কলকাতার তিনশো বছরের ইতিহাসে বহু অলৌকিক ও অস্বাভাবিক ঘটনা খুঁজে পাওয়া যায়। প্রাচীন সময়ের অশরীরীরা শহরের অনেক জায়গায় এখনো নাকি দাপিয়ে বেড়ায়। বেশিদিনের কথা নয় ৩১শে মার্চ ভেঙে পড়েছিল বিবেকানন্দ রোডের ফ্লাইওভার , তারপরে কেটে গেছে প্রায় দু বছর কিন্তু এখনো নাকি গণেশ টকিজ এলাকায় দিনরাতে কোনো কোনো আগন্তুক স্থানীয়দেরজল চাইছেন! প্রবল গরমে জল চাওয়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু তা দিতে গিয়েই যেন হুঁশ ফেরে, চোখের পলকে আগন্তুক উধাও! দু-একজন নয়, এরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে অনেকেরই। এখানেই শেষ নয়! একই এলাকা থেকে ট্যাক্সিতে উঠেছেন যাত্রী। কিছুটা এগোতেই চালক পেছন ফিরে দেখেন খালি ট্যাক্সি; আসনটাই যে ফাঁকা! তাহলে একটু আগে ওঠা যাত্রী গেল কোথায়? এমন কিছু কি সত্যিই হচ্ছে? ঘটনার সত্যতা নিয়ে বাড়ছে রহস্য।
শহর কলকাতার ইতিহাস ঘেঁটে জোগাড় করা গেল কয়েকটা বিখ্যাত জায়গার খবর ,যেখানে পুজো ডুবলেই শুরু হয় অশরীরীদের রাজত্ব ,

শহর কলকাতার ইতিহাস ঘেঁটে জোগাড় করা গেল কয়েকটা বিখ্যাত জায়গার খবর ,যেখানে পুজো ডুবলেই শুরু হয় অশরীরীদের রাজত্ব ,

কলকাতা মিউজিয়াম
কলকাতার ভুতুড়ে জায়গাগুলির মধ্যে অন্যতম ভারতীয় জাদুঘর। ১৮১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নির্মিত মিউজিয়ামটি নিয়ে জল্পনাকল্পনার কমতি নেই. পাশের রাস্তাটি অর্থাৎ সদর স্ট্রিটে আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর থাকতেন ওয়্যারস্ট্রিংসের স্পিক সাহেব।এই স্পিক সাহেবের কাছে এক বিশেষ আরজি নিয়ে এসেছিলেন এক শিখ যুবক, কৃতকার্য না হওয়ায় তিনি চড়াও হন সাহেবের ওপর হঠাৎই শোনা গেল রাইফেলের তীব্র শব্দ। লুটিয়ে পড়ল যুবকের রক্তাক্ত দেহ। রাত বিরাতে এ স্মৃতি নাকি এখনো ফিরে আসে। শোনা যায় গুম গুম শব্দ। এখানেই শেষ নয়। গভীর রাতের অন্ধকারে কে যেন কাপড় মুড়ি দিয়ে আজও বেড়িয়ে যায়। কাঠের বাক্সে শুয়ে রাখা নিথর মমিতেও এমন কাহিনী কম নেই। এখনো নাকি মধ্যরাতে নর্তকীর নাচের শব্দ ভেসে ওঠে। কে বা কারা এসব ঘটনার সৃষ্টি করছে আজও সবার কাছে অজানা। এমনি সব ভয়ঙ্কর ও রহস্যময়ী ভুতুড়ে কাহিনী লিখেছিলেন অবনিন্দ্রনাথ ঠাকুর! যে লেখার পাণ্ডুলিপি আজও মিউজিয়ামে সংরক্ষিত।

সাউথ পার্কস্ট্রিট সিমেট্রি
শহরের নিমতলা, ক্যাওড়াতলা শ্মশান ঘাট খানিকটা আলোময় দেখালেও শহরের প্রাচীন সিমেট্রি ও কবরখানাগুলো এখনো অন্ধকার। সাউথ পার্কস্ট্রিট সিমেট্রি একটি বিখ্যাত গোরস্থান। প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৭৬৭ সালে। আবছা অন্ধকার, স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল আর ঘন গাছপালায় ঘেরা গোরস্থানে গেলেই গা ছম ছম করে ওঠে।শোনা যায়, রাত হলেই নাকি কফিন থেকে জেগে ওঠে শত বছরের পুরনো আত্মা। একবার তো ঘটেই গেল বিপত্তি। সন্দীপ রায়ের ফেলুদা সিরিজের ‘গোরস্থানে সাবধান’-ছবির শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে একবার সিমেট্রির দরজা খোলা হয়েছিল। ব্যাস উলটপালট করে দিল শুটিং সেটে থাকা সবার মন। অদ্ভুত সব শব্দ আর ছায়ায় ভয়ে শিহরিত হয়ে উঠল সবাই। এরপর থেকে আজ অবধি কেউ সেখানে ভুলেও পা বাড়ায়নি। এরকম আরও একটি সেমিট্রি রয়েছে লোয়ার সারকুলার রোডে। ঠিক আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোডের ওপরে। পর্যটকরা ঘুরতে আসেন ঠিকই কিন্তু রাত হলে ঢোকার সাহস হয় না কারও। এক পর্যটক ছবি তুলতে গিয়ে সাদা পোশাকের আবছা মহিলাকে দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পার্ক সার্কাসের বিশাল কবরখানার মতো স্থান, এ শহরে খুব কম রয়েছে। পার্কস্ট্রিটের আশপাশেরর স্থানীরা খুব সকালে এবং সন্ধার পর তাদের জানালা বন্ধ করে রাখেন।
রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাব
ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাব খ্যাত রেসকোর্স ময়দান ,রাতে এখানে ঘটে যায় অলৌকিক সব ঘটনা। কে বা কারা যেন ঘোড়া নিয়ে ছুটে বেড়ান এখানে। স্পষ্ট দেখতে পাওয়া ঘোড়া নিমিষেই বাতাসে মিলিয়ে যায়। পেলেও ইতিহাসে রয়েছে একটি কাহিনী। একবার এক ব্রিটিশ জর্জ উইলিয়ামস তার প্রাইড নামের বিখ্যাত সাদা ঘোড়া নিয়ে ময়দান চষিয়ে বেড়াতেন। প্রচুর রেস আর ট্রফি জেতায়, প্রাইডকে তখনকার সময় এক নামেই চিনত কিন্তু একবার অ্যানুয়াল টার্ফি টুর্নামেন্টের আগে আকস্মিকভাবেই প্রাইড অসুস্থ হয়ে পড়ে। উইলিয়ামস প্রাইডের প্রচুর যত্নআত্তি করেও লাভ হয়নি। যার ফলাফল অ্যানুয়াল ট্রফি হেরে যান। এরপরই একদিন সকালে জর্জ দেখে, খোলা ট্রাকের ওপরে মরে পড়ে আছে তার প্রিয় সাদা ঘোড়াটি। প্রাইডের শোক আর মায়ায় জর্জও বেশিদিন পৃথিবীতে ছিলেন না। কিন্তু এখনো প্রত্যেক শনিবার পূর্ণিমার রাতে দেখা যায় জর্জ ও প্রাইডকে। রেসকোর্সজুড়ে সে বীরবিক্রমে পরিক্রম করে।
ন্যাশনাল লাইব্রেরি
কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরি। বইয়ে ঠাসা লাইব্রেরিতে সন্ধ্যা নামলেই যার রূপ পালটে যায়। অন্ধকারে এর মাঠ পেরিয়ে নাকি ছুটে যায় অশ্বারোহী। বলডাস্কের ভিতর থেকে নাকি ভেসে আসে কনসার্টের করুণ সুর। শোনা যায় পালকির আওয়াজ। কে যায় কিংবা কার সুরেলা কণ্ঠে ভেসে আসে। কোনো সদুত্তর নেই। তবে ইতিহাসের কিছু ইঙ্গিত আছে। ১৭ আগস্ট ১৭৮০, সেদিন সকালে এখানে ডুয়েল শুরু হয় রয়্যাল হেস্টিংস আর ফিলিপ ফ্রান্সিসের। এখনো সন্ধারাতে গা ছমছম করে লাইব্রেরির করিডর বরাবর হেঁটে গেলে। অনেকে নাকি সেই অশরীরী আত্মাদের স্বচক্ষে প্রত্যক্ষও করেছেন। কেউবা শুনতে পান পায়ের আওয়াজ, কেউবা আবার ঘন ঠাণ্ডা শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুভূতি টের পান। রাতে লাইব্রেরির গার্ডরা বইয়ের পাতা ওল্টানোর আওয়াজও পান।
সরকারি কাজের দরকারি দপ্তর। সন্ধ্যার পর কেউই এই বাড়িটিতে থাকার সাহস দেখান না। যারা রাত কাটিয়েছেন, তাদের অনেকেই মাঝরাতে হঠাৎ কান্না, হাসি কিংবা চিৎকারের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। নাইট গার্ডরা বলেন এখানের পাঁচ নম্বর ব্লক জায়গাটা নাকি সুবিধের নয়। বারান্দা দিয়ে কারা যেন হেটে বেড়ায়। শোনা যায় টাইপের শব্দ। মনে হয় খুব মনোযোগ দিয়ে কারা যেন কাজ করছেন। দোতলায়র সিড়িতে কারা যেন ভেসে উঠেই মিলিয়ে যায়। হঠাৎ করে কে যেন চিৎকার করে ওঠে। ইতিহাস বলে এখানেই এক সময় ছিল ভাং আর কলা গাছের জঙ্গল। একবার বেশ কয়েকজন ব্রিটিশকে এখানে কবর দেয়া হয়ছিল। লর্ড ভ্যালেন্টিনের লেখায় তথ্য মেলে দিল্লি থেকে আসা নব্য রাইটারদের মধ্যে ঘোড়ায় টানা গাড়ির খেলা কিংবা ডুয়েল চলতো। এতে করে সর্বদাই লেগে থাকতো খুন জখম। বিনয়, বাদল, দিনেশের হাতে কর্নেল সিমসনের ঘটনাও কি ফেলে দেয়া যায়!
হেস্টিং হাউস
পরাধীন ভারতের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস বাড়িটি তৈরি করে এখানে থাকতেন। বর্তমানে এটি কলকাতা ইউনিভার্সিটির ওম্যান্স কলেজ। রাতে ঘটে যতসব অলৌকিকতা। ঘোড়ার গাড়ি ছুটিয়ে আসতে দেখা যায় ওয়ারেন হেস্টিংসকে ঘরে ঢুকে ব্যস্ততার ছলে বিরক্তি নিয়ে ফাইলপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করেন। আবার এমনও দেখা যায় ঘোড়া হাঁকিয়ে চলে যান। এই তো বেশ কিছুদিন আগের ঘটনা নতুন বছরের মধ্যরাতে হেস্টিংস হাউসে নিউ ইয়ার পার্টি চলে বলে শোনা যায়। একই রকমভাবে ফুটবল খেলতে আসা এক শিশুর মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এখানে পাওয়া অপঘাতে মৃত্যুর লাশ। লাশগুলো ছিল কাটাছেঁড়া। আবার এ জায়গা সম্পর্কে শোনা যায়, অশরীরী আত্মারা সবচেয়ে বেশি এখানেই ঘোরাঘুরি করে।
পুতুলবাড়ী
এটা কলকাতা শহরের সবচেয়ে রহস্যজনক স্থান। গভীর রাতে তো বটেই এমনকি ভরদুপুরেও কিছু অশরীরীর উপদ্রব রয়েছে এখানে। এর নেপথ্যে আসলে কি! এক সময় বাড়িটিতে এক বড়লোক মনিব বাস করতেন। বাড়ি দেখাশোনায় কয়েকজন দাসীও কাজ করত। মনিব দাসীদের সঙ্গে জোরপূর্বক যৌনসম্পর্ক করতেন। কিছু দাসী মনিবের এ অত্যাচারের প্রতিবাদ করায় তাদের হত্যা করা হয়। হত্যার পর বাড়ির পেছনে তাদের লাশ মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল। এরপর কতকাল পার হলো কিন্তু আজ অবধি মাঝে মাঝে রাতে মেয়েলি কণ্ঠের অশরীরীদের কান্নার শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়দের ধারণা মনিবের এ পাপের কারণে এখনো পুতুলবাড়ীতে অশরীরী আত্মার আনাগোনা।
আকাশবাণীর পুরনো দফতরে বারবার দেখা গিয়েছে অশরীরী আত্মা। ফাঁকা লম্বা করিডর, অজস্র স্টুডিও আর ব্রিটিশ অবকাঠামো মিলিয়ে আকাশবাণীর ভুতুড়ে অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায় না। আকাশবাণীর প্রথম দফতর উঠে যাওয়ার পর গারস্টিন প্লেস ভোল বদলেছে। এক সময়ের জনপ্রিয় রেডিও স্টেশন ছিল এটি। কেউ কেউ এখানে দেখেন হ্যাট-কোট পরিহিত, সিগারেট মুখে ইংরেজ সাহেবদের ছায়া যারা মাঝে মধ্যেই ঘরে প্রবেশ করতেন আর অভ্যেসবশত ফাইলপত্র নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতেন। আবার কেউ কেউ দেখেন মধ্যরাতে রেকর্ডিং রুমের বারান্দায় কে যেন গান শুনছেন।এখনো স্টুডিও থেকেই রাতে ভেসে আসে যান্ত্রিক সুর। বলাই বাহুল্য, সেই যন্ত্রগুলো কোনো মানুষ বাজায় না।
কাগজ উলটপালট করা, একটি বস্তু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া এখানকার প্রতিদিনকার কাণ্ড। কলকাতার উইপ্রো অফিসের নৈমিত্তিক ঘটনা এটি। অফিসের চতুর্থ তলায় নাকি ভূতদের আড্ডাখানা। সল্টলেকের অফিসটির আগের ইতিহাসটি ভয়াবহ।পরিত্যক্ত কবরখানার ওপর গড়ে ওঠা এই অফিসর আগে এখানে ছিল জলাশয় আর জঙ্গল। ধর্ষণ, হত্যা, অত্যাচার, কিছুই চলত এখানেঅনেকে এখানে আত্মহত্যাও করত। মূল অফিসটি কবরখানার উপরে তৈরি। রাতে নাইটগার্ডরা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হন। অফিসের চার তলা থেকে নাকি চিৎকার, শোরগোল শোনা যায়। এমনকি রাতে রক্তাক্ত মেয়ের ছায়া আর কান্নায় গোটা উইপ্রো অফিস কেঁপে ওঠে।
পৌরসভা কার্যালয়
গোটা কলকাতা ভুতুড়ে রহস্যেঘেরা। তার মধ্যে কলকাতা মিউনিসিপাল করপোরেশন বাড়িটি অন্যতম। উনিশ শতকের এই লাল বাড়িটি শহর কলকাতার ব্রিটিশদের বহু ঘটনার রাজ সাক্ষী। রাত ৩টা বাজলে নাকি এখানেও একটু বেশি থম থমে। পৌরসভার এই বাড়িটিও অনেক আশ্চর্যের কেন্দ্রবিন্দু। অনেকেই এখানে বিচিত্র সব আওয়াজ আর ভৌতিক ঘটনার মুখোমুখি হন। পৌরসভার লাল বাড়িটির ভিতর প্রায়শই মহিলা কণ্ঠে কান্নার শব্দ শোনা যায়।
হাওড়া ব্রিজ
মল্লিক ঘাট শহরের প্রধান ফুলের বাজার।কিন্তু জায়গাটি বিশেষ সুবিধার নয় । বহু প্রেতাত্মা ঘুরে-বেড়ায় হাওড়ার চারপাশজুড়ে। কলকাতা শহরে আত্মহত্যার প্রবণতা হামেশাই ছিল। শহরের যতগুলো আত্মহত্যার জায়গা রয়েছে তার মধ্যে হাওড়া ব্রিজ অন্যতম,একে কেন্দ্র করে ভয়ার্ত পরিবেশ সব সময়েই ছিল। হাওড়া ব্রিজ থেকে প্রচুর মানুষ গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মল্লিক ঘাটে যেসব কুস্তিবিদ ভোররাতে মুগুর ভাজতে গঙ্গার পাড়ে যায়, তাদের কাছে এই দৃশ্য খুব স্বাভাবিক। দেখা যায়, কেউ যেন ডুবে যাচ্ছে, আর পানির ওপর একটা হাত ছটফট করছে। কেউ যদি বাঁচাবার উদ্দেশ্যে ঝাঁপ দেয় তাহলে তারও প্রাণ শেষ। ধারণা করা হয় আত্মহত্যার কারণে অনেকের আত্মা মুক্তি পায় না। এসব আত্মা কিংবা অশরীরী মানুষকে আত্মহত্যায় প্রভাবিত করে।

রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন
মেট্রোর লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা কলকাতায় নতুন কিছু নয়। আর সেইসব আত্মহত্যার ৮০ শতাংশই রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনে ঘটেছে। সেইসব মানুষদেরই আত্মা নাকি এই স্টেশনে সন্ধের পরে আড্ডা বসায়। রাত্রে এই স্টেশন থেকে শেষতম মেট্রোতে চড়েছেন যাঁরা তাঁরা অনেকেই দাবি করেন, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার সময়ে প্রায়-নির্জন স্টেশনে তাঁরা বিভিন্ন ছায়ামূর্তিকে ঘুরে বেড়াতে দেখেছেন এমনকি যারা ওই শেষ মেট্রোতে ফেরেন তাদের অনেকেই জীবিত নন ,অনেকে দেখেছেন মেট্রোর সুড়ঙ্গে বা জানলার কাঁচে আবছায়া মূর্তিকে দেখা দিয়েই মিলিয়ে যেতে।
সঙ্গে রইলো ফাউ হিসাবে কয়েকটি শহুরে কিংবদন্তি (urban legends)
সব শহরেই নিজস্ব কিংবদন্তি থাকে। চরিত্রগতভাবে তাদের মধ্যে মিলও থাকে। কিন্তু শহরভেদে বদলে যায় তাদের রকম,তেমনই আমাদের কলকাতার আরবান লিজেন্ড ঘাঁটতে বসলে ভয়ের যে কানাচগুলো উঠে আসে, তা একেবারেই এক্সক্লুসিভ। ভারতের অন্য শহরে তাদের দেখা মিলবে না।

রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন
মেট্রোর লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা কলকাতায় নতুন কিছু নয়। আর সেইসব আত্মহত্যার ৮০ শতাংশই রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনে ঘটেছে। সেইসব মানুষদেরই আত্মা নাকি এই স্টেশনে সন্ধের পরে আড্ডা বসায়। রাত্রে এই স্টেশন থেকে শেষতম মেট্রোতে চড়েছেন যাঁরা তাঁরা অনেকেই দাবি করেন, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার সময়ে প্রায়-নির্জন স্টেশনে তাঁরা বিভিন্ন ছায়ামূর্তিকে ঘুরে বেড়াতে দেখেছেন এমনকি যারা ওই শেষ মেট্রোতে ফেরেন তাদের অনেকেই জীবিত নন ,অনেকে দেখেছেন মেট্রোর সুড়ঙ্গে বা জানলার কাঁচে আবছায়া মূর্তিকে দেখা দিয়েই মিলিয়ে যেতে।
সঙ্গে রইলো ফাউ হিসাবে কয়েকটি শহুরে কিংবদন্তি (urban legends)
সব শহরেই নিজস্ব কিংবদন্তি থাকে। চরিত্রগতভাবে তাদের মধ্যে মিলও থাকে। কিন্তু শহরভেদে বদলে যায় তাদের রকম,তেমনই আমাদের কলকাতার আরবান লিজেন্ড ঘাঁটতে বসলে ভয়ের যে কানাচগুলো উঠে আসে, তা একেবারেই এক্সক্লুসিভ। ভারতের অন্য শহরে তাদের দেখা মিলবে না।

নিশি : নিশির ডাকের গল্প কলকাতায় বিপুল জনপ্রিয়তা পায় বিংশ শতকের গোড়ায়। বলা হয়, নিশুত রাতে যখন গভীর ঘুমে শহর মগ্ন তখন জানলার কাছে কেউ নাম ধরে ডাকবে। তার কণ্ঠস্বর শুনলে মনে হবে, একান্ত পরিচিত জনই ডাকছে। সে নাকি তিন বার ডাকে। তার সেই ডাকে সাড়া দিলেই বিপদ। মৃত্যু সুনির্ঘাত। কাপালিকরাই নাকি নিশিডাকের পাণ্ডা। তারা হাতে একটা মন্ত্রপূঃত মুখকাটা কচি ডাব নিয়ে এই মায়াডাকটি ডাকে। যাকে তারা খতম করতে চায়, সে তিনটি ডাকের একটিতে সাড়া দিলেই তারা সেই ডাবের কাটামুখটি ঝপ করে বন্ধ করে দেয়। আর তাতেই সাড়া প্রদানকারীর ভবলীলা সাঙ্গ। কিন্তু এতে সেই কাপালিকের কী লাভ? এ নাকি এক ঘোর অপসাধনা। এমন ১০৮টি খতমকাণ্ড ঘটাতে পারলেই নাকি কাপালিকের পোয়াবারো। সিদ্ধি একেবারে হাতের মুঠোয়। নিশির ভয় আজও সচল এই শহরে।

হিরামোতি রাক্ষুসী: ১৯৪০-এর দশকে তারা হানা দিত সাঁঝবেলায়, মূলত উত্তর কলকাতার গলি-উপগলির ভিতরে। সন্ধে লাগার আগে বাচ্চারা বিনা ঝামেলায় দুধ খেয়ে নিত , বড়রা বলতো হিরামোতি অবাধ্য বাচ্চাদের তার ঝোলায় পোরে। তার পরে তাদের নিজের ডেরায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাদের কী করে, তা অবশ্য কোনও দিনই জানা যায়নি। সন্ধে ঘনাতো কাঠ আর কয়লার উনুনের ধোঁয়ায়, শহরের উপগলির ভিতরে গ্যাসের বাতির ক্ষীণ আলো ঘুলিয়ে উঠত। আর সে আসত। পায়ের ঘুঙুরে ঝম ঝম শব্দ তুলে । তার মুলোর মতো দাঁত, কুলোর মতো কান নিয়ে সে এসে দাঁড়াত গৃহস্থের সদর দরজায়। তার পরে হাত পাততো। গৃহকর্তা পয়সা দিলে চলে যেত । আসলে হিরামোতি ছিল এক বিশেষ শ্রেণির বহুরূপী। বাগবাজার, আহিরীটোলা, শোভাবাজার, এমনকী পটলডাঙাতেও ছিল তার অবাধ গতি। তার প্রকৃত সত্যটা জানলেও বাড়ির অভিভাবকরা ভয়টিকে বজায় রাখতেন অবাধ্য কনিষ্ঠদের জব্দ করতে।

স্টোনম্যান: সে ভূত নয়। অশরীরীও নয়। তবু তার ভয়ে সিঁটিয়ে থেকেছে শহরবাসী। ১৯৮৯-এর জুন মাসে ফুটপাথবাসী জনৈক ব্যক্তিকে ঘুমন্ত অবস্থায় কেউ পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়। এর পর থেকে ক্রমান্বয়ে চলতে তাকে একের পরে এক সিরিয়াল কিলিং। পুলিশ বিরাট ধন্ধে পড়ে। অজানা খুনির নাম দেওয়া হয় ‘স্টোনম্যান’। তাকে খুঁজতে গিয়ে গ্রেফতার হন বেশ কিছু ভবঘুরে। গণধোলাই জোটে কিছু নেশাখোরের ভাগ্যে। রাতে পুলিশের টহলদারি বাড়। পাড়ায় পাড়ায় গড়ে ওঠে নৈশ প্রহরার বাহিনী। কিছুদিন আতঙ্ক ছেয়ে থাকার পরে আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে যায় স্টোনম্যানের তাণ্ডব।

ব্যান্ডেজ ভূত: বর্ণনা থেকে জানা যায়, তার চেহারা মিশরের মমির মতো। অর্থাৎ কিনা তার সর্বাঙ্গ ব্যান্ডেজ দিয়ে মোড়া। সে নাকি পাবলিক টয়লেটে ওৎ পেতে থাকে। ঝুঁঝকো আঁধারের রাতে সে রাস্তাতেও বিচরণ করে। ১৯৮০-র দশক থেকে ১৯৯০-র দশকের গোড়া পর্যন্ত যত্রতত্র ঘুরে বেরিয়েছে তার কাহিনি। সে নাকি সরাসরি এসে গলা টেপে। রাতের ফাঁকা লোকাল ট্রেনেও নাকি দেখা গিয়েছে তাকে।








No comments:
Post a Comment