ক্ষেত্র-সমীক্ষা
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে "ভূত " এর অবদান
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে "ভূত " এর অবদান
এবং হাওড়া শহরে তার
অবস্থান ও
বিবর্তন
অমৃতেন্দু রায়
অমৃতেন্দু রায়
ভূমিকা
ছোটবেলায় ভূতের গল্প শোনেনি বা পড়েনি, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার! বাংলার লোকসংস্কৃতিতে ভূত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলা সাহিত্যে ভূত-বিষয়ক রচনা একটি বিশেষ শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। পুরনো কিংবা আধুনিক রূপকথায় ভূতের অস্তিত্ব থাকবেই। প্রচলিত বিশ্বাস মতে, যেসব আত্মা পরলোকে শান্তি পায় না বা যারা অস্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন, তাদের আত্মা দুনিয়ায় ভূত হয়ে ঘুরে বেড়ায়,ভূত শব্দটির আভিধানিক অর্থ অবশ্য অতীত ,কিন্তু ভূত শব্দটি শুনলেই মনে অনেক ভাবনার জমায়েত আপনাআপনি ঘটে যায়।
বাংলা সাহিত্য তথা ভাষায় অনেক রকম ভূতের উল্লেখ আছে ,পেত্নী ,ব্রহ্মদৈত্য ,মামদো ,শাঁকচুন্নি ,নিশি ইত্যাদি , ইত্যাদি। . এই ভূতের উপস্থিতি যে কেবল লিখিত সাহিত্যেই আছে তা নয় কথ্য সাহিত্যে , মানুষের কথার মধ্যেও আছে , আমার এই বর্তমান রচনার মূল বিষয়বস্তুটি হল , বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যে পরিচিত কয়েকটি ভূতের সম্পর্কে পরিচিতি প্রদান এবং ক্ষেত্র -সমীক্ষার জন্য
নর্বাচিত হাওড়া শহরে সেই রকম কি
কি ভূতের কথা প্রচলিত আছে এবং তার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা
পরিচ্ছেদ বিন্যাস
# ক্ষেত্র সমীক্ষার জন্য নির্বাচিত স্থানের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
# বাংলা সংস্কৃতিতে ভূতের অবস্থান
# বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যে প্রচলিত কিছু ভূত
# ক্ষেত্র সমীক্ষার স্থান এবং তথ্য অনুসন্ধান
# বরেণ্য কিছু সাহিত্যিকের ভূত সম্পর্কে ধারণা
# অতিরিক্ত
(কলকাতার কোন কোন ঐতিহ্যবাহী স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা ভুতুড়ে কাহিনী।)
#পরিশেষে
#তথ্য স্বীকার
#কৃতজ্ঞতা স্বীকার
#কৃতজ্ঞতা স্বীকার
ক্ষেত্র সমীক্ষার জন্য নির্বাচিত স্থানের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
হাওড়া হল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া জেলার সদর শহর। এটি একটি শিল্পনগরী এবং পৌরসংস্থা। হাওড়া পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত হাওড়া পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার যমজ শহর। হাওড়া জেলাও কলকাতা জেলার পর পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম জেলা।হাওড়া নামটি এসেছে বাংলা "হাওড়" কথাটি থেকে। হাওড় শব্দের অর্থ জলাভূমি।হাওড়ার ইতিহাস ৯০০ বছরের পুরনো। এই জেলাটি ঐতিহাসিক ভুরসুট রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভেনিসের পর্যটক সিজার ফেদারিকি ১৫৬৫-৭৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত ভ্রমণ করেন। তিনি ১৫৭৮ সালে লেখা তাঁর বিবরণীতে "Buttor" নামে একটি অঞ্চলের উল্লেখ করেন। এই বিবরণী অনুযায়ী, উক্ত অঞ্চলে জাহাজ যাতায়াতের (সম্ভবত হুগলি নদীর মাধ্যমে) সুবন্দ্যোবস্ত ছিল এবং সম্ভবত জায়গাটি ছিল বাণিজ্যিক বন্দর। জায়গার নামটির সঙ্গে দক্ষিণ হাওড়ার বেতড় অঞ্চলের নামের মিল পাওয়া যায়। ১৪৯৮ সালে বিপ্রদাস পিপলাইয়ের লেখা মনসামঙ্গল কাব্যেও বেতড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
১৭১৩ সালে আওরংজেবের নাতি ফারুকশিয়রের রাজ্যাভিষেকের সময় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেঙ্গল কাউন্সিল তাঁর কাছে একটি ডেপুটেশন পাঠিয়ে হুগলি নদীর পূর্বে ৩৩টি ও পশ্চিমে ৫টি গ্রামে বসতি স্থাপন করার অনুমতি চায়। ১৭২৮ সালে আধুনিক হাওড়া জেলা ছিল বর্ধমান ও মহম্মদ আমিনপুর জমিদারির অন্তর্গত। পলাশির যুদ্ধের পর ১৭৬০ সালের ১১ অক্টোবর বাংলার নবাব মিরকাশিমের সাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে কোম্পানি হাওড়া জেলার অধিকার পায়।১৭৮৭ সালে হুগলি জেলা গঠিত হয়।[৯] সেই সময় হাওড়া জেলাও হুগলি জেলার অন্তর্গত ছিল। ১৮৪৩ সালে পৃথক হাওড়া জেলা গঠিত হয়।
১৮৯৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের জনগণনা অনুযায়ী, হাওড়ার জনসংখ্যা ছিল ৮৪,০৬৯। ১৯০১ সালে তা বেড়ে হয় ১৫৭,৫৪৯। কর্মক্ষেত্রে সুযোগ ও অন্যান্য সুবিধার জন্য এই সময় হাওড়ার পুরুষ জনসংখ্যা ১০০% ও মহিলা জনসংখ্যা ৬০% বৃদ্ধি পেয়েছিল।
২০০১ সালের জনগণনা অনুসারে, হাওড়া শহরের জনসংখ্যা ১,০০৮,৭০৪। জনসংখ্যার ৫৪% পুরুষ এবং ৪৬% মহিলা। হাওড়ার সাক্ষরতার হার ৭৭%, যা জাতীয় সাক্ষরতার হার ৫৯.৫%-এর চেয়ে অনেক বেশি। পুরুষদের মধ্যে ৮১% সাক্ষর এবং মহিলাদের মধ্যে ৭৩% সাক্ষর। হাওড়ার জনসংখ্যার ৯%-এর বয়স ছয় বছরের কম।
১৮৯৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের জনগণনা অনুযায়ী, হাওড়ার জনসংখ্যা ছিল ৮৪,০৬৯। ১৯০১ সালে তা বেড়ে হয় ১৫৭,৫৪৯। কর্মক্ষেত্রে সুযোগ ও অন্যান্য সুবিধার জন্য এই সময় হাওড়ার পুরুষ জনসংখ্যা ১০০% ও মহিলা জনসংখ্যা ৬০% বৃদ্ধি পেয়েছিল।
২০০১ সালের জনগণনা অনুসারে, হাওড়া শহরের জনসংখ্যা ১,০০৮,৭০৪। জনসংখ্যার ৫৪% পুরুষ এবং ৪৬% মহিলা। হাওড়ার সাক্ষরতার হার ৭৭%, যা জাতীয় সাক্ষরতার হার ৫৯.৫%-এর চেয়ে অনেক বেশি। পুরুষদের মধ্যে ৮১% সাক্ষর এবং মহিলাদের মধ্যে ৭৩% সাক্ষর। হাওড়ার জনসংখ্যার ৯%-এর বয়স ছয় বছরের কম।
কোলকাতার যমজ শহর হিসাবে খ্যাত হাওড়া শহরের প্রাচীনতাও নেহাত কম নয় , প্রাচীন ব্যক্তি এবং প্রচলিত গাথায় ভূত বা অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক বিষয়ের সমৃদ্ধ পরিচয় খুব স্বাভাবিক ভাবেই পাওয়া যায় , এই বিষয়ে পরবর্তী অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা আছে ।
বাংলা সংস্কৃতিতে ভূতের অবস্থান
ভূত বলতে ‘অতীত’ও বোঝায়। ভূত বোঝাতে
সংস্কৃত শব্দ প্রেতও ব্যবহূত হয়। ভারতীয় লোকাচারে প্রচলিত বিশ্বাস হল, শুধু মানুষ
নয়, অন্য প্রাণীও মৃত্যুর পরে ভূতে পরিণত হতে পারে।
বাংলার ভূতদের নির্দিষ্ট কিছু
বৈশিষ্ট্য আছে। এসব বৈশিষ্ট্যের কয়েকটি অবশ্য দুনিয়ার সব দেশের ভূতের বেলাতেই দেখা
যায়। ভূতেরা নিজেদের ইচ্ছেমতো যেকোনো চেহারা ধারণ করতে পারে, মানুষের এমনকি
পশুপাখিরও। বাংলার বেশির ভাগ ভূত কমবেশি মানুষের চেহারাতেই দেখা দেয়। তবে পা দেখে
নাকি ভূতের অস্তিত্ব বোঝা যায়। ভূতের পা পেছনের দিকে ঘোরানো থাকে। ভারতীয়
উপমহাদেশে ভূতের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা জানা যায়। মাটি যেহেতু পবিত্র
উপাদান, তাই ভূতেরা মাটির স্পর্শ এড়িয়ে চলে। অর্থাত্ ভূত মাটির ওপরে ভেসে থাকে।
ভূতের আর দুটি নিশ্চিত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে— এদের ছায়া পড়ে না এবং তারা নাকি স্বরে কথা
বলে। গ্রামবাংলায় ভূত দেখা যায় গাছের ডালে সাদা কাপড়ে। বাংলার আদি ভৌতিক
গল্পগুলোয়ও ভূতের এসব বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়।
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভূত
চতুর্দশী পালনের রেওয়াজ আছে। সাধারণত কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশ দিনে এটি পালিত হয়। সে
হিসেবে কালী পূজা বা দীপাবলির আগের রাতেই উদযাপিত হয় ভূত চতুর্দশী। ভূত চতুর্দশীর
রাতে বাঙালিরা তাদের ঘরে ১৪টি মাটির প্রদীপ প্রজ্বলন করে তাদের পূর্বপুরুষদের ১৪
প্রজন্মের আত্মাকে শান্ত রাখে। ‘চৌদ্দ পুরুষ’ বিশেষণটি তো বাঙালির সংস্কৃতিতে বহুল
ব্যবহূত! বিশ্বাস করা হয়, কালী পূজার আগের রাতে পূর্বপুরুষদের আত্মাগুলো দুনিয়ায়
নেমে আসে এবং এ মাটির প্রদীপগুলো তাদের প্রিয়জনের ঘর চিনতে সাহায্য করে।
প্রদীপগুলো বাড়ির চারপাশে জ্বালানো হয়, বিশেষত অন্ধকার কোণে, খারাপ আত্মাদের দূরে
রাখতে। তবে এ ১৪ প্রদীপ সম্পর্কে আরেকটি মত প্রচলিত আছে। দেবী কালীর একটি রূপ মা
চামুণ্ডাসহ আরো ১৪টি ভীতিকর আত্মাকে শান্ত রাখতেই এ ১৪ প্রদীপ। এ মত অনুসারে, মা
চামুণ্ডা ও তার সঙ্গের আরো ভয়ানক ১৪টি আত্মা মানুষকে ভয় দেখায়। ডাকিনী ও যোগিনী এ
১৪ দুরাত্মার দুটি বলে মনে করা হয়।
পুরাণের বাইরে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসেও
ভূতের প্রভাব রয়েছে। বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে প্রচলন আছে ‘চোদ্দ শাক’, ভাতের সঙ্গে
১৪ প্রকারের শাক খেলে কোনো অশুভ আত্মা মানুষের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে না। বাঙালি
ঘটিদের মধ্যে কালী পূজার দিন লক্ষ্মী দেবীকেও পূজার রীতি আছে। পূজার আগে ঘরের
অপবিত্র, নোংরা সব কিছু বিদায় করা হয়, এটিই হলো ‘অলক্ষ্মী বিদায়’। এটিও এক রকমের
অশুভ আত্মা বিদায়ের মতো ঘটনা।
বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যে প্রচলিত কিছু ভূত
বাংলা সাহিত্য, লোকসংস্কৃতিতে বিভিন্ন ধরনের ভূতের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। বাংলার মানুষের বিশ্বাস কিংবা কুসংস্কারের সঙ্গে এসব ভূত এবং তাদের কর্মকাণ্ড মিশে আছে। গ্রামের মানুষের মধ্যে এসব ভূতের বিশ্বাস আছে। এসব ভূত বাংলা সাহিত্যেও স্থান করে নিয়েছে। এমন কিছু ভূতের মধ্যে আছে। .......
পেত্নী: পেত্নী হলো নারী ভূত যারা বেঁচে থাকতে কিছু অতৃপ্ত আশা ছিল এবং অবিবাহিতভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। পেত্নী শব্দটি সংস্কৃত প্রেত্নী শব্দ থেকে এসেছে (পুরুষবাচক শব্দ প্রেত)। এসব ভূত সাধারনত যে কোন আকৃতি ধারন করতে পারে, এমনকি পুরুষের আকারও ধারণ করতে পারে। এসব ভূত সাধারনত বেঁচে থাকতে কোন অপরাধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে এবং মৃত্যুর পর অভিশিপ্ত হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করে। পেত্নীরা সাধারনত ভীষণ বদমেজাজী হয়ে থাকে এবং কাউকে আক্রোমনের পূর্ব পর্যন্ত স্পষ্টতই মানুষের আকৃতিতে থাকে। পেত্নীদের আকৃতিতে একটিই সমস্যা রয়েছে, তা হলো তাদের পাগুলো পিছনের দিকে ঘোরানো।
শাকচুন্নি: শাকচুন্নি শব্দটি সংস্কৃত শব্দ শাকচুরনী থেকে এসেছে। এটা হলো বিবাহিত মহিলাদের ভূত যারা বিশেষভাবে তৈরি বাঙ্গালি শুভ্র পোশাক পরিধান করে এবং হাতে শঙ্খ বা শাঁখা পরিধান করে। শাঁখা হলো বাঙ্গালি বিবাহিত মহিলাদের প্রতীক। শাকচুন্নিরা সাধারনত ধনী বিবাহিত মহিলাদের ভেতর ভর করে বা আক্রমণ করে যাতে করে তারা নিজেরা সেই মহিলার মত জীবন যাপন করতে পারে ও বিবাহিত জীবন উপভোগ করতে পারে। লোকগাঁথা অনুসারে তার আম গাছে বসবাস করে।
চোরাচুন্নি: চোরাচুন্নি অত্যন্ত দুষ্ট ভূত। এরা মানুষের অনিষ্ট করে থাকে। সাধারনত কোন চোর মৃত্যুবরণ করলে চোরাচুন্নিতে পরিনত হয়। পূর্ণিমা রাতে এরা বের হয় এবং মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে অনিষ্ট সাধন করে। এদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাড়িতে গঙ্গাজলের (বাংলা সংস্কৃতিতে গঙ্গা জলকে পবিত্র জল হিসেবে বিবেচনা করা হয়) ব্যবস্থা করা হয়।
পেঁচাপেঁচি: এ ধরনের ভূত সচরাচর দেখা যায় না। পেঁচাপেঁচি ভূত ধারনাটি পেঁচা থেকে এসছে এর স্ত্রী বাচক হলো পেঁচি। এরা জোড়া ধরে শিকার করে থাকে। বাংলার বিভিন্ন জঙ্গলে এদের দেখা যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। এরা সাধারনত জঙ্গলে দুর্ভাগা ভ্রমণকারীদের পিছু নেয় এবং সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় ভ্রমণকারীকে আক্রমণ করে মেরে ফেলে ও এরা শিকারের দেহ ভ্যাম্পায়ার স্টাইলে ছিড়ে ছিড়ে খায়।
মেছোভূত: এ ধরনের ভূতেরা মাছ খেতে পছন্দ করে। মেছো শব্দটি বাংলা মাছ থেকে এসেছে। মেছো ভূত সাধারনত গ্রামের কোন পুকুর পাড়ে বা লেকের ধারে যেখানে বেশি মাছ পাওয়া যায় সেখানে বসবাস করে। মাঝে মাঝে তারা রান্নাঘর বা জেলেদের নৌকা থেকেও মাছ চুরি করে খায়। বাজার থেকে কেউ মাছ কিনে গাঁয়ের রাস্তা দিয়ে ফিরলে এটি তার পিছু নেয় এবং নির্জন বাঁশঝাঁড়ে বা বিলের ধারে ভয় দেখিয়ে আক্রমণ করে মাছ ছিনিয়ে নেয়।
দেও: এধরনের ভূত নদীতে বা লেকে বসবাস করে। এরা লোকজনকে পানিতে ফেলে ডুবিয়ে মারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
নিশি: ভূতদের মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর হলো নিশি। অন্যান্য ভূত সাধারণত নির্জন এলাকায় মানুষকে একা পেলে আক্রমণ করে, কিন্তু নিশি গভীর রাতে শিকারকে তার প্রিয় মানুষের গলায় নাম ধরে ডাকে এবং বাইরে বের নিয়ে যায়। নিশির ডাকে সারা দিয়ে মানুষ সম্মোহিত হয়ে ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে, আর কখনো ফিরে না। মনে করা হয় তারা নিজেরাও নিশিতে পরিনত হয়। কিছু কিছু তান্ত্রিক অন্যের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নিশি পুষে থাকে। লোককাহিনী অনুসারে নিশিরা কোন মানুষকে দুবারের বেশি ডাকতে পারে না, তাই কারো উচিত কেউ তিনবার ডাকলে বের হওয়া তাতে নিশির আক্রমণের ভয় থাকে না।
মামদো ভূত: হিন্দু বিশ্বাস মতে, এটি মুসলমান আত্মা।
গেছোভূত: গেছো ভূত গাছে বসবাস করে। গেছো শব্দটি গাছ (বৃক্ষ) শব্দ থেকে এসেছে।
ব্রহ্মদৈত্য: এধরনের ভূত সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং এরা সাধারনত কারো ক্ষতি করে না। এ ধরনের ভূতরা হলো ব্রাহ্মণের ভূত। সাধারনত এরা ধূতি ও পৈতা পরিহিত অবস্থায় বিচরণ করে। এদেরকে পবিত্র ভূত হিসেবে গণ্য করা হয়। তারা অত্যন্ত দয়ালু ও মানুষকে অনেক উপকার করে থাকে। বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রে এদের চরিত্র চিত্রায়িত হয়।
আলেয়া: রাতের অন্ধকারে জলাভূমিতে বা খোলা প্রান্তরে আলেয়া দেখা যায়। মাটি হতে একটু উঁচুতে আগুনের শিখা জ্বলতে থাকে। লোককথায় একে ভৌতিক আখ্যা দেওয়া হলেও বিজ্ঞানীরা মনে করে গাছপালা পচনের ফলে যে মার্শ গ্যাসের সৃষ্টি হয় তা থেকে আলেয়া এর উৎপত্তি। এর ফলে জেলেরা ভুল বুঝে সহ্য ক্ষমতা হারিয়ে মৃত্যুবরণ করে।
বেঘোভূত: এরা হলো সেইসব মানুষের আত্মা যারা বাঘের আক্রমণে মৃত্যুবরণ করেছে বলে বিশ্বাস করা হয়। সাধারনত সুন্দরবন এলাকায় এধরনের ভূতের কথা বেশি প্রচলিত কারণ বাঘের অভাশ্রম হলো সুন্দরবন। এসব ভুতেরা জঙ্গলে মধু আহোরনে আগত গ্রামবাসীদের ভয় দেখায় এবং বাঘের সন্নিকটে নিয়ে যেতে চেষ্ঠা করে। মাঝে মাঝে এরা গ্রামবাসীদের ভয় দেখানোর জন্য বাঘের স্বরে কেঁদে উঠে।
স্কন্ধকাটা/কন্ধকাটা/ কবন্ধ: এই ভূতেরা মাথাবিহীন হয়ে থাকে। সচরাচর এরা হলো সেইসব লোকের আত্মা যাদের মৃত্যুর সময় মাথা কেটে গেছে যেমন, রেল দূর্ঘটনা বা অন্য কোন দূর্ঘটনা। এ শ্রেণীর ভূতেরা সবসময় তাদের হারানো মাথা খুঁজে বেড়ায় এবং অন্য মানুষকে আক্রমণ করে তাদের দাসে পরিণত করে ও তার মাথা খুঁজার কাজে নিয়োগ করে।
কানাভুলো: এ শ্রেণীর ভূতেরা পথিকের গন্তব্য ভুলিয়ে দিয়ে ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয় এবং অচেনা স্থানে নিয়ে আসে। মাঝে মাঝে মানুষ একই রাস্তায় বারবার ঘোরপাক খেতে থাকে। ভূতরা কোন নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌচ্ছার পর তার শিকারকে মেরে ফেলে। এক্ষেত্রে শিকার তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এধরনের ভূতদের রাতে গ্রামের মাঠের ধারে পথের মধ্যে দেখা যায়। শিকার সবসময় একাকী থাকে বা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ডাইনী: ডাইনী মূলত কোন আত্মা নয়, এরা জীবিত নারী। বাংলা লোকসাহিত্যে সাধারনত বৃদ্ধ মহিলা যারা কালো জাদু বা ডাকিনীবিদ্যাতে পারদর্শী তাদেরকেই ডাইনি বলা হয়ে থাকে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, ডাইনীরা গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের ধরে নিয়ে তাদের হত্যা করে এবং তাদের রক্ত খেয়ে ১০০ বছর বেঁচে থাকে।
বেঁশোভূত: বেঁশো শব্দটি এসেছে বাঁশ থেকে, অর্থাত্ বাঁশঝাড়ে বাস করা ভূত হচ্ছে বেঁশোভূত। এই ভূতের ভয়েই মানুষ সন্ধ্যার পর বাঁশঝাড়ে যেতে চায় না। বাঁশঝাড়ে দিনের বেলাতেও একটা গা ছম ছম করা ব্যাপার থাকে। শান্ত দিনেও বাঁশঝাড়ে হঠাত্ ঝড়ো বাতাস বয়ে যায়। সবই যেন বেঁশোভূতের কারসাজি
বোবা: সরল বাংলায় বোবায় ধরা। বোবা ঠিক ভূত নয়, এক রকমের অতি প্রাকৃত শক্তি। বোবা ঘুমের মধ্যে মানুষকে আক্রমণ করে। তখন মানুষ গোঙাতে থাকে। মনে হয় কারো মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কিন্তু সে কিছু বলতে চাইছে।
রাক্ষস: ‘হাউ, মাউ খাউ, মানুষের গন্ধ পাউ!’— এ বাক্য শোনেনি, এমন বাঙালির সন্ধান পাওয়া ভার! এটি রাক্ষসের মুখ থেকে মানুষ শিকারের অতি পরিচিত বাক্য। রাক্ষস বাংলার রূপকথায়ও বিশেষ স্থান নিয়ে আছে। বিকট দর্শন চেহারা, বড় বড় নখ, চুল আর আসুরিক শক্তি— এই হলো রাক্ষসের চেহারা। আর সে নারী হল তাকে বলে রাক্ষসী। বাংলার মায়েরা রাক্ষসের গল্প শুনিয়ে শিশুদের ঘুম পাড়ান। যদিও এই ডিজিটাল যুগে গল্প শোনানোর চল আর নেই।
খোক্কস: এরা
রাক্ষসের ছোট সংস্করণ।
পিশাচ: পিশাচরা মানুষের মাংসখোকো দানব। চিতা কিংবা গোরস্তানে এদের বাস। রাত হলে এরা তাদের আস্তানা থেকে বের হয়। পিশাচরা মানুষকে সম্মোহিত করতে পারে। পিশাচ চাইলে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে এবং মানুষের শরীরে ভর করতে পারে। তখন সেই মানুষের নিজের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। পিশাচের ইচ্ছাতেই সে চালিত হয়। পিশাচের স্ত্রীলিঙ্গ হচ্ছে পিশাচিনী। আরো অনেক নারী ভূতের মতো পিশাচও তরুণদের প্রলুব্ধ করে এবং তাদের রক্ত চুষে খায়। পিশাচ অনেকটা পশ্চিমাদের ভ্যাম্পায়ারের মতো। পিমাচের উপস্থিতি নাকি টের পাওয়া যায় তাদরে শরীরের বোটকা গন্ধ থেকে।
শিকল: বাংলার গ্রামে এমনকি মফস্বল শহরেও শিকলের গল্প প্রচলিত আছে। শিকল থাকে নদী, পুকুর বা দীঘির তলায়। এদের কাজ শিকলের মতো হলেও দেখতে এরা তরুণীদের মতো। স্বামীর নির্যাতন বা প্রেমিকের প্রতারণায় জলে ডুবে আত্মহত্যা করা তরুণী কিংবা পানিতে ডুবিয়ে যদি কোনো তরুণীকে হত্যা করা হয়, তাহলে তার আত্মা এই শিকল-ভূতে পরিণত হয়। এরা তরুণদের প্রলুব্ধ করে গভীর জলে নিয়ে গিয়ে নিজের দীর্ঘ চুলের গোছাকে শিকলের মতো ব্যবহার করে শিকারের পা পেঁচিয়ে ধরে এবং ডুবিয়ে মারে
ক্ষেত্র সমীক্ষার স্থান এবং তথ্য অনুসন্ধান
ক্ষেত্র সমীক্ষার জন্য আমি নির্বাচন করেছিলাম হাওড়া জেলার হাওড়া শহর , বেশ প্রাচীন এই শহরের ইতিহাস প্রায় ৩০০-৪০০ বছর এর পুরানো বলা চলে ,শহরের মধ্যভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল , শিবপুর , কাসুন্দিয়া, কালিবাবুর বাজার ইত্যাদি জায়গায় এখনো পুরানো বাড়ি এবং পুরানো মানুষের দেখা পাওয়া যায় , জানা যায় অনেক গল্প , আমি সাধ্যমত কিছু মানুষ জনের সাথে কথা বলে গল্পচ্ছলে তথ্য অনুসন্ধানের কাজ চালিয়ে গিয়েছি।
প্রাথমিক ভাবে তাঁদের কাছে আমার মুখ্য প্রশ্ন ছিল ,
" তাঁরা এই হাওড়া শহরের চেনাশুনা জায়গার মধ্যে কি কি ভূতের কথা শুনেছেন বা পরিচিত হয়েছেন?"
এবং গল্পচ্ছলে তাদের কাছ থেকে তথ্য অনুসন্ধান করতে করতে কিছু কিছু বিষয় লক্ষ্য করে থাকি , যেমন অলৌকিক
বিষয়বস্তুর কিছু নিজস্স বৈশিষ্ট্য আছে ,প্রত্যেক সাক্ষাৎকারীর কথা শুনতে শুনতে বিশেষত যাঁদের নিজেদের
অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের ভাগ্য হয়েছে তাদের কাছ থেকে শোনা কথা আর একদমই নিতান্ত অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হটাৎ করে আলাপ হয়ে তার কাছ থেকে শোনা গল্পের মধ্যেও কোথাও যেন একটা ভাষাগত মূলগত মিল রয়েছে।
আমি সাক্ষাৎকারের জন্য কিছু পরিচিত ,অর্ধ পরিচিত , অপরিচিত ব্যক্তির সাথে কথাবার্তা বলেছি ,তাঁরা হলেন। ..
প্রাথমিক ভাবে তাঁদের কাছে আমার মুখ্য প্রশ্ন ছিল ,
" তাঁরা এই হাওড়া শহরের চেনাশুনা জায়গার মধ্যে কি কি ভূতের কথা শুনেছেন বা পরিচিত হয়েছেন?"
এবং গল্পচ্ছলে তাদের কাছ থেকে তথ্য অনুসন্ধান করতে করতে কিছু কিছু বিষয় লক্ষ্য করে থাকি , যেমন অলৌকিক
বিষয়বস্তুর কিছু নিজস্স বৈশিষ্ট্য আছে ,প্রত্যেক সাক্ষাৎকারীর কথা শুনতে শুনতে বিশেষত যাঁদের নিজেদের
অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের ভাগ্য হয়েছে তাদের কাছ থেকে শোনা কথা আর একদমই নিতান্ত অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হটাৎ করে আলাপ হয়ে তার কাছ থেকে শোনা গল্পের মধ্যেও কোথাও যেন একটা ভাষাগত মূলগত মিল রয়েছে।
আমি সাক্ষাৎকারের জন্য কিছু পরিচিত ,অর্ধ পরিচিত , অপরিচিত ব্যক্তির সাথে কথাবার্তা বলেছি ,তাঁরা হলেন। ..
১)ড. ঋতব্রত বসুমল্লিক (গবেষক , অধ্যাপক , বয়স ৩২)
২)সুস্মিতা কোলে (গৃহবধূ ,বয়স ৭৯)
৩)পিন্টু সান্যাল (টোটো-চালক , বয়স ৩২-৩৩)
৪) জয়া মুখোপাধ্যায় (ছাত্রী ,বয়স ২৬)
৫)সুব্রত দাস (ইঞ্জিনিয়ার , বয়স ২৮)
সংগৃহিত তথ্য ও ঘটনা বিবরণের মাধ্যমে কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে ধারণা হল
,সেই ধারণাগুলো পরপর লিপিবদ্ধ করা হল।
,সেই ধারণাগুলো পরপর লিপিবদ্ধ করা হল।
প্রথমত,
ঋতব্রতবাবুর সাথে কথা হতে উনি জানালেন ,
ঋতব্রতবাবুর সাথে কথা হতে উনি জানালেন ,
উনি প্রধানত তিন প্রকারের ভূতের কথা শুনেছেন ,স্কন্ধকাটা,
পেত্নী এবং ব্রহ্মদৈত্য। এই সব ভূতের গল্পের্ উৎপত্তি তাঁর পরিচিত জায়গা (প্রধানতঃ মধ্য হাওড়া ) থেকেই, এই ভূতেদের ভাষাতাত্বিক কোনোরকম প্রভাব পড়েছে কিনা বাংলাভাষায় তা জিজ্ঞাসা করায় তিনি জানান যে প্রভাব পড়েছে।এনার সাথে কথা বলেই জানতে পারি শহর অঞ্চলে ভূতের প্রভাব আগে থাকলেও এখন তা খুবই কম , হাওড়া শহরের মধ্য ভাগ অঞ্চলে যা যা শোনা যায় তার মধ্যে এই কয়েকটিনাম ঘুরে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ত ,
মধ্য হাওড়ায় বসবাসকারী সুস্মিতাদেবী বয়সে যথেষ্ট প্রবীণা ,তাঁর কাছে শোনা গেল , কাছেই রামকৃষ্ণপুর
নামক স্থানে একটি সরু গলিতে মাঝে মাঝে একটি আলোর বল দেখা যেত ,সাধারণ মিথেন গ্যাসের
প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া আলেয়ার জন্য পচা জায়গা প্রয়োজন , এই আলোর বলটি তিনি নিজেও একবার
দেখেছেন। শহরের মধ্যে আলেয়ার ঘটনা শোনা যায় না। এই প্রবীণার কাছে ভূতের সংজ্ঞা ভিন্ন তাই ওনার কাছে ভাষা ও গল্পের মধ্যেই ভূত বেঁচে আছে , ভাষা বা ভাষাতাত্বিক দৃষ্টিতে ভূতের মূল্য আছে
কিনা তাতে তার আগ্রহ নেই।
তৃতিয়ত ,
রাত ১১তার সময় বাড়ি ফিরতে গিয়ে ঘটনাচক্রে টোটোচালক পিন্টুবাবুর সাথে কথা হতে জানতে পারি তিনি ছোটবেলায় ভূতের গল্প অনেক শুনেছেন ,বিশেষ করে সত্তরের দশকের সময়ের খুনোখুনি নিয়ে নিশির ডাক,এবং পুকুরের যখ বা জোকার কথা তার কাছ থেকেই জানতে পারি , তার ছোটবেলায় তিনি এমন পুকুর দেখেছেন হাওড়াতেই।
রাত ১১তার সময় বাড়ি ফিরতে গিয়ে ঘটনাচক্রে টোটোচালক পিন্টুবাবুর সাথে কথা হতে জানতে পারি তিনি ছোটবেলায় ভূতের গল্প অনেক শুনেছেন ,বিশেষ করে সত্তরের দশকের সময়ের খুনোখুনি নিয়ে নিশির ডাক,এবং পুকুরের যখ বা জোকার কথা তার কাছ থেকেই জানতে পারি , তার ছোটবেলায় তিনি এমন পুকুর দেখেছেন হাওড়াতেই।
চতুর্থত ,
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জয়ার একদা বাস ছিল বীরভূমে ,এখন তার বাস হাওড়াতেই ,বেশ কিছু
কাল বাস করে তার ও কিছু অভিজ্ঞতা হয় , যাকে পেরানর্মাল বলা যেতে পারে , তবে নিজগুনে অনেকের
সাথে আলাপের ফলে তার কাছে জমা হয়েছিল অনেক গল্প তার পূর্ব পরিচিত বীরভূমের কিছু গল্পের সাথেও
দিব্বি মিলে যায় , জয়ার সাথে কথা বলে বুঝতে পারি যে এই ভৌতিক ঘটনা বা অতি প্রকৃত ঘটনার মূল
গঠন একই
স্থান ভেদ এ একটু বিভিন্ন।
স্থান ভেদ এ একটু বিভিন্ন।
পঞ্চমত
পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত , এই হাওড়া শহরের গলিতে এক এক সাইকেল নিয়ে ছাত্র বয়সে ঘুরে বেরতে পছন্দ করতো ,
এই ভাবেই একদিন রাতে গলিতে গো ভূতের পাল্লায় পড়েছিল ,আমার প্রশ্নের উত্তরে সে এই কথা বলেছিলো , সাদা একটা বাছুর দৌড়ে রাস্তা দিয়ে ছিল গেল রাত তখন ১১ টা বাড়ি ফিরছি গলি দিয়ে ,এমন সময় দেখি বাছুর তা দৌড়ে চলে গেল প্রায় আমার গা ঘেঁষে কিন্তু না পেলুম নার খুর এর আওয়াজ না পেলাম তার স্পর্শ আমি সাইকেল চালাছিলাম
সোজা যেন তাকে ভেদ করে চলে গেলাম বাড়ি ফিরে প্রবল জ্বর।
এনার কাছে এই অপরিচিত এই একটি ভূত কথা পাই উপহার পাই
সাক্ষাৎকার আরো কয়েকজনের নেয়া হলেও সেগুলো লিপি বদ্ধ করা হলো না। কারণ একই কোথায় এরপর চর্বিত চর্বন হয়ে আসছে। নিজস্ব অভিজ্ঞতা কারুর নেই সবাই কারুর কাছ থেকে শুনেছে , তাই প্ৰকাশ করা হলোনা
কেবল যাদের সাক্ষাৎকার উল্লেখযোগ্য সেগুলোর এই অতি সংক্ষেপে যথা সাধ্য ব্যাখ্যা করা হলো
পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত , এই হাওড়া শহরের গলিতে এক এক সাইকেল নিয়ে ছাত্র বয়সে ঘুরে বেরতে পছন্দ করতো ,
এই ভাবেই একদিন রাতে গলিতে গো ভূতের পাল্লায় পড়েছিল ,আমার প্রশ্নের উত্তরে সে এই কথা বলেছিলো , সাদা একটা বাছুর দৌড়ে রাস্তা দিয়ে ছিল গেল রাত তখন ১১ টা বাড়ি ফিরছি গলি দিয়ে ,এমন সময় দেখি বাছুর তা দৌড়ে চলে গেল প্রায় আমার গা ঘেঁষে কিন্তু না পেলুম নার খুর এর আওয়াজ না পেলাম তার স্পর্শ আমি সাইকেল চালাছিলাম
সোজা যেন তাকে ভেদ করে চলে গেলাম বাড়ি ফিরে প্রবল জ্বর।
এনার কাছে এই অপরিচিত এই একটি ভূত কথা পাই উপহার পাই
সাক্ষাৎকার আরো কয়েকজনের নেয়া হলেও সেগুলো লিপি বদ্ধ করা হলো না। কারণ একই কোথায় এরপর চর্বিত চর্বন হয়ে আসছে। নিজস্ব অভিজ্ঞতা কারুর নেই সবাই কারুর কাছ থেকে শুনেছে , তাই প্ৰকাশ করা হলোনা
কেবল যাদের সাক্ষাৎকার উল্লেখযোগ্য সেগুলোর এই অতি সংক্ষেপে যথা সাধ্য ব্যাখ্যা করা হলো
বরেণ্য কিছু সাহিত্যিকের ভূত সম্পর্কে ধারণা
বাংলা
সাহিত্যে জনপ্রিয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। শিশুদের জন্য প্রচুর লিখেছেন, যার
মধ্যে ভূতের গল্পও একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে,
শীর্ষেন্দু সত্যিকার ভূতে বিশ্বাস করেন। ‘ভূতেরা আছে, আমি ভূতের অস্তিত্বে বিশ্বাস
করি এবং তাদের ভয় পাই। শীর্ষেন্দু মনে করেন, টেলিভিশনের এ যুগেও শিশুরা ভূতের গল্প
পড়তে ভালোবাসে। নিজে ভয় করলেও শীর্ষেন্দু কিন্তু শিশুদের কাছে ভূতকে মজা করেই
বর্ণনা করেছেন।
তবে বাস্তব জীবনে শীর্ষেন্দু কিন্তু সত্যিই ভূতকে ভয় পান। ‘সত্যিকার জীবনে ভূতের সঙ্গে আমার মোলাকাত ভীতিকর। আমার বইয়ের মতো তারা মোটেই মজার নয়।’ ১৯৪১ সালে শীর্ষেন্দু তার পরিবারের সঙ্গে বিহারের কাতিহারে বাস করতেন। ‘আমরা একটা বাঙলোয় থাকতাম। প্রতিরাতে এক মেমসাহেবের পায়ের শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যেত। শোনা যেত তার হাই হীলের খটখট শব্দ কারণ তার আত্মা বাড়িটিতে ঘুরে বেড়াত। আমার বাবা একটা ডাইনিং টেবিল কিনেছিলেন। আত্মাটা এই টেবিলের সঙ্গে জুড়ে ছিল, প্রতিরাতে আত্মাটি টেবিলের চারপাশে ঘুরে বেড়াত, তারপর চলে যেত।’ ১৯৮০-এর দশকেও শীর্ষেন্দু একবার ভূতের কবলে পড়েছিলেন। সেটা ছিল এক মৃত নারীর ভূত। লেখক তখন কলকাতায় এক ভাড়া বাড়িতে থাকেন। ‘বাড়ির মালিকের মেয়ে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করে। চারদিন পর সেই মৃত মেয়ের আত্মা আমার ঘরে আনাগোনা শুরু করে। একদিন রাতে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়, দেখি কে যেন একটা লোহার চেয়ার তুলে নিয়ে মাটিতে আছাড় দিল। আমরা নিরুপায় দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে দেখলাম। তারপর বাড়ির মালিক আমাদের বাসা ছেড়ে দিতে বলেন।’
বাংলা সাহত্যের আরেক বিখ্যাত লেখক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ওরফে বনফুলও ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করতেন, শোনা যায়, তার বাড়িতে কেউ গেলে তিনি তাকে ভূতের গল্প শোনাতেন।
বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের ভূত-সংক্রান্ত অবস্থান, ভূত-আত্মা কিংবা তার জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় ও পরবর্তীতে নুহাশ পল্লীতে নানা অদ্ভুতুড়ে অভিজ্ঞতার কথা নানা সময়ে বলেছেন এবং তিনি ভূতের গল্প ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করতেন। তিনি নিজের পছন্দের ভূতের গল্পের একটা সংকলনও করেছিলেন। ভূত ও বাংলা ভৌতিক গল্প নিয়ে তিনি তার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও মতামতও জানিয়েছেন ওই বইয়েও। এক জায়গায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন, “গ্রামবাংলায় ভূতকে ঘরের মানুষ ভাবা হতো। ছোটবেলার কথা, নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি। সন্ধ্যাবেলা অন্য পাড়া থেকে এক ভদ্রলোক এলেন। নানাজানের সঙ্গে খানিকক্ষণ গল্পগুজব করে যাবার বেলায় বললেন, ‘একটা পেততুনি বড় ত্যক্ত করতাছে।’ অর্থ হচ্ছে, কিছুদিন ধরে এক প্রেত তাদের বড়ই বিরক্ত করছে। বিরক্তের ধরন হচ্ছে, মাছ ভাজা হলে রান্নাঘরের জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে ভাজা মাছ খেতে চায়। নাকি স্বরে অনুনয়-বিনয় করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভদ্রলোকের গল্পে কেউ বিস্মিত হলো না। ধরেই নিল এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার, প্রেতরা ভাজা মাছ পছন্দ করে। এরা উত্যক্ত করবেই।”
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম স্ত্রী মোহিনীর মৃত্যুর পর বিয়ে করেন রাজলক্ষ্মীকে। পরিণত জীৱনে তিনিই দেখতেন প্রথম স্ত্রীর ছায়া। আত্মীয় সুরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়কে বলতেন, ‘‘তোর সেজদিকে দেখেছি রে... আমিও এবার তার কাছেই যাব।’’
তবে বাস্তব জীবনে শীর্ষেন্দু কিন্তু সত্যিই ভূতকে ভয় পান। ‘সত্যিকার জীবনে ভূতের সঙ্গে আমার মোলাকাত ভীতিকর। আমার বইয়ের মতো তারা মোটেই মজার নয়।’ ১৯৪১ সালে শীর্ষেন্দু তার পরিবারের সঙ্গে বিহারের কাতিহারে বাস করতেন। ‘আমরা একটা বাঙলোয় থাকতাম। প্রতিরাতে এক মেমসাহেবের পায়ের শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যেত। শোনা যেত তার হাই হীলের খটখট শব্দ কারণ তার আত্মা বাড়িটিতে ঘুরে বেড়াত। আমার বাবা একটা ডাইনিং টেবিল কিনেছিলেন। আত্মাটা এই টেবিলের সঙ্গে জুড়ে ছিল, প্রতিরাতে আত্মাটি টেবিলের চারপাশে ঘুরে বেড়াত, তারপর চলে যেত।’ ১৯৮০-এর দশকেও শীর্ষেন্দু একবার ভূতের কবলে পড়েছিলেন। সেটা ছিল এক মৃত নারীর ভূত। লেখক তখন কলকাতায় এক ভাড়া বাড়িতে থাকেন। ‘বাড়ির মালিকের মেয়ে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করে। চারদিন পর সেই মৃত মেয়ের আত্মা আমার ঘরে আনাগোনা শুরু করে। একদিন রাতে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়, দেখি কে যেন একটা লোহার চেয়ার তুলে নিয়ে মাটিতে আছাড় দিল। আমরা নিরুপায় দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে দেখলাম। তারপর বাড়ির মালিক আমাদের বাসা ছেড়ে দিতে বলেন।’
বাংলা সাহত্যের আরেক বিখ্যাত লেখক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ওরফে বনফুলও ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করতেন, শোনা যায়, তার বাড়িতে কেউ গেলে তিনি তাকে ভূতের গল্প শোনাতেন।
বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের ভূত-সংক্রান্ত অবস্থান, ভূত-আত্মা কিংবা তার জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় ও পরবর্তীতে নুহাশ পল্লীতে নানা অদ্ভুতুড়ে অভিজ্ঞতার কথা নানা সময়ে বলেছেন এবং তিনি ভূতের গল্প ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করতেন। তিনি নিজের পছন্দের ভূতের গল্পের একটা সংকলনও করেছিলেন। ভূত ও বাংলা ভৌতিক গল্প নিয়ে তিনি তার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও মতামতও জানিয়েছেন ওই বইয়েও। এক জায়গায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন, “গ্রামবাংলায় ভূতকে ঘরের মানুষ ভাবা হতো। ছোটবেলার কথা, নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি। সন্ধ্যাবেলা অন্য পাড়া থেকে এক ভদ্রলোক এলেন। নানাজানের সঙ্গে খানিকক্ষণ গল্পগুজব করে যাবার বেলায় বললেন, ‘একটা পেততুনি বড় ত্যক্ত করতাছে।’ অর্থ হচ্ছে, কিছুদিন ধরে এক প্রেত তাদের বড়ই বিরক্ত করছে। বিরক্তের ধরন হচ্ছে, মাছ ভাজা হলে রান্নাঘরের জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে ভাজা মাছ খেতে চায়। নাকি স্বরে অনুনয়-বিনয় করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভদ্রলোকের গল্পে কেউ বিস্মিত হলো না। ধরেই নিল এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার, প্রেতরা ভাজা মাছ পছন্দ করে। এরা উত্যক্ত করবেই।”
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম স্ত্রী মোহিনীর মৃত্যুর পর বিয়ে করেন রাজলক্ষ্মীকে। পরিণত জীৱনে তিনিই দেখতেন প্রথম স্ত্রীর ছায়া। আত্মীয় সুরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়কে বলতেন, ‘‘তোর সেজদিকে দেখেছি রে... আমিও এবার তার কাছেই যাব।’’
শাশুড়ির মৃত্যুর পর প্ল্যানচেট শুরু করা অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তকে চিঠিতে বিভূতিভূষণ লিখলেন, বৃহদারণ্যক ও ঈশোপনিষদের মতো তিনিও বিশ্বাস করেন পৃথিবীর বহু উপরে বহু স্তরের অস্তিত্ব রয়েছে। আর প্রেতলোকের অস্তিত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ করার কিছু নেই।
স্বামী বিবেকানন্দের উৎসাহে স্বামী অভেদানন্দ, আঠেরো শতকের শেষে পাশ্চাত্যে গিয়েছিলেন বেদান্ত দর্শন প্রচার করার জন্য। আমেরিকার প্রথম সারির প্রেততাত্ত্বিকের সঙ্গে তাঁর ভাবনার আদানপ্রদান হয়। প্রায় দুই দশকের প্রবাসজীবনে পাশ্চাত্যের প্রখ্যাত পরলোকচর্চার কেন্দ্রগুলোতে দেওয়া তাঁর বক্তৃতা সমাদৃত হয়েছিল। মরণের পরে আত্মা কোথায় যায়, এই প্রশ্নের উত্তরে সাংখ্যকার কপিল আর অন্যান্য হিন্দুদার্শনিকদের সুরেই একবার অভেদানন্দ বলেছিলেন, মৃত্যুর পর পঞ্চপ্রাণ, পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয়, পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধির মতো সতেরোটা উপাদানে তৈরি সূক্ষ্মদেহ ধারণ করে আত্মা যায় স্বপ্নলোকের মতোই মনলোকে।
মালদহের ইংরেজবাজারের কলাতলা। সেখানে শনিবারের চিঠির সম্পাদক সজনীকান্ত দাসের মেজদা অসুস্থ। সেবা চলছে পালা করে। সজনীকান্তকে ঘুম থেকে তুলে দাদার পাশে বসিয়ে বাবা গেলেন ছাদে আর গিয়েই বললেন, ‘‘আজই সব শেষ হয়ে যাবে।’’ শেষ রাতে ছেলের মাথার কাছে লাল আলো দেখলেন বাবা। বিছানায় উঠে বসে ছেলে বলল, ‘‘আমি যাচ্ছি।’’ তারপরই উধাও সেই লাল আলো। পরদিন দুপুরের আগেই মারা গেলেন মেজদাদা।
আচার্য ব্রজেন্দ্রলাল শীল মৃত্যুর পর জরুরি কাগজপত্র খুঁজে পেয়েছিলেন প্রয়াত স্ত্রীর স্বপ্নে দেখানো ঠিকানায়। জ্যোতিষশাস্ত্রের মতোই প্ল্যানচেটে আস্থা রেখেছিলেন সাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রয়াত স্ত্রী গৌরীর সঙ্গে কথা বলতেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্যালয়ে উৎসাহীদের নিয়ে প্ল্যানচেটের আসর বসিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ আর জেলাপ্রশাসনের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন। তার জেরেই শেষ পর্যন্ত তাঁকে খোয়াতে হয়েছিল হুগলি জেলার জঙ্গিপাড়ার দ্বারকানাথ হাইস্কুলের চাকরি। শুধু তাই নয়, প্ল্যানচেটে মা মৃণালিনীর সম্মতি পেয়ে স্ত্রী-হারা বিভূতিভূষণ রাজি হয়ে যান বয়সে সাতাশ বছরের ছোট, তাঁর প্রেমে হাবুডুবু, কল্যাণীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়েতে। মৃত্যুর আগে ধারাগিরিতে বেড়াতে গিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনে এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটেছিল। শোনা যায়, এক মৃতদেহের চাদর সরিয়ে তিনি আঁতকে উঠেছিলেন তাঁর নিজেরই মুখ দেখতে পেয়ে!
খোদ কোলকাতাও নেহাত
কম
পুরানো
শহর
নয়
কাজেই
কলকাতা শহরের বুকে বহু পুরোনো বাড়িতে রাত নামলে সত্যিই নেমে আসে অদ্ভুত নীরবতা
কলকাতার কোন কোন ঐতিহ্যবাহী স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা ভুতুড়ে কাহিনী।
লালবাজার
কলকাতার খোদ পুলিশি কার্যালয় লালবাজারের সেন্ট্রাল লকআপে ভূত আছে বলে সেখানকার কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন।১৯৭২ সালের ২৮ জুলাই লালবাজার সেন্ট্রাল লকআপে রহস্যজনকভাবে মারা যান চারু মজুমদার। অনেকেই মনে করেন, চারু মজুমদারের মৃত্যু নাকি স্বাভাবিক ছিল না। তার পর থেকে বহুবার খোদ লালবাজারের সেন্ট্রাল লকআপের আশপাশে চারুবাবুর অশরীরী আত্মাকে বহুবার ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তাই এখনো রাত গভীর হলে কোনো পুলিশ সদস্য পারতপক্ষে ওমুখো হতে চান না।
জাদুঘর
কলকাতা জাদুঘরের ঠিক পাশেই সদর স্ট্রিটে কয়েকশ বছরের পুরোনো একটা বাংলো ছিল। ওই বাংলোতে ওয়ারেন হেস্টিংসের মেম্বার কাউন্সিলের স্পিকস সাহেব থাকতেন। একদিন বাংলোতে একটি আর্জি নিয়ে দেখা করতে আসেন এক শিখ যুবক। ওই শিখ যুবকের সঙ্গে স্পিকস সাহেবের তীব্র কথাকাটাকাটি হয়। তারপরই রাইফেলে গুলির শব্দ শোনা যায়। মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে শিখ যুবকের দেহ। আজও নিশুথি রাতে সেই স্মৃতি ফিরে আসতে দেখেছেন অনেকেই। কথাকাটাকাটি, গুলির শব্দ সবই শোনা যায় এখনো।
কলকাতা জাদুঘরের ঠিক পাশেই সদর স্ট্রিটে কয়েকশ বছরের পুরোনো একটা বাংলো ছিল। ওই বাংলোতে ওয়ারেন হেস্টিংসের মেম্বার কাউন্সিলের স্পিকস সাহেব থাকতেন। একদিন বাংলোতে একটি আর্জি নিয়ে দেখা করতে আসেন এক শিখ যুবক। ওই শিখ যুবকের সঙ্গে স্পিকস সাহেবের তীব্র কথাকাটাকাটি হয়। তারপরই রাইফেলে গুলির শব্দ শোনা যায়। মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে শিখ যুবকের দেহ। আজও নিশুথি রাতে সেই স্মৃতি ফিরে আসতে দেখেছেন অনেকেই। কথাকাটাকাটি, গুলির শব্দ সবই শোনা যায় এখনো।
আর তাই তো রাত নামলে এখনো জাদুঘরের ওই চত্বরে যান না কেউই। রাতে পাহারায় থাকা প্রহরীরাও জাদুঘরের ওই দিকে ভুলেও পা বাড়ান না। এ ছাড়া শোনা যায়, একবার জাদুঘরের ছাদে স্কাই লাইট পরিষ্কার করতে গিয়ে দুটি শো-কেসের মাঝখানে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছিল এক মজুরের। রাত নামলে দেখা যায় কে যেন প্রতি রাতে কাপড় মুড়ি দিয়ে জাদুঘরের ছাদ থেকে নেমে আসছে।
ন্যাশনাল-লাইব্রেরি
কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিকে ঘিরে নানা ধরনের গল্প শোনা যায়। অনেকেই নাকি মাঝরাতে লাইব্রেরির মাঠে এক অশ্বারোহীকে ছুটে যেতে দেখেছেন। ন্যাশনাল লাইব্রেরির বল ডান্সের ফ্লোর থেকে ভেসে আসে কনসার্টের সুর। শোনা যায় পালকি চলার আওয়াজ। এসব ভৌতিক ঘটনাবলির সঙ্গে ইতিহাসের যোগ রয়েছে বলেও বিশ্বাস করেন অনেকে।
কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিকে ঘিরে নানা ধরনের গল্প শোনা যায়। অনেকেই নাকি মাঝরাতে লাইব্রেরির মাঠে এক অশ্বারোহীকে ছুটে যেতে দেখেছেন। ন্যাশনাল লাইব্রেরির বল ডান্সের ফ্লোর থেকে ভেসে আসে কনসার্টের সুর। শোনা যায় পালকি চলার আওয়াজ। এসব ভৌতিক ঘটনাবলির সঙ্গে ইতিহাসের যোগ রয়েছে বলেও বিশ্বাস করেন অনেকে।
১৭৮০ সালের ১৭ আগস্টের সকাল। ওয়ারেন হেস্টিংসের সঙ্গে ফিলিপ ফ্রান্সিসের গুলির লড়াই শুরু হয়। কথিত আছে, এই গুলির লড়াইয়ের নেপথ্যে ছিলেন এক অসামান্য সুন্দরী নারী। তাঁর নাম ম্যাডাম গ্রান্ট। সেই লড়াইয়ে গুলিবিদ্ধ ফ্রান্সিসকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পালকি করে। আর এখানে হেস্টিংস আসতেন ঘোড়ায় চেপে। সেই সব স্মৃতি আজও প্রতি রাতে খণ্ড খণ্ড হয়ে ফিরে আসে বলে ধারণা করা হয়।
কলকাতা-করপোরেশন
কলকাতা মিউনিসিপাল করপোরেশন। খোদ ধর্মতলার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ১৯ শতকের এই লালবাড়িটি বহু ইতিহাসের সাক্ষী। তবে রাতের সময়টা এখানে একটু বেশিই থমথমে। রাত নামলেই এখানে শোনা যায় কোনো এক নারীর চাপা স্বরের আওয়াজ। অস্পষ্ট স্বরে কারো সঙ্গে যেন কথা বলেন ওই নারী। পরে শোনা যায় কান্নার আওয়াজ।
কলকাতা মিউনিসিপাল করপোরেশন। খোদ ধর্মতলার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ১৯ শতকের এই লালবাড়িটি বহু ইতিহাসের সাক্ষী। তবে রাতের সময়টা এখানে একটু বেশিই থমথমে। রাত নামলেই এখানে শোনা যায় কোনো এক নারীর চাপা স্বরের আওয়াজ। অস্পষ্ট স্বরে কারো সঙ্গে যেন কথা বলেন ওই নারী। পরে শোনা যায় কান্নার আওয়াজ।
রাইটার্স-বিল্ডিং
কলকাতার অন্যতম এই রাইটার্স বিল্ডিংয়ে রাত নামলে জনশূন্য অলিন্দ যেন হয়ে ওঠে অশরীরীদের আখড়া। একথা স্বীকার করে নেন এখানে রাত কাটানো প্রতিটি নৈশপ্রহরী। জানা যায়, এই রাইটার্স বিল্ডিংয়ের পাঁচ নম্বর ব্লকটি মোটেই সুবিধার স্থান নয়। রাত নামতেই এখানকার বারান্দা দিয়ে কারা যেন হেঁটে বেড়ায়। দৌড়ে গিয়েও দেখা যায় না কাউকেই। এখানকার ঘরগুলো থেকে শোনা যায় একটানা টাইপের আওয়াজ। দোতলায় কারা যেন ভেসে উঠে মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়। ইতিহাস বলছে, এখানেই একসময় ছিল কলাগাছের জঙ্গল। একবার বেশ কয়েকজন ইংরেজকে এখানেই কবর দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যায়। লর্ড ভ্যালেনটিনের তথ্য মতে, ঘোড়ায় টানা গাড়ির খেলা বা ডুয়েল (বন্দুকযুদ্ধ) চলত এই এলাকায়।এখানে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনয়-বাদল-দীনেশের হাতে কর্নেল সিমসনের খুন হওয়ার ঘটনাও ফেলে দেওয়া যায় না। সব মিলিয়ে খোদ এই সরকারি দপ্তরটিতে অশরীরীদের অস্তিত্ব আজও অস্বীকার করতে পারেন না কেউই।
কলকাতার অন্যতম এই রাইটার্স বিল্ডিংয়ে রাত নামলে জনশূন্য অলিন্দ যেন হয়ে ওঠে অশরীরীদের আখড়া। একথা স্বীকার করে নেন এখানে রাত কাটানো প্রতিটি নৈশপ্রহরী। জানা যায়, এই রাইটার্স বিল্ডিংয়ের পাঁচ নম্বর ব্লকটি মোটেই সুবিধার স্থান নয়। রাত নামতেই এখানকার বারান্দা দিয়ে কারা যেন হেঁটে বেড়ায়। দৌড়ে গিয়েও দেখা যায় না কাউকেই। এখানকার ঘরগুলো থেকে শোনা যায় একটানা টাইপের আওয়াজ। দোতলায় কারা যেন ভেসে উঠে মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়। ইতিহাস বলছে, এখানেই একসময় ছিল কলাগাছের জঙ্গল। একবার বেশ কয়েকজন ইংরেজকে এখানেই কবর দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যায়। লর্ড ভ্যালেনটিনের তথ্য মতে, ঘোড়ায় টানা গাড়ির খেলা বা ডুয়েল (বন্দুকযুদ্ধ) চলত এই এলাকায়।এখানে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনয়-বাদল-দীনেশের হাতে কর্নেল সিমসনের খুন হওয়ার ঘটনাও ফেলে দেওয়া যায় না। সব মিলিয়ে খোদ এই সরকারি দপ্তরটিতে অশরীরীদের অস্তিত্ব আজও অস্বীকার করতে পারেন না কেউই।
আকাশবাণী
কলকাতার পুরোনো ভূতদের বাড়ির মধ্যে এক নম্বর গাস্টিম প্লেস। রেডিওর প্রথম অফিস। পরে অবশ্য আকাশবাণী ভবন হলে দপ্তরটি চলে যায়। কিন্তু পুরোনো এই আকাশবাণী অফিসটিতে ভূতদের দৌরাত্ম্যের কথা আজও অস্বীকার করার সাহস নেই কারো। রাত গভীর হলে অনেকেই দেখেছেন সাহেবের ছায়া উবু হয়ে কাজ করছে। কেউ দেখেছেন, মাঝরাতে এখানকার রেকর্ডিং রুমের বারান্দায় কারা যেন গান শুনছে। নাকি সুরে সুরে গুন গুন করে গানের আওয়াজও শুনেছেন অনেকেই। ফলে ভুতুড়ে এসব ঘটনা এখনো ভুক্তভোগীদের রীতিমতো তাড়া করে ফেরে।
কলকাতার পুরোনো ভূতদের বাড়ির মধ্যে এক নম্বর গাস্টিম প্লেস। রেডিওর প্রথম অফিস। পরে অবশ্য আকাশবাণী ভবন হলে দপ্তরটি চলে যায়। কিন্তু পুরোনো এই আকাশবাণী অফিসটিতে ভূতদের দৌরাত্ম্যের কথা আজও অস্বীকার করার সাহস নেই কারো। রাত গভীর হলে অনেকেই দেখেছেন সাহেবের ছায়া উবু হয়ে কাজ করছে। কেউ দেখেছেন, মাঝরাতে এখানকার রেকর্ডিং রুমের বারান্দায় কারা যেন গান শুনছে। নাকি সুরে সুরে গুন গুন করে গানের আওয়াজও শুনেছেন অনেকেই। ফলে ভুতুড়ে এসব ঘটনা এখনো ভুক্তভোগীদের রীতিমতো তাড়া করে ফেরে।
পরিশেষে
ভূত আছে কি নেই সেই নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্ক হয়ে আসছে যুগযুগান্ত ধরে ,এটি একটি এমন একটি প্রশ্ন যার উত্তর খুঁজে চলাই আনন্দ,কাজেই সেই বিতর্কে প্রবেশ না করে বলা যাই যে ,ভূত থাকুক বা না থাকুক তার গল্প কাহিনী অনুভূতিতে বেঁচে থাকা টা যেমন সত্য তেমনই ভাষা বা সাহিত্যের ক্ষেত্রেও তার আলাদা নয় ,ভূত তাদের বৈশিষ্ট্য ,নাম বা কাজ কর্ম হয়তো সবসময় এক মনে হয়না কিন্তু প্রকৃতিগত বিশ্লেষণে তাদের পার্থক্য নেই যেমন ইংরেজি সাহিত্যে vampire জিনিস তা আছে , আমাদের দেশে তা হয়েছে পিশাচ নাম পরিচিত ,কিছু পার্থক্য থাকলেও মোটামুটি বিষয়টি একই রকম।
সাহিত্যের মধ্যে ভূতের প্রভাব প্রচণ্ড হলেও বর্তমানে মানব জীবনের রোজকার ব্যবহার করা ভাষায়ভূতের প্রভাব সে ভাবে নেই কিন্তু কথা বার্তা বা আড্ডা গল্পে এখনো মাঝে মাঝেই প্রসঙ্গ উঠে আসে , তখন দেখা যাই একদম হারিয়ে না গেলেও ভূতেরা সত্যি অবলুপ্তির পথেই বটে। ভাষাগতদিক দিয়ে বিষয়টি খানিক তা এই রকম এই দেখতে লাগে
এই ক্ষেত্র সমীক্ষার বিষয় ছিল ভূতের পরিচয় এবং হাওড়া শহরের মধ্যে থেকে খুঁজে পাওয়া ভূত এবং সেই সংক্রন্ত তথ্যের ভাষাতাত্বিক বিচার ,সেই কাজ যথার্থ ভাবে সম্পাদন সম্ভব হয়নি , ক্ষুদ্র পরিসরের মধ্যে থেকে সাধ্যমত চেষ্টার ফসল এই ক্ষেত্র সমীক্ষা।
সাহিত্যের মধ্যে ভূতের প্রভাব প্রচণ্ড হলেও বর্তমানে মানব জীবনের রোজকার ব্যবহার করা ভাষায়ভূতের প্রভাব সে ভাবে নেই কিন্তু কথা বার্তা বা আড্ডা গল্পে এখনো মাঝে মাঝেই প্রসঙ্গ উঠে আসে , তখন দেখা যাই একদম হারিয়ে না গেলেও ভূতেরা সত্যি অবলুপ্তির পথেই বটে। ভাষাগতদিক দিয়ে বিষয়টি খানিক তা এই রকম এই দেখতে লাগে
এই ক্ষেত্র সমীক্ষার বিষয় ছিল ভূতের পরিচয় এবং হাওড়া শহরের মধ্যে থেকে খুঁজে পাওয়া ভূত এবং সেই সংক্রন্ত তথ্যের ভাষাতাত্বিক বিচার ,সেই কাজ যথার্থ ভাবে সম্পাদন সম্ভব হয়নি , ক্ষুদ্র পরিসরের মধ্যে থেকে সাধ্যমত চেষ্টার ফসল এই ক্ষেত্র সমীক্ষা।
No comments:
Post a Comment