবিতে দুটো প্যাঁড়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। লোটা আর রেকাবিটা নামিয়ে দিয়ে বললেন
"এই নাও,এতো তেষ্টায় শুধু জল খেওনা "
আমি কথা না বাড়িয়ে লোটা তুলে চুমুক দিলাম , জলের স্বাদটা যেন একটু অন্যরকম লাগলো হালকা কর্পূরের গন্ধ পেলাম ,এক নিঃশ্বাসে হাফ লোটা জল শেষ করে থামলাম , আহঃ সত্যিই জল মানেই জীবন, জি -বাংলা নয়, প্যাঁড়া দুটো একসাথে মুখে পুরে দিলাম , আহা খাঁটি ক্ষীরের জিনিস মুখে দিতেই যেন গলে গেল, লোটার বাকি জলটা গলায় ঢেলে দিয়ে একটু খানি জল হাতে নিয়ে চোখে মুখে দিলাম ,আহঃ শান্তি।এতক্ষন ভদ্রলোক আমার কার্যকলাপ হাঁসি মুখে দেখছিলেন ,এবার বললেন
"আরেকটু জল খাবে ?"
আমি বললাম
"নাহ , ঠিক আছে , আপনাকে যে কি বলে ধন্য-............."
"কিছু বলারই দরকার নেই , তা তোমার শরীরটা ঠিক লাগছে এখন ?"
"হ্যাঁ এখন একটু ঠিক লাগছে "
"আচ্ছা এই জায়গাটা ঠিক কোথায় বলুন তো , আসলে আমি অন্নপূর্ণার প্রসাদ খেয়ে বেরিয়ে গলিটা গুলিয়ে ফেলেছি তারপর উল্টোপাল্টা ভাবে হাঁটতে হাঁটতে এখানে হাজির হয়েছি,এবার এই জায়গাটা আমার একদমই অচেনা তাই বুঝতে পারছিলাম না ফিরবো কি করে ,এমন সময় মাথাটা একটু ঘুরে গেল তাই এখানে বসে পড়লাম । " একটু মিথ্যাই বললাম , বেশি ভাং খেয়ে নেশা করেছি বলতে কেমন যেন একটা লাগছিলো ,ইনি যদি সত্যি সত্যি থট রিডার হন তাহলে এতো ক্ষনে নিশ্চই সব বুঝে গেছেন।
"তা বেশ করেছ , আর তুমি খুব বেশি দূরেও আসোনি , এই যে গলিটা দিয়ে তুমি এলে সেটায় আবার ফিরে গেলে দেখবে ডান দিকে একটা সবুজ বাড়ি আছে তার পাশেই একটা ছোট্ট সরু কানা গলি আছে , ওটায় ঢুকে সোজা হাঁটতে হাঁটতে গলিটা একজায়গায় প্রায় বুজে এসেছে একটা বাড়ির পাঁচিল অর্ধেকটা রাস্তা ঢাকা দিয়ে দিয়েছে ,একটু কষ্ট করে
ওই পাঁচিলের ফাঁক দিয়ে এগিয়ে গেলেই দেখতে পাবে একদম বিশ্বনাথ মন্দিরের কাছেই এসে পড়েছো , বুঝেছো "
আমি সুবোধ বালকের মতো মাথা নাড়লাম , দিব্যি জলের মতো সোজা রাস্তা , আমি রোয়াক ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে যেতেই বিপত্তিটা ঘটলো , মাথাটা একটু ঘুরে গেল যেন ,কোনোমতে দেওয়াল ধরে নিজেকে সামলালাম।
"তুমি এক কাজ করো বাবা , তুমি আমার সাথে ভিতরে এসো, একটু বিশ্রাম করো তারপর নাহয় যেয়ো "
"নানা আপানার আবার কোন
"আমি একাই থাকি , কাজেই কারোর কোনো সমস্যা হবেনা , তুমি এসো "
আমি আর কথা বাড়ালাম না , উনি দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে গেলেন , আমি চুপচাপ ওনাকে ফলো করলাম। বেশ পুরানো বাড়ি , একদম চৌকো ছাঁদের ঠিক কত তলা সেটা বুঝতে পারলাম না , মাঝখানে একফালি উঠোন সেখানে একটুখানি রোদ এসে পড়েছে , বেশির ভাগ ঘরই তালাবন্ধ , বারন্দায় ধুলো ময়লা , পুরানো জিনিস পত্র ডাঁই হয়ে পড়ে আছে , উঠোনে একটা খাটিয়া পাতা
"বসো ওখানে , আমি আসছি " বলে উনি লোটা আর রকাবিটা নিয়ে একটা ঘরে ঢুকে গেলেন , আমি খাটিয়ায় আধশোয়া হয়ে বাড়িটা দেখতে লাগলাম , কম করে চারতলা হবে , পুরানো জাফরী কাটা বারান্দা , ছাদটা জাল দিয়ে ঘেরা না হলে বান্দরের উপদ্রবে টেঁকা সম্ভব নয় , এই বাড়িটা দেখে দিব্বি বোঝা যাচ্ছে এখানে কেউ থাকেনা ,এতো বড় বাড়ি একেবারে খাঁ খাঁ করছে ,উনি থাকেন কি করে !!!! আমার হটাৎ খেয়াল হলো আরে ভদ্রলোকের নামটাই তো জানা হলো এহে এটা ঠিক হয়নি , ভদ্রলোকের নামটাও অব্দি জানিনা আর সোজা যার খাটিয়ায় এসে গড়াগড়ি দিচ্ছি
এটা মোটেই ভদ্রোচিত ব্যবহার নয় , ভাঙের নেশাটা আজকে বড্ডো অবাধ্যতা করছে। নিজেকে শাস্তি দিলাম নাহ দিন কতক আর মোটেই ভাং খাবো না সে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন।
খটাস খটাস শব্দ শুনে পিছনে ফিরে দেখি উনি আসছেন , আর এই নিস্তব্দ বাড়িতে ওনার পায়ের খড়ম থেকে খটাস খটাস আওয়াজটা আসছে, উনি এসে আমার সামনে বসলেন।
আমি এবার জিজ্ঞাসা করলাম
"আজ্ঞে আপনার নাম টা .........
"আমার নাম সানন্দগতি , আমি অবশ্য এখানে থাকিনা , মাঝে মাঝে মন কেমন করে তখন চলে আসি, এই বাড়িটাও ঠিক আমার নয় , আমার এক পুরানো বন্ধুর পৈত্রিক বাড়ি , সে অসুস্থ আর এখানে আসতে পারে না তাই আমাকে বাড়ির ভারটা দিয়েছে , আমি মাঝে মাঝে এলে থাকি "
"ওহ , আচ্ছা আচ্ছা , বুঝলাম আমার নাম......" আমার কথা শেষ হবার আগেই জবাব উড়ে এলো
"আমি জানি ", সানন্দর ঠোঁটের কোনে আবার মুচকি হাঁসি , আমি আর কৌতুহল সহ্য করতে পারলাম না
"আপনি কি মানুষের মনের কথা পড়তে পারেন "
"না , কয়েকজনের অনুভূতিগুলো বুঝতে পারি , এই যেমন তোমার মনে এখন কি চলছে সেটা দিব্যি বুঝতে পারছি ,
চিন্তা মিথ্যা হতেই পারে , অনুভূতিরা মিথ্যা হয়না, তাই মানুষের অনুভূতিগুলোকে বুঝে বুঝে মানুষটাকেই বুঝতে পারি , খুব একটা শক্ত জিনিস নয় চেষ্টা করলে তুমিও পারবে "
আমি কেমন যেন মোহগ্রস্থের মতন সানন্দর কথাগুলো শুনছিলাম , মনে পড়লো কোনো এক আজগুবি কল্পবিজ্ঞান সিনেমায় যেন এমন একটা কিছু দেখেছিলাম , Telipath নয় Impath . কিন্তু সেতো নেহাতই সিনেমা ছিলো , কে জানে বাপু হতেও পারে , ইনি আমার নাড়িনক্ষত্র দিব্যি টের পাচ্ছেন বিষয়টা নিঃসন্দেহে বিপদজনক , এই অবস্থায় ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক কিন্তু মানুষটা এতো সহজ সরল যে ওনাকে দেখে ভয় পাওয়াটাই অস্বাভাবিক।
"আচ্ছা আপনি থাকেন কোথায় "
"অনেক দূরে গো , আয়ামদ্বীপে মা কুয়াটার মন্দির আছে আমি সেখানের পুরোহিত "
" আয়াম দ্বীপ আবার কোথায় , গঙ্গাসাগরের আসে পাশে নাকি ?"
"হ্যাঁ বাবা ঠিক ধরেছো , গঙ্গাসাগরের ঠিক পাশে নয় তবে ওইদিকেই।
"বাপরে সেতো অনেক দূর , আপনি ওতো দূর থেকে এখানে এসেছেন!!!!! "
"হ্যাঁ বাবা , বললাম না মন কেমন করলে মাঝে মাঝে আসি আর তা ছাড়া এখানে আমাদের একটা ..........."
উনি কথা শেষ না করেই আচমকা উঠে দাঁড়ালেন ,যেন হটাৎ করে কিছু মনে পদে গেছে
"বাবা আমাকে একটু বেরোতে হবে, একটা কাজ ছিল একদমই ভুলে গেছিলাম , ওকি তোমাকে উঠতে হবে না তুমি বিশ্রাম করো আমি এখুনি আসছি ,"
বলে আমাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই উনি উঠে বেরিয়ে গেলেন , দরজাটাও বন্ধ করলেন না , আমার অনেকক্ষন ধরেই চোখ জুড়ে আসছিলো , এবার আমি একটু গা এলিয়ে দিলাম , সানন্দগতি, নামটা বেশ অদ্ভুত , আচ্ছা আমি ঠিক শুনলাম তো ,ওনার নাম আনন্দগতি নয় তো !!!!
শুয়ে শুয়ে যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নিজেও বুঝতে পারিনি , মোবাইলের রিঙে ঘুমটা ভাঙলো , চোখ খুলে প্রথমে বুঝতে পারলাম না কোথায় আছি , তারপরই সব মনে পড়ে গেল , নম্বরটা জয়িতার ,আমি ফোনটা তুললাম
"হ্যালো "
"কিরে কোথায় আছিস ?"
"এই একটু ঘুমাচ্ছিলাম রে (হাই )"
"আচ্ছা শোন আজকে ননীর ট্রিট মনে আছে তো ?"
"হ্যাঁ রে মনে আছে , আমি বেরোবো এবার "
"ঠিক আছে চলে আয় , দেরি করিসনা কেমন "
"হুমম , যাচ্ছি (হাই )"
ফোনটা রেখে উঠে বসলাম , কতক্ষন ঘুমালাম কে জানে , উঠোন থেকে রোদ সরে গেছে , বাড়িটা আবঝা অন্ধকার , আমি সানন্দকে খুঁজতে গিয়ে দেখি দরজা তখন হাট করে খোলা , আশ্চর্য উনি কি এখনো ফেরেননি নাকি ?
বাড়িটার ভেতর থেকে একটা তক্ষক যেন ডেকে উঠলো , আমি খাটিয়া ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম , নেশা কেটে গেছে ,
আর এই পড়ন্ত বিকালে এই পুরানো বাড়িটায় আমি একদম একলা এইটা মনে পড়তেই কেমন যেন একটা অস্বস্তি হতে লাগলো , এই বাড়িটা এই গলিটা যেন বাইরের পৃথিবীর থেকে একদমই আলাদা যেন বাইরের কোনো শব্দ গন্ধ কিছুই এখানে টের পাওয়া যাচ্ছেনা , আমার আর ভালো লাগলো না আমি খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সানন্দর ডাইরেকশন মনে ছিল , সেই মতো কানা গলিতে ঢুকে কোনোমতে পাঁচিলের ফাক দিয়ে গলে বিশ্বনাথ মন্দিরের গলিতে উঠলাম , লোকজন ,হৈচৈ, চিৎকারে মনে হলো যেন চেনা দেশে ফিরে এলাম , গোধুলিয়া মোড়ের দিকে হাঁটা শুরু করলাম , দেরি হয়ে গেছে আজকে যে ননীর ট্রিট দেবার কথা সেটা একেবারেই ভুলেই গেছিলাম , হুঁ হুঁ জাতা ট্রিট নয় একেবারে খোদ বিয়ের থুড়ি নতুন সংসারের ট্রিট একি ছাড়া যায়, ননী আমাদের মধ্যে প্রথম যে পালিয়ে বিয়ে করে বৌকে নিয়ে সোজা এখানে হাজির হয়েছে , সে এক অন্য গল্প , রীতিমতো যাকে বলে থ্রিলার।
(চলবে )
বি দ্র - ভালো লাগলে ,Please share
আগের পর্বের লিঙ্ক -
১২
বিশ্বনাথ মন্দিরের অজানা গলি
২০১৫
আমি একেবারে হুব্বা বনে গেলাম , কাকা বলে কি !!!! বেকার বোঝা বইছি , মেয়েটা আমার ভাগ্যে নেই !!!হ্যাঁ কথা গুলো মোটেই মিথ্যা নয় কিন্তু সেটা তো অন্য কারুর টের পাবার কথা নয়। আমার ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া মুখটা দেখেই বোধহয় ভদ্রলোক মুচকি হেঁসে আমার পাশটায় এসে বসলেন
"বাঙালী ???"
হিন্দির শুদ্ধ বাংলায় প্রশ্ন শুনে ,আমি আর নতুন করে অবাক হতে পারলাম না ,
"হ্যাঁ ,"
"তোমাকে দেখে খুব একটা সুস্থ বলে মনে হচ্ছে না "
"হ্যাঁ , শরীরটা আচমকাই খারাপ লাগতে শুরু করলো, মাথাটা কেমন যেন ঘুরে গেল তাই বসে পড়লাম ,একটু জল...... ...... "
আমার জীব শুকিয়ে গিয়েছিল , জড়িয়ে জড়িয়ে কোনোমতে কথাগুলো বললাম, ভদ্রলোক যেন ব্যাস্ত হয়ে উঠলেন ,
"হ্যাঁ হ্যাঁ তাই তো , দাঁড়াও বাবা আমি দেখছি "
বলে উনি ব্যাস্তভাবেই বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেলেন।
আমি দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বুঝলাম , কি আশ্চর্য ,আমি জানি আমি বেকার বেকার পূর্বাশার পিছনে পড়ে আছি
এই ইনভেসমেন্টের কোনো রিটার্ন হবার আশা নেই , তাও জিনিসটা দিন কে দিন কেমন যেন একটা অভ্যেসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে , লোকজন খিল্লি করছে ,খোরাক করছে , কখনও সামনে করছে আর পিছনে তো সবসময় করছে। কিন্তু তাও ছাড়তে পারছি কই, ক্রমেই যেন আরো গভীরে তলিয়ে যাচ্ছি। এখন কথাটা হচ্ছে এই ভদ্রলোক আমার মনের কথাটা টের পেলেন কি করে , থট রিডিং ? এঁনাকে দেখে তো সন্ন্যাসী বলেতো মনে হলো না , এই মহল্লার সঙ্গে মানানসই পোশাক-আশাক পরেছিলেন।তাহলে কি ইনি যোগী সাধক ? হতে পারে , আমি আমার ছোট্ট জীবনের অভিজ্ঞতায় একটা জিনিস দেখেছি , যাঁদের সত্যি সত্যি অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা আছে তাঁরা সবাই সাধক মানুষ , হয় তান্রিক নয় যোগী ,
হতেই পারে ইনি যোগী পুরুষ তাই আমার মনের কথা বুঝে গেলেন , কিন্তু সেটাই যদি হয় তাহলে তো মহা বিপদ , ইনি যদি প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে আমার মনের ভিতরে উঁকি মারতে শুরু করেন তখন তো কেলো হয়ে যাবে। পালিয়ে যাবো ? না সম্ভব নয় মাথাটা এখনো সত্যি সত্যি একটু ঘুরছে , আর আমি গলিটা কোথায় গিয়ে উঠছে সেটাও জানি না
উফফফ কি জ্বালা !!!!!কি যে করি এখন , ধুর ভাল্লাগে না
"এই নাও ", কথাটা শুনে চোখ মেলে চাইলাম ,দেখি আমার এই বসে বসে আলবাল ভাবনাচিন্তার সময়ই উনি কখন যেন এক লোটা জল আর একটা রেকাবিতে দুটো প্যাঁড়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। লোটা আর রেকাবিটা নামিয়ে দিয়ে বললেন
"এই নাও,এতো তেষ্টায় শুধু জল খেওনা "
আমি কথা না বাড়িয়ে লোটা তুলে চুমুক দিলাম , জলের স্বাদটা যেন একটু অন্যরকম লাগলো হালকা কর্পূরের গন্ধ পেলাম ,এক নিঃশ্বাসে হাফ লোটা জল শেষ করে থামলাম , আহঃ সত্যিই জল মানেই জীবন, জি -বাংলা নয়, প্যাঁড়া দুটো একসাথে মুখে পুরে দিলাম , আহা খাঁটি ক্ষীরের জিনিস মুখে দিতেই যেন গলে গেল, লোটার বাকি জলটা গলায় ঢেলে দিয়ে একটু খানি জল হাতে নিয়ে চোখে মুখে দিলাম ,আহঃ শান্তি।এতক্ষন ভদ্রলোক আমার কার্যকলাপ হাঁসি মুখে দেখছিলেন ,এবার বললেন
"আরেকটু জল খাবে ?"
আমি বললাম
"নাহ , ঠিক আছে , আপনাকে যে কি বলে ধন্য-............."
"কিছু বলারই দরকার নেই , তা তোমার শরীরটা ঠিক লাগছে এখন ?"
"হ্যাঁ এখন একটু ঠিক লাগছে "
"আচ্ছা এই জায়গাটা ঠিক কোথায় বলুন তো , আসলে আমি অন্নপূর্ণার প্রসাদ খেয়ে বেরিয়ে গলিটা গুলিয়ে ফেলেছি তারপর উল্টোপাল্টা ভাবে হাঁটতে হাঁটতে এখানে হাজির হয়েছি,এবার এই জায়গাটা আমার একদমই অচেনা তাই বুঝতে পারছিলাম না ফিরবো কি করে ,এমন সময় মাথাটা একটু ঘুরে গেল তাই এখানে বসে পড়লাম । " একটু মিথ্যাই বললাম , বেশি ভাং খেয়ে নেশা করেছি বলতে কেমন যেন একটা লাগছিলো ,ইনি যদি সত্যি সত্যি থট রিডার হন তাহলে এতো ক্ষনে নিশ্চই সব বুঝে গেছেন।
"তা বেশ করেছ , আর তুমি খুব বেশি দূরেও আসোনি , এই যে গলিটা দিয়ে তুমি এলে সেটায় আবার ফিরে গেলে দেখবে ডান দিকে একটা সবুজ বাড়ি আছে তার পাশেই একটা ছোট্ট সরু কানা গলি আছে , ওটায় ঢুকে সোজা হাঁটতে হাঁটতে গলিটা একজায়গায় প্রায় বুজে এসেছে একটা বাড়ির পাঁচিল অর্ধেকটা রাস্তা ঢাকা দিয়ে দিয়েছে ,একটু কষ্ট করে
ওই পাঁচিলের ফাঁক দিয়ে এগিয়ে গেলেই দেখতে পাবে একদম বিশ্বনাথ মন্দিরের কাছেই এসে পড়েছো , বুঝেছো "
আমি সুবোধ বালকের মতো মাথা নাড়লাম , দিব্যি জলের মতো সোজা রাস্তা , আমি রোয়াক ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে যেতেই বিপত্তিটা ঘটলো , মাথাটা একটু ঘুরে গেল যেন ,কোনোমতে দেওয়াল ধরে নিজেকে সামলালাম।
"তুমি এক কাজ করো বাবা , তুমি আমার সাথে ভিতরে এসো, একটু বিশ্রাম করো তারপর নাহয় যেয়ো "
"নানা আপানার আবার কোন
"আমি একাই থাকি , কাজেই কারোর কোনো সমস্যা হবেনা , তুমি এসো "
আমি আর কথা বাড়ালাম না , উনি দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে গেলেন , আমি চুপচাপ ওনাকে ফলো করলাম। বেশ পুরানো বাড়ি , একদম চৌকো ছাঁদের ঠিক কত তলা সেটা বুঝতে পারলাম না , মাঝখানে একফালি উঠোন সেখানে একটুখানি রোদ এসে পড়েছে , বেশির ভাগ ঘরই তালাবন্ধ , বারন্দায় ধুলো ময়লা , পুরানো জিনিস পত্র ডাঁই হয়ে পড়ে আছে , উঠোনে একটা খাটিয়া পাতা
"বসো ওখানে , আমি আসছি " বলে উনি লোটা আর রকাবিটা নিয়ে একটা ঘরে ঢুকে গেলেন , আমি খাটিয়ায় আধশোয়া হয়ে বাড়িটা দেখতে লাগলাম , কম করে চারতলা হবে , পুরানো জাফরী কাটা বারান্দা , ছাদটা জাল দিয়ে ঘেরা না হলে বান্দরের উপদ্রবে টেঁকা সম্ভব নয় , এই বাড়িটা দেখে দিব্বি বোঝা যাচ্ছে এখানে কেউ থাকেনা ,এতো বড় বাড়ি একেবারে খাঁ খাঁ করছে ,উনি থাকেন কি করে !!!! আমার হটাৎ খেয়াল হলো আরে ভদ্রলোকের নামটাই তো জানা হলো এহে এটা ঠিক হয়নি , ভদ্রলোকের নামটাও অব্দি জানিনা আর সোজা যার খাটিয়ায় এসে গড়াগড়ি দিচ্ছি
এটা মোটেই ভদ্রোচিত ব্যবহার নয় , ভাঙের নেশাটা আজকে বড্ডো অবাধ্যতা করছে। নিজেকে শাস্তি দিলাম নাহ দিন কতক আর মোটেই ভাং খাবো না সে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন।
খটাস খটাস শব্দ শুনে পিছনে ফিরে দেখি উনি আসছেন , আর এই নিস্তব্দ বাড়িতে ওনার পায়ের খড়ম থেকে খটাস খটাস আওয়াজটা আসছে, উনি এসে আমার সামনে বসলেন।
আমি এবার জিজ্ঞাসা করলাম
"আজ্ঞে আপনার নাম টা .........
"আমার নাম সানন্দগতি , আমি অবশ্য এখানে থাকিনা , মাঝে মাঝে মন কেমন করে তখন চলে আসি, এই বাড়িটাও ঠিক আমার নয় , আমার এক পুরানো বন্ধুর পৈত্রিক বাড়ি , সে অসুস্থ আর এখানে আসতে পারে না তাই আমাকে বাড়ির ভারটা দিয়েছে , আমি মাঝে মাঝে এলে থাকি "
"ওহ , আচ্ছা আচ্ছা , বুঝলাম আমার নাম......" আমার কথা শেষ হবার আগেই জবাব উড়ে এলো
"আমি জানি ", সানন্দর ঠোঁটের কোনে আবার মুচকি হাঁসি , আমি আর কৌতুহল সহ্য করতে পারলাম না
"আপনি কি মানুষের মনের কথা পড়তে পারেন "
"না , কয়েকজনের অনুভূতিগুলো বুঝতে পারি , এই যেমন তোমার মনে এখন কি চলছে সেটা দিব্যি বুঝতে পারছি ,
চিন্তা মিথ্যা হতেই পারে , অনুভূতিরা মিথ্যা হয়না, তাই মানুষের অনুভূতিগুলোকে বুঝে বুঝে মানুষটাকেই বুঝতে পারি , খুব একটা শক্ত জিনিস নয় চেষ্টা করলে তুমিও পারবে "
আমি কেমন যেন মোহগ্রস্থের মতন সানন্দর কথাগুলো শুনছিলাম , মনে পড়লো কোনো এক আজগুবি কল্পবিজ্ঞান সিনেমায় যেন এমন একটা কিছু দেখেছিলাম , Telipath নয় Impath . কিন্তু সেতো নেহাতই সিনেমা ছিলো , কে জানে বাপু হতেও পারে , ইনি আমার নাড়িনক্ষত্র দিব্যি টের পাচ্ছেন বিষয়টা নিঃসন্দেহে বিপদজনক , এই অবস্থায় ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক কিন্তু মানুষটা এতো সহজ সরল যে ওনাকে দেখে ভয় পাওয়াটাই অস্বাভাবিক।
"আচ্ছা আপনি থাকেন কোথায় "
"অনেক দূরে গো , আয়ামদ্বীপে মা কুয়াটার মন্দির আছে আমি সেখানের পুরোহিত "
" আয়াম দ্বীপ আবার কোথায় , গঙ্গাসাগরের আসে পাশে নাকি ?"
"হ্যাঁ বাবা ঠিক ধরেছো , গঙ্গাসাগরের ঠিক পাশে নয় তবে ওইদিকেই।
"বাপরে সেতো অনেক দূর , আপনি ওতো দূর থেকে এখানে এসেছেন!!!!! "
"হ্যাঁ বাবা , বললাম না মন কেমন করলে মাঝে মাঝে আসি আর তা ছাড়া এখানে আমাদের একটা ..........."
উনি কথা শেষ না করেই আচমকা উঠে দাঁড়ালেন ,যেন হটাৎ করে কিছু মনে পদে গেছে
"বাবা আমাকে একটু বেরোতে হবে, একটা কাজ ছিল একদমই ভুলে গেছিলাম , ওকি তোমাকে উঠতে হবে না তুমি বিশ্রাম করো আমি এখুনি আসছি ,"
বলে আমাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই উনি উঠে বেরিয়ে গেলেন , দরজাটাও বন্ধ করলেন না , আমার অনেকক্ষন ধরেই চোখ জুড়ে আসছিলো , এবার আমি একটু গা এলিয়ে দিলাম , সানন্দগতি, নামটা বেশ অদ্ভুত , আচ্ছা আমি ঠিক শুনলাম তো ,ওনার নাম আনন্দগতি নয় তো !!!!
শুয়ে শুয়ে যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নিজেও বুঝতে পারিনি , মোবাইলের রিঙে ঘুমটা ভাঙলো , চোখ খুলে প্রথমে বুঝতে পারলাম না কোথায় আছি , তারপরই সব মনে পড়ে গেল , নম্বরটা জয়িতার ,আমি ফোনটা তুললাম
"হ্যালো "
"কিরে কোথায় আছিস ?"
"এই একটু ঘুমাচ্ছিলাম রে (হাই )"
"আচ্ছা শোন আজকে ননীর ট্রিট মনে আছে তো ?"
"হ্যাঁ রে মনে আছে , আমি বেরোবো এবার "
"ঠিক আছে চলে আয় , দেরি করিসনা কেমন "
"হুমম , যাচ্ছি (হাই )"
ফোনটা রেখে উঠে বসলাম , কতক্ষন ঘুমালাম কে জানে , উঠোন থেকে রোদ সরে গেছে , বাড়িটা আবঝা অন্ধকার , আমি সানন্দকে খুঁজতে গিয়ে দেখি দরজা তখন হাট করে খোলা , আশ্চর্য উনি কি এখনো ফেরেননি নাকি ?
বাড়িটার ভেতর থেকে একটা তক্ষক যেন ডেকে উঠলো , আমি খাটিয়া ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম , নেশা কেটে গেছে ,
আর এই পড়ন্ত বিকালে এই পুরানো বাড়িটায় আমি একদম একলা এইটা মনে পড়তেই কেমন যেন একটা অস্বস্তি হতে লাগলো , এই বাড়িটা এই গলিটা যেন বাইরের পৃথিবীর থেকে একদমই আলাদা যেন বাইরের কোনো শব্দ গন্ধ কিছুই এখানে টের পাওয়া যাচ্ছেনা , আমার আর ভালো লাগলো না আমি খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সানন্দর ডাইরেকশন মনে ছিল , সেই মতো কানা গলিতে ঢুকে কোনোমতে পাঁচিলের ফাক দিয়ে গলে বিশ্বনাথ মন্দিরের গলিতে উঠলাম , লোকজন ,হৈচৈ, চিৎকারে মনে হলো যেন চেনা দেশে ফিরে এলাম , গোধুলিয়া মোড়ের দিকে হাঁটা শুরু করলাম , দেরি হয়ে গেছে আজকে যে ননীর ট্রিট দেবার কথা সেটা একেবারেই ভুলেই গেছিলাম , হুঁ হুঁ জাতা ট্রিট নয় একেবারে খোদ বিয়ের থুড়ি নতুন সংসারের ট্রিট একি ছাড়া যায়, ননী আমাদের মধ্যে প্রথম যে পালিয়ে বিয়ে করে বৌকে নিয়ে সোজা এখানে হাজির হয়েছে , সে এক অন্য গল্প , রীতিমতো যাকে বলে থ্রিলার।
(চলবে )
বি দ্র - ভালো লাগলে ,Please share
আগের পর্বের লিঙ্ক -
Tuesday, 12 December 2017
প্যারাডক্স
১১
বেনারস,২০১৫
গরীবের নিকোলাস স্পার্কস চেতন ভগতের লেখার আমি খুব একটা ভক্ত নই , কিন্তু ভদ্রলোকের প্রায় সব কটা উপন্যাসই একবার করে পড়েছি , "রেভলুশান ২০-২০" টা তারওপর আবার বেনারসে বসেই পড়া কাজেই একটা বেশ অন্যরকম ফিল অনুভব করেছিলাম , হ্যাঁ তবে এতটা বাড়াবাড়ি রকমের অতি নাটকীয়তা কারুর জীবনে হওয়া সম্ভব নয় সেটা বেশ বুঝেছিলাম, তাই উপন্যাসের হেরো -হিরোর জায়গায় নিজেকে বসানোর কোনো রকম চেষ্টাও করিনি।
কিন্তু আজকে রিকশাটা যখন রবিদাস পার্কে এসে থামলো এক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো , জীবনটা উপন্যাসের মতো হলে বোধহয় মন্দ হতো না। রিকশা থেকে পূর্বাশাকে কাঁচের বাসনের মতো সাবধানে নামালাম।রিকশাকাকা বললো
বিল হয়েছে পঁচাশি টাকা , আমি একটা একশোর নোট বাড়িয়ে দিলাম , কাকা মাথা নেড়ে বললো খুচরো নেই ,আমিও কাঁধ নাচিয়ে বললাম আমার কাছেও নেই , কাকা এবার একগাল হেসে বললো ,আরে তোমরা তো পার্কে যাবে টিকিট কাটার সময় খুচরো তো ওখানেই করে দেবে। আমি জগৎ সংসারের ওপর থেকে হাল ছেড়ে দিলাম, হায় রে শেষ পর্যন্ত রিকশাকাকা অব্দিও আমার অদেখলাপনা নিয়ে খিল্লি করে দিলো, আমি আর কি বলবো !!!! আমাকে অবশ্য মুখ খুলতে হলো না
পূর্বাশাই গম্ভীর ভাবে জানালো , আমরা পার্কে যাবো না আমাদের বাড়িটাই এখানে। রিকশাকাকা পূর্বাশার উৎকট গম্ভীর মুখটা দেখে আর বিশেষ কথা বাড়ালো না ,শুধু আমার কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে সামনের দেশিয়ালি ভাইয়ের কাছে কুল্লার (খুচরো ) করাতে চলে গেল., পূর্বাশা চুপ করে রইলো , টাকা ফেরত নিয়ে , আমরা হাঁটা শুরু করলাম।
শহরের সমস্ত নোংরা জল একটা খাল দিয়ে বয়ে এসে গঙ্গায় পড়েছে, পূর্বাশার আস্তানা সেই খালের ধারের একটা সাততলা বাড়িতে , পার্কের সামনের রাস্তাটা থেকে একটু এগিয়ে একটা সাঁকো পেরিয়ে নিচে নেমে গেছে সেই উৎরাই আর খালপাড় ধরে হাঁটলে মিনিট পাঁচেক। আমরা চুপচাপ সেই উৎরাই দিয়ে নেমে মেসের সামনের গলির মুখটা অব্দি এসেছিলাম এখন সময় পূর্বাশা হটাৎ করে আমার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললো
"তোকে আর আসতে হবে না , তুই অনেক করেছিস আমার জন্য, আর অনেক বেলা হয়ে গেছে তোর স্নান খাওয়া হয়নি ,তুই রুমে ফিরে যা , শর্মিলা ফিরে অনেক কিছু বানিয়ে বলবে হয়তো বলেও দিয়েছে এতক্ষনে বাকিরা হয়তো ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েও আছে তোকে আমার সাথে দেখবে বলে , তুই বুঝবি না আমাকে কত কিছু সহ্য করে চলতে হয় ................. "
আমি আর অবাক হলাম না , কথাও বাড়ালাম না , কারণ ওর এই কথাগুলোর জবাব দেওয়া আর অরবিন্দ কেজরীবালের মোদির বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ানো দুটোই সমান অর্থহীন, তাই আমি আর কথা না বাড়িয়ে জ্যাকেটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা চকোলেট বার করে পূর্বাশার হাতে ধরিয়ে দিলাম , পূর্বাশা এবার একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ,ও বুঝেই উঠতে পারলো না চকোলেটটা আমি কখন কিনলাম, আমতা আমতা করে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো
আমি শুনলাম না , মাল চালান দিয়ে সোজা এবাউট টার্ন নিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম , পিছন থেকে যেন আবঝা শুনতে পেলাম "ওই শোন্ "আমি ইচ্ছা করেই শুনলাম না , জোরে জোরে পা চালালাম।রাস্তায় উঠে এসে খেয়াল হলো জব্বর খিদে পেয়েছে সকালে সেই হাতি দেখাবার সময় কফি আর দুপিস পাউরুটি খেয়েছি সেসব কখন পাকস্থলী থেকে লোপাট হয়ে গেছে। কিছু ভালো লাগছিলো না মেজাজ একেবারে বেগুনপোড়া হয়ে গিয়েছিলো , রুমে ফিরতে আর ইচ্ছা হলো না আমি রাস্তার উল্টোদিকে হাঁটা লাগলাম। বড়রাস্তায় গিয়ে অটো ধরে সোজা গোধুলিয়া মোড়ে চলে গেলাম , চেনা সরবতের দোকানে গিয়ে সরবতের অর্ডার দিয়ে ভিতরে গিয়ে বসলাম , দোকানি আমাকে ইশারায় জিজ্ঞাসা করলো কয় চামচ ভাং দেবে
আমিও দুটো আঙ্গুল দেখিয়ে দিলাম।
এক চুমুকে সরবতের গ্লাসটা খালি করে মনটা একটু ঠান্ডা হলো ,এই দোকান টা আমার বড়ো প্রিয় , লোকে মন খারাপ হলে বা উইকেন্ডে বারে বা পাবে যায় আর আমি আসি এখানে। টাকা মিটিয়ে বাইরে এসে দাঁড়ালাম , ভাঙের অ্যাকশন শুরু হতে এখনও কিছুক্ষন বাকি আছে। আমি গোধুলিয়া মোড় থেকে বিশ্বনাথ মন্দিরের দিকে হাঁটা লাগলাম।
অনেককাল ছোটবেলায় একবার বাবা মার সাথে বৃন্দাবন গিয়েছিলাম ,টানা আট -দশ দিন ছিলাম সেখানে , কিন্তু তিন চার দিনের মাথায় বিরক্তি ধরে গিয়েছিলো , সরু সরু রাস্তা ,রাস্তার ওপরে ল্যাম্পপোস্টে ছিনতাইবাজ বাঁদর ,খোলা নর্দমা তাতে ঘোৎঘোৎ করছে শুয়োর , কাদা ,নোংরা ভিড় দেখে দেখে একেবারে ঝাঁট জ্বলে গিয়েছিলো ,তা একদিন বাবার সাথে বেরিয়ে পড়ে আর ধৈর্য রাখতে পারলাম না , জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম
"আচ্ছা বাবা , এই জায়গাটা যদি কৃষ্ণের লীলাভূমিই হয় তাহলে জায়গাটা এত্তো নোংরা কেন ?"
বাবা হো হো করে হেসে ফেলেছিলো , তারপর বলেছিলো
"তুই এই জায়গাটাকে নোংরা বলছিস , বেনারস গেলে দেখবি সেই জায়গাটা আরো বেশি নোংরা " স্কুলে পড়তাম , তাই তখন আমার কাছে বৃন্দাবন আর বেনারসে দুটোতে খুব বেশি তফাৎ ছিল না। পরে এই ধেড়ে বয়সে কাশীবাসী হয়ে বুঝেছি বাবার কথাটা একই সাথে সত্যি এবং একই সাথে মিথ্যে , A compelte paradox, কারণ সব ময়লা তো আর রাস্তায় গোবরের মতো পড়ে থাকেনা কিছু ময়লা মানুষের ভেতরেও থাকে। প্রথমবার গোধুলিয়া মোড় দেখিয়ে বাবা বলেছিলো "এই জায়গাটা এতো বিখ্যাত কেন জানিস "
"নাহঃ , কোনো আইডিয়া নেই "
"বেনারসের যত বিখ্যাত বাঈজী সব এখানে থাকতো ", বাবার কথা শুনে আমি হাঁ হয়ে গেছিলাম
"আচ্ছা বাবা এখন আর থাকে না ?" বাবা আমার কথার জবাবে শুধু বলেছিলো
"সামনে এগো , রাস্তায় কাদা আছে দেখে হাঁট "
কথাটা মনে পড়তেই হাসি পেয়ে গেল , যতবারই গোধুলিয়া মোড়ে এসেছি এই স্মৃতিটা ঠিক মাথাচাড়া দিয়েছে। আমি বিশ্বনাথ মন্দিরের গলিতে ঢুকে পড়লাম , ক্ষিদেটা আস্তে আস্তে বেড়েই চলেছিল , আমি ভারতবর্ষের নানাজাতের লোকজন, ষাঁড় ইত্যাদি কাটিয়ে গলির তস্য গলিতে ঢুকে গেলাম, আমার মতলব সোজা ছিল অন্নপূর্ণার প্রসাদ খাবো
কেননা Its open to all .
প্রচন্ড টক দক্ষিণ ভারতীয় কায়দায় রান্না করা ভোগ খেয়ে যখন বাইরের গলিতে এলাম ততখনে আমার নেশা বেশ চড়ে গেছে , সাধারণত জানতাম ভাং খেয়ে মিষ্টি খেলে চড়ে যায় কিন্তু টক খেলে যে দ্বিগুন চড়ে সেটা যা ছিল না।
বিশ্বনাথ মন্দিরের গলির মধ্যে একটা বৈশিষ্ট আছে , গলির মুখ থেকে শুরু করে শেষ অব্দি প্রচুর দোকান আর সব কটাই প্রায় এক রকম দেখতে , হাত চারেক চওড়া গলি তাতে সব সময় জাতের মানুষ, ষাঁড় যাতায়াত করছে, আর এই শহরটা যে তাদের বাপের সম্পত্তি তা তাদের আচার আচরণেই দিব্বি বোঝা যায়। এবার এই মেইন গলির সাথে আরো অসংখ্য সাব গলি মিনি গলি যোগ হয়েছে আর সব মাইল মিশে একটা জালের মতো বিছিয়ে আছে , দোকানগুলো থেকে দোকানদাররা ডাকাডাকি করছে , সূর্যের আলো বেশিরভাগ জায়গায় ঢোকেনা বললেই চলে , চিৎকার আলো আঁধারি ,পরিবেশ একই রকম দেখতে মোড় এই সব মিলিয়ে এই জায়গা এক জটিল গোলকধাঁধা।
এই প্রথম টের পেলাম আমি হাঁটতে পারছিনা চোখ জ্বালা জ্বালা করছে , কায়দা করে মেইন গলি থেকে শর্টকাট করে
একটা দুহাত চওড়া মিনি গলিতে ঢুকেছিলাম , নেশার ঘোরে রাস্তাটি কখন গুলিয়ে ফেলেছি নিজেও বুঝতে পারিনি
ফলে ১০ মিনিট হেঁটেও যখন মেইন গলিতে ফিরতে পারলাম না তখন আর রিস্ক নিলাম না , কোন চুলোয় এসেছি জানিনা কিন্তু নেশাটা একটু কাটিয়ে নিজেকেই পথ খুঁজে নিয়ে বেরোতে হবে ,কিন্তু মাথা টলছিলো , ধপ করে একটা বাড়ির রোযাকে বসে পড়লাম আর পারছিনা , দুহাত চওড়া গলি উঁচু বাড়ি গুলোর ছাত একটার সাথে অন্যটা প্রায় জুড়ে আছে কাজেই গলিতে সূর্যের আলো বিশেষ আসছে না বললেই চলে , আচ্ছা এরকম কোনো বাড়িতেই কি মোগনলাল মেঘরাজ থাকতো ???আলো আঁধারি মাখা একটা মিষ্টি গোলকধাঁধায় যে আমি ফেঁসে গেছি সেটা বেশ বুঝতে পারলাম । খুব জল তেষ্টা পাচ্ছিলো , জীব শুকিয়ে যাচ্ছিলো , ভাবছিলাম কোনো বাড়ির দরজায় ঠকঠক করবো কিনা এমন সময় আমার পাশের দরজাটি খুলে , একজন ভদ্রলোক বাইরে এলেন , ধুতি পরা গায়ে চাদর , পায়ে খড়ম
বোধহয় পন্ডিত বা পুরোহিত জাতীয় কিছু একটা হবেন। ভদ্রলোক বেরিয়ে এসে আমাকে একবার দেখলেন তারপর সামনে আমাকে এবার ভালো করে দেখে নিয়ে বললেন
"বহুত ফালতু বোঝ বহেরাহে হো বেটা , উসে উতার দো ওহ লাড়কী তুমহারি কিসমত মে নাহী হায় "
আমি একেবারে বুরবক বনে গেলাম , আজ এসব হচ্ছেটা কি !!!!!!!
(চলবে )
বি দ্র - please share ,
আগের পর্বের লিংক -
১১
বেনারস,২০১৫
গরীবের নিকোলাস স্পার্কস চেতন ভগতের লেখার আমি খুব একটা ভক্ত নই , কিন্তু ভদ্রলোকের প্রায় সব কটা উপন্যাসই একবার করে পড়েছি , "রেভলুশান ২০-২০" টা তারওপর আবার বেনারসে বসেই পড়া কাজেই একটা বেশ অন্যরকম ফিল অনুভব করেছিলাম , হ্যাঁ তবে এতটা বাড়াবাড়ি রকমের অতি নাটকীয়তা কারুর জীবনে হওয়া সম্ভব নয় সেটা বেশ বুঝেছিলাম, তাই উপন্যাসের হেরো -হিরোর জায়গায় নিজেকে বসানোর কোনো রকম চেষ্টাও করিনি।
কিন্তু আজকে রিকশাটা যখন রবিদাস পার্কে এসে থামলো এক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো , জীবনটা উপন্যাসের মতো হলে বোধহয় মন্দ হতো না। রিকশা থেকে পূর্বাশাকে কাঁচের বাসনের মতো সাবধানে নামালাম।রিকশাকাকা বললো
বিল হয়েছে পঁচাশি টাকা , আমি একটা একশোর নোট বাড়িয়ে দিলাম , কাকা মাথা নেড়ে বললো খুচরো নেই ,আমিও কাঁধ নাচিয়ে বললাম আমার কাছেও নেই , কাকা এবার একগাল হেসে বললো ,আরে তোমরা তো পার্কে যাবে টিকিট কাটার সময় খুচরো তো ওখানেই করে দেবে। আমি জগৎ সংসারের ওপর থেকে হাল ছেড়ে দিলাম, হায় রে শেষ পর্যন্ত রিকশাকাকা অব্দিও আমার অদেখলাপনা নিয়ে খিল্লি করে দিলো, আমি আর কি বলবো !!!! আমাকে অবশ্য মুখ খুলতে হলো না
পূর্বাশাই গম্ভীর ভাবে জানালো , আমরা পার্কে যাবো না আমাদের বাড়িটাই এখানে। রিকশাকাকা পূর্বাশার উৎকট গম্ভীর মুখটা দেখে আর বিশেষ কথা বাড়ালো না ,শুধু আমার কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে সামনের দেশিয়ালি ভাইয়ের কাছে কুল্লার (খুচরো ) করাতে চলে গেল., পূর্বাশা চুপ করে রইলো , টাকা ফেরত নিয়ে , আমরা হাঁটা শুরু করলাম।
শহরের সমস্ত নোংরা জল একটা খাল দিয়ে বয়ে এসে গঙ্গায় পড়েছে, পূর্বাশার আস্তানা সেই খালের ধারের একটা সাততলা বাড়িতে , পার্কের সামনের রাস্তাটা থেকে একটু এগিয়ে একটা সাঁকো পেরিয়ে নিচে নেমে গেছে সেই উৎরাই আর খালপাড় ধরে হাঁটলে মিনিট পাঁচেক। আমরা চুপচাপ সেই উৎরাই দিয়ে নেমে মেসের সামনের গলির মুখটা অব্দি এসেছিলাম এখন সময় পূর্বাশা হটাৎ করে আমার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললো
"তোকে আর আসতে হবে না , তুই অনেক করেছিস আমার জন্য, আর অনেক বেলা হয়ে গেছে তোর স্নান খাওয়া হয়নি ,তুই রুমে ফিরে যা , শর্মিলা ফিরে অনেক কিছু বানিয়ে বলবে হয়তো বলেও দিয়েছে এতক্ষনে বাকিরা হয়তো ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েও আছে তোকে আমার সাথে দেখবে বলে , তুই বুঝবি না আমাকে কত কিছু সহ্য করে চলতে হয় ................. "
আমি আর অবাক হলাম না , কথাও বাড়ালাম না , কারণ ওর এই কথাগুলোর জবাব দেওয়া আর অরবিন্দ কেজরীবালের মোদির বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ানো দুটোই সমান অর্থহীন, তাই আমি আর কথা না বাড়িয়ে জ্যাকেটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা চকোলেট বার করে পূর্বাশার হাতে ধরিয়ে দিলাম , পূর্বাশা এবার একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ,ও বুঝেই উঠতে পারলো না চকোলেটটা আমি কখন কিনলাম, আমতা আমতা করে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো
আমি শুনলাম না , মাল চালান দিয়ে সোজা এবাউট টার্ন নিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম , পিছন থেকে যেন আবঝা শুনতে পেলাম "ওই শোন্ "আমি ইচ্ছা করেই শুনলাম না , জোরে জোরে পা চালালাম।রাস্তায় উঠে এসে খেয়াল হলো জব্বর খিদে পেয়েছে সকালে সেই হাতি দেখাবার সময় কফি আর দুপিস পাউরুটি খেয়েছি সেসব কখন পাকস্থলী থেকে লোপাট হয়ে গেছে। কিছু ভালো লাগছিলো না মেজাজ একেবারে বেগুনপোড়া হয়ে গিয়েছিলো , রুমে ফিরতে আর ইচ্ছা হলো না আমি রাস্তার উল্টোদিকে হাঁটা লাগলাম। বড়রাস্তায় গিয়ে অটো ধরে সোজা গোধুলিয়া মোড়ে চলে গেলাম , চেনা সরবতের দোকানে গিয়ে সরবতের অর্ডার দিয়ে ভিতরে গিয়ে বসলাম , দোকানি আমাকে ইশারায় জিজ্ঞাসা করলো কয় চামচ ভাং দেবে
আমিও দুটো আঙ্গুল দেখিয়ে দিলাম।
এক চুমুকে সরবতের গ্লাসটা খালি করে মনটা একটু ঠান্ডা হলো ,এই দোকান টা আমার বড়ো প্রিয় , লোকে মন খারাপ হলে বা উইকেন্ডে বারে বা পাবে যায় আর আমি আসি এখানে। টাকা মিটিয়ে বাইরে এসে দাঁড়ালাম , ভাঙের অ্যাকশন শুরু হতে এখনও কিছুক্ষন বাকি আছে। আমি গোধুলিয়া মোড় থেকে বিশ্বনাথ মন্দিরের দিকে হাঁটা লাগলাম।
অনেককাল ছোটবেলায় একবার বাবা মার সাথে বৃন্দাবন গিয়েছিলাম ,টানা আট -দশ দিন ছিলাম সেখানে , কিন্তু তিন চার দিনের মাথায় বিরক্তি ধরে গিয়েছিলো , সরু সরু রাস্তা ,রাস্তার ওপরে ল্যাম্পপোস্টে ছিনতাইবাজ বাঁদর ,খোলা নর্দমা তাতে ঘোৎঘোৎ করছে শুয়োর , কাদা ,নোংরা ভিড় দেখে দেখে একেবারে ঝাঁট জ্বলে গিয়েছিলো ,তা একদিন বাবার সাথে বেরিয়ে পড়ে আর ধৈর্য রাখতে পারলাম না , জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম
"আচ্ছা বাবা , এই জায়গাটা যদি কৃষ্ণের লীলাভূমিই হয় তাহলে জায়গাটা এত্তো নোংরা কেন ?"
বাবা হো হো করে হেসে ফেলেছিলো , তারপর বলেছিলো
"তুই এই জায়গাটাকে নোংরা বলছিস , বেনারস গেলে দেখবি সেই জায়গাটা আরো বেশি নোংরা " স্কুলে পড়তাম , তাই তখন আমার কাছে বৃন্দাবন আর বেনারসে দুটোতে খুব বেশি তফাৎ ছিল না। পরে এই ধেড়ে বয়সে কাশীবাসী হয়ে বুঝেছি বাবার কথাটা একই সাথে সত্যি এবং একই সাথে মিথ্যে , A compelte paradox, কারণ সব ময়লা তো আর রাস্তায় গোবরের মতো পড়ে থাকেনা কিছু ময়লা মানুষের ভেতরেও থাকে। প্রথমবার গোধুলিয়া মোড় দেখিয়ে বাবা বলেছিলো "এই জায়গাটা এতো বিখ্যাত কেন জানিস "
"নাহঃ , কোনো আইডিয়া নেই "
"বেনারসের যত বিখ্যাত বাঈজী সব এখানে থাকতো ", বাবার কথা শুনে আমি হাঁ হয়ে গেছিলাম
"আচ্ছা বাবা এখন আর থাকে না ?" বাবা আমার কথার জবাবে শুধু বলেছিলো
"সামনে এগো , রাস্তায় কাদা আছে দেখে হাঁট "
কথাটা মনে পড়তেই হাসি পেয়ে গেল , যতবারই গোধুলিয়া মোড়ে এসেছি এই স্মৃতিটা ঠিক মাথাচাড়া দিয়েছে। আমি বিশ্বনাথ মন্দিরের গলিতে ঢুকে পড়লাম , ক্ষিদেটা আস্তে আস্তে বেড়েই চলেছিল , আমি ভারতবর্ষের নানাজাতের লোকজন, ষাঁড় ইত্যাদি কাটিয়ে গলির তস্য গলিতে ঢুকে গেলাম, আমার মতলব সোজা ছিল অন্নপূর্ণার প্রসাদ খাবো
কেননা Its open to all .
প্রচন্ড টক দক্ষিণ ভারতীয় কায়দায় রান্না করা ভোগ খেয়ে যখন বাইরের গলিতে এলাম ততখনে আমার নেশা বেশ চড়ে গেছে , সাধারণত জানতাম ভাং খেয়ে মিষ্টি খেলে চড়ে যায় কিন্তু টক খেলে যে দ্বিগুন চড়ে সেটা যা ছিল না।
বিশ্বনাথ মন্দিরের গলির মধ্যে একটা বৈশিষ্ট আছে , গলির মুখ থেকে শুরু করে শেষ অব্দি প্রচুর দোকান আর সব কটাই প্রায় এক রকম দেখতে , হাত চারেক চওড়া গলি তাতে সব সময় জাতের মানুষ, ষাঁড় যাতায়াত করছে, আর এই শহরটা যে তাদের বাপের সম্পত্তি তা তাদের আচার আচরণেই দিব্বি বোঝা যায়। এবার এই মেইন গলির সাথে আরো অসংখ্য সাব গলি মিনি গলি যোগ হয়েছে আর সব মাইল মিশে একটা জালের মতো বিছিয়ে আছে , দোকানগুলো থেকে দোকানদাররা ডাকাডাকি করছে , সূর্যের আলো বেশিরভাগ জায়গায় ঢোকেনা বললেই চলে , চিৎকার আলো আঁধারি ,পরিবেশ একই রকম দেখতে মোড় এই সব মিলিয়ে এই জায়গা এক জটিল গোলকধাঁধা।
এই প্রথম টের পেলাম আমি হাঁটতে পারছিনা চোখ জ্বালা জ্বালা করছে , কায়দা করে মেইন গলি থেকে শর্টকাট করে
একটা দুহাত চওড়া মিনি গলিতে ঢুকেছিলাম , নেশার ঘোরে রাস্তাটি কখন গুলিয়ে ফেলেছি নিজেও বুঝতে পারিনি
ফলে ১০ মিনিট হেঁটেও যখন মেইন গলিতে ফিরতে পারলাম না তখন আর রিস্ক নিলাম না , কোন চুলোয় এসেছি জানিনা কিন্তু নেশাটা একটু কাটিয়ে নিজেকেই পথ খুঁজে নিয়ে বেরোতে হবে ,কিন্তু মাথা টলছিলো , ধপ করে একটা বাড়ির রোযাকে বসে পড়লাম আর পারছিনা , দুহাত চওড়া গলি উঁচু বাড়ি গুলোর ছাত একটার সাথে অন্যটা প্রায় জুড়ে আছে কাজেই গলিতে সূর্যের আলো বিশেষ আসছে না বললেই চলে , আচ্ছা এরকম কোনো বাড়িতেই কি মোগনলাল মেঘরাজ থাকতো ???আলো আঁধারি মাখা একটা মিষ্টি গোলকধাঁধায় যে আমি ফেঁসে গেছি সেটা বেশ বুঝতে পারলাম । খুব জল তেষ্টা পাচ্ছিলো , জীব শুকিয়ে যাচ্ছিলো , ভাবছিলাম কোনো বাড়ির দরজায় ঠকঠক করবো কিনা এমন সময় আমার পাশের দরজাটি খুলে , একজন ভদ্রলোক বাইরে এলেন , ধুতি পরা গায়ে চাদর , পায়ে খড়ম
বোধহয় পন্ডিত বা পুরোহিত জাতীয় কিছু একটা হবেন। ভদ্রলোক বেরিয়ে এসে আমাকে একবার দেখলেন তারপর সামনে আমাকে এবার ভালো করে দেখে নিয়ে বললেন
"বহুত ফালতু বোঝ বহেরাহে হো বেটা , উসে উতার দো ওহ লাড়কী তুমহারি কিসমত মে নাহী হায় "
আমি একেবারে বুরবক বনে গেলাম , আজ এসব হচ্ছেটা কি !!!!!!!
(চলবে )
বি দ্র - please share ,
আগের পর্বের লিংক -
Wednesday, 6 December 2017
প্যারাডক্স১০
ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস
২০১৫
আমাদের উনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের মধ্যে একটা ব্যাপার ছিলো , যেটা এখানের কাউকে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। প্রথমত IIT খড়্গপুর ছাড়া এ রাজ্যে আর কোথাও ওতো বড়ো ক্যাম্পাস (মায় একটি কচি এয়ারপোর্ট সমেত )আছে বলে আমি অন্তত জানি না ,দ্বিতীয়ত গঠনগত দিক দিয়ে বিশ্বভারতী খানিকটা একরকম হলেও সাইজে একটু ছোটোই আর তৃতীয়ত আমি কালিদাস তো দূর হরিদাসও নই ,নেহাৎ এক তুচ্ছ ব্লগার তাই খুব দরকার না পড়লে অনৰ্থন ক্যাম্পাসের বিশদ বর্ণনা দিয়ে লোকজনকে বোর করবো না। তা বলতে নেই , ইউনিভার্সিটি আমাদের কিছু মোক্ষম সুযোগ সুবিধা দিয়েছিলো বটে , যার মধ্যে একটা ছিল হেলথ কার্ড। ভর্তি হবার সময় আই কার্ড, লাইব্রেরি কার্ড ,পাস-বুক ইত্যাদির সাথে হেলথ কার্ডও করতে হয়েছিল কিন্তু এর মহিমা টের পেয়েছিলাম পরে, এই হেলথ কার্ড থাকলে দু লক্ষ টাকা পর্যন্ত যেকোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা একদম ফ্রী ছিল , ডাক্তার ,হাসপাতাল ওষুধ কোন কিছুর জন্যই টাকা লাগতো না, আর আমাদের মধ্যে অনেকেই বাড়ি থেকে প্রথমবারের জন্য বাইরে বেরিয়েছিল কাজেই তারা অনেকেই অনেকবার অসুস্থ হয়েছে , বড়ো ব্যারামের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আর ছোট অসুখের জন্য হেলথ সেন্টার দুটোই আমার বিলক্ষণ চেনা।
তাই পূর্বাশার ফোনটা কেটে লঙ্কামোড়ে দৌড়ে আসতে আসতে হিসাব করছিলাম হেলথে আছে মানে নিশ্চয় খুব বড়সড় কিছু হয়নি। লঙ্কামোড়ে পৌঁছে মানিব্যাগটা খুলে একটা জ্যান্ত সমস্যার মুখোমুখি হতে হলো , আগের রাতেই টাকা তুলেছিলাম আর সবই পাঁচশো টাকার নোট(বর্তমানে যেটা প্রাক্তন), আর তার বাইরে নোট
বলতে একটা ফাটা এন্টিক দশ টাকা। আজকে আন্তর্জাতিক প্রেম দিবস আর এই লঙ্কায় প্রচুর গেস্ট হাউস , হোটেল আছে যারা ঘন্টা হিসাবে ঘর ভাড়া দেয় , তাই মোড়ের মাথায় সব কটা ওষুধ দোকানেই তুমুল ভিড় আর এ মুলুকে ওষুদের দোকান ছাড়া কেউ চট করে ফোকটে খুচরো দিতে চায় না. যাই হোক একটা মুদির দোকানে ঢুকে একটা জালি দেহাতি গপ্পো ফেঁদে কোনোরকমে খুচরো যোগাড় করে একটা রিকশা ভাড়া করে সোজা হেলথ সেন্টার রওনা দিলাম।
হেলথ সেন্টারটা ছিল IIT এর খানিকটা আগে আমাদের হোস্টেলের বন্ধুরা মাঝে মাঝেই রুমে বসে বোর হলে বা
সরবতের জন্য চিনি কম পড়লে বা কাফ সিরাপ দিয়ে নেশা করার ইচ্ছা হলে ওখানে হানা দিতো , কাফ সিরাপটা একেবারে অখাদ্য ছিল ওতে কিছুই হতো না এমনকি কাশিও সারতো না কিন্তু পেট খারাপের নামে ors এনে শরবত করে আমরা অনেকবার খেয়েছি।
হেলথ সেন্টারে পৌঁছে রিকসা কাকাকে ভোজপুরীতে বললাম " রুগী ভেতরে আছে , তুমি দাড়াও আমি এখনই নিয়ে আসছি তোমার গাড়িতেই ফিরব "
ভিতরে ঢুকে দেখি , পূর্বাশার মেস মেট শর্মিলা আর তার পার্টটাইম বেনারসী বয়ফেরেন্ড লাট্টুরাম(আসল নাম নয় তবে শর্মিলার পিছনে টানা দু বছর লাট্টুর মতো ঘুরেছিল তাই এ ইনাম) দাঁড়িয়ে আছে ,
আমাকে দেখে শর্মিলা একটা বাঁকা হাঁসি হেসে বললো
"এই তো ঠিক হাজির হয়ে গেছে "
আমার চোয়ালটা শক্ত হয়ে গেল ,
"কোথায় আছে "
"ওই যে ওই ঘরে "
শর্মিলা আঙ্গুল তুলে ডিসপেনসারি দেখিয়ে দিলো , আমি জিজ্ঞাসা করলাম
"ঠিক হয়েছেটা কি বলতো "
লাট্টুরাম মুচকি হেঁসে বললো "কাট দিয়া" আমি চমকে গেলাম
"মানে !!!!! কে কার কি কেটে ফেললো আবার "
"তুই যা নিজে গিয়ে দেখ " বলে শর্মিলা খ্যাক খ্যাক করে খ্যাঁকশেয়ালের মতো হাসতে লাগলো , সঙ্গে লাট্টুরামও খি খি করতে লাগলো। আমি বিরক্ত হয়ে ডিস্পেন্সারির রুমে ঢুকে গেলাম , ঢুকে দেখি পূর্বাশা কোনের দিকে একটা বেঁচে মুখ নিচু করে বসে আছে আর একজন বয়স্কা নার্স কিছু একটা বলছে , আমি ওই দিকে এগিয়ে গেলাম।
ওই বেঞ্চটা হলো ইনজেকশন নেবার ওয়েটিং প্লাটফর্ম , পূর্বাশার আগে আরো দুজন আছে ,একটা ছেলে যে হাপুস নয়নে ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করছে আর তার প্রেমিকা পাশে বসে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনা দেবার চেষ্টা করছে। আমি পূর্বাশার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম , একটু আগেও যে কেঁদে ফাটিয়ে দিয়েছে সেটা চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে , আমি ঝুকে পড়ে আলতো করে জিজ্ঞাসা করলাম ,
"কি হয়েছে"
কোনো উত্তর নেই
"ওই কি হয়েছে ?"
"তুই এলি কেন !!!! কে আসতে বলেছিলো তোকে !!! এমনিতেই বাইরে শর্মিলা আছে আবার তোকে নিয়ে যাতা কথা রটাতে শুরু করবে , এমনিতেই আমার খারাপ সময় যাচ্ছে ..........
কথা গুলো কানে গেল না , যাঃ শালা একী নাটক , যার জন্য চুরি করি সেই বলে গরুচোর!!!!!!!! আপদমস্তক জ্বলে গেল
"ঠিক আছে, আমি চলে যাচ্ছি "
বলে পিছন ফিরে চলে আসতে যাবো এমন সময় জ্যাকেটের হাতায় টান পড়লো ,ঘুরে দেখি আবার চোখের লক গেট
ভাঙবে ভাঙবে করছে ,
"তুই আমাকে ,মেরে ফেল "
আমার পেট থেকে রবীন্দ্রনাথের গল্পের বঞ্চিত হেরোর মতন একটা দীর্ঘশ্বাস উঠে আসছিলো , কপ করে গিলে ফেললাম,এই মেয়েটা আমাকে শান্তি দেবেনা।
"তোর ঠিক কি হয়েছে ?"
"কুকুরে কামড়েছে "
"কুকুর কথা থেকে এলো !!!! কি কুকুর? কতটা কামড়েছে ? ডাক্তার দেখেছে !!!??"
"মেহুলীদের মেসের কুকুর , দাঁত বসিয়ে দিয়েছে "
আমি থ হয়ে গেলাম, আমরা হাতে গোনা কয়েকজন শহরের মধ্যে নদীর দিকটায় থাকতাম , মেহুলীরাও আমার পরের পাড়ায় থাকে , ওদের মেসের মালিকের কুকুরটাকে আমি দেখেছি খুদে একটা স্প্রিৎজ , দেড় খানা মুরগির মতো চেহারা হবে খুবজোর, আমি কুকুর অত্যন্ত পছন্দ করি কাজেই কোনো সুস্থ কুকুর কোনো মানুষকে কামড়াবে এটা হজম করতে আমার একটু কষ্টই হয় তারপর ওই পুঁচকে মাল !!!
আমি অতিকষ্টে হাসি চেপে জিজ্ঞাসা করতে যাবো
তুই এমন কি করছিলিস যার জন্য কুকুরটা তোকে কামড়ালো , এমন সময় পাশে একটা
"আলো বাপ্পলো " চিৎকার শুনে নড়ে উঠলাম। দেখলাম সেই ছোকরাকে ডাক্তার ইনজেকশন দিচ্ছে এটা তার চিৎকার
সেই বয়স্ক নার্স এসে এবার পূর্বাশাকে দেখে
"অভি তুমহারি বারী আয়েগী "
তারপর আমাকে দেখে ফিক করে হেঁসে গড়গড় করে যেটা বললেন সেটার সারমর্ম হলো
যে কুত্তায় কামড়েছে সেটা কতটা সুস্থ সেটা জানা নেই কাজেই ৬টা সুঁই (ইঞ্জেকশান), লাগাতে হবে দুটো আজকেই আর বাকি গুলো ডেট দিয়ে দেয়া হবে , আমি যেন ঠিক মতো এসে সেগুলো দিইয়ে নিয়ে যাই , এমনি ছোট বেশি না ডাক্তারবাবু বলেছেন ভয়ের কিছু নেই , ওষুধ লাগিয়ে দিয়েছেন , এই বাঙ্গালী লড়কি শুধু শুধু রোনাধোনা করছে আমি যেন একে একটু বুঝিয়ে বলি, এই যে ছেলেটা চিৎকার করছিলো ও পার্কে প্রেম করছিলো আর সেই সময় বাঁদরে কামড়ে দিয়েছে , আমি যেন সেরকম কিছু না করি ,বাঁদরে কামড়ালেও একই ইনজেকশন নিতে হবে। আমি সুবোধ বালকের মতন ঘাড় নাড়লাম।
আর উল্লেখযোগ্য কিছু হলো না শুধু ইনজেকশন দেবার সময় পূর্বাশা আমার হাতটা আঁকড়ে খামচে ধরেছিলো।
কাউন্টার থেকে সব ওষুধ নিয়ে ,পরের ইনকেকশনের জন্য ছাপ্পা লাগিয়ে পূর্বাশাকে ধরে ধরে বাইরে এনে দেখি
শর্মিলা আর লাট্টুরাম ভেগে গেছে , আমি বললাম
" আমি রিকশা পার্ক করিয়ে রেখেছি , চল তোকে রুমে পৌঁছে দিই "
রিকশা কাকা আমাকে কিছু একটা বলতে গিয়ে এহেন রুগী দেখে চুপ করে গেল , রিকশায় ওঠার পর শুধু আমাকে জিজ্ঞাসা করলো
এবার কোথায় নিয়ে যেতে হবে।
আমি বললাম রবিদাস পার্ক চলো , রিক্সাকাকা আবার আমাকে একটা নোংরা হাসি দিলো , রিক্সা চলতে শুরু করলো
পূর্বাশা আমার কাঁধে মাথা রেখে চোখবুঝে পড়ে আছে ,ওকে দেখে কেমন জানি মায়া হলো আহা রে বেচারি
হটাৎ মনে পড়ে গেল চেতন ভগতের রেভোলুশন ২০-২০ উপন্যাসের এর নায়ক-নায়িকা ওই রবিদাস পার্কেই প্রেম করতে আসতো , আমিও সেই চুলোতেই যাচ্ছি কিন্তু প্রেমটা আমার বোধহয় আর এই জন্মে করা হয়ে উঠবে বলে মনে হচ্ছে না.........
(চলবে )
বি দ্র - ভালো লাগলে share please
Tuesday, 5 December 2017
প্যারাডক্স
৯
সরস্বতী বয়েস হস্টেল
২০১৩
কচি ছাগলছানার মতো লাফাতে লাফাতে হোস্টেলের সিঁড়ি দিয়ে উঠছিলাম। আমাদের হোস্টেলটা ছিলো পাঁচতলা আর আমরা বাঙালিরা ঠেক জমিয়েছিলুম তিনতলায় , সিঁড়ি দিয়ে উঠে প্রথম ঘরটাই ছিলো বিল্টুদার রোজকার অভ্যাস মতো সেখানেই লাথি মারতে গিয়ে আটকে গেলাম , দরজায় তালা ঝুলছে , দূর শালা মালটা আবার কোথায় ভেগে !!!
আমার এক্সসাইটমেন্টটা একটু চুপসে গেল , তাও আমি ব্যালকনি বরাবর সোজা এগিয়ে গেলাম , ভার্জিনবাবু , বোকচোদের নাতি ,বিড়লার ব্যাটা ,বড়দা , তরকারীদা , শিলাজিৎদা সবার ঘরেই তালা ঝুলছে কেউই এখনো রুমে ফেরেনি, আমার ভিতরে এবারের মতো মিডসেমেস্টার চুকে যাওয়া আর আগামীকাল বাড়ী ফেরার টিকিটটা তৎকালে কনফার্ম হওয়া মিলে এই দুটো মিলে যে বেলুনটা তৈরী হয়েছিল সেটা এবার একেবারে চুপসে গেল। একেবারে বিরক্ত হয়ে ব্যালকনির রেলিঙে হাত রাখতে গিয়ে চডাঙ করে শক খেয়ে লাফিয়ে উঠলাম , এক্কেবারে খাঁটি ইলেট্রিকের শক যাকে বলে ।
"ভোসডিকে "
বেজার মুখে হাতটা ঝাড়তে লাগলাম , উফ চীন চীন করছে , ধুর কোনো মানে হয় !!!!!
আসলে , আমাদের এই হোস্টেলের বিল্ডিংটা প্রায় দেড়শো বছরের পুরানো একটা বাড়ি এবার কোন দোপেয়ে গাধার মাথায় এই বাড়ির ইলেট্রিক কানেকশনটা কনসিল ওয়ারিং করানোর মহান আইডিয়া এসেছিলো কে জানে। আইডিয়াটা নিঃসন্দেহে উন্নয়ন মূলক হলেও গোটা বিষয়টার মধ্যেই গোড়াতেই খানিকটা গলদ ছিলো ফলে গোটা ব্যাপারটা বামফ্রন্টের সিঙ্গুর কারখানার মতো ব্যুমেরাং হয়ে যায়। পুরোনো বাড়ি কাজেই বৃষ্টি পড়লে ডাম্প হতো , কনসিল ওয়ারিং এর কল্যানে এর ফলে বেশ কিছু জায়গা হাল্কা করে ইলেক্ট্রিফায়েড হয়ে যেত , যেমন বাথরুমের
লোহার জলের কল, বেসিনের কল , তরকারীদার ঘরের দরজার ছিটকিনি আর শিলাজিৎদার ঘরের সামনের ব্যালকনির রেলিং , মারাত্মক কিছু নয় কিন্তু ছুঁলেই চট্যং করে হাল্কা শক লাগতো। আমার এহেন আজীব জিনিসের সাথেও দিব্যি অভস্ত হয়ে গিয়েছিলুম , হেগে জলের জন্য কল খুলতে গিয়ে শক খাইনি এরকম কেউ আমাদের মধ্যে ছিলো না। যাক সে কথা
আমি নিজের রুমের দিকে রওনা দিলাম , তিনতলাটা ছিল U এর মতো যার একমাথায় ছিল শিলাজিৎদার রুম আর
অন্য মাথায় ছিল আমার ডেরা। রুমে ঢুকে খাটের তোলা থেকে ব্যাগপত্র বার করতে শুরু করলাম , আপাতত বাড়ি ফেরার আনন্দটা ব্যাগ গুছিয়েই সারবো এমনটা ঠিক করে , স্পিকারে জোরে জোরে "জিন্দেগী না মিলেগি দোবারা " সিনেমাটার " দিল ধাড়াকনে দো " গানটা একটা লুপে চালিয়ে গোছগাছ শুরু করলাম , সবে গানটা একবার শেষ হয়ে আবার শুরু হয়েছে এমন সময় দরজার ঠক ঠক হলো। আবার কে এলো !!!!!!
গান আর গোছানো দুটো আপাতত স্থগিত রেখে দরজাটা খুললাম। খুলে দেখি বাবা কালী (অবশ্যই এটা ভদ্রলোকের আসল নাম নয় কিন্তু এ নামকরণের পিছনের কেচ্ছাটা পরে একদিন বলবো). বাবা কালী ছিল আমার ডিপার্মেন্টের সিনিয়র , আসলে ওই আমাকে প্রথম এই হোস্টেলে নিয়ে আসে একদম নিজের পাশের রুমে , এমনকি বিল্টুদার সাথে আলাপটাও এই করিয়ে দিয়েছিলো , কিন্তু তারপর আমি বিল্টুদা , শিলাজিৎদা , তরকারীদা এদের সাথে এমন ভাবে ভিড়ে গেলাম যে আর বলার মতো নয় ফলে এমনও হয়েছে যে পাশাপাশি ঘরে থাকা সত্ত্বেও আমার সাথে বাবা কালীর টানা সাত আট দিন দেখা হয়নি এমন দিনও গেছে , কাজেই আমি অবাক হলাম।
"কি করছিস "
"কিছুনা এই ব্যাগ গোছাচ্ছিলাম , সামনের কয়েকদিন তো ছুটি তাই কালকে বাড়ি যাচ্ছি "
"বাহ্ বাহ্ খুব ভালো , তা বলছিলাম কি সিগারেট খাবি "
আমি আর না বলি কি করে বললাম
হ্যাঁ
বাবা কালী আমার ঘরে ঢুকে চৌকিতে গ্যাঁট হয়ে বসে একসাথে দুটো সিগারেট ধরালো, তারপর আমাকে একটা দিয়ে বলল
"শোন্ না , আমার একটা হেল্প করবি "
তাই বলি শালা নির্ঘাৎ কিছু একটা ধান্দা আছে না হলে আমায় যেচে বিড়ি খাওয়ানো কেন , মুখে বললাম
"কি হেল্প বোলো "
বাবা কালী নিজের মোবাইলটা খুলে একটা কিছু খুঁজতে খুঁজতে বললো
"আমার না তোদের ইয়ারের এক জনকে বড়ো ভালো লেগে গেছে "
আমি অবাক হয়ে বললুম
"কে?????"
"এই যে এই মেয়েটা " বলে আমার দিকে মোবাইলটা এগিয়ে দিলো , আমার ভুরুটা কুঁচকে গেল , ছবির মেয়েটা পূর্বাশা
"তোকে তো দেখি এই সাথে কথা টথা বলতে সেদিনতো তোকে জড়িয়েও ধরলো একটু দেখনা ভাই যদি কিছু করতে পারিস , আমার না সোনিয়ার সাথে কালকে ব্রেকাপ হয়ে গেছে...... "
বাকিকথা গুলো মার্ কানে ঢুকছিল না। সোনিয়াদিও আমাদের ডিপার্মেন্টের সিনিয়র। ব্রেকাপ শুনেও আমি অবাক হলাম না এদের সপ্তাহে এমন গোটা তিনেক হয়ে থাকে , কিন্তু তা বলে পূর্বাশাকে লাইন মারবে তাও সেটার জন্য আবার আমাকে বলছে , আমার ঝাঁট জ্বলে একেবারে বেগুনপোড়া হয়ে গেল, আমি বললাম
" হুমম চিনি অল্পসল্প , কিন্তু ....... আচ্ছা আমি ফিরে আসি সামনের সপ্তাহে তারপর দেখছি বুঝলে "
বাবা কালী একেবারে গদগদ হয়ে বললো ,
"ভাই সেট করে দে আমি তোকে ভালো মদ খাওয়াবো , বিপি "
"আচ্ছা সে দেখা যাবেক্ষণ, আমি এবার একটু গুছিয়ে নি কেমন "
"হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চই নিশ্চই , আমি হেল্প করবো "
"না না কোন দরকার নেই"
"আহঃ করি না "
"নাগো লাগবে না "
বাবা কালী গ্যাট হয়ে আমার চৌকিতে বসেই রইলো , আমি চৌকির তলা থেকে ট্রলিটা বার করে ধুলো ঝাড়তে শুরু করলাম , পূর্বাশার ওপরেই আমার রাগটা জমতে লাগলো কি দরকার ছিল ওইদিন অতো বাড়াবাড়ি করার
নাও এবার ম্যাও সামলাও , সব বাঁশগুলো কি করে ঠিক আমার পিছনটাই খুঁজে পায় সেটা নিয়ে একটা গবেষণা করা দরকার।
(চলবে )
বি দ্র - বোকচোদ কোনো খিস্তি নয় , বেহার মুলুকে বাচাল লোকজনদের ওটা বলা হয়ে থাকে , বাঙালি খিস্তি "বোকাচোদা " এর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
ভালো লাগলে Please share.
৯
সরস্বতী বয়েস হস্টেল
২০১৩
কচি ছাগলছানার মতো লাফাতে লাফাতে হোস্টেলের সিঁড়ি দিয়ে উঠছিলাম। আমাদের হোস্টেলটা ছিলো পাঁচতলা আর আমরা বাঙালিরা ঠেক জমিয়েছিলুম তিনতলায় , সিঁড়ি দিয়ে উঠে প্রথম ঘরটাই ছিলো বিল্টুদার রোজকার অভ্যাস মতো সেখানেই লাথি মারতে গিয়ে আটকে গেলাম , দরজায় তালা ঝুলছে , দূর শালা মালটা আবার কোথায় ভেগে !!!
আমার এক্সসাইটমেন্টটা একটু চুপসে গেল , তাও আমি ব্যালকনি বরাবর সোজা এগিয়ে গেলাম , ভার্জিনবাবু , বোকচোদের নাতি ,বিড়লার ব্যাটা ,বড়দা , তরকারীদা , শিলাজিৎদা সবার ঘরেই তালা ঝুলছে কেউই এখনো রুমে ফেরেনি, আমার ভিতরে এবারের মতো মিডসেমেস্টার চুকে যাওয়া আর আগামীকাল বাড়ী ফেরার টিকিটটা তৎকালে কনফার্ম হওয়া মিলে এই দুটো মিলে যে বেলুনটা তৈরী হয়েছিল সেটা এবার একেবারে চুপসে গেল। একেবারে বিরক্ত হয়ে ব্যালকনির রেলিঙে হাত রাখতে গিয়ে চডাঙ করে শক খেয়ে লাফিয়ে উঠলাম , এক্কেবারে খাঁটি ইলেট্রিকের শক যাকে বলে ।
"ভোসডিকে "
বেজার মুখে হাতটা ঝাড়তে লাগলাম , উফ চীন চীন করছে , ধুর কোনো মানে হয় !!!!!
আসলে , আমাদের এই হোস্টেলের বিল্ডিংটা প্রায় দেড়শো বছরের পুরানো একটা বাড়ি এবার কোন দোপেয়ে গাধার মাথায় এই বাড়ির ইলেট্রিক কানেকশনটা কনসিল ওয়ারিং করানোর মহান আইডিয়া এসেছিলো কে জানে। আইডিয়াটা নিঃসন্দেহে উন্নয়ন মূলক হলেও গোটা বিষয়টার মধ্যেই গোড়াতেই খানিকটা গলদ ছিলো ফলে গোটা ব্যাপারটা বামফ্রন্টের সিঙ্গুর কারখানার মতো ব্যুমেরাং হয়ে যায়। পুরোনো বাড়ি কাজেই বৃষ্টি পড়লে ডাম্প হতো , কনসিল ওয়ারিং এর কল্যানে এর ফলে বেশ কিছু জায়গা হাল্কা করে ইলেক্ট্রিফায়েড হয়ে যেত , যেমন বাথরুমের
লোহার জলের কল, বেসিনের কল , তরকারীদার ঘরের দরজার ছিটকিনি আর শিলাজিৎদার ঘরের সামনের ব্যালকনির রেলিং , মারাত্মক কিছু নয় কিন্তু ছুঁলেই চট্যং করে হাল্কা শক লাগতো। আমার এহেন আজীব জিনিসের সাথেও দিব্যি অভস্ত হয়ে গিয়েছিলুম , হেগে জলের জন্য কল খুলতে গিয়ে শক খাইনি এরকম কেউ আমাদের মধ্যে ছিলো না। যাক সে কথা
আমি নিজের রুমের দিকে রওনা দিলাম , তিনতলাটা ছিল U এর মতো যার একমাথায় ছিল শিলাজিৎদার রুম আর
অন্য মাথায় ছিল আমার ডেরা। রুমে ঢুকে খাটের তোলা থেকে ব্যাগপত্র বার করতে শুরু করলাম , আপাতত বাড়ি ফেরার আনন্দটা ব্যাগ গুছিয়েই সারবো এমনটা ঠিক করে , স্পিকারে জোরে জোরে "জিন্দেগী না মিলেগি দোবারা " সিনেমাটার " দিল ধাড়াকনে দো " গানটা একটা লুপে চালিয়ে গোছগাছ শুরু করলাম , সবে গানটা একবার শেষ হয়ে আবার শুরু হয়েছে এমন সময় দরজার ঠক ঠক হলো। আবার কে এলো !!!!!!
গান আর গোছানো দুটো আপাতত স্থগিত রেখে দরজাটা খুললাম। খুলে দেখি বাবা কালী (অবশ্যই এটা ভদ্রলোকের আসল নাম নয় কিন্তু এ নামকরণের পিছনের কেচ্ছাটা পরে একদিন বলবো). বাবা কালী ছিল আমার ডিপার্মেন্টের সিনিয়র , আসলে ওই আমাকে প্রথম এই হোস্টেলে নিয়ে আসে একদম নিজের পাশের রুমে , এমনকি বিল্টুদার সাথে আলাপটাও এই করিয়ে দিয়েছিলো , কিন্তু তারপর আমি বিল্টুদা , শিলাজিৎদা , তরকারীদা এদের সাথে এমন ভাবে ভিড়ে গেলাম যে আর বলার মতো নয় ফলে এমনও হয়েছে যে পাশাপাশি ঘরে থাকা সত্ত্বেও আমার সাথে বাবা কালীর টানা সাত আট দিন দেখা হয়নি এমন দিনও গেছে , কাজেই আমি অবাক হলাম।
"কি করছিস "
"কিছুনা এই ব্যাগ গোছাচ্ছিলাম , সামনের কয়েকদিন তো ছুটি তাই কালকে বাড়ি যাচ্ছি "
"বাহ্ বাহ্ খুব ভালো , তা বলছিলাম কি সিগারেট খাবি "
আমি আর না বলি কি করে বললাম
হ্যাঁ
বাবা কালী আমার ঘরে ঢুকে চৌকিতে গ্যাঁট হয়ে বসে একসাথে দুটো সিগারেট ধরালো, তারপর আমাকে একটা দিয়ে বলল
"শোন্ না , আমার একটা হেল্প করবি "
তাই বলি শালা নির্ঘাৎ কিছু একটা ধান্দা আছে না হলে আমায় যেচে বিড়ি খাওয়ানো কেন , মুখে বললাম
"কি হেল্প বোলো "
বাবা কালী নিজের মোবাইলটা খুলে একটা কিছু খুঁজতে খুঁজতে বললো
"আমার না তোদের ইয়ারের এক জনকে বড়ো ভালো লেগে গেছে "
আমি অবাক হয়ে বললুম
"কে?????"
"এই যে এই মেয়েটা " বলে আমার দিকে মোবাইলটা এগিয়ে দিলো , আমার ভুরুটা কুঁচকে গেল , ছবির মেয়েটা পূর্বাশা
"তোকে তো দেখি এই সাথে কথা টথা বলতে সেদিনতো তোকে জড়িয়েও ধরলো একটু দেখনা ভাই যদি কিছু করতে পারিস , আমার না সোনিয়ার সাথে কালকে ব্রেকাপ হয়ে গেছে...... "
বাকিকথা গুলো মার্ কানে ঢুকছিল না। সোনিয়াদিও আমাদের ডিপার্মেন্টের সিনিয়র। ব্রেকাপ শুনেও আমি অবাক হলাম না এদের সপ্তাহে এমন গোটা তিনেক হয়ে থাকে , কিন্তু তা বলে পূর্বাশাকে লাইন মারবে তাও সেটার জন্য আবার আমাকে বলছে , আমার ঝাঁট জ্বলে একেবারে বেগুনপোড়া হয়ে গেল, আমি বললাম
" হুমম চিনি অল্পসল্প , কিন্তু ....... আচ্ছা আমি ফিরে আসি সামনের সপ্তাহে তারপর দেখছি বুঝলে "
বাবা কালী একেবারে গদগদ হয়ে বললো ,
"ভাই সেট করে দে আমি তোকে ভালো মদ খাওয়াবো , বিপি "
"আচ্ছা সে দেখা যাবেক্ষণ, আমি এবার একটু গুছিয়ে নি কেমন "
"হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চই নিশ্চই , আমি হেল্প করবো "
"না না কোন দরকার নেই"
"আহঃ করি না "
"নাগো লাগবে না "
বাবা কালী গ্যাট হয়ে আমার চৌকিতে বসেই রইলো , আমি চৌকির তলা থেকে ট্রলিটা বার করে ধুলো ঝাড়তে শুরু করলাম , পূর্বাশার ওপরেই আমার রাগটা জমতে লাগলো কি দরকার ছিল ওইদিন অতো বাড়াবাড়ি করার
নাও এবার ম্যাও সামলাও , সব বাঁশগুলো কি করে ঠিক আমার পিছনটাই খুঁজে পায় সেটা নিয়ে একটা গবেষণা করা দরকার।
(চলবে )
বি দ্র - বোকচোদ কোনো খিস্তি নয় , বেহার মুলুকে বাচাল লোকজনদের ওটা বলা হয়ে থাকে , বাঙালি খিস্তি "বোকাচোদা " এর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
ভালো লাগলে Please share.
Subscribe to:
Posts (Atom)
