Search This Blog

Friday, 24 November 2017

                     A-বাল ব্রম্ভচারী কথা 

আমরা তখন ঠিক "সিসু" ছিলাম না কিন্তুসেদিনও একটা 14ই নভেম্বর ছিল , আমরা জনাকয় অকালকুষ্মান্ড ক্লাস কাট মেরে গার্লস-স্কুলের অনুয়াল স্পোর্টস দেখবো বলে মাঠের কোণে জমায়েত হচ্ছি , আর তখন আমাদের এক্কেবারে  বালক  বয়স  , সদ্য গজানো কচি রোঁয়ার চুলবুলানি সবে শুরু হয়েছে কি হয়নি এমন এক জটিল উত্তেজক  বয়সকালে আমাদের  বন্ধু পেটি সেই বিকালে  একটা  চরম  বোমা ফাটিয়ে দিল,আগেই বলে নি মালটা ঠিক আমার ডাইরেক্ট বন্ধু ছিল না ও ছিল আমার আরেক বন্ধু   ভোঁদাইয়ের(অবশ্যই নাম পরিবর্তিত ) জিগরি দোস্ত , আমাদের স্কুলেও পড়তো না , কোচিংয়েও না এমন কি আমাদের থেকে এক ক্লাস উঁচুতে পড়তো  তাও কোনোও  ভাবে ঠিক আলাপ হয়ে গিয়েছিলো , ঐদিন ও আমাদের সঙ্গেও ছিল না, পেটি বেসিক্যালি মার্কামারা আঁতেল পড়াকু টাইপের মাল  কিন্তু মাঠের পাশের গলিতেই ওর বাড়ি ছিল তাই  স্কুল থেকে ফেরার পথে আমাকে মার্কামারা  কয়জনের সাথে  দেখতে পায় ব্যাস আর  যায় কোথা
সোজা এসে চার্জ
"তোর লজ্জা করেনা স্কুল কাট মেরে মেয়েদের দৌড় ঝাঁপ দেখতে এসেছিস ছি ছি ছি , এভাবে কেউ  নিজের সময়  নষ্ট করে  , কি লাভ হয় এসব করে ??? ওরে নারী শরীর হলো মায়া ব্ল্যাকহোল এর মতো তোকে শুষে নিয়ে  কোথায় ফেলে দেবে তুই টের ও পাবিনা ভাই , তুই  আমার  কথা, তুই আয় আমার সাথে আমি তোকে দেখাচ্ছি  ......................."
পেটির বক্তৃতার তোড়ে আমি পুরো হাবুডুবু খেতে খেতে ভ্যাবলা হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম  আর আমার এই অসহায়তার  সুযোগ নিয়ে পেটি আমাকে টেনে নিয়ে গিয়ে  ল্যান্ড করলো সোজা ওর রুমে , এর আগে আমি ওর বাড়ি এলেও ভিতরে ঢুকিনি , আমাকে ফেলে  পেটি উধাও হয়ে গেল সেই সুযোগে ওর রুমের জিনিসপত্র দেখে আমি থ , দেওয়ালে স্বামীজীর
গোটা পাঁচেক পোস্টার , বুককেসে বিবেকানন্দ-রচনাবলী থেকে শুরু করে ধ্যান যোগ জ্ঞান যোগের বইয়ে ভর্তি ,
বাপরে বাপ্ ছেলে করেছে কি !!! সত্যি বলতে কি সেই সময়ে গার্লস স্কুলের বাইরের ভেলপুরিয়ালার কাছে আমার মাসিক দেনা পাওনার  খাতা ছিল  আর এই ছোকরা কিনা  !!!! টুক করে পালিয়ে যাবো কিনা ভাবছিলুম কিন্ত এমন সময় চানাচুর ,পেঁয়াজ আর  তেল দিয়ে মাখা এক গামলা মুড়ি নিয়ে পেটি হাজির হলো
" বুঝলি তো ব্রম্ভচর্যই হলো আসল বাকি সব মায়া , আসলে  তোর মনটা  একেবারে ডুবে আছে ওর চিত্তশুদ্ধি দরকার   আয় মুড়ি খা ,"
ব্যাস তারপরের ভয়াবহ দুঘন্টার কথা নাই বা বললাম , পরের দিন ইস্কুলে গিয়ে ভোদাইকে ধরলাম
"ভাই তোর বন্ধু ......"
ভোদাই চোখ বড়ো বড়ো করে বলল
"জানিস ও ধ্যান করে , ওর রুমে ওর বিছানায় বসে , আমি একবার গিয়েছিলাম ওর দরজা বন্ধ অনেক ডাকার পর খুললো  তারপর  ওর বিছানায় বসতে গিয়ে দেখি একেবারে তেতে আছে , ধ্যানের ক্ষমতা বুঝলি "
আমরা তখন সবে চোদ্দো আর পেটি পনেরো এই বয়সেই ছেলে সেরেফ ধ্যান করে বিছানা গরম করে দিচ্ছে এতো মহাপুরুষ না হয়ে যায় না।
এরপর আমরা নাইন থেকে টেনে উঠলাম , জীবনে বাঁশবন একটা নিয়মিত গন্তব্য হয়ে দেখা দিলো  ,আমরা ইলেভেনে উঠলাম একরবিবার বিকালে  মাঠে খেলছি এমন সময় জানা গেল পেটির বাড়ি পুরো  ফাঁকা ,আজকে গোটা সন্ধ্যা আর সে যুগে পেটির দাদা পাতালভৈরব (এই নামের পিছনে অন্য একটা কেচ্ছা আছে পরে একদিন বলবো ) এর একটা ল্যাপটপ ছিল প্ল্যান হলো তাতে করে পানু দেখা হবে , পেটির বাড়ির সেই বিখ্যাত গরম বিছানার ওপর আমার দশ জন সার বেঁধে বসলাম পেটি প্লে করে দিয়ে পাশের ঘরে অঙ্ক করতে চলে গেল আর বলল
ঘরের আলো যেন না নেবানো হয় আর ল্যাপটপ যেন কেউ টাচ না করে , সেসব বয়সে উত্তেজনা সামলানো অসম্ভব ছিল কাজেই ভিডিও একটু এগোতেই সবাই উসখুস করে উঠলো শেষ কালে একজন আর থাকতে না পেরে আলোটা নিবিয়ে দিলো ব্যাস পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে পেটি ওঘর থেকে দৌড়ে এসে ল্যাপটপ বন্ধ করে দিলো ,...... তারপরের ঘটনা সে এক অন্য ইতিহাস।
এই ইলেভেনে থাকতে থাকতে শুনতে পেলাম পেটি একটা দল খুলেছে , বেরেম্ভচারী আসোসিয়েশন  আর ও তার পেসিডেন ,সদস্য সংখ্যা আপাতত পাঁচ।  সেই বয়সে যা হয় আর কি প্রেম করার চেষ্টা করে পনেরোজন , জোটে জনের বাকিরা হাফ-সোল কাজেই টুয়েলভের পরীক্ষা দেবার সময় সদস্য-সংখ্যা হয়ে গেল প্রায় একডজন।
কিন্ত যা হয় আর কি কলেজে উঠেই কয়েকমাসে সদস্য-সংখ্যা কমে দুইতে এসে ঠেকলো , তারপর আর জানিনা।
কলেজে পেরিয়ে য়ুনিভার্সিটিতে উঠেছি একদিন ভোঁদাইয়ের সাথে দেখা , একথা সেকথার পর পেটির কথা তুলতে ফিক করে হাসলো , বললো সে পাড়ার এক মেয়ের সাথে প্রেম করছে বলেই আবার হাসি,
আমি একটু ঘেঁটে গেলাম পেটি আর প্রেম !!! হতেই পারে  অসম্ভব কি। কিন্ত ভোঁদায়ের হাঁসিটা দেখে মনে একটা কুটিল সন্দেহ জাগলো  আমি জিজ্ঞাসা করার আগেই বলল " পাতালভৈরব এখন মন্দিরতলায় ওষুধের দোকান দিয়েছে সারাদিন ওখানেই থাকে আর কাকিমা-কাকু এখনোও  চাকরি করে যাচ্ছেন আর পেটি রিসার্চ করছে রোজ বেরোনো থাকেনা বুঝলি তো পাড়ার মেয়ে। ..........."
আমি সোজা হয়ে বসলাম একঝটকায় ব্রম্ভচর্য , গরম বিছানা  সব মনে পড়ে গেল , হায়রে বেরেম্ভচারী এসোসিয়েশনের পেসিডেন , আজ সে যথার্থই বিছানা গরম করছে হা হতোস্মি !!!
এরপর অনেকদিন কেটে গেছে পেটির সাথে তারপর মাত্র একবারই দেখা হয়েছিল গতবছর , আজকে সকালে সে একটা
স্কুটি চালিয়ে আমার বাড়ি এসে হাজির হাতে হলদিরামিও লাড্ডুর বাক্স দেখা হতেই আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো "ভাই বাবা হলাম , মেয়ে হয়েছে বুঝলি তো .........."
আমি যে জবাব দিলাম নিজেরই খেয়াল নেই অনেক কিছু বলার ছিল কিন্ত ওর জেনুইন খুব খুশি মুখটা দেখে আর বলে উঠতে পারলাম না , ও নিজেই সব বলে দিয়ে "আসি রে আরো চোদ্দ জায়গায় যাবার আছে রে " বলে স্কুটি চালিয়ে হাওয়া হয়ে গেল আমি মুখে লাড্ডু গুঁজে বসে রইলাম , বলতেই পারলাম যে , ভাই তোর বিয়েতে খেলাম এই বছরের
ফেব্রুয়ারী মাসে আর এই নভেম্বরের মধ্যেই  তুই একেবারে  সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দিলি!!!!!!!!!!!
But Who Am I To Judge ????

সাধক বলেছেন না "সকলি তোমারই ইচ্ছা , ইচ্ছাময়ী তারা তুমি
                             "তোমার কর্ম তুমি করো মা লোকে বলে করি আমি
"

বি দ্র - যেসকল সহৃদয় জনগণ এই অধমের লেখায় লাইক করেন তেনারা যদি আর এট্টু কষ্ট করে শেয়ার টাও করেন তাহলে বড়ো ভালো লাগে, এই গরিবের আর কোনো দাবি নেই।  ধন্যবাদ     


No comments: