Search This Blog

Thursday, 21 December 2017

প্যারাডক্স
১৪
সমরেশের ঘর

                                                      সকাল সাতটার সময় সমরেশের দরজায় ঘা পড়লো  ,
"এখন আবার কোন শ্লা......"
বিড় বিড়  করে গালি  দিতে দিতে, সমরেশ উঠে গিয়ে দরজাটা খুললো।  খুলেই দেখে বাইরে ঝোড়ো কাকের মতো নবেন্দু দাঁড়িয়ে আছে , সমরেশ তাড়াতাড়ি দরজা থেকে সরে দাঁড়ালো
" নব ভেতরে আয় , কি হয়েছে এই চেহারা কেন ?"
নবেন্দু কোনো কথা না বলে ধপ করে চেয়ারে বসলো , বসে পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা বিড়ি বার করে ধরালো , সমরেশ লক্ষ্য করলো ওর হাতটা কাঁপছে। সমরেশ আবার জিজ্ঞাসা করলো
"ভাই, সব ঠিক আছে তো ?"
" বিশ্বর সাথে তোর আজকে সকালে দেখা হয়েছে ?"
"নাতো , তোরা তো কালকে দুজনে বেরিয়েছিলিস মুরগি খেতে , তারপর ফিরিসনি !!!!!!!!!"
"নাঃ আমরা ভাং খেয়ে খুব তাল হয়ে গেছিলাম , দশাশ্বমেধঘাটে শুয়েছিলাম , হাঁসাহাঁসি করছিলাম , এমন সময় কয়েকজন সাধু টাইপের গেরুয়া পরা লোকজন এসে আমাদের মুখে টর্চ মেরে জিগ্জাসা করে কে আমরা কি করছি এখানে , আমরা কিছুতেই হাসি থামাতে পারছিলাম না , এমন সময় ওদের একজন এসে বিশ্বায়নের হাত ধরে টানাটানি শুরু করে , সেখান থেকে হাতাহাতি শুরু হয় তারপর হটাৎ ওরা কয়েকজন বিশ্বকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়,
আমি সালা এতো অবাক    হয়ে গেছিলাম যে কিছু করতে পারেনি কয়েক সেকেন্ড পরে হুঁশ এলে তাড়া করি কিন্তু একটু যেতেই আমাকে পুলিশ মাতাল বলে ধরে ফেলে, আমার কোনো কথাই শোনেনি সোজা লঙ্কা থানায় এনে জমা করে দেয়
রাত দুটোর সময় , থানায় তখন কোনো অফিসার ছিল না , ভোরবেলা একজন আসার পর আমার পরিচয় দিতে ,
সে আমার গাইডকে ফোন করে অনেক চব্য করে শেষ মেষ ছাড়া পাই. থানা থেকে বেরিয়ে সোজা এখানে আসছি
আসার সময় দেখলাম
বিশ্বর রুমে তালা মারা "
গোটাটা  শুনতে শুনতেই  সমরেশের মুখ শুকিয়ে আসছিলো , এবার ও নিজেও ধপ করে বিছনায় বসে পড়লো
নবেন্দু হতাশ ভাবে বললো
"কি করি বলতো , আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না, পুলিশের কাছে যাবো নাকি ওর বাড়িতে জানাবো ,নাকি খোঁজাখুঁজি করবো , কি যে করি কিচ্ছু মাথায় আসছে না। "
সমরেশ মুখ নামিয়ে কি যেন একটা ভাবছিলো , এবার মুখ তুলে বললো
"আচ্ছা ও মাল ওর ওষুধগুলো ঠিকঠাক খাচ্ছে কিনা তুই জানিস ??"
নবেন্দু সোজা হয়ে বসলো
"না তাতো জানি না, আমি তো কালকে গোটা দিন ওর সাথে ছিলাম , ওষুধ খেতে তো দেখলাম না "
সমরেশ তড়াক করে উঠে দাঁড়িয়ে , টেবিলের ড্রয়ার খুলে কিছু একটা খুঁজতে লাগলো ,
"কি খুজছিস ভাই "
"আমার কাছে ওর রুমের একটা এক্সট্রা চাবি আছে , ওর রুমটা খুলে একবার দেখা দরকার , আমার কেন জানি সন্দেহ হচ্ছে ও বেশ  কয়েকদিন ধরেই  ওষুধ খায়নি। "
নবেন্দু কোনো জবাব দিলো না।
চাবিটা খুঁজে পেয়ে বিশ্বায়নের রুমের তালা খুলতে খুলতে সমরেশ একবার জিজ্ঞাসা করলো
"তুই জানিস ওর ওষুধগুলো কোথায় থাকে ?"
নবেন্দু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো।
দরজা খুলেই বোঝা গেল এই ঘরে রাতে কেউ আসেনি , বিছানার চাদর টানটান হয়ে আছে , বিশ্বায়ন এমনিতে গোছানো ছেলে সেটা ওর ঘর দেখেই বোঝা যায় , বেশিক্ষন খুঁজতে হলো না , ডানদিকের দেয়াল আলমারিটা খুলতেই দেখা গেল , কমলা রঙের শিশিটা , সীল এখনো কাটা হয়নি , এক মাসের জন্য একটা শিশি ,সমরেশ শিশিটা তুলে দেখল এমাসেরই  বরাদ্দ ওষুধ , শিশিতে মাসের নামটা লেখা আছে,..
সমরেশ মনে মনে একবার হিসাব করে দেখলো আজকে দশ তারিখ , ও কম করে দশ  দিন ওষুধ খায়নি, ওর যা অবস্থা তাতে দুদিন বন্ধ করলেই গোলমাল দেখা দেয়ার কথা সেখানে দশ দিন !!!!!!! সমরেশের এবার ভয় করতে লাগলো
ছেলেটা আবার কোন বিপদে ডেকে আনলো  কে জানে।পিছন ঘুরে নবেন্দুকে ডাকতে গিয়ে দেখে নবেন্দু দেয়ালের ঝোলানো বড়ো ওয়াল হ্যাঙ্গিংটার দিকে তাকিয়ে আছে ,বিশ্বর কলেজ জীবনের ছবি , বন্ধুদের ছবি , ওর সিনেমার ছবি
 এসব দিয়ে একটা বিরাট কোলাজ , বিশ্বর নিজের হাতেই বানানো। একটা ছবি আছে বিশ্বর কলেজের একটা গ্রুপ ছবি     নবেন্দু সেটার দিকেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল
সমরেশ , নবেন্দুর পিছনে এসে দাঁড়িয়ে ছবিটা দেখতে দেখতে বললো
"এই ছবিটার মধ্যেই কি সেই ???"
"হ্যাঁ এই যে এই মেয়েটাই হলো তিয়াশা। " নবেন্দু আঙ্গুল দিয়ে দেখালো
সমরেশ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো
"বেচারার কপালটাই খারাপ , যাক যে এই দেখ " বলে হাতে ধরা ওষুদের শিশিটা নবেন্দুর দিকে বাড়িয়ে দিলো ,
"কয় দিন "
"এ মাসের দশ , ও মাসেরটা জানিনা "
"হুমম "
নবেন্দু কোনো কথা না বলে , কাঁপা কাঁপা হাতেই আবার একটা বিড়ি ধারালো , সমরেশ জিজ্ঞাসা করলো
"তোর কি মনে হয় আবার আগের বারের মতো ???"
"আমিও সেই ভয়টাই পাচ্ছি রে শ্লা"
"আমার মনে হয় আমাদের এখনই একবার পুলিশের কাছে যাওয়া উচিত , হয়তো দেরি হয়নি কি বলিস ?"
নবেন্দু কোনো জবাব দিলো না , চুপচাপ ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে লাগলো

(চলবে )

বি দ্র - গতকাল কিছু যান্ত্রিক ও শারীরিক  কারণের জন্য দিতে পারিনি তাই আজকে চেষ্টা করবো দুটোই দিয়ে দিতে।
          এ গরিবের একান্ত অনুরোধ , একটু শেয়ার।  
   

No comments: