Search This Blog

Tuesday, 5 December 2017

প্যারাডক্স
৯
সরস্বতী বয়েস হস্টেল
২০১৩

কচি ছাগলছানার মতো লাফাতে লাফাতে হোস্টেলের সিঁড়ি দিয়ে উঠছিলাম। আমাদের হোস্টেলটা ছিলো পাঁচতলা আর আমরা বাঙালিরা ঠেক জমিয়েছিলুম তিনতলায় , সিঁড়ি দিয়ে উঠে প্রথম ঘরটাই ছিলো বিল্টুদার রোজকার অভ্যাস মতো সেখানেই লাথি মারতে গিয়ে আটকে গেলাম , দরজায় তালা ঝুলছে , দূর শালা মালটা আবার কোথায় ভেগে !!!
আমার এক্সসাইটমেন্টটা একটু চুপসে  গেল , তাও আমি ব্যালকনি বরাবর সোজা এগিয়ে গেলাম , ভার্জিনবাবু , বোকচোদের নাতি ,বিড়লার ব্যাটা ,বড়দা , তরকারীদা , শিলাজিৎদা সবার ঘরেই তালা ঝুলছে কেউই এখনো রুমে ফেরেনি, আমার ভিতরে এবারের মতো  মিডসেমেস্টার   চুকে যাওয়া  আর আগামীকাল বাড়ী ফেরার টিকিটটা তৎকালে  কনফার্ম হওয়া মিলে এই দুটো মিলে যে বেলুনটা তৈরী হয়েছিল সেটা এবার একেবারে চুপসে গেল। একেবারে বিরক্ত হয়ে ব্যালকনির রেলিঙে হাত রাখতে গিয়ে চডাঙ করে শক খেয়ে লাফিয়ে উঠলাম , এক্কেবারে খাঁটি ইলেট্রিকের  শক যাকে বলে ।
"ভোসডিকে "
বেজার মুখে হাতটা ঝাড়তে লাগলাম , উফ চীন চীন করছে , ধুর কোনো মানে হয় !!!!!
আসলে , আমাদের এই হোস্টেলের বিল্ডিংটা প্রায় দেড়শো  বছরের পুরানো একটা বাড়ি এবার কোন দোপেয়ে গাধার মাথায়  এই বাড়ির ইলেট্রিক কানেকশনটা কনসিল ওয়ারিং করানোর মহান আইডিয়া এসেছিলো কে জানে। আইডিয়াটা নিঃসন্দেহে উন্নয়ন মূলক হলেও গোটা বিষয়টার মধ্যেই গোড়াতেই খানিকটা গলদ ছিলো ফলে গোটা ব্যাপারটা বামফ্রন্টের সিঙ্গুর কারখানার মতো ব্যুমেরাং হয়ে যায়। পুরোনো বাড়ি কাজেই বৃষ্টি পড়লে ডাম্প হতো , কনসিল ওয়ারিং এর কল্যানে এর ফলে বেশ কিছু জায়গা হাল্কা করে ইলেক্ট্রিফায়েড হয়ে যেত , যেমন বাথরুমের
লোহার জলের কল, বেসিনের কল , তরকারীদার ঘরের দরজার ছিটকিনি আর শিলাজিৎদার ঘরের সামনের ব্যালকনির রেলিং , মারাত্মক কিছু নয় কিন্তু ছুঁলেই  চট্যং করে হাল্কা শক  লাগতো। আমার এহেন আজীব জিনিসের সাথেও দিব্যি অভস্ত হয়ে গিয়েছিলুম , হেগে জলের জন্য কল খুলতে গিয়ে শক খাইনি এরকম কেউ আমাদের মধ্যে ছিলো না। যাক সে কথা
আমি নিজের রুমের দিকে রওনা দিলাম , তিনতলাটা   ছিল U এর মতো যার একমাথায় ছিল শিলাজিৎদার রুম আর
অন্য মাথায় ছিল আমার ডেরা। রুমে ঢুকে খাটের তোলা থেকে ব্যাগপত্র বার করতে শুরু করলাম , আপাতত বাড়ি ফেরার আনন্দটা ব্যাগ গুছিয়েই সারবো এমনটা ঠিক করে , স্পিকারে জোরে  জোরে "জিন্দেগী না মিলেগি দোবারা " সিনেমাটার " দিল ধাড়াকনে দো " গানটা একটা লুপে চালিয়ে গোছগাছ শুরু করলাম , সবে গানটা একবার শেষ হয়ে আবার শুরু হয়েছে এমন সময় দরজার ঠক ঠক হলো। আবার কে এলো !!!!!!
গান আর গোছানো দুটো আপাতত স্থগিত রেখে দরজাটা খুললাম।  খুলে দেখি বাবা কালী (অবশ্যই এটা ভদ্রলোকের আসল নাম নয় কিন্তু এ নামকরণের  পিছনের কেচ্ছাটা পরে একদিন বলবো). বাবা কালী ছিল আমার ডিপার্মেন্টের সিনিয়র , আসলে ওই আমাকে প্রথম এই হোস্টেলে নিয়ে আসে একদম নিজের পাশের রুমে , এমনকি বিল্টুদার সাথে আলাপটাও এই করিয়ে দিয়েছিলো , কিন্তু তারপর আমি বিল্টুদা , শিলাজিৎদা , তরকারীদা এদের সাথে এমন ভাবে ভিড়ে  গেলাম যে আর বলার মতো নয় ফলে এমনও হয়েছে যে পাশাপাশি ঘরে থাকা সত্ত্বেও আমার সাথে বাবা কালীর  টানা সাত আট দিন দেখা হয়নি এমন দিনও গেছে , কাজেই আমি অবাক হলাম।
"কি করছিস "
"কিছুনা এই ব্যাগ গোছাচ্ছিলাম , সামনের কয়েকদিন তো ছুটি তাই কালকে বাড়ি যাচ্ছি "
"বাহ্ বাহ্  খুব ভালো , তা বলছিলাম কি সিগারেট খাবি "
আমি আর না বলি কি করে বললাম
হ্যাঁ
বাবা কালী আমার ঘরে ঢুকে চৌকিতে গ্যাঁট হয়ে বসে একসাথে দুটো সিগারেট ধরালো, তারপর আমাকে একটা দিয়ে বলল
"শোন্ না , আমার একটা হেল্প করবি "
তাই বলি শালা নির্ঘাৎ কিছু একটা ধান্দা আছে না হলে আমায় যেচে বিড়ি খাওয়ানো কেন , মুখে বললাম
"কি হেল্প বোলো "
বাবা কালী নিজের মোবাইলটা খুলে একটা কিছু খুঁজতে খুঁজতে বললো
"আমার না তোদের ইয়ারের এক জনকে বড়ো ভালো লেগে গেছে "
 আমি অবাক হয়ে বললুম
"কে?????"
"এই যে এই মেয়েটা " বলে আমার দিকে মোবাইলটা এগিয়ে দিলো , আমার ভুরুটা কুঁচকে গেল , ছবির মেয়েটা পূর্বাশা
"তোকে তো দেখি এই সাথে কথা টথা বলতে সেদিনতো তোকে জড়িয়েও ধরলো   একটু দেখনা ভাই যদি কিছু করতে পারিস , আমার না সোনিয়ার সাথে কালকে ব্রেকাপ হয়ে গেছে...... "
বাকিকথা গুলো মার্ কানে ঢুকছিল না। সোনিয়াদিও  আমাদের ডিপার্মেন্টের সিনিয়র।   ব্রেকাপ শুনেও  আমি অবাক হলাম না এদের সপ্তাহে এমন গোটা তিনেক হয়ে থাকে , কিন্তু তা বলে পূর্বাশাকে লাইন মারবে তাও সেটার জন্য আবার আমাকে বলছে  , আমার ঝাঁট জ্বলে একেবারে বেগুনপোড়া হয়ে গেল, আমি বললাম
" হুমম চিনি অল্পসল্প , কিন্তু ....... আচ্ছা আমি ফিরে আসি সামনের সপ্তাহে তারপর দেখছি বুঝলে "
বাবা কালী একেবারে গদগদ হয়ে বললো ,
"ভাই সেট করে দে আমি তোকে ভালো মদ খাওয়াবো , বিপি "
"আচ্ছা সে দেখা যাবেক্ষণ, আমি এবার একটু গুছিয়ে নি কেমন "
"হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চই নিশ্চই , আমি হেল্প করবো "
"না না কোন দরকার নেই" 
"আহঃ করি না "
"নাগো লাগবে না "
বাবা কালী গ্যাট হয়ে আমার চৌকিতে বসেই রইলো , আমি চৌকির তলা থেকে ট্রলিটা বার করে ধুলো ঝাড়তে শুরু করলাম , পূর্বাশার ওপরেই আমার রাগটা জমতে লাগলো কি দরকার ছিল ওইদিন অতো বাড়াবাড়ি করার
নাও এবার ম্যাও সামলাও , সব বাঁশগুলো  কি করে ঠিক আমার পিছনটাই খুঁজে পায় সেটা নিয়ে একটা গবেষণা করা দরকার।
(চলবে )

বি দ্র - বোকচোদ কোনো খিস্তি নয় , বেহার মুলুকে বাচাল লোকজনদের ওটা বলা হয়ে থাকে , বাঙালি খিস্তি          "বোকাচোদা " এর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
       ভালো লাগলে Please share.
   

No comments: