Search This Blog

Thursday, 30 November 2017

প্যারাডক্স
         
                                                                           
৭
Valar Morghulis

ব্যাসকাশী , রাত-দুপুর


              পাশ ফিরে শুতে গিয়ে নাকে-মুখে একগাদা বালি ঢুকে গেল ,খক-খক করে কাশতে কাশতে উঠে বসতে গিয়ে গন্ডগোলটা টের পেলাম। আমার হাতদুটো  আষ্টে-পিষ্টে বাঁধা !!ঘুম একেবারে ছুটে গেল।ভালো করে চোখ খুলে দেখলাম আমি একটা বালিয়াড়িতে পড়ে আছি , রাত এখন কত আমি জানি না, হাতদুটো একধরণের অদ্ভুত দড়ি দিয়ে বাঁধা আছে , এরকম উদ্ভট  দড়ি আমি বাপের জন্মেও  দেখিনি, দেখেই বুঝতে পেরেছি এ দড়ি ছেঁড়া আমার কম্মো নয়। আস্তে আস্তে একটু কষ্ট করেই উঠে বসলাম। অন্ধকারে যতদূর দেখা ধু ধু করছে বালিয়াড়ি আর আমার একটু সামনেই  ছলাৎ ছলাৎ করে   এসে আছাড় নদীর জল আর নদীর ওপারে জীবন্ত ইতিহাসের মতো দাঁড়িয়ে আছে বারাণসী। ........
বুকটা কেঁপে উঠলো , এই জায়গাটিকে আমি বিলক্ষণ চিনি , এটা বেনারসের গঙ্গার উল্টোদিকের বালির  চড়া  যেটাকে বলা হয় ব্যাসকাশী !!!! আমি এই জনমানবহীন হতচ্ছাড়া জায়গাটায় এলাম কি করে !!!! মাথাটা আবার গুলিয়ে গেল।
  হাতদুটো পিছমোড়া করা বাঁধা ছিলোনা তাই হাত দিয়ে আগে নাকে মুখে লেগে থাকা বালি সরালাম। মাথা কাজ করছে না , যতদূর মনে পড়ছে আমি আর নবেন্দু ভাং , কাবাব পরোটা ইত্যাদি গান্ডেপিন্ডে গিলে  ধুম নেশায়  ঘাটের চাতালে শুয়ে পড়ে ছিলাম তারপর কেউ বা কারা মুখের আলো ফেলে কিছু একটা জিজ্ঞাসা করছিলো , আমরা শুধুই হাসছিলাম ব্যাস....... .তারপরে যে কি হলো আর কিছুই মনে নেই একদম ব্ল্যাক আউট।আমি দুহাত দিয়ে মাথার চুল খামচে ধরলাম , তারপর কি হলো !!!!!!!
আমি নদীর এপারের এলামটাই বা কি করে ? আমার হাত কে বাঁধলো ? নবেন্দুটাই বা  কোথায় গেল!!!!!!
ধপাস করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লাম , নেশাটা কেটে গেলেও এখনো একটা ঘুমঘুম  ভাব আছে। আকাশে  আজকে অস্বাভাবিক ভাবে অনেক তারা জ্বলজ্বল করছে , হাল্কা চাঁদের আলোও এসে পড়ছে মাঝে মাঝে। চিৎ হয়ে শুয়ে শুয়ে মনে মনে হিসাব করার চেষ্টা করছিলাম
কাশীর ঠিক উল্টো পিঠটা  হচ্ছে ব্যাসকাশী , পুরানে যেমন বলে কাশীতে মরলে স্বর্গের ফ্রি গ্যারেন্টিড  , তেমনি ব্যাসকাশীতে মরলে লোকে গাধা হয়ে জন্মায়। বিশাল চওড়া বালিয়াড়ি তার পিছনে জঙ্গল ,লোকালয়  অনেক দূরে
হাজার হাজার বছর ধরে এই জায়গাটা পরিত্যক্ত, অভিশপ্ত, দিনের বেলা অনেকে ঘুরতে এলেও   রাতে এখানে  কেউ থাকে না.. অবশ্য একদম কেউ থাকেনা বলাটা ভুল ,লোকে বলে এই বিশাল বালিয়াড়িতে নাকি রাত্রিবেলা অঘোরী সাধুরা এসে সাধনায় বসে , তারা বড়ই ভয়ানক , আধপোড়া মৃত শবের মাংস তাঁদের প্রিয় খাদ্য সেটা আমি নিজের চোখে দেখেছি , রাতেরবেলা এই জায়গায় তারা বীভৎস সব তান্ত্রিক আচার করে থাকে, সাধারণ মানুষ কেউ তখন তাদের সামনে পড়লে আর রক্ষা নেই। তাই কাশীর মানুষ সূর্য ডোবার পর  ভুলেও এই তল্লাটে থাকেনা  না,  সন্ধ্যার পরেই  খেয়া পারাপার বন্ধ হয়ে যায়।
ধড়মড় করে উঠে বসলাম , তাইতো খেয়া তো সন্ধ্যের পরেই বন্ধ হয়ে যায় তারমানে যে আমাকে এখানে এনেছে
তার নিজের নৌকা আছে ,আশেপাশে তাকালাম হাল্কা চাঁদের আলোয় নদীর জল ছাড়া আর কিছুই  তেমন চোখে পড়লো না। অতি কষ্টে নিজের পায়ে  উঠে দাঁড়ালাম ,কি ভ্যাগ্গিস পাটা বা মুখটা বাঁধেনি , বোধহয় জেনে বুঝেই বাঁধেনি , এই তল্লাট থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই ,চিৎকার করেও কোনো লাভ নেই, এখান থেকে সব থেকে কাছের জনবসতি নদীর ওইপাড়ে আর হাত বাঁধা অবস্থায় কোনোভাবেই সাঁতরে গঙ্গা পেরুনো সম্ভব নয় , আমার এবার ভয় করতে লাগলো  আমাকে এখানে যেই বেঁধে নিয়ে আসুক না কেন  সে যে নিছক প্রেমালাপ করার জন্য নিয়ে আসেনি  সে ভালো মতোই বুঝতে পারছি ,কাজেই  যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই জায়গাটা থেকে কেটে পড়া  দরকার । আমি বালির ওপর দিয়ে যতটা জোরে সম্ভব হাঁটা  শুরু করলাম।
হাঁটতে হাঁটতে পকেট হাতড়ে দেখছিলাম কিছু আছে কিনা , যথারীতি মোবাইল ,মানিব্যাগ ,রুমাল কিছুই নেই পকেট একদম ফাঁকা ,এটাই অবশ্য স্বাভাবিক। আমি মনে মনে চিন্তা করছিলাম , আচ্ছা নবেন্দুরও কি আমার মতো একই হাল ? সেও কি এই  চড়ায়  বেহুঁশ হয়ে কোথাও পড়ে আছে?  আমরা তো  ছিলাম দশাশ্বমেধ আর হরিশচন্দ্র ঘাটের
মাঝা-মাঝি একটা জায়গায় কিন্তু এখন ঠিক কোন জায়গাটায় আছি সেটা বোঝার জন্য ঘাটগুলোর দিকে তাকাতেই
বুকটা ছ্যাৎ করে উঠলো , নিজের এই অবস্থার জন্য এতক্ষন খেয়াল করিনি এইবার চোখে পড়লো  সব কটা ঘাট অন্ধকারে ক্ষুদিত পাষানের মতো পর পর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে , এটা কি করে সম্ভব হয়  !!!!!!! দশাশ্বমেধ থেকে একদম সেই রবিদাস সব কটা ঘাটেই পেল্লায় পেল্লায়  নিয়ন আলোর ব্যাবস্থা  আছে , হ্যাঁ এই মুলুকে লোডশেডিংটা একটু বাড়াবাড়ি রকমের  বেশি হয় কিন্তু বলতে নেই  মোদীজি এখানকার বিধায়ক হবার পর সে অত্যাচার তো  অনেকটাই কমে গেছে , আর আমরা  একাধিকবার রাতে ঘাটে -ঘাটে  চরে বেড়িয়েছি কিন্তু এমন থকথকে অন্ধকার তো কোনোদিনও দেখিনি।দূরের  দু একটা ঘাটে অবশ্য আগুন জ্বলছে , ওগুলো বোধহয়  মণিকর্ণিকা আর হরিশচন্দ্র , তাই যদি  হয় তাহলে আমি এখন কেদার ঘাটের কাছাকছি ঠিক উল্টোদিকের  কোনো একটা   জায়গায় আছি। আচমকা পিছনে থেকে যেন একটা  ঘোড়ার ক্ষুরের  কপাকপ কপাকপ শব্দ ভেসে আসতে লাগলো  ,সঙ্গে সঙ্গে   ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম কোথাও কিচ্ছু নেই  বালিয়াড়ি খাঁ খাঁ করছে   , দিনেরবেলা এখানে লোকজনের ভালই আনাগোনা থাকে কয়েকজন ঘোড়া নিয়ে
চড়ানোর জন্য ঝোলাঝুলিও করে কিন্তু এতো রাতে !!!!!!আমার ভয়টা এবার আস্তে আস্তে অন্যদিকে মোড় নিচ্ছিলো , ভালো করে চারপাশে তাকাতে তাকাতে হটাৎ চোখে পড়লো বেশ অনেকটা  দূরে একটা আগুন জ্বলছে , কি আশ্চর্য এতক্ষন  এটা চোখে পড়েনি কেন !!!!! বালির ওপর দিয়ে আগুনের দিকে এগিয়ে গেলাম। আগুনটা বেশ ভালোই দূরে আছে সে থাকুক গে , তবে দুম করে হাজির হবার আগে দেখতে হবে ওখানে কে আছে , আঘোরী সাধুরা ছাড়াও অনেক পুণ্যাত্মা সাধুও এখানে রাতে এসে ধ্যান করেন বলে শুনেছিলাম। আমার ডিপার্মেন্টের প্রাক্তন হেড আমাকে বড়ই স্নেহ করতেন , তাঁর কাছেই শুনেছিলাম তাঁর পরিচিত বেলুড় মঠের একজন সন্ন্যাসী প্রতিরাতে নিজে নৌকা বয়ে এখানে এসে ধ্যান করতেন , শুনে আমার বড়ো  লোভ হয়েছিল একদিন তাঁর সাথে এসে গোটা ব্যাপারটার ওপর একটা ডকুমেন্টরি বানাবো কিন্ত .............যাক সে কথা।
আগুনটার দিকে একটু একটু করে এগোতে এগোতে দেখতে পেলাম একটা প্রকান্ড কাঠের টুকরোর ওপর আগুনটা জ্বলছে কিন্তু আসে পশে আর কেউ নেই , একটু নিশ্চিত হয়ে এগোতে লাগলাম । কিন্তু আগুনটার কাছে আসার পর সেটা সেই নিশ্চিন্ত ভাবটা উড়ে গেল , আগুনটা ওই প্রকান্ড কাঠের টুকরোটার থেকে দু-তিন ইঞ্চি ওপরে জ্বলছে যেন কাঠের ওপর একটা অদৃশ্য সুতো আছে আর আগুনটা মোমবাতির শিখার মতো সেটাকে আঁকড়ে জ্বলছে।মাথা অনেকক্ষন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিলো এবার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাবার  জোগাড় হলো। দুহাত দিয়ে চোখ কচলে আরেকবার ভালো করে দেখলাম হ্যাঁ কোনো ভুল নেই , আগুনটা শূন্যেই জ্বলছে, সেইদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে  ভ্যাবা গঙ্গারামের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। কিন্তু অবাক হবার তখনো বাকি ছিল , বোধহয় আমার সাথে ঠাট্টা করার জন্যই আগুনটা আস্তে আস্তে এক ইঞ্চি দু ইঞ্চি করে ওপরে উঠতে লাগলো , প্রায় ফুট খানেক উঠে দুপ করে নিভে গেল আবার সেই অন্ধকার।
বেশ কিছুক্ষন লাগলো সেই অন্ধকারে চোখ সইয়ে নিতে, তারপরে আসে পাশে দেখতে গিয়ে একটা জিনিস চোখে পড়লো ডানদিকে বেশ খানিকটা দূরে নদীর পাড়ের দিকে  প্রকান্ড লম্বা ঢিবির মতো কিছু একটা পড়ে আছে , এতক্ষন শুধু  আগুনের দিকে তাকিয়ে মোহগ্রস্থের মতন হেঁটে আসছিলাম বলে এটা এতক্ষন চোখে পড়েনি। এই দেশে আমার বাস নেহাত কমদিন নয় , গঙ্গার এপারে স্রেফ বালি আর তরমুজখেত ছাড়া আর কিছুই নেই সেটা সেই ২০১৩ থেকে দেখে আসছি অবশ্য আজকে যা হচ্ছে আমার সাথে তার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা করতে যাওয়া বেকার। ওই ঢিবিটার
আনাচে কানাচে দু এক জায়গায়  অল্প অল্প আলো দেখতে পাচ্ছি , আর ঠিক সামনের দিকে চড়ায়  দুটো আলো জ্বলছে   একটা স্থির আর অন্যটা বার বার যাচ্ছে -আসছে আলেয়া নাকি !!!!!  ঐদিকেই তাকিয়ে ভাবছিলাম এবার কি করবো একটু আগে যেটা দেখলাম সেটার কোনো ব্যাখ্যা হয় কিনা সেটা আমার অন্তত জানা নেই , আলেয়া হতে পারতো কিন্তু সেতো পচা জলা-জমিতে হয় , বালিয়াড়িতে আলেয়া কি করে সম্ভব।  আবার পিছনে যেন সেই   ঘোড়ার ক্ষুরের  কপাকপ কপাকপ শব্দ   শুনতে পেলাম , এবার আর পিছন ফিরে দেখার সাহস হলোনা। আমি যা থাকে কপালে এই ভেবে ওই ঢিবিটার দিকে এগোতে শুরু করলাম।  যত কাছে যেতে লাগলাম ঢিবিটার আকৃতি ততই স্পষ্ট হতে লাগলো , প্রায় পঞ্চাশ গজ দূরে দাঁড়িয়ে
বুঝতে পারলাম , জিনিসটা একটা বাজরা। নাহঃ বাজরা বললে  ভুল হবে  এটা আকৃতিতে বেশ অনেকটাই  বড়ো
প্রায় একটা ছোট খাটো জাহাজ বলা চলে কিন্তু এখানে তো হাঁটু জল বললেই চলে এই জিনিস এখানে এলো কি করে। রাতের অন্ধকারেই যেটুকু দেখতে পাচ্ছি  তাতেই বেশ বুঝতে পারলাম  জাহাজটাকে বেশ অদ্ভুত দেখতে একদমই অচেনা গড়ন  সামনের দিকে কিছুর একটা বিশাল মূর্তি খোদাই করা আছে। আরেকটু এগোতেই এবার আলোর ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম জাহাজের জায়গায় জায়গায় মশাল জ্বলছে আর সামনে চড়ায় একটা মশাল জ্বলছে আর একটা একজন নিয়ে  মশাল নিয়ে এপাশ ওপাশ করছে , বিষয়টা নিঃসন্দেহে খুবই অদ্ভুত কিন্তু তাও এতক্ষন পরে দুটো মানুষ দেখে আমার  মাথাটা একটু  ঠান্ডা হলো , এরা কি আমাকে কোনরকম  সাহায্য করতে পারবে  ?? ভোর চারটার সময় করে খেয়া পারাপার শুরু হয় ততক্ষন অব্দিও যদি এদের কাছে একটু বসে থাকি তাহলেও আমার অনেক  সাহায্য  হবে। আমি আবার এগোতে শুরু করলাম দশ কি পনেরো গজ সবে এগিয়েছি এমন সময় একজন টহলদারের বোধহয় আমার ওপর কৃপাদৃষ্টি পড়লো , সঙ্গে সঙ্গে  দুর্বোধ্য ভাষায় একটা চিৎকার করে আমার দিকে দৌড়ে আসতে  লাগলো ,আর তার সঙ্গীটি  কোমর থেকে কিছু একটা বার করে ফুঁ দিতে লাগলো। আমি পুরো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম লক্ষণ তো মোটেই সুবিধার ঠেকছে না এ মহারাজ যে আমাকে চুমু খেতে আসছে না তা বলাই বাহুল্য , কিন্তু আমি আরো ঘাবড়ে গেলাম ব্যাটার সাজপোশাক দেখে বিশাল চেহারায় একটা বিটকেল বর্ম আঁটা , আর মাথায় হেলমেটের মতো কিছু একটা পরা যার দুপাশ থেকে মোষের মতন শিঙ বেরিয়ে আছে , আশ্চর্য এ জিনিসটা  যেন আমি আগে কোথাও দেখেছি। গতিক মোটেই সুবিধার নয় দেখে আমি লাফিয়ে উঠে পিছন ফিরে পালতে গেলাম কিন্তু আমার কপাল !!!!  বালিতে দুপা দৌড়েই সপাটে আছাড় খেয়ে পড়ে গেলাম , আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আমার কানের পশে সাঁৎ করে একটা একটা শব্দ করে বালিতে কিছু একটা গেঁথে গেলো , আতঙ্কের সাথে দেখলাম সেটা ফুট কতক লম্বা একটা তীর , অর্ধেকটা  বালিতে গিঁথে গেছে  বাকি অংশটার মাথায় লাগানো পালকটা তখনো আমার মতোই কাঁপছে। সে জগদ্দল খুনেটা বিজাতীয় ভাষায় চিৎকার করতে করতে আমার কাছে এসে আমার বুকের ওপর নিজের প্রকান্ড তরোয়ালটা ঠেকালো। আমার হৃৎপিন্ডটা ততক্ষনে গলার কাছে এসে দ্বিগুন বেগে লাফাচ্ছে। নিজের ক্ষুদে ক্ষুদে চোখ দিয়ে আমাকে দেখতে দেখতে সে হতভাগা তরোয়ালটা আস্তে আস্তে আমার গালের কাছে ঠেকালো , টের পেলাম তরোয়ালের ইস্পাতটা আমার গালের থেকেও ঠান্ডা আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার জোগাড় হলো বেশ বুঝলাম আমার লীলাখেলা এবার সাঙ্গ হলো বলে , ভয়ের চোটে চোখদুটো আপনাআপানি প্রায়  ঝাপসা  হয়ে গেল , হটাৎ কানে এলো একটা ঘোড়ার চিঁ  হিঁ হিঁ আওয়াজ আর   একই সঙ্গে ঝনাৎ করে একটা আওয়াজ করে ঠিক আমার পশে ধপ করে কি যেন একটা পড়ে গেল, আমি আর নিতে পারলাম না , আমার চেতনা  যেন খোলা জলে গোলা তুলির মতো আস্তে আস্তে  লোপ পেতে লাগলো , পুরোপুরি জ্ঞান হারানোর আগে আমার মাথায় একটা কথাই এলো আবার   আমি কোন  এ কোন যুগে এসে পড়লাম !!!!    
                             
                                                (অতঃপর ,চলিবে  )

বি দ্র - শারীরিক এবং শিক্ষাগত কারণে আগামী তিনদিন আপডেট দিতে এ অধম অক্ষম , রবিবার রাত ১০টায় একটি            হৃষ্টপুষ্ট কিস্তিতে সব শোধবোধ ঘোড়ার পোঁ#  করে দেব কথা রইল। আর বড়ো কষ্ট করে এইটা লিখছি
         একটু শেয়ার পেলে বুকে কিঞ্চিৎ উৎসাহ পাই। ধন্যবাদ।  

No comments: