ভারতবর্ষের ১৫টি বিখ্যাত হাড়হিম করা ভূতুড়ে জায়গা
ভূত থাকুক ছাই না থাকুক , ভূতুড়ে জায়গাগুলি কিন্তু ঠিক থেকেই যায় ,আসুন একনজরে দেখেনি আমাদের এই বিশাল দেশের পনেরোটি এমন জায়গা যেগুলি ভূতের উৎপাতের জন্য রীতিমতো বিখ্যাত।
১৫) বৃন্দাবন আপার্টমেন্ট ,থানে (মহারাষ্ট্র )- ঘটনাটি শুরু হয়েছিল
বৃন্দাবন সোসাইটির 66B নং বিল্ডিংএ বসবাসকারী একজন লোক আত্মহত্যা করার পর থেকেই। মনেকরে হয় তার আত্মা গভীর রাতের অন্ধকারে মানুষকে চড় মারে ।বিল্ডিংয়ের নাইট গার্ডরা যারাই রাতের ডিউটি করেছেন প্রত্যেকেই বলেছেন একটি অদৃশ্য শক্তি তাদের বার বার আঘাত করছে এবং চড় মেরেছে এবং তারা কেউ কাছাকাছি কিছুই খুঁজে পাননি আপার্টমেন্টের অন্য বাসিন্দারাও রাতে তাদের ফ্ল্যাটে আত্মার উপস্থিতি অনুভব করেছেন বা বাইরে তার আত্মাকে দেখেছেন বলে অনেকে দাবি করেছেন। "The slapping ghost" হিসাবে খ্যাত এই ভূতুড়ে কান্ডকারখানার ফলে এই বৃন্দাবন এপার্টমেন্ট ভারতের একটি বিখ্যাত ভূতুড়ে জায়গাতে পরিণত হয়েছে , এখনো এখানে লোকজন বসবাস করে বটে , 66B নং বিল্ডিংয়ের কিছু একটা অস্বস্তিকর ব্যাপার তাঁরা প্রায়শই অনুভব করে থাকেন , যদিও অতৃপ্ত প্রেতের চড় মারার কারণ এখনো অব্দি অজানাই থেকে গেছে।
১৪) রামোজি ফিল্ম সিটি , হায়দ্রাবাদ (তেলেঙ্গানা )-ভূত থাকুক ছাই না থাকুক , ভূতুড়ে জায়গাগুলি কিন্তু ঠিক থেকেই যায় ,আসুন একনজরে দেখেনি আমাদের এই বিশাল দেশের পনেরোটি এমন জায়গা যেগুলি ভূতের উৎপাতের জন্য রীতিমতো বিখ্যাত।
১৫) বৃন্দাবন আপার্টমেন্ট ,থানে (মহারাষ্ট্র )- ঘটনাটি শুরু হয়েছিল
রামোজী ফিল্ম সিটি , সিনেমার জন্য এটি যেমন একটি বিখ্যাত শুটিং সাইট তেমনি একটি সাথে এটি হায়দ্রাবাদের সবচেয়ে ভুতুড়ে জায়গাও বটে । একাধিকবার বহু অভিনেতারা স্বীকার করেছেন যে তাঁরা যখন নিজের শুটিংয়ের জন্য রেডি হচ্ছেন সেই রকম সময় আয়নাতে ভৌতিক কিছু দেখেছেন , এবং রোগাপাতলা কয়েকজনের বক্তব্য যে কিছু অদ্ভুত কিছু একটা উঁচু জায়গা থেকে তাদের ধাক্কা দিতে চেয়েছে ।অনেকে নাকি গভীররাতে মৃত সৈনিকদের সাড়াও পেয়েছেন , একাধিকবার। পুরানো লোককাহিনী অনুযায়ী, লোকেরা বলে যে এখানে কিছু লোক সৈন্যরা ঘুরে বেড়াচ্ছে যারা নিজামের যুদ্ধের মধ্যে মারা গিয়েছিলো। ১৩) স্যাভয় হোটেল ,মুসৌরী (উত্তরাখন্ড )- স্যাভয় হোটেলে মুসৌরীর অন্যতম সেরা হোটেল হিসাবে বিবেচিত কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই হোটেলটি ভুতুড়ে সমস্যায় জর্জরিত । অনেক বছর আগে,১৯১১সালে হোটেলে একটি ঘরে রহস্যময় পরিস্থিতিতে লেডি গার্নিট অরমি মারা যায়।তাঁর মৃত্যুর কোনো কিনারা হয়নি তারপর থেকে, এই হোটেলটির একটি অংশ এখনও এই মহিলার ভুতুড়ে উপস্থিতি টের পাওয়া যায়,অতিথিরা এবং হোটেলের কর্মচারীরা বহুবার অদ্ভুত শব্দ শুনেছেন এবং সাদা একটি ভদ্রমহিলাকে দেখেছেন। মুসৌরীর এই স্যাভয় হোটেলের এই অমীমাংসিত মামলাকে কেন্দ্র করেই আগাথা খ্রিস্টি পৃথিবীকে উপহার দিয়েছিলেন তার প্রথম উপন্যাস The Mysterious Affair at Styles (1920).
১২) ডাউন হিল কার্শিয়ং ,(পশ্চিমবঙ্গ )-স্থানীয়লোকের মতে ভিক্টোরিয়া বয়েজ হাই স্কুলটি একটি অভিশপ্ত স্থান এবং ভূতুড়ে কাণ্ডের অন্যতম ঘাঁটি । স্কুল থেকে বন্ধ হয়ে গেলেও ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত স্কুল থেকে ফিসফিস করে কথার শব্দ , পায়ের শব্দ , অদ্ভুত একটা অনুভূতি লক্ষ্য করা যায় । স্কুলের কাছাকাছি ডাউন হিল বনটি নিঃসন্দেহে একটি রহস্যময় স্থান, কেননা এই বনে বিপুল সংখ্যক মানুষের দুর্ঘটনা বা কোনো রহস্যময় কারণে মৃত্যু হয়েছে ,ডাউন হিল রোড এবং বন অফিসের মধ্যে রাস্তাটি ডেন্টাল রোড নামে পরিচিত। যে রাস্তাতে বিভিন্ন সময়ে অনেকেই একটি রক্তজল করা অভিজ্ঞতার কথা বলে, মাঝে মাঝেই একটি মুন্ডহীন বাচ্ছাছেলেকে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে এবং গাছের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখা যায়, স্থানীয়রা আরো বলে যে তারা খুব অন্ধকার জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাবার সময় হটাৎ করে দুটি লাল চোখ দেখেছে , ধূসর কাপড় পড়া একটি মহিলাকে বনে অনেক বার দেখা গেছে যারা তার অনুসরণ করার চেষ্টা করেছিল তারা কোনোদিনও সফল হয়নি । কখনও কখনও অপার্থিব মেয়েলি চিৎকার এই বন থেকে বেরিয়ে আসে সবার মনে আতঙ্কর সঞ্চার করে থাকে। ১১) অগ্রসেন কি বাওলি ,দিল্লী - এই অগ্রসেন কি বাওলি একটি কুয়ো কে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে ,যদিও কুয়োর জল বহুদিন শুকিয়ে গেছে। কিন্তু বাওলির যত গভীরে নামা যায় ,তত বাইরের শব্দ আস্তে আস্তে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তারপর যা অবশিষ্ট থাকে তা নিজের পায়ের প্রতিধ্বনি। একটি সম্পূর্ণ শূন্য নীরবতার মধ্যে শব্দ আরো জোরে হয়ে ওঠে, বাতাস ক্রমশ আরও ভারী হয়ে যায়। ক্রমে একটি দৃঢ় এবং অত্যন্ত অস্বস্তিকর একটা অনুভূতি যেন চেপে ধরে । অনেকে বলে যে বাওলি শয়তানের বাসা । বাদুড়ের এবং পায়রার ডানা ঝাপটানির শব্দগুলি পরিস্থিতি আরো বিশ্রী করে তোলে । আগে বাওলি কালো জল দিয়ে ভরা থাকতো এবং মনে করা হত এটি মানুষকে অদ্ভুতভাবে ডাকে এবং তাকে আত্মহত্যার জন্য প্রলুব্ধ করে তোলে । অন্ধকারের পরে বাওলি পরিদর্শন করতে দেয়া হয়না পরামর্শ দেওয়া হয় সময় 9 am -5pm এর মধ্যে জায়গাটি ঘুরে দেখার পরামর্শ দেয়া হয়। ১০)সঞ্জয় বন, দিল্লী -দক্ষিণ দিল্লির বসন্ত কুঞ্জ এলাকার কাছে প্রায় 10 কিলোমিটারের সবুজ গাছপালা সঞ্জয় বন একটি ভৌতিক জায়গা । এই এলাকায় সুফি সন্তদের অনেক মাজার রয়েছে এবং বনের মাঝখানে কিলা রায় পীথোরাের সময়কালে নির্মিত ভাঙা বাঁধের ধংসস্থানও দেখা যায় ।অনেকেই শুনছে কেউ কাঁদছে এবং বাচ্চারা চিৎকার করছে , অন্য অনেকে আবার সাদা পোশাক পরিহিত একটি মহিলাকে দেখেছে যে ঝোপের চারপাশে হাঁটতে হাঁটতে অদৃশ্য হয়ে গেছে ,সঞ্জয় বনে প্রচুর পুরানো বটগাছ এবং পিপল গাছ আছে যা ভূতেদের আদর্শ বাসস্থান। ৯) শনিবারবাড়া দুর্গ ,পুনে (মহারাষ্ট্র )-"বাজিরাও -মস্তানী" সিনেমার দৌলতে অনেকেই এই দুর্গের নামের সাথে পরিচিত ,কিন্তু এখানের ভৌতিক ঘটনার কাহিনীটি অন্য সেটি হল ,একটি রাজকুমারের গল্প, যিনি ষোলো বছর বয়সে ক্ষমতায় আসেন।তাঁর কাকা তাঁর পক্ষে ছিলেন । কিন্তু তাঁর স্ত্রী সুখী ছিলেন না এবং তিনি রাজকুমারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন, যখন রাজকুমার জানতে পারেন যে তাকে হত্যা করা হবে তখন তিনি শেষরক্ষার জন্য "কাকা মালা ভাচাওয়া" (কাকা আমাকে বাঁচান ) বলে আর্তনাদ করতে করতে কাকার মহলে পালানোর ব্যার্থ চেষ্টা করেন । তার পর থেকেই প্রতি পূর্ণিমার রাত্রে সেই আর্তনাদের প্রতিধ্বনি শুনতে পাওয়া যায় । ৮)কুলধারা ,রাজস্থান- জয়সালমীরের কুড়ি কিমি পশ্চিমে কুলধারা গ্রাম যা প্রায় দুশো বছর ধরে পরিত্যক্ত। দুশো বছর আগে কুলধারা গ্রামে পালিয়াল ব্রাম্ভনদের বাস ছিলো , জয়সালমীরের নিষ্ঠুর অত্যাচারী দেওয়ান সেলিম সিংয়ের নজর পড়ে গ্রামের মোড়লের যুবতী সুন্দরী মেয়ের ওপর, সেলিম সিং তাকে পাবার জন্য ক্ষেপে ওঠে , সে হুমকি দেয় যদি গ্রামবাসীরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করে তাহলে সে তাদের খাজনার পরিমান অনেকগুন বাড়িয়ে দেবে। দেওয়ানের ভয়ে গ্রামবাসীরা সবাই রাতারাতি গ্রাম ত্যাগ করে ,এক রাতের মধ্যে সম্পূর্ণ গ্রামের লোকজন স্রেফ উধাও হয়ে যায়।তাদেরকে কেউ আর কোনোদিনও খুঁজে পায়নি কথিত আছে তারা যাবার আগে অভিশাপ দিয়ে যায় এই গ্রামে আর কোনোদিনও কেউ বাস করতে পারবেনা। সেই থেকে এই গ্রাম পরিত্যক্ত আজও কেউ এখানে বাস করেনি ,অনেকে বলে সেই গ্রামবাসীদের আত্মা এখনো ওই গ্রামকে পাহারা দিচ্ছে কেউ যাতে ওখানে থাকতে না পারে। বর্তমানে গ্রামটি ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের হেরিটেজ গ্রামের তকমা নিয়ে একই রকমভাবে পরিত্যক্ত হয়ে আছে। ৭) টানেল নং ৩৩, শিমলা (হিমাচল প্রদেশ )- এটি শিমলা -কালকা রেলওয়ের সব থেকে লম্বা টানেল। টানেলটির নির্মানের দায়িত্বে ছিলেন কর্নেল বার্গ ,১৮৯৮ সালে তিনি এই কাজের দায়িত্ব পান ,পাহাড়ের দুদিকে একসাথে খোদাই চালিয়ে মাঝখানে মিলিত হবার প্ল্যান করে তিনি কাজ শুরু করলেও হিসাবের ভুলের জন্য মাঝখানে মিলিত হওয়া যায়না , বর্গের চাকরী যায় লাঞ্চিত ও অপমানিত হয়ে তিনি ওই টানেলে ধুকে নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন। পরে হারলিংটন নামে একজন নতুন করে সুড়ঙ্গ কেটে কাজ শেষ করেন। অনেকেই বলেছে বর্গ সাহেব নাকি এখনো টানেলটির মায়া ছাড়তে পারেনি মাঝে মাঝেই দেখতে আসেন ,অচেনা লোকের কাছে সিগারেট ধরানোর জন্য দেশলাই চান কোথাও বলেন তারপরেই আচমকা অদৃশ্য হয়ে যান, তিনি কখনো কারোর ক্ষতি করেন না। মাঝে মাঝে নাকি একটি মহিলাকে চিৎকার করতে করতে টানেলের মধ্যে ঢুকে যেতেও দেখা যায়।সরকার থেকে একাধিকবার টানেলের প্রথম মুখটি সিল করে দেবার চেষ্টা করেও সফল হয়নি , প্রতিবার দেখা সিলটি ভেঙে গেছে। বর্গ সাহেবের ভূত ভালোমানুষ প্রকৃতির হলেও এই জায়গাটি তার জন্যই ভূতুড়ে হিসাবে বিখ্যাত হয়েছে। ৬)ডুমাস বিচ ,গুজরাট-সুরাট থেকে একুশ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে এই বেলাভূমির অবস্থান। এই ডুমাস বিচ দুটি কারণে বিখ্যাত ,এক এখানকার গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ বেলাভূমি ,দুই রাতে এখানের ভয়াবহতা। সুরাটের অন্যতম সুন্দর বেলাভূমির মধ্যে এটি একটি হলেও এককালে এখানে শবদাহ করা হতো প্রচলিত মত হচ্ছে ওই চিতার ছাই থেকেই নাকি এখানকার বালি কালো হয়ে গেছে। রাতে এখানের পরিবেশ ভয়াবহ হয়ে ওঠে , প্রাচীন অতৃপ্ত আত্মারা নাকি এখানে চলাফেরা করে অনেকেই নাকি দূর থেকে তাদের আওয়াজ পেয়েছে ,এই বিচে সূর্যাস্তের পর প্রবেশ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ , যে কয়জন নিষেধ অমান্য করে গিয়েছে তাদের আর কোনোদিনও খুঁজে পাওয়া যায়নি , শুধু একবার একজনের জীব বেরিয়ে আসা ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল।অনেকের মতে এটি গুজরাটের সব থেকে ভয়ংকর ভৌতিক জায়গা। ৫) লম্বীদেহার খনি ,মুসৌরী - মুসৌরীর থেকে খানিকদূরে পাহাড়ি উপত্যকায় এই খনিটি অবস্থিত ,এখানের সাথে দুটি কাহিনী জড়িয়ে আছে , এক ইংরেজ আমলে খনির কাজের জন্য এখানে প্রায় পঞ্চাশহাজার শ্রমিকদের একটি বসতি গড়ে উঠেছিল একদিন খনির দুর্ঘটনার জন্য সবাই মারা যায় এবং খনির কাজ চিরকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় এবং তারপর থেকেই তাদের আত্মারা এখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দুই একজন পাহাড়ি ডাইনী এখানে বাস করে যে রাতের বেলায় পাহাড় থেকে মানুষের প্রাণনাশের জন্য ঘুরে বেড়ায়। পাহাড়ি হিমালয়ের কোলের কাছে অবস্থিত বুঝে যাওয়া এই খনির মুখ এমনিতেই প্রাকৃতিকভাবেই যথেষ্ট ভয়াবহ তারপর এখানে একাধিক মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা এই জায়গাটিকে আরও আতঙ্কের প্রতিমূর্তি হিসাবে বিখ্যাত করে তুলেছে। ৪)ফার্নহিল হোটেল ,উটি (কর্ণাটক )- বিখ্যাত হিন্দি ভূতের সিনেমা রাজ এর কল্যানে এই হোটেলটির সাথে অনেকেই পরিচিত ,অভিনেত্রী বিপাশা বসু একদা একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন , তাঁদের ভূতের সিনেমার শুটিংয়ের সময় বেশ কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিলো , নৃত্যপরিচালক সরোজ খান এবং তার দল যখন গভীর রাতে হোটেলে প্রবেশ করেছিলেন তারা ঘুমাতে পারেননি ওপরের তলায় ভারী জিনিসপত্রর শব্দের চোটে ,রিসেপশনে ফোন করতে গিয়ে দেখা যায় লাইন ডেড , অবশেষে কয়েকজন আর সহ্য করতে না পেরে বাইরে এসে হোটেলের লোককে অভিযোগ করতে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে দেখেন তাঁদের তোলাটাই হোটেলের শেষ তলা তারপর আর কোনো তলা নেই। এই হোটেলটি বর্তমানে অনেক ভৌতিক অভিযোগের কারণে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ৩) তিন রাজার গির্জা ,গোয়া - বহু বছর আগে গোয়ার তিনজন পর্তুগিজ রাজা ছিলেন ,স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে সবসময় যুদ্ধ লেগেই থাকতো , একা আধিপত্যের আশা নিয়ে হোলগার নামক একটি রাজা অন্য দুজনকে এই গির্জায় সন্ধিপ্রস্তাব দিয়ে নিমন্ত্রণ করেন , তাঁরা এলে ওই দুই রাজার খাবারে বিষ মিশিয়ে তাঁদের হত্যা করেন। কিন্তু জনগণ এই ঘটনায় ক্ষেপে গিয়ে রাজাকে আক্রমণ করতে এলে তিনিও বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। তিন রাজাকে ওই গির্জাতেই সমাধিস্থ করা হয়। স্থানীয় অনেকের কাছে এই জায়গাটি অত্যন্ত ভয়ের তারা মনে করেন ,ওই তিন রাজার অতৃপ্ত আত্মা এখনো একে অন্যের সাথে লড়ে যাচ্ছেন।অনেকেই এই গির্জায় একটা দমবন্ধ অমানবিক কিছু একটা অনুভব করেছেন , এই জায়গাটি গোয়ার অন্যতম ভয়ের জায়গা। ২) ভানগড় দুর্গ ,রাজস্থান- জয়পুর এবং আলোয়ারের মাঝে অবস্থিত ধ্বংসস্তূপ ভানগড় যার মাঝে অবস্থিত এই দুর্গটি ভারতের সেরা ভৌতিক জায়গার খেতাব লাভ করেছে। রাজা ভগবন্ত দাস ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে এই ভানগড় নগর স্থাপন করেন তাঁর দুই পুত্রের মধ্যে একজন হলেন আকবরের সেনাপতি রাজা মান সিংহ।১৬১৩ খ্রিস্টাব্দে রাজা মাধো সিং এই দুর্গ নির্মাণ করেন। এই জায়গার অলৌকিক ঘটনার পিছনে কারণ হিসাবে দুটি গল্প আছে এক - রাজা মাধো সিং এই নগর নির্মাণের সময় একজন তপস্বী সাধক গুরু বালুনাথ যিনি এখানে তপস্যা করতেন তাঁর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিলেন যে রাজপ্রাসাদের ছায়া সাধককে কোনোভাবেই তাঁর সাধনস্থলে স্পর্শ করবে না যদি তা হয় তাহলে এই নগর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। ক্রমে ক্রমে ভানগড় দুর্গ তৈরী হবার সময় ওই সাধকের নিষিদ্ধ স্থলে প্রাসাদের ছায়া পড়তে শুরু করে,তারপর সাধকের অলৌকিক শক্তিবলে সমগ্র নগর ধ্বংস হয়ে যায় এবং ওই জায়গায় বা দুর্গের প্রাসাদে কোথাও কোনো নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়না নিজে নিজেই নষ্ট হয়ে যায় দুই -এই নগরের রানী ছিলেন রত্নাবতী ,তাঁর অসাধারণ সৌন্দর্য্যের খ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল ,সিংঘিয়া নামে একটি দুষ্ট তান্ত্রিক রানীকে লাভ করার জন্য অশুভ কালো যাদুর সাহায্যে একটি চক্রান্ত করে রানীকে একটি মন্ত্রপূত তেল পাঠায় যা স্পর্শ করলেই রানী নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন , কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে রানী এই ঘটনা জানতে পেরে সেই তেলের পাত্রটিকে ফেলে দেন যা মাটিতে পড়া মাত্রই পাথরে পরিণত হয় এবং গড়িয়ে গড়িয়ে গিয়ে তা তান্ত্রিককে পিষে হত্যা করে মরার আগে সিংঘিয়া অভিশাপ দিয়ে যায় এই শহর ধ্বংস হয়ে যাবে এবং এখানে আর কেউ জন্ম নেবেনা। এই ঘটনার কিছুদিন পরেই ভানগড় এবং আজবগড়ের মধ্যে এক মারাত্বক যুদ্ধে রানী রত্নাবতী নিহত হন এবং ভানগড় নগর ধ্বংস হয়ে যায়। যদিও আজও অনেকে মনে করেন রানী রত্নাবতী পুনর্জন্ম নিয়েছেন এবং তিনি একদিন এসে এই পৈশাচিক অভিশাপ শেষ করবেন। "এখানে সূর্যাস্তের পর প্রবেশ করা বা অবস্থান করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ , ধরা পড়লে যথাযত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে" এই দুর্গের বাইরে ভারতীয় পুরাতত্ব বিভাগের একটি নোটিশ বোর্ডে বড়ো বড়ো এই কথা লেখা আছে , অনেকেই ভানগড়ে রাতের বেলা বিশেষ একরকমের গন্ধ বা হাঁসি আর্তনাদের শব্দ পেয়েছেন , কয়েকজন হাল্কা মূর্তিও লক্ষ্য করেছেন ,অন্ধকারে আচমকা এল জ্বলে ওঠা বা মহলে নাচ গানের জলসার ভাসা ভাসা আওয়াজও অনেকে শুনেছেন , কয়েকজন রাতে একা গিয়েছিলেন রহস্যভেদে তাদের প্রায় সবাই নিখোঁজ হয়ে গেছে কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই জায়গাটি সরকারি ভাবে ভূতুড়ে এবং বিপদজনক বলে স্বীকৃত, এবং এ দেশের সব থেকে বিখ্যাত ভৌতিক স্থান।
বি. দ্র.-উপরোক্ত জায়গা এবং তৎসংলগ্ন ঘটনা এগুলি পরিবেশন করা হয়েছে নিছকই মজার জন্য , কেউ বা কারোর
কোনো প্রকার ভাবাবেগকে আহত করার কোনো উদ্যেশ্য এই লেখাই নেই ,কোনোভাবে তা ঘটে থাকলে তা একান্তই অনভিপ্রেত
No comments:
Post a Comment